alt

জাতীয়

নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

(বাসস) : সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক অসুবিধা সত্ত্বেও বাংলাদেশ যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য তার সরকার নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস এবং যুদ্ধ (রাশিয়া-ইউক্রেন) আমাদের জন্য অনেক বাধা তৈরি করেছে। আমরা এ সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন ছিলাম। তবে আমাদের আরও সতর্ক এবং সাশ্রয়ী হতে হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শিক্ষাব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী সোমবার (২৮ নভেম্বর) তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে (পিএমও) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ ও পরিসংখ্যান তুলে দেন। পরে বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব বিভাগের ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছর এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। মোট তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৬ লাখ।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করে সময়োপযোগী করে প্রস্তুত করতে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করে চলেছে যাতে তারা আধুনিক সমাজে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

তিনি বলেন, তরুণরা বাংলাদেশের শক্তি, তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য তাদের যোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে তা ডিজিটালাইজড ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হবে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আবির্ভাবের ফলে দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তার সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিশুদের শৈশব থেকেই এমনভাবে শিক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে যাতে তারা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনার পর থেকে পরিবর্তনগুলি মোকাবিলা করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে ১শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে যেখানে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ প্রচুর পরিমাণে আসবে এবং বিপুল দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশিদের অদক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে পাঠানোর পক্ষপাতী নন বরং যোগ্য হিসেবে পাঠানোর পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘তাই, আমরা শিক্ষাকে বহুমাত্রিক (শিক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বৃত্তিমূলক মাধ্যম অন্তর্ভুক্ত করে) করছি, যাতে আমাদের দেশ আধুনিক শিক্ষার সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে যা তাদের ভাগ্য গড়তে সাহায্য করবে কারণ সবাই বিএ এবং এমএ ডিগ্রি নিয়ে বড় পদে যাবে না।

কেউ যেন পরীক্ষায় ফেল না করে সেজন্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনযোগী হওয়ার বিষয়ে তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং অন্যদেরকে পরের বারের জন্য শুভকামনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী সন্তানরা কোন বিখ্যাত স্কুলে না পড়লে ভালো শিক্ষা পাবে না অভিভাবকদের এমন মানসিকতা পরিবর্তন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদিও অতীতে দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিজ্ঞানী, সিভিল সার্ভিস অফিসার এবং নেতারা জেলা স্কুল থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

দেশের বহু জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, নেতা, পাকিস্তান আমলের বহু সিএসপি অফিসার জেলা স্কুলগুলো থেকে পাস করেই হয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন কারো কারো ধারণা এমন যে, মাত্র কয়েকটা স্কুল ভালো, ওখানে না পড়লে ভালো পড়া হয় না। এই যে মানসিকতা এটাও বদলাতে হবে।’

প্রত্যেকটা স্কুলেই যেন ভালোভাবে পড়াশোনা হয় সেটা দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘সুতরাং, কোন বিদ্যালয়কে অবহেলা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ভালো স্কুলগুলোর ভালো ভালো শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে ভালো ফল করাটা সহজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব সাফল্যের কৃতিত্ব তাদের (শিক্ষক বা বিদ্যালয়) দেয়া উচিত যারা তাদের মধ্যম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘তাদেরকে সমর্থন দেয়া এবং পুরস্কৃত করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে কারণ তিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষা ছাড়া কোন দেশ দারিদ্র্য দূর করতে পারে না। জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে এর শিক্ষকদের সরকারি চাকরির মর্যাদা দিয়ে দেন। তিনি সংবিধানেও শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক এবং নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করে দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন, যেমন শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্য বই প্রদান, উপবৃত্তি ও বৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে স্কুল ফিডিং প্রবর্তন এবং শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন স্কুল, কলেজ ছাড়াও সাধারণ, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

তিনি বলেন, আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি এবং যথাসময়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য তৎপর রয়েছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। সুতরাং, আমাদের একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে যে, আমরা কখনই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা থেকে পিছিয়ে পড়ব না।

তার সরকার জাতির পিতার করে দেয়া ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের আলোকে একটি যুগোপযোগী শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়নে সক্ষম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০০৯ এর সরকার গঠনের পর এ পর্যন্ত সরকারে ছিলাম, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি সবকিছু ভালোই এগুচ্ছিল কিন্তু এই করোনাভাইরাস অতিমারির ফলে বিশ^ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও লেখাপড়া বন্ধ, ঘরের মধ্যে পরে থাকার মতো একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ ছিল, এটা আমাদের শিশুদের জন্য খুবই একটা ক্ষতির সময়। তারপরেও অনলাইনে হলেও শিশুরা লেখাপড়াটা যাতে চালিয়ে যেতে পারে সে সময়েও আমরা কিছুটা উদ্যোগ নিয়েছি, ফলে কিছু পড়াশোনার সুযোগ হয়েছে। অনেক উন্নত দেশ থেকেও বাংলাদেশ সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছে। পাশাপাশি আজকে শিক্ষার হারও ৭৫ ভাগে উন্নীত করতে পেরেছে।

ছবি

হিরো আলমকে নিয়ে আ.লীগ-বিএনপির উপহাস করার অধিকার নেই: টিআইবি

ছবি

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন, উল্লেখ করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার

ছবি

দেশের চূড়ান্ত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

ছবি

নতুন করে ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত

ছবি

বইমেলায় স্টল বরাদ্দ চেয়ে আদর্শ প্রকাশনীর রিটের শুনানি আগামীকাল

ছবি

সারাহ ইসলামের কিডনি নেওয়া দুই নারীর অবস্থা উন্নতির দিকে

ছবি

১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে সিএমএইচআরে বাংলাদেশের আবেদন

ছবি

জুট করপোরেশনের ১৯০ একর জমি বেদখলে

ছবি

বেলজিয়ামের রানি মাথিল্ডে ঢাকা পৌঁছেছেন

ছবি

বায়ুদূষণের দিক থেকে আজও শীর্ষে ঢাকা

ছবি

ভর্তুকি আর কত, গ্যাস-বিদ্যুৎ দেয়া যাবে ক্রয়মূল্যে : প্রধানমন্ত্রী

মার্চে আসবে আদানির বিদ্যুৎ, ‘কোন শঙ্কা নেই’ : নসরুল হামিদ

দেশে ১৫ লাখ ক্যান্সারের রোগী: ডা. শারফুদ্দিন

ছবি

হজের নিবন্ধন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি

ছবি

সবার মতামতের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ: ইসি

ছবি

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয় এড়িয়ে গেলেন হিনা রাব্বানি

ছবি

অভিবাসন ব্যয় কমানোর আশ্বাস মালয়েশিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

ছবি

ক্যান্সারের চিকিৎসায় বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার খরচ কমানোর আশ্বাস

ছবি

দূষিত শহরের তালিকায় ফের শীর্ষে ঢাকা

ছবি

পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত, হিনাকে মোমেন

ছবি

গ্যাস-বিদ্যুতে কেন ভর্তুকি দেব, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

ওয়াসার মিটারের গর্তে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশ বিস্তারের উৎস

ছবি

লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশ সৃষ্টিতে মনোযোগী হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি

সরকারকে গুম ও নির্যাতনের তদন্ত করতে আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

ছবি

কলম্বোতে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিমন্ত্রী হিনা রাব্বানির বৈঠক

ছবি

একদিনে ১২ জন কোভিডে আক্রান্ত

ছবি

জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনা: প্রতিদিন প্রায় ২০ জন নিহত, ৩৫ শতাংশই বাইক আরোহী

ছবি

সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র

ছবি

নিপা ভাইরাস : সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নির্দেশনা স্বাস্থ্যের

ছবি

এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় আসবেন দুই মার্কিন প্রতিনিধি

ছবি

রিজার্ভ চুরির ৭ বছর : টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা কম

নকশায় ত্রুটি, প্রকৌশলীদের গাফিলতি ও পিডির ব্যর্থতায় শেষ হচ্ছে না প্রকল্পের কাজ

ছবি

নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ২৮ জেলায়: হাসপাতাল প্রস্তুতের নির্দেশ

ছবি

একদিনে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত

tab

জাতীয়

নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

(বাসস)

সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক অসুবিধা সত্ত্বেও বাংলাদেশ যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য তার সরকার নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস এবং যুদ্ধ (রাশিয়া-ইউক্রেন) আমাদের জন্য অনেক বাধা তৈরি করেছে। আমরা এ সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন ছিলাম। তবে আমাদের আরও সতর্ক এবং সাশ্রয়ী হতে হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শিক্ষাব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী সোমবার (২৮ নভেম্বর) তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে (পিএমও) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ ও পরিসংখ্যান তুলে দেন। পরে বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব বিভাগের ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছর এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। মোট তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৬ লাখ।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করে সময়োপযোগী করে প্রস্তুত করতে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করে চলেছে যাতে তারা আধুনিক সমাজে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

তিনি বলেন, তরুণরা বাংলাদেশের শক্তি, তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য তাদের যোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে তা ডিজিটালাইজড ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হবে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আবির্ভাবের ফলে দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তার সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিশুদের শৈশব থেকেই এমনভাবে শিক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে যাতে তারা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনার পর থেকে পরিবর্তনগুলি মোকাবিলা করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে ১শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে যেখানে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ প্রচুর পরিমাণে আসবে এবং বিপুল দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশিদের অদক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে পাঠানোর পক্ষপাতী নন বরং যোগ্য হিসেবে পাঠানোর পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘তাই, আমরা শিক্ষাকে বহুমাত্রিক (শিক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বৃত্তিমূলক মাধ্যম অন্তর্ভুক্ত করে) করছি, যাতে আমাদের দেশ আধুনিক শিক্ষার সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে যা তাদের ভাগ্য গড়তে সাহায্য করবে কারণ সবাই বিএ এবং এমএ ডিগ্রি নিয়ে বড় পদে যাবে না।

কেউ যেন পরীক্ষায় ফেল না করে সেজন্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনযোগী হওয়ার বিষয়ে তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং অন্যদেরকে পরের বারের জন্য শুভকামনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী সন্তানরা কোন বিখ্যাত স্কুলে না পড়লে ভালো শিক্ষা পাবে না অভিভাবকদের এমন মানসিকতা পরিবর্তন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদিও অতীতে দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিজ্ঞানী, সিভিল সার্ভিস অফিসার এবং নেতারা জেলা স্কুল থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

দেশের বহু জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, নেতা, পাকিস্তান আমলের বহু সিএসপি অফিসার জেলা স্কুলগুলো থেকে পাস করেই হয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন কারো কারো ধারণা এমন যে, মাত্র কয়েকটা স্কুল ভালো, ওখানে না পড়লে ভালো পড়া হয় না। এই যে মানসিকতা এটাও বদলাতে হবে।’

প্রত্যেকটা স্কুলেই যেন ভালোভাবে পড়াশোনা হয় সেটা দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘সুতরাং, কোন বিদ্যালয়কে অবহেলা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ভালো স্কুলগুলোর ভালো ভালো শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে ভালো ফল করাটা সহজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব সাফল্যের কৃতিত্ব তাদের (শিক্ষক বা বিদ্যালয়) দেয়া উচিত যারা তাদের মধ্যম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘তাদেরকে সমর্থন দেয়া এবং পুরস্কৃত করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে কারণ তিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষা ছাড়া কোন দেশ দারিদ্র্য দূর করতে পারে না। জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে এর শিক্ষকদের সরকারি চাকরির মর্যাদা দিয়ে দেন। তিনি সংবিধানেও শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক এবং নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করে দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন, যেমন শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্য বই প্রদান, উপবৃত্তি ও বৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে স্কুল ফিডিং প্রবর্তন এবং শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন স্কুল, কলেজ ছাড়াও সাধারণ, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

তিনি বলেন, আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি এবং যথাসময়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য তৎপর রয়েছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। সুতরাং, আমাদের একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে যে, আমরা কখনই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা থেকে পিছিয়ে পড়ব না।

তার সরকার জাতির পিতার করে দেয়া ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের আলোকে একটি যুগোপযোগী শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়নে সক্ষম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০০৯ এর সরকার গঠনের পর এ পর্যন্ত সরকারে ছিলাম, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি সবকিছু ভালোই এগুচ্ছিল কিন্তু এই করোনাভাইরাস অতিমারির ফলে বিশ^ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও লেখাপড়া বন্ধ, ঘরের মধ্যে পরে থাকার মতো একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ ছিল, এটা আমাদের শিশুদের জন্য খুবই একটা ক্ষতির সময়। তারপরেও অনলাইনে হলেও শিশুরা লেখাপড়াটা যাতে চালিয়ে যেতে পারে সে সময়েও আমরা কিছুটা উদ্যোগ নিয়েছি, ফলে কিছু পড়াশোনার সুযোগ হয়েছে। অনেক উন্নত দেশ থেকেও বাংলাদেশ সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছে। পাশাপাশি আজকে শিক্ষার হারও ৭৫ ভাগে উন্নীত করতে পেরেছে।

back to top