alt

জাতীয়

বন্য ও বর্ষায় গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিদে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

কোরবানির জন্য এক কোটি ২১ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত

বাকী বিল্লাহ ঢাকা, ও কামাল হোসেন, নওগাঁ : শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২

সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ নানা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দুর্ভোগ এখন চরমে। এ অবস্থায় খামারিদের পালিত গবাদিপশুর অবস্থাও কাহিল। অনেক গবাদিপশু রাস্তায় রেখে পালন করা হচ্ছে। এরপর গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট চলছে। আবার দামও বাড়ছে লাগামহীনভাবে। এ অবস্থায় জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে ঈদের বাকি প্রায় ১৫ দিন।

কোরবানির ঈদের পশু কোরবানির জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সারাদেশে ৬ লাখের বেশি খামারির পালিত গবাদিপশুর পরিসংখ্যান প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তাদের তথ্য মতে, দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরে ৬ লাখের বেশি খামারির এক কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব গবাদিপশু বিক্রি করা হবে। আবার অনেকে নিজস্ব পশু কোরবানি দিবেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবার কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৯টি গরু, এক লাখ ৭৩ হাজার ৫০৪টি মহিষ, ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৫টি ছাগল, ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩টি ভেড়া আছে। আর উট, দুম্বা ও গাড়ল আছে এক হাজার ৪০৯টি।

আর গবাদিপশুর খামার আছে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৩২টি। প্রতিটি খামারে কোরবানির জন্য পশু পালন করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলেন, রমজানের ঈদের পর থেকে পশু খামারিরা পশুর হাটে বিক্রির জন্য খামারে পালিত পশু মোটাতাজা শুরু করেছেন। তারা কিভাবে পশু মোটাতাজা করবে তার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তবে কেউ যদি গোপনে স্টেরয়েডজাতীয় ইনজেকশন দিয়ে পশু মোটাতাজা করে তা হলে তাদের অনিয়ম পরীক্ষা করে জরিমানা করা হবে।

প্রতিটি পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষ টিম কাজ করবে। যেসব গরু বা গবাদিপশু হাটে ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, ওইসব পশু মোটাতাজা করার জন্য স্টেরয়েড বা হরমোনজাতীয় ইনজেকশন পুশ করলে পশুর কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। পশুর পুলে মোটা হয়ে যায়। চামড়ায় টিপ দিলে চাপা পড়ে যায়। টেস্ট করে প্রমাণিত হলে তাদের সাজা দেয়া হবে। ওইসব পশুর মাংসও ক্ষতিকর বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে গবাদিপশুর হাটে ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ টিম থাকবে। তারা সিদ্ধান্ত দেবে। আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, কোরবানি উপলক্ষে গবাদিপশু ভালো দামে বিক্রির আশায় খামারিরা এবারও পশু লালন-পালন করেছেন। পাশাপাশি অনেক কৃষকও কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করেছেন। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওযায় কোরবানির হাটে গরুর ভালো দাম পাবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা।

তারা বলছেন, তিন মাস আগেও গো-খাদ্যের দাম সহনীয় মাত্রায় ছিল। সম্প্রতি সেই দাম অনেক বেড়েছে। ক্ষতিকর ট্যাবলেট, ডেক্সামেটাসন বড়ি না দিয়ে কোরবানি উপলক্ষে পুষ্টিকর প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করছেন।

প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক খাবার খৈল, ভুসি, ব্যান্ড গুঁড়া, চালের খুদ ও খড়। কিন্তু বাজারে এসব গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বেড়ে যাবে গরুর দাম। আর সেই দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় শহরের খামারিদের মধ্যে একই টেনশন।

ঈদুল আজহা পর্যন্ত সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধভাবে সব ধরনের গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ বন্ধেরও দাবি জানান খামারিরা।

নওগাঁ শহরের আরজি নওগাঁ এলাকার খামারি সাইফুর রহমান বলেন, এখন আর গরু পালনে লাভ নেই। গত তিন মাস আগে যে গমের ভুসি কিনেছি এক হাজার টাকায়, এখন তা কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৭০০ টাকায়। আগে যে ভুট্টার গুঁড়া কিনেছি এক হাজার ২০০ টাকায় এখন তা নিতে হচ্ছে এক হাজার ৯০০ টাকায়। ৪০ কেজির মুগের ভুসি আগে এক হাজার ৩০০ টাকায় কিনলেও এখন কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকায়। এভাবে গো-খাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে সামনের দিনে খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

খামারি দুলু মিয়া বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুগুলোকে মোটাতাজা করছি। তবে গরুর খাদ্যের দাম এত বেশি হওয়ার কারণে খরচ বেড়েছে। কোরবানির হাটে গরুর ভালো দাম পাব কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি। এর মধ্যে যদি আবার সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে তাহলে খামারিদের পথে বসতে হবে। তাই সরকারের কাছে দাবি, সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধ সব গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ বন্ধ করার।

আরেক খামারি মোকলেছুর রহমান বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ, আমার মতো অনেক ছোট ছোট খামারি আছে যারা দৈনিক বাজার থেকে গো-খাদ্য এনে গরু লালন-পালন করে। খাদ্যের দাম বাড়ায় তারাই বেশি বিপদে পড়েছে। ভুসি ৩৫ টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। এক মাসে ভুট্টার কেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা কেজি হয়েছে। সয়াবিন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। একজন খামারি হিসেবে আমি মনে করি, যদি এভাবে খাবারের দাম বাড়তে থাকে, আমাদের গরু লালন-পালন করা ছেড়ে দিতে হবে। যারা নতুন উদ্যোক্তা আছে, তারাও সরে আসবে। এতে ক্ষতি আমাদেরই হবে।

খামারি বেল্লাল হোসেন জানান, তিনি প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু লালন পালন করেন। এবার তিনি ১৫টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এসব গরু বিক্রি করতে না পারলে তার অনেক লোকসান হবে। তাছাড়া ওইসব গরু আর খামারে রাখা যাবে না।

খামারি রবিউল ইসলাম বলেন, তার খামারে বর্তমানে ৩০টি গরু রয়েছে। কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য এ গরু প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে মোটাতাজা করা হচ্ছে। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে খরচের সঙ্গে মিল রেখে হাটে পশুগুলো বিক্রি করতে পারবেন কি না এ নিয়ে তিনি যথেষ্ট চিন্তায় আছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন জানান, এবার নওগাঁয় ৪ লাখ ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ গবাদিপশু কোরবানির জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাড়তি এক লাখ ৩৩ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু বেশি রয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় বিক্রি হবে। তিনি আরও বলেন, এসব পশু প্রাকৃতিক খাবারে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এজন্য আমরা খামারিদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন ও বিজিবির সঙ্গে আমরা সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আমরা খামারিদের দানাদার খাদ্যের পরিবর্তে বেশি পরিমাণে ঘাস, গাছের লতাপাতা ও পরিমাণমতো কচুরিপানা খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি। তাহলে দানাদার খাবারের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করেন তিনি।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সরকারি হাসপাতালে

ছবি

৫-১২ বছর বয়সীদের ফাইজার টিকা দেওয়া হবে

ছবি

শুরু হলো পদ্মাসেতু পেরিয়ে কলকাতা-ঢাকা বাস চলাচল

ছবি

‘সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত’

ছবি

জোর করে সেতু পার হওয়ার : বাইকারদের বিক্ষোভ

ছবি

প্রথম দিনে পদ্মাসেতুর টোল আদায় ২ কোটি টাকার বেশি

ছবি

ইতিহাসের অংশ হতে পারার আনন্দে বিভোর

তিন ঘণ্টায় ঢাকা থেকে বরিশাল, দারুণ খুশি যাত্রীরা

ছবি

ঢাকার পাঁচটি এলাকায় মুখে খাওয়ার কলেরা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রীকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন

বিমান বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

ছবি

করোনায় আতঙ্কিত না হলেও আমরা চিন্তিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি

করোনা: শনাক্তের হার বেড়ে ১৫.৬৬, মৃত্যু ২

ছবি

প্রথমধাপে ডিজিটাল সনদ-আইডি কার্ড পাচ্ছেন ৩৭ হাজারের বেশি মুক্তিযোদ্ধা

ছবি

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অস্ট্রেলিয়া : সিইসি

ছবি

সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে

ছবি

নতুন প্রজন্মকে তৈরি হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

মোটরসাইকেল নিয়ে প্রথম পদ্মা সেতু পার হলেন আমিনুল ইসলাম

ছবি

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ : বাইডেন

ছবি

বর্ণিল উৎসবে খুলল সম্ভাবনার দখিন দুয়ার

দক্ষিণাঞ্চলবাসীর ফেরিঘাটে জীবনের অর্ধেক সময় নষ্টের অবসান হলো

ছবি

আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

বাঙালিদের ‘অপমানের প্রতিশোধ’ পদ্মা সেতু : ওবায়দুল কাদের

প্রমাণ হলো বাংলাদেশও পারে : শেখ হাসিনা

টোলের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর নির্মাণ খরচ উঠাতে ৩০ বছর পর্যন্ত লাগতে পারে

ছবি

বন্যায় দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২

ছবি

পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলবে রোববার থেকে

ছবি

করোনা: একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত কমে ১২৮০

ছবি

আসেন দেখে যান, পদ্মা সেতু হয়েছে কিনা: খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী

ছবি

৫ মিনিটে পদ্মা পার!

ছবি

‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ গানে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ

ছবি

আজ কারও বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

সেতু নিয়ে পানি অনেক ঘোলা করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

প্রধানমন্ত্রী মাকে নিয়ে সেলফি তুললেন পুতুল

ছবি

সেতুতে নামলেন প্রধানমন্ত্রী, দেখলেন ৩১ বিমানের ফ্লাইং ডিসপ্লে

ছবি

স্বপ্নের সেতুর দুয়ার খুললো বর্ণিল উৎসবে

tab

জাতীয়

বন্য ও বর্ষায় গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিদে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

কোরবানির জন্য এক কোটি ২১ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত

বাকী বিল্লাহ ঢাকা, ও কামাল হোসেন, নওগাঁ

শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২

সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ নানা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দুর্ভোগ এখন চরমে। এ অবস্থায় খামারিদের পালিত গবাদিপশুর অবস্থাও কাহিল। অনেক গবাদিপশু রাস্তায় রেখে পালন করা হচ্ছে। এরপর গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট চলছে। আবার দামও বাড়ছে লাগামহীনভাবে। এ অবস্থায় জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে ঈদের বাকি প্রায় ১৫ দিন।

কোরবানির ঈদের পশু কোরবানির জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সারাদেশে ৬ লাখের বেশি খামারির পালিত গবাদিপশুর পরিসংখ্যান প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তাদের তথ্য মতে, দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরে ৬ লাখের বেশি খামারির এক কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব গবাদিপশু বিক্রি করা হবে। আবার অনেকে নিজস্ব পশু কোরবানি দিবেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবার কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৯টি গরু, এক লাখ ৭৩ হাজার ৫০৪টি মহিষ, ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৫টি ছাগল, ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩টি ভেড়া আছে। আর উট, দুম্বা ও গাড়ল আছে এক হাজার ৪০৯টি।

আর গবাদিপশুর খামার আছে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৩২টি। প্রতিটি খামারে কোরবানির জন্য পশু পালন করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলেন, রমজানের ঈদের পর থেকে পশু খামারিরা পশুর হাটে বিক্রির জন্য খামারে পালিত পশু মোটাতাজা শুরু করেছেন। তারা কিভাবে পশু মোটাতাজা করবে তার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তবে কেউ যদি গোপনে স্টেরয়েডজাতীয় ইনজেকশন দিয়ে পশু মোটাতাজা করে তা হলে তাদের অনিয়ম পরীক্ষা করে জরিমানা করা হবে।

প্রতিটি পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষ টিম কাজ করবে। যেসব গরু বা গবাদিপশু হাটে ঝিম ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, ওইসব পশু মোটাতাজা করার জন্য স্টেরয়েড বা হরমোনজাতীয় ইনজেকশন পুশ করলে পশুর কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। পশুর পুলে মোটা হয়ে যায়। চামড়ায় টিপ দিলে চাপা পড়ে যায়। টেস্ট করে প্রমাণিত হলে তাদের সাজা দেয়া হবে। ওইসব পশুর মাংসও ক্ষতিকর বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে গবাদিপশুর হাটে ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ টিম থাকবে। তারা সিদ্ধান্ত দেবে। আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, কোরবানি উপলক্ষে গবাদিপশু ভালো দামে বিক্রির আশায় খামারিরা এবারও পশু লালন-পালন করেছেন। পাশাপাশি অনেক কৃষকও কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করেছেন। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওযায় কোরবানির হাটে গরুর ভালো দাম পাবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা।

তারা বলছেন, তিন মাস আগেও গো-খাদ্যের দাম সহনীয় মাত্রায় ছিল। সম্প্রতি সেই দাম অনেক বেড়েছে। ক্ষতিকর ট্যাবলেট, ডেক্সামেটাসন বড়ি না দিয়ে কোরবানি উপলক্ষে পুষ্টিকর প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করছেন।

প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক খাবার খৈল, ভুসি, ব্যান্ড গুঁড়া, চালের খুদ ও খড়। কিন্তু বাজারে এসব গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বেড়ে যাবে গরুর দাম। আর সেই দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় শহরের খামারিদের মধ্যে একই টেনশন।

ঈদুল আজহা পর্যন্ত সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধভাবে সব ধরনের গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ বন্ধেরও দাবি জানান খামারিরা।

নওগাঁ শহরের আরজি নওগাঁ এলাকার খামারি সাইফুর রহমান বলেন, এখন আর গরু পালনে লাভ নেই। গত তিন মাস আগে যে গমের ভুসি কিনেছি এক হাজার টাকায়, এখন তা কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৭০০ টাকায়। আগে যে ভুট্টার গুঁড়া কিনেছি এক হাজার ২০০ টাকায় এখন তা নিতে হচ্ছে এক হাজার ৯০০ টাকায়। ৪০ কেজির মুগের ভুসি আগে এক হাজার ৩০০ টাকায় কিনলেও এখন কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকায়। এভাবে গো-খাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে সামনের দিনে খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

খামারি দুলু মিয়া বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুগুলোকে মোটাতাজা করছি। তবে গরুর খাদ্যের দাম এত বেশি হওয়ার কারণে খরচ বেড়েছে। কোরবানির হাটে গরুর ভালো দাম পাব কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি। এর মধ্যে যদি আবার সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে তাহলে খামারিদের পথে বসতে হবে। তাই সরকারের কাছে দাবি, সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধ সব গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ বন্ধ করার।

আরেক খামারি মোকলেছুর রহমান বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ, আমার মতো অনেক ছোট ছোট খামারি আছে যারা দৈনিক বাজার থেকে গো-খাদ্য এনে গরু লালন-পালন করে। খাদ্যের দাম বাড়ায় তারাই বেশি বিপদে পড়েছে। ভুসি ৩৫ টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। এক মাসে ভুট্টার কেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা কেজি হয়েছে। সয়াবিন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। একজন খামারি হিসেবে আমি মনে করি, যদি এভাবে খাবারের দাম বাড়তে থাকে, আমাদের গরু লালন-পালন করা ছেড়ে দিতে হবে। যারা নতুন উদ্যোক্তা আছে, তারাও সরে আসবে। এতে ক্ষতি আমাদেরই হবে।

খামারি বেল্লাল হোসেন জানান, তিনি প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু লালন পালন করেন। এবার তিনি ১৫টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এসব গরু বিক্রি করতে না পারলে তার অনেক লোকসান হবে। তাছাড়া ওইসব গরু আর খামারে রাখা যাবে না।

খামারি রবিউল ইসলাম বলেন, তার খামারে বর্তমানে ৩০টি গরু রয়েছে। কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য এ গরু প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে মোটাতাজা করা হচ্ছে। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে খরচের সঙ্গে মিল রেখে হাটে পশুগুলো বিক্রি করতে পারবেন কি না এ নিয়ে তিনি যথেষ্ট চিন্তায় আছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন জানান, এবার নওগাঁয় ৪ লাখ ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ গবাদিপশু কোরবানির জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাড়তি এক লাখ ৩৩ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু বেশি রয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় বিক্রি হবে। তিনি আরও বলেন, এসব পশু প্রাকৃতিক খাবারে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এজন্য আমরা খামারিদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন ও বিজিবির সঙ্গে আমরা সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আমরা খামারিদের দানাদার খাদ্যের পরিবর্তে বেশি পরিমাণে ঘাস, গাছের লতাপাতা ও পরিমাণমতো কচুরিপানা খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি। তাহলে দানাদার খাবারের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করেন তিনি।

back to top