alt

জাতীয়

কলকাতায় আটকেপড়া বাংলাদেশীরা চরম দুর্ভোগে

দীপক মুখার্জী, কলকাতা : বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১

কলকাতায় আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশেফেরা নতুন করে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ মে) থেকে আটকেপড়া নাগরিকরা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যেতে পারবেন না। তাদের যেতে হলে বাংলাদেশের বুড়িমারী ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে যেতে হবে। আটকেপড়া নাগরিকরা ঐ দুটি সীমান্ত দিয়ে যেতে ইচ্ছুক নন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত তারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও অর্থ সংকটের কারণে যেতে রাজি হচ্ছে না। তাছাড়া আটকেপড়া বেশিরভাগই যশোর, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল এলাকর বাসিন্দা। বুড়িমারী বা আখাউড়া দিয়ে যাওয়ার মতো টাকা-পয়সা নেই, তার উপর স্বাস্থ্যঝুঁকি তো রয়েছেই, এমন কথা বলেছেন বরগুনার বাসিন্দা গোলাম কবির। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে এসেছিলেন কিন্তু করোনার কারণে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেয়। দেশে ফেরার জন্য কলকাতায় এসে পড়েছেন নানা ঝামেলায়। তিনি বলেন, সরকারি আইন মেনেই তো আমরা দেশে ফিরতে রাজি কিন্তু নিত্যদিন সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা বেসামাল হয়ে পড়েছি।

কলকাতা উপ-হাইকমিশন থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ঐ দু’টি বন্দর ছাড়া তারা এনওসি দেবেন। আজ সারাদিন অপেক্ষা করেও আমি এনওসি পাইনি। আমরা এখানে এখন খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছি। সাতক্ষীরার বাসিন্দা জীবন মন্ডল জানান, এই সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো, আমি যাব সাতক্ষীরা আর আমাকে অসুস্থ শরীর নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে সাতক্ষীরা যেতে হবে। চিকিৎসা করাতে এসে আমার সব টাকা ফুরিয়ে গেছে। কীভাবে এখানে দিনযাপন করছি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এই কারণে আমাকেও উপ-হাইকমিশন থেকে অনুমতিপত্র দেয়া হয়নি।

খুব কষ্টে আছি। যশোরের বাসিন্দা আসরাফুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে কীভাবে আমরা বুড়িমারী বা আখাউড়া দিয়ে যাব? এতটা পথ ঘুরে যেতে পারব না, তাছাড়া আমার কাছে কোন পয়সা-পাতি নেই। খেতে পারছি না। আমি বেনাপোল দিয়ে গেলে অল্প পথ, তাই বেনাপোল দিয়ে যেতে চাই। এই অফিসের (উপ-হাইকমিশন) বশির স্যার আমাদের খুব সাহায্য করছেন কিন্তু বশির স্যার কেন আপনাকে এনওসি দিচ্ছেন না- এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই মুহূর্তে বেনাপোল দিয়ে যাওয়ার কোন আদেশ নেই বলে জানান। তবে তিনি চেষ্টা করছেন আমাদের জন্য। এ ব্যাপারে কলকাতার উপ-হাকমিশনার তৌফিক হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত প্রায় দু’হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে এনওসি দেয়া হয়েছে। এদের সবাইকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় কিন্তু বেনাপোল বন্দরে আইসোলেশন সেন্টারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেখানকার বন্দর ও জেলা প্রশাসনের অনুরোধে আজ থেকে আমরা বুড়িমারী ও আখাউড়া দিয়ে যারা যাবে শুধু তাদেরই এনওসি দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে কোন লিখিত চিঠি বা কোন অর্ডার আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তৌফিক হাসান বলেন, আমাদের তারা মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছে। তাছাড়া ওখানে আইসোলেশন কেন্দ্রে জায়গা না থাকলে সেখানে গিয়ে তাদের তো কষ্ট হবে। কিন্তু কলকাতা থেকে বুড়িমারী সীমান্তের দূরত্ব ৬শ’১৪ কিলোমিটার। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকার বৃহস্পতিবার থেকে করোনার জন্য লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে। এই অবস্থায় অসুস্থ শরীর নিয়ে তার কীভাবে বুড়িমারী থেকে পটুয়াখালীর বরগুনা, যশোর, সাতক্ষীরা ফিরবেন। এ ব্যাপারে উপ-হাইকমিশন থেকে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তারা জানায়, শুধু আজকের প্রায় ৩শ’ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরার জন্য কলকাতা উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। বরগুনার গোলাম কবির জানান, আমাদের বেনাপোল দিয়ে সরকার যদি দেশে ফেরার ব্যবস্থা না করে তাহলে এবারের ঈদে আমাদের বাড়ি ফেরা হবে না, এখানে না খেয়ে থাকতে হবে।

চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে ভারতে এসে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে দিনরাত কাজ করছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের কন্স্যুলার বিভাগ। জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী এই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭শ’ ১৭ জনকে দেশে ফেরার অনুমতিপত্র দিয়েছে উপ-হাইকমিশন। বেনাপোল পৌঁছালে এদের সবাইকে কোভিড আইনানুয়ায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। কলকাতা উপ-হাইকমিশনের কন্স্যুলার মো. বশিরউদ্দীন সংবাদ প্রতিনিধিকে জানান, বুধবার কলকাতায় আটকেপড়া আরও ৩৫০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরার এনওসি দিয়েছে তারা। বশির জানান, এদের মধ্যে অনেক রোগী আছেন যারা ক্যান্সার, বাইপাস সার্জারি, টিউমার অপারেশনসহ মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। মানবিক কারণে তাদের ঈদের আগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন অসুস্থ রোগী আছেন যাদের হাতে কোন টাকা-পয়সা নেই, থাকা খাওয়ায় চরম অনিশ্চিত প্রায় এমন অবস্থায় রয়েছেন তারা। এসব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরানো না হলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন মো. বশির উদ্দীন। তিনি বলেন, এখনও অনেক আবেদন জমা করা হয়েছে এবং মানবিক দিক বিবেচনার জন্য তাদের আবেদন যাচাই করা হচ্ছে। ভয়ঙ্কর করোনা সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশ সরকার হঠাৎ করে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় কলকাতায় আটকে পড়ে কয়েক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক খুব কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। বাংলাদেশ সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে ২৬ এপ্রিল থেকে ৯ মে পর্যন্ত। মো. বশির জানান, ‘আমাদের অফিসের বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। এই কারণে আমরা অফিস শেষের পরেও অতিরিক্ত সময় কাজ করছি।’

ছবি

দেশে করোনায় ৪৮ দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

ছবি

ঢাকায় বেড়েছে শনাক্তের হার মৃত্যু কমেছে

ছবি

আজ থেকে আবারও টিকাদান শুরু

ছবি

দেশে করোনায় দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার, মৃত্যু ৫৪

ছবি

নিখোঁজের ৮ দিন পর খোঁজ মিলেছে আবু ত্ব-হার

ছবি

ঢাকায় পাতালরেল চলবে ২০২৬ সালে

ছবি

ঢাকায় করোনার ৬৮ শতাংশ ভারতীয় ধরন

ছবি

পুলিশ ও ইসি কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের বেশির ভাগ দরিদ্র, স্বল্পশিক্ষিত ও সুবিধাবঞ্চিত

ছবি

সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে বাংলাদেশের আহ্বান

ছবি

ঢাকায় করোনার ৬৮ শতাংশ সংক্রমণই ভারতীয় ধরন

ছবি

দেশে করোনায় মৃত্যু আজও ঊর্ধ্বমুখী

ছবি

ক্লাব, মদ ও জুয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক

ছবি

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু

ছবি

দ্বিতীয় পর্যায়ে ভূমিসহ ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার

ছবি

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘের স্পষ্ট রোডম্যাপ চায় বাংলাদেশ

ছবি

টিকা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: চীনা রাষ্ট্রদূত

ছবি

গুলশানে অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ পরীমনির বিরুদ্ধে

ছবি

ট্রান্সফরমার আতঙ্কে জুরাইন এলাকাবাসী

ছবি

চীনের সিনোফার্মের টিকা: কারা পাবেন তার তালিকা বললেন মন্ত্রী

ছবি

‘ত্রাণ চাই না বাঁধ চাই’, গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে সংসদে

ছবি

দেশে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত আরও ঊর্ধ্বমুখী

ছবি

চলমান বিধি-নিষেধ আরও এক মাস বাড়লো

ছবি

দাম প্রকাশ করায় চীন থেকে টিকা পেতে দেরী হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি

‘রিসোর্ট কিংবা বার হোক, আইন ভঙ্গ হলেই ব্যবস্থা’

ছবি

সুন্দরবনের আয়তন বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ছবি

সীমান্ত জেলা থেকে আম কিনে লক্ষ্মীপুরে সংক্রমণ ধরা পড়ল ব্যবসায়ীর

ছবি

রাজধানীর আশপাশে, বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে সংক্রমণ

ছবি

জনসনের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ

ছবি

দেশে করোনায় আরও ৫০ জনের মৃত্যু,শনাক্ত ৩৩১৯

ছবি

হজ ও ওমরা নিয়ে অনিয়ম করলে বিচারের বিধান রেখে বিল পাস

ছবি

‘গার্ড অব অনার’ নারী থাকা নিয়ে আপত্তির বিষয়ে সংসদে ক্ষোভ

ছবি

আজ বর্ষার প্রথম দিন

ছবি

ঢাকায় দুই সিটিতে বসবে ২৪টি পশুর হাট

ছবি

ফাইজার ও সিনোফার্মের টিকা দেয়া আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু :স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

tab

জাতীয়

কলকাতায় আটকেপড়া বাংলাদেশীরা চরম দুর্ভোগে

দীপক মুখার্জী, কলকাতা

বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১

কলকাতায় আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশেফেরা নতুন করে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ মে) থেকে আটকেপড়া নাগরিকরা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যেতে পারবেন না। তাদের যেতে হলে বাংলাদেশের বুড়িমারী ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে যেতে হবে। আটকেপড়া নাগরিকরা ঐ দুটি সীমান্ত দিয়ে যেতে ইচ্ছুক নন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত তারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও অর্থ সংকটের কারণে যেতে রাজি হচ্ছে না। তাছাড়া আটকেপড়া বেশিরভাগই যশোর, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল এলাকর বাসিন্দা। বুড়িমারী বা আখাউড়া দিয়ে যাওয়ার মতো টাকা-পয়সা নেই, তার উপর স্বাস্থ্যঝুঁকি তো রয়েছেই, এমন কথা বলেছেন বরগুনার বাসিন্দা গোলাম কবির। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে এসেছিলেন কিন্তু করোনার কারণে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেয়। দেশে ফেরার জন্য কলকাতায় এসে পড়েছেন নানা ঝামেলায়। তিনি বলেন, সরকারি আইন মেনেই তো আমরা দেশে ফিরতে রাজি কিন্তু নিত্যদিন সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা বেসামাল হয়ে পড়েছি।

কলকাতা উপ-হাইকমিশন থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ঐ দু’টি বন্দর ছাড়া তারা এনওসি দেবেন। আজ সারাদিন অপেক্ষা করেও আমি এনওসি পাইনি। আমরা এখানে এখন খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছি। সাতক্ষীরার বাসিন্দা জীবন মন্ডল জানান, এই সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো, আমি যাব সাতক্ষীরা আর আমাকে অসুস্থ শরীর নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে সাতক্ষীরা যেতে হবে। চিকিৎসা করাতে এসে আমার সব টাকা ফুরিয়ে গেছে। কীভাবে এখানে দিনযাপন করছি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এই কারণে আমাকেও উপ-হাইকমিশন থেকে অনুমতিপত্র দেয়া হয়নি।

খুব কষ্টে আছি। যশোরের বাসিন্দা আসরাফুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে কীভাবে আমরা বুড়িমারী বা আখাউড়া দিয়ে যাব? এতটা পথ ঘুরে যেতে পারব না, তাছাড়া আমার কাছে কোন পয়সা-পাতি নেই। খেতে পারছি না। আমি বেনাপোল দিয়ে গেলে অল্প পথ, তাই বেনাপোল দিয়ে যেতে চাই। এই অফিসের (উপ-হাইকমিশন) বশির স্যার আমাদের খুব সাহায্য করছেন কিন্তু বশির স্যার কেন আপনাকে এনওসি দিচ্ছেন না- এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই মুহূর্তে বেনাপোল দিয়ে যাওয়ার কোন আদেশ নেই বলে জানান। তবে তিনি চেষ্টা করছেন আমাদের জন্য। এ ব্যাপারে কলকাতার উপ-হাকমিশনার তৌফিক হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত প্রায় দু’হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে এনওসি দেয়া হয়েছে। এদের সবাইকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় কিন্তু বেনাপোল বন্দরে আইসোলেশন সেন্টারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেখানকার বন্দর ও জেলা প্রশাসনের অনুরোধে আজ থেকে আমরা বুড়িমারী ও আখাউড়া দিয়ে যারা যাবে শুধু তাদেরই এনওসি দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে কোন লিখিত চিঠি বা কোন অর্ডার আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তৌফিক হাসান বলেন, আমাদের তারা মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছে। তাছাড়া ওখানে আইসোলেশন কেন্দ্রে জায়গা না থাকলে সেখানে গিয়ে তাদের তো কষ্ট হবে। কিন্তু কলকাতা থেকে বুড়িমারী সীমান্তের দূরত্ব ৬শ’১৪ কিলোমিটার। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকার বৃহস্পতিবার থেকে করোনার জন্য লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে। এই অবস্থায় অসুস্থ শরীর নিয়ে তার কীভাবে বুড়িমারী থেকে পটুয়াখালীর বরগুনা, যশোর, সাতক্ষীরা ফিরবেন। এ ব্যাপারে উপ-হাইকমিশন থেকে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তারা জানায়, শুধু আজকের প্রায় ৩শ’ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরার জন্য কলকাতা উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। বরগুনার গোলাম কবির জানান, আমাদের বেনাপোল দিয়ে সরকার যদি দেশে ফেরার ব্যবস্থা না করে তাহলে এবারের ঈদে আমাদের বাড়ি ফেরা হবে না, এখানে না খেয়ে থাকতে হবে।

চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে ভারতে এসে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে দিনরাত কাজ করছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের কন্স্যুলার বিভাগ। জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী এই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭শ’ ১৭ জনকে দেশে ফেরার অনুমতিপত্র দিয়েছে উপ-হাইকমিশন। বেনাপোল পৌঁছালে এদের সবাইকে কোভিড আইনানুয়ায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। কলকাতা উপ-হাইকমিশনের কন্স্যুলার মো. বশিরউদ্দীন সংবাদ প্রতিনিধিকে জানান, বুধবার কলকাতায় আটকেপড়া আরও ৩৫০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরার এনওসি দিয়েছে তারা। বশির জানান, এদের মধ্যে অনেক রোগী আছেন যারা ক্যান্সার, বাইপাস সার্জারি, টিউমার অপারেশনসহ মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। মানবিক কারণে তাদের ঈদের আগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন অসুস্থ রোগী আছেন যাদের হাতে কোন টাকা-পয়সা নেই, থাকা খাওয়ায় চরম অনিশ্চিত প্রায় এমন অবস্থায় রয়েছেন তারা। এসব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরানো না হলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন মো. বশির উদ্দীন। তিনি বলেন, এখনও অনেক আবেদন জমা করা হয়েছে এবং মানবিক দিক বিবেচনার জন্য তাদের আবেদন যাচাই করা হচ্ছে। ভয়ঙ্কর করোনা সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশ সরকার হঠাৎ করে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় কলকাতায় আটকে পড়ে কয়েক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক খুব কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। বাংলাদেশ সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে ২৬ এপ্রিল থেকে ৯ মে পর্যন্ত। মো. বশির জানান, ‘আমাদের অফিসের বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। এই কারণে আমরা অফিস শেষের পরেও অতিরিক্ত সময় কাজ করছি।’

back to top