চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপে পরিণত; এবারের ঈদযাত্রায় সড়কটিতে ৭২ ঘণ্টায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ
চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। যশোরের পুলেরহাট এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও তার দুই শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন।
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে
চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। গত বুধবার রাতে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন দোহাজারী থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমা।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছেন, লোহাগাড়া উপজেলায় এই দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জন হলেন- ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), তার স্ত্রী সাধনা মন্ডল (৩৭), শ্বশুর আশীষ মন্ডল (৫০), ঢাকার মিরপুরের রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬), তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), বড় মেয়ে আনিসা (১৬), ছোট মেয়ে লিয়ানা (০৮), ভাগিনা তানিফা ইয়াসমিন (১৬), মামা মুক্তার হোসেন (৬০) ও মাইক্রোবাস চালক ইউসুফ আলী (৫৫)। এদের মধ্যে আশীষ ও আনীষার মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ওসি শুভরঞ্জন চাকমা জানান, মাইক্রোবাসে যারা ছিলেন, তিনজন ছাড়া বাকি সবাই মারা গেছেন। আহত তিনজন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন না। তাই তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে বেশি সময় লেগেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার সকালে লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়ায় কক্সবাজারমুখী মাইক্রোবাসের সঙ্গে চট্টগ্রামমুখী রিল্যাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান ৭ জন। পরে আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে দুজন ও লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনের মৃত্যু হয়।
এদিন বিকেলে লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়ায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ উপদেষ্টা সেখানকার সড়কের অসঙ্গতি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম ব্যুরো আরও জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। তিন দিনে এই মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ১৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই মহাসড়কের অনেকস্থানে পাহাড়ি এলাকার উচুঁ-নিচু সড়ক। ঢালু পাহাড়ি রাস্তা আর অপ্রশস্ত সড়কে ঘন ঘন বাঁক। সারা বছরই ওই সড়কে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এবারের ঈদযাত্রায় সেই সড়কে ৭২ ঘণ্টায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ। সারা বছর দুর্ঘটনা ঘটলেও ঈদযাত্রার তিন দিনে ১৫ মৃত্যুর খবরে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া সড়কটি।
এর মধ্যে সর্বশেষ গত বুধবার সকালে মাইক্রোবাস ও বাসের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। যে স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র ৩০-৩৫ গজ দূরে ঈদের দিন গত সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছিল। একই এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) ভোরে দুইটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে ৩০ ফুট খাদে পড়ে ৯ জন আহত হন।
গাড়ি চালক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই এলাকার উঁচু-নিচু সড়কে বাঁকগুলো খুব বিপদজনক। ঈদের ছুটির মৌসুমে দেশের অন্য জেলা থেকে আসা চালকরা অপ্রশস্ত এ অচেনা সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ছেন। পাশাপাশি চিংড়ি ও মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ওঠে; বেশিরভাগ সময় সকালেই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এবারের ৩টি দুর্ঘটনাও ঘটেছে সকালবেলা। ঈদযাত্রায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘনটার পর স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার বাসিন্দা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অত্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এই এলাকার মহাসড়ক দিয়ে দুইটি গাড়ি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। এখানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। আমি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একনেক মিটিং এ বাজেট প্রণয়ন করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জানাচ্ছি।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, ঈদের দিন থেকে পর পর ৩ দিন লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এই পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালবেলা।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কটির চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অন্য জেলার চালকের জন্য অপরিচিত। এখানকার সড়কটি প্রশস্ত না থাকা, সড়কে সিগন্যাল না থাকা, বিপজ্জনক বাঁক থাকা, সকালে লবণ- মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত, বাসে আগুন
যশোরের পুলেরহাট এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও তার দুই শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী এবং অন্য এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। যশোর অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উদযাপন শেষে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- খুলনা জেলার মুজগুন্নী এলাকার বাসিন্দা রুবেল হোসেন (৩২) এবং তার দুই কন্যা সন্তান ঐশী (১০) ও তায়েবা (৪)। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন রুবেলের স্ত্রী জেসমিন (২৮) এবং যশোর সদরের কৃষ্ণবাটি এলাকার পথচারী ওসমান (১৯)।
দুর্ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জানা যায়, রুবেল হোসেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যশোর থেকে খুলনার মুজগুন্নীর বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বিকেলে তারা যশোরের পুলেরহাট মাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি লোকাল বাস (ঢাকা মেট্রো ১৪-০২৫২) তাদের মোটরসাইকেলটিকে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রুবেল হোসেন ও তার বড় মেয়ে ঐশী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক ভাবে মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট মেয়ে তায়েবাকেও উদ্ধার করা হলেও পরে সেও মারা যায়। দুর্ঘটনার পর বাসচালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সামনে থাকা পথচারী ওসমানকে ধাক্কা দেয়, এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা এবং বাসচালকের পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় জনতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা ধাওয়া করে বাসটিকে আটকানোর পর সেটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যশোর কোতয়ালী থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করেন। পুলিশ নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। গুরুতর আহত জেসমিন ও ওসমানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যাশোর কোতোয়ালি থানার ওসি-তদন্ত কাজী বাবুল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক ও তার সহকারী পলাতক রয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপে পরিণত; এবারের ঈদযাত্রায় সড়কটিতে ৭২ ঘণ্টায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। যশোরের পুলেরহাট এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও তার দুই শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন।
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে
চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। গত বুধবার রাতে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন দোহাজারী থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমা।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছেন, লোহাগাড়া উপজেলায় এই দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জন হলেন- ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), তার স্ত্রী সাধনা মন্ডল (৩৭), শ্বশুর আশীষ মন্ডল (৫০), ঢাকার মিরপুরের রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬), তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), বড় মেয়ে আনিসা (১৬), ছোট মেয়ে লিয়ানা (০৮), ভাগিনা তানিফা ইয়াসমিন (১৬), মামা মুক্তার হোসেন (৬০) ও মাইক্রোবাস চালক ইউসুফ আলী (৫৫)। এদের মধ্যে আশীষ ও আনীষার মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ওসি শুভরঞ্জন চাকমা জানান, মাইক্রোবাসে যারা ছিলেন, তিনজন ছাড়া বাকি সবাই মারা গেছেন। আহত তিনজন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন না। তাই তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে বেশি সময় লেগেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার সকালে লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়ায় কক্সবাজারমুখী মাইক্রোবাসের সঙ্গে চট্টগ্রামমুখী রিল্যাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান ৭ জন। পরে আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে দুজন ও লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনের মৃত্যু হয়।
এদিন বিকেলে লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়ায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ উপদেষ্টা সেখানকার সড়কের অসঙ্গতি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম ব্যুরো আরও জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। তিন দিনে এই মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ১৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই মহাসড়কের অনেকস্থানে পাহাড়ি এলাকার উচুঁ-নিচু সড়ক। ঢালু পাহাড়ি রাস্তা আর অপ্রশস্ত সড়কে ঘন ঘন বাঁক। সারা বছরই ওই সড়কে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এবারের ঈদযাত্রায় সেই সড়কে ৭২ ঘণ্টায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ। সারা বছর দুর্ঘটনা ঘটলেও ঈদযাত্রার তিন দিনে ১৫ মৃত্যুর খবরে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া সড়কটি।
এর মধ্যে সর্বশেষ গত বুধবার সকালে মাইক্রোবাস ও বাসের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। যে স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র ৩০-৩৫ গজ দূরে ঈদের দিন গত সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছিল। একই এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) ভোরে দুইটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে ৩০ ফুট খাদে পড়ে ৯ জন আহত হন।
গাড়ি চালক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওই এলাকার উঁচু-নিচু সড়কে বাঁকগুলো খুব বিপদজনক। ঈদের ছুটির মৌসুমে দেশের অন্য জেলা থেকে আসা চালকরা অপ্রশস্ত এ অচেনা সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ছেন। পাশাপাশি চিংড়ি ও মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ওঠে; বেশিরভাগ সময় সকালেই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এবারের ৩টি দুর্ঘটনাও ঘটেছে সকালবেলা। ঈদযাত্রায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘনটার পর স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার বাসিন্দা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অত্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এই এলাকার মহাসড়ক দিয়ে দুইটি গাড়ি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। এখানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। আমি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একনেক মিটিং এ বাজেট প্রণয়ন করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জানাচ্ছি।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, ঈদের দিন থেকে পর পর ৩ দিন লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এই পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালবেলা।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কটির চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা অন্য জেলার চালকের জন্য অপরিচিত। এখানকার সড়কটি প্রশস্ত না থাকা, সড়কে সিগন্যাল না থাকা, বিপজ্জনক বাঁক থাকা, সকালে লবণ- মাছবাহী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত, বাসে আগুন
যশোরের পুলেরহাট এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও তার দুই শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী এবং অন্য এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। যশোর অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদ উদযাপন শেষে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- খুলনা জেলার মুজগুন্নী এলাকার বাসিন্দা রুবেল হোসেন (৩২) এবং তার দুই কন্যা সন্তান ঐশী (১০) ও তায়েবা (৪)। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন রুবেলের স্ত্রী জেসমিন (২৮) এবং যশোর সদরের কৃষ্ণবাটি এলাকার পথচারী ওসমান (১৯)।
দুর্ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জানা যায়, রুবেল হোসেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যশোর থেকে খুলনার মুজগুন্নীর বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বিকেলে তারা যশোরের পুলেরহাট মাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি লোকাল বাস (ঢাকা মেট্রো ১৪-০২৫২) তাদের মোটরসাইকেলটিকে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রুবেল হোসেন ও তার বড় মেয়ে ঐশী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক ভাবে মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট মেয়ে তায়েবাকেও উদ্ধার করা হলেও পরে সেও মারা যায়। দুর্ঘটনার পর বাসচালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সামনে থাকা পথচারী ওসমানকে ধাক্কা দেয়, এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা এবং বাসচালকের পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় জনতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা ধাওয়া করে বাসটিকে আটকানোর পর সেটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যশোর কোতয়ালী থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করেন। পুলিশ নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। গুরুতর আহত জেসমিন ও ওসমানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যাশোর কোতোয়ালি থানার ওসি-তদন্ত কাজী বাবুল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক ও তার সহকারী পলাতক রয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।