alt

রাজনীতি

নির্বাচন : প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল, বিদ্রোহীদেরও উৎসাহের ইঙ্গিত

ফয়েজ আহমেদ তুষার : সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৩

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্তরা সোমবার দলটির ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহ করেন

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেয়ার আর দুইদিন বাকি। জোটগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ এবার এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংসদীয় তিনশ’ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে নৌকার প্রার্থী ঘোষণা করায় এই আলোচনা শুরু হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতি দলীয় প্রধানের কিছু নির্দেশনায় ওই আলোচনার ‘পালে হাওয়া লাগে’।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল কী হবে? এককভাবে নির্বাচন করবে না কি আগের মতো জোটবদ্ধ থাকবে, দলের পক্ষ থেকে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভিন্ন রকম বক্তব্য বরং ‘অস্পষ্টতা’ তৈরি করছে।

গতকাল রোববার গণভবনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাকে যেন বাধা না দেয়া হয়; বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার মতো পরিবেশ যেন তৈরি না হয়- মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা যেন তা নিশ্চিত করে, এ সংক্রান্ত নির্দেশনাও আসে।

জোটগত ভোট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েকদিন ধরে কৌশলী বক্তব্য দিচ্ছেন।

গত শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষরা যদি একটা বড় জোট করে, সেটার বিপরীতে আমাদের জোট হবে। তাছাড়া আমরা কেন অহেতুক জোট করতে যাবো? প্রয়োজন না থাকলে তো জোট করবো না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এবার জনগণই আওয়ামী লীগের সঙ্গী ও বন্ধু। তাই আর কোনো সঙ্গী খোঁজার দরকার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সময়ে নতুন কৌশলও দলকে গ্রহণ করতে হয়। যে সময় যে কৌশল দরকার, নেত্রী সেই কৌশল ঠিক করেন। দলের অবস্থান অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে দলীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন এবং দেন।’

তবে একই দিন বিকেলে ধানমন্ডিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কার সঙ্গে কী অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে, কাকে কত সিট দেবো, আমরা কীভাবে জোট করবো, জোটটা নির্বাচনের স্বার্থে কোনো পথে সুবিধাজনক; অনেক কিছু আমাদের ভাবতে হবে। নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমা এবং প্রত্যাহারেও সময় আছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ অবশ্য পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ জোটবন্ধ হয়েই নির্বাচন করবে।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৪ দলীয় জোটবদ্ধগত নির্বাচন করবো সেটি আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

আপনারা জানেন, ২০০৮ সালেও আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছিলাম। সেই বারও কিন্তু প্রায় ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পরে মহাজোটের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছিল। গতবারও তা-ই করা হয়েছিল। এবারও ২৯৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। পরে জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

জোটগত নির্বাচনের বিষয়ে ১৪ দলের বেশকয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় সংবাদের। তারা জানান, সময়মতো তাদের আসন ছেড়ে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আগেই এই আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন।

এবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নমনীয় থাকবে বলেও আলোচনা আছে। রোববার থেকে ‘ডামি প্রার্থী’র বিষয়ে দলীয় প্রধানের বক্তব্য বা নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতো করে প্রচার করছেন বিভিন্ন আসনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা।

সোমবার ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা রোববার গণভবনে প্রার্থীদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে কোনো কিছু অপরিষ্কার, অস্পষ্টতা নেই। সবকিছু খোলামেলা বলে দিয়েছেন। সবকিছু স্পষ্ট করেছেন। তার যে গাইডলাইন সেই গাইডলাইন অনুযায়ী যারা প্রার্থী হতে চান, তিনিই ডামি প্রার্থীর কথা বলেছেন। কাজেই এই গাইডলাইন অনুসরন করে প্রার্থী হতে বাধা আছে বলে আমার জানা নেই। স্বয়ং সভাপতি গাইডলাইন দিয়েছেন।’

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর রেওয়াজ আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পারে, সেটা করবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, এটা আওয়ামী লীগ থেকে নয়, অন্য দল থেকে দাঁড়ানোর বিষয়ে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন সবাইকে কিন্তু পেনাল্টি দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবার সেই কথাটি মনে করিয়ে দিয়ে কোনো ছোটখাট দল থেকেও এমন কি কেউ যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চায় সেটিকে নিরুৎসাহিত না করার কথা বলেছেন। আমাদের দল থেকে নয়, অন্য দল থেকে নানাভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়, যেমন আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেকে, প্রায় পাঁচ-ছয়জন প্রার্থী হয়েছেন। এটাকে যেন নিরুৎসাহিত না করা হয়, এই কথাটাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।’

বিভিন্ন আসনে বিদ্রোহ ঘোষণা
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে গত ১৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চার দিন মনোনয়নে আগ্রহীদের কাছে ফরম বিক্রি করে। ফরম বিক্রি হয় ৩ হাজার ৩৬২টি। গড়ে প্রতিটি আসনের বিপরীতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ১১ জন। একজনকে মনোনয়ন দেয়ায় বঞ্চিত গড়ে ১০ জন। শীর্ষ পর্যায়ের সংকেত পেয়ে এবার অনেকেই স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে আলোচনা আছে।

ইতোমধ্যে, ঢাকা-৫ আসনে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মশিউর রহমান সজল। এই এলাকা থেকে বিগত চারবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে তিনি। সোমবার বিকেলে কাঠেরপুল এলাকায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামনে এই ঘোষণা দেন সজল। এ সময় স্থানীয় এক নেতা বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলে দিয়েছেন, নির্বাচনে ভোটার আনতে হবে। তাই কেউ স্বতন্ত্র দাঁড়ালে তাকে বাঁধা দেয়া যাবে না। আমরা মনে করি স্বতন্ত্রভাবেই সজল ভাই এবার এই আসনে জয়লাভ করবে।’

ঢাকা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী মনিরুল ইসলামকে এবার মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। মশিউর রহমান সজলও এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফুর রহমান ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াইয়ের অনুমতি দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বললেন, স্বতন্ত্র দাঁড়াতে কোনো অসুবিধা নেই। তৈরি থাকুন ফরিদপুর-১ আসনের জনগণ। আপনারাই শক্তি।’

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, বর্তমান সংসদের যে ৭১ জন এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন তাদের অনেকেই এবার ভোটে আসবেন।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবার মনোনয়ন পাননি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে নৌকার টিকেট দেয়া হয়েছে। সামশুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন বলে তার সমর্থকরা বলছেন।

সিলেট-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সারোয়ার হোসেন। তিনি ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘নেত্রীর নির্দেশনায় আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হব ইনশাআল্লাহ।’

টানা ষষ্ঠবারের মতো রাজবাড়ী-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়তে চান রাজবাড়ী সদর উপজেলায় টানা চারবারের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাস। এজন্য সম্প্রতি তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

নৌকার মনোনয়ন চেয়ে পাননি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাহাবুদ্দিন আহমেদ চঞ্চল। লম্বা সময় ধরে মানিকগঞ্জ-২ আসনে নিয়মিত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করছেন তিনি। তার বাবা সামসুদ্দিন আহমেদ এখানকার সাবেক সংসদ সদস্য। সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবার তাই স্বতন্ত্র হয়ে লড়বেন এখানে। তার বিপক্ষে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন চিকিৎসক তৌহিদুজ্জামান তুহিন। তিনি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের জামাতা। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির। তিনি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে এ বিষয়ে স্থানীয় সবার মতামত জানতে চেয়েছেন।

ফরিদপুর-৪ আসনে আবারও নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। এর আগে তিনি পরপর দুবার নৌকা নিয়ে হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন) কাছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নিক্সন এবারও নৌকা চেয়ে পাননি। তবে আগের মতোই থাকছেন ভোটের লড়াইয়ে।

রংপুর-৬ আসনে আবারও নৌকা পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। নৌকা না পেয়ে এখান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম। তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ইতোমধ্যেই।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে নৌকা চেয়ে পাননি আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন। ইতোমধ্যেই ফেইসবুকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সায়েদুল হক সুমন নির্বাচনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে ফেইসবুকের একাধিক পোস্টে।

চাঁদপুর-৪ আসনে আবারও মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক ভূঁইয়া। তিনি চাঁদুপর-৩ আসন থেকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চাঁদপুর-১ আসনে এবার নৌকা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মাহমুদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন। চাঁদপুরের অন্য আসনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে তোড়জোড় চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান আলম। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মঈনউদ্দিন মঈন।

জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোট করে নবম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন করেছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপির বর্জনে দশম সংসদ নির্বাচনে শুধু ১৪ দলীয় জোট শরিকদের সঙ্গে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়নি ক্ষমতাসীনরা।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে এইচ এম এরশাদের দল জাতীয় পার্টি ২৩টি, রাশেদ খান মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, হাসানুল হক ইনুর জাদস ৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল। সমঝোতার মধ্য দিয়ে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর দল তরিকত ফেডারেশন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি এবং একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারাও আসন পেয়েছিল।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে হাসানুল হক ইনুর আসন কুষ্টিয়া-২ এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের আসন নারায়ণগঞ্জ-৫ ফাঁকা রেখে শরিকদের সব আসইে নৌকার প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

ছবি

‘যত কঠোর হওয়া দরকার আমরা হবো’: কাদের

ছবি

বিএনপি নেতারা নিজেদের মুখ রক্ষায় অসংলগ্ন কথা বলছেন

ছবি

একুশের চেতনা গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন তীব্রতর করবে: মির্জা ফখরুল

ছবি

মিউনিখে সাহসী কূটনীতি দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: ওবায়দুল কাদের

ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা আওয়ামী লীগ এখন বন্দুকনির্ভর দলে পরিণত হয়েছে: রিজভী

ছবি

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মির্জা আব্বাস

ছবি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নারী আসন ৫০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ

ছবি

সভ্যতার জন্য বৈরী সংগঠন ছাত্রলীগ : রিজভী

ছবি

বিএনপির শীর্ষ ৭ আইনজীবীর আদালত অবমাননার শুনানি দুই মাস পেছাল

ছবি

বিরোধী দল নিষিদ্ধ করতে চায় আওয়ামী লীগ: মঈন খান

ছবি

আরেক মামলায় মির্জা আব্বাসের জামিন

ছবি

জাতি ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে

ছবি

সংরক্ষিত ৪৮ আসনে আ. লীগের মনোনয়নপত্র জমা

ছবি

তারেক রহমান বিএনপিকে ধ্বংস করছে : নানক

ছবি

নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রকে বাঁচিয়েছি: চুন্নু

ছবি

স্বাধীনতার মূল আদর্শে আওয়ামী লীগ আঘাত করেছে : মঈন খান

ছবি

৯ মার্চ জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ঘোষণা করলেন রওশন

ছবি

নারায়ণগঞ্জ আ. লীগ : আনোয়ারের কমিটি, অবাঞ্ছিত ঘোষণা আইভীর

ছবি

দেশে বিএনপির চেয়ে বড় উগ্রবাদী কারা, প্রশ্ন ওবায়দুল কাদেরের

ছবি

এ দেশে যে কেউ যা তা করবে, সেটা হতে দেওয়া যায় না : গণফোরাম

ছবি

ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ : ফখরুল

ছবি

কৌশল পরিবর্তন করে আবার ঘুরে দাড়াতে চায় বিএনপি

ছবি

ইউনূসে সরকারের কোনো হাত নেই : আইনমন্ত্রী

ছবি

রোজায় পণ্যের সংকট হবে না, বেঁধে দেওয়া হবে তেলের দাম: প্রতিমন্ত্রী

ছবি

ফখরুল আবারও দিবাস্বপ্নে বিভোর : কাদের

ছবি

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন: এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি

ফখরুল-খসরুর মুক্তি, বললেন তাদের কোন ক্ষতি হয়নি

ছবি

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে শহীদুজ্জামান সরকার

ছবি

বিএনপি নেতা অ্যানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন

ছবি

কারামুক্ত ফখরুল ও খসরু

ছবি

১০৮ দিন পর জামিনে মুক্ত হলেন মির্জা ফখরুল

ছবি

বিকেলে কারামুক্তি পেতে পারেন ফখরুল-খসরু

ছবি

বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার চিন্তা আ.লীগ এখনো করেনি: ওবায়দুল কাদের

ছবি

কোন উপজেলায় কবে ভোট: ইসি

ছবি

আ’লীগের সংরক্ষিত এমপি, অধিকাংশই নতুন মুখ

ছবি

সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা

tab

রাজনীতি

নির্বাচন : প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল, বিদ্রোহীদেরও উৎসাহের ইঙ্গিত

ফয়েজ আহমেদ তুষার

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্তরা সোমবার দলটির ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহ করেন

সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৩

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেয়ার আর দুইদিন বাকি। জোটগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ এবার এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংসদীয় তিনশ’ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে নৌকার প্রার্থী ঘোষণা করায় এই আলোচনা শুরু হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতি দলীয় প্রধানের কিছু নির্দেশনায় ওই আলোচনার ‘পালে হাওয়া লাগে’।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল কী হবে? এককভাবে নির্বাচন করবে না কি আগের মতো জোটবদ্ধ থাকবে, দলের পক্ষ থেকে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভিন্ন রকম বক্তব্য বরং ‘অস্পষ্টতা’ তৈরি করছে।

গতকাল রোববার গণভবনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাকে যেন বাধা না দেয়া হয়; বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার মতো পরিবেশ যেন তৈরি না হয়- মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা যেন তা নিশ্চিত করে, এ সংক্রান্ত নির্দেশনাও আসে।

জোটগত ভোট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েকদিন ধরে কৌশলী বক্তব্য দিচ্ছেন।

গত শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষরা যদি একটা বড় জোট করে, সেটার বিপরীতে আমাদের জোট হবে। তাছাড়া আমরা কেন অহেতুক জোট করতে যাবো? প্রয়োজন না থাকলে তো জোট করবো না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এবার জনগণই আওয়ামী লীগের সঙ্গী ও বন্ধু। তাই আর কোনো সঙ্গী খোঁজার দরকার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সময়ে নতুন কৌশলও দলকে গ্রহণ করতে হয়। যে সময় যে কৌশল দরকার, নেত্রী সেই কৌশল ঠিক করেন। দলের অবস্থান অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে দলীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন এবং দেন।’

তবে একই দিন বিকেলে ধানমন্ডিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কার সঙ্গে কী অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে, কাকে কত সিট দেবো, আমরা কীভাবে জোট করবো, জোটটা নির্বাচনের স্বার্থে কোনো পথে সুবিধাজনক; অনেক কিছু আমাদের ভাবতে হবে। নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমা এবং প্রত্যাহারেও সময় আছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ অবশ্য পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ জোটবন্ধ হয়েই নির্বাচন করবে।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৪ দলীয় জোটবদ্ধগত নির্বাচন করবো সেটি আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

আপনারা জানেন, ২০০৮ সালেও আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছিলাম। সেই বারও কিন্তু প্রায় ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পরে মহাজোটের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছিল। গতবারও তা-ই করা হয়েছিল। এবারও ২৯৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। পরে জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

জোটগত নির্বাচনের বিষয়ে ১৪ দলের বেশকয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় সংবাদের। তারা জানান, সময়মতো তাদের আসন ছেড়ে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আগেই এই আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন।

এবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নমনীয় থাকবে বলেও আলোচনা আছে। রোববার থেকে ‘ডামি প্রার্থী’র বিষয়ে দলীয় প্রধানের বক্তব্য বা নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতো করে প্রচার করছেন বিভিন্ন আসনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা।

সোমবার ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা রোববার গণভবনে প্রার্থীদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে কোনো কিছু অপরিষ্কার, অস্পষ্টতা নেই। সবকিছু খোলামেলা বলে দিয়েছেন। সবকিছু স্পষ্ট করেছেন। তার যে গাইডলাইন সেই গাইডলাইন অনুযায়ী যারা প্রার্থী হতে চান, তিনিই ডামি প্রার্থীর কথা বলেছেন। কাজেই এই গাইডলাইন অনুসরন করে প্রার্থী হতে বাধা আছে বলে আমার জানা নেই। স্বয়ং সভাপতি গাইডলাইন দিয়েছেন।’

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর রেওয়াজ আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পারে, সেটা করবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, এটা আওয়ামী লীগ থেকে নয়, অন্য দল থেকে দাঁড়ানোর বিষয়ে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন সবাইকে কিন্তু পেনাল্টি দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবার সেই কথাটি মনে করিয়ে দিয়ে কোনো ছোটখাট দল থেকেও এমন কি কেউ যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চায় সেটিকে নিরুৎসাহিত না করার কথা বলেছেন। আমাদের দল থেকে নয়, অন্য দল থেকে নানাভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়, যেমন আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেকে, প্রায় পাঁচ-ছয়জন প্রার্থী হয়েছেন। এটাকে যেন নিরুৎসাহিত না করা হয়, এই কথাটাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।’

বিভিন্ন আসনে বিদ্রোহ ঘোষণা
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে গত ১৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চার দিন মনোনয়নে আগ্রহীদের কাছে ফরম বিক্রি করে। ফরম বিক্রি হয় ৩ হাজার ৩৬২টি। গড়ে প্রতিটি আসনের বিপরীতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ১১ জন। একজনকে মনোনয়ন দেয়ায় বঞ্চিত গড়ে ১০ জন। শীর্ষ পর্যায়ের সংকেত পেয়ে এবার অনেকেই স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে আলোচনা আছে।

ইতোমধ্যে, ঢাকা-৫ আসনে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মশিউর রহমান সজল। এই এলাকা থেকে বিগত চারবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে তিনি। সোমবার বিকেলে কাঠেরপুল এলাকায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামনে এই ঘোষণা দেন সজল। এ সময় স্থানীয় এক নেতা বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলে দিয়েছেন, নির্বাচনে ভোটার আনতে হবে। তাই কেউ স্বতন্ত্র দাঁড়ালে তাকে বাঁধা দেয়া যাবে না। আমরা মনে করি স্বতন্ত্রভাবেই সজল ভাই এবার এই আসনে জয়লাভ করবে।’

ঢাকা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী মনিরুল ইসলামকে এবার মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনর রশীদ মুন্না। মশিউর রহমান সজলও এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফুর রহমান ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াইয়ের অনুমতি দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বললেন, স্বতন্ত্র দাঁড়াতে কোনো অসুবিধা নেই। তৈরি থাকুন ফরিদপুর-১ আসনের জনগণ। আপনারাই শক্তি।’

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, বর্তমান সংসদের যে ৭১ জন এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন তাদের অনেকেই এবার ভোটে আসবেন।

চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবার মনোনয়ন পাননি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে নৌকার টিকেট দেয়া হয়েছে। সামশুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন বলে তার সমর্থকরা বলছেন।

সিলেট-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সারোয়ার হোসেন। তিনি ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘নেত্রীর নির্দেশনায় আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হব ইনশাআল্লাহ।’

টানা ষষ্ঠবারের মতো রাজবাড়ী-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়তে চান রাজবাড়ী সদর উপজেলায় টানা চারবারের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাস। এজন্য সম্প্রতি তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

নৌকার মনোনয়ন চেয়ে পাননি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাহাবুদ্দিন আহমেদ চঞ্চল। লম্বা সময় ধরে মানিকগঞ্জ-২ আসনে নিয়মিত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করছেন তিনি। তার বাবা সামসুদ্দিন আহমেদ এখানকার সাবেক সংসদ সদস্য। সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবার তাই স্বতন্ত্র হয়ে লড়বেন এখানে। তার বিপক্ষে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন চিকিৎসক তৌহিদুজ্জামান তুহিন। তিনি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের জামাতা। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির। তিনি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে এ বিষয়ে স্থানীয় সবার মতামত জানতে চেয়েছেন।

ফরিদপুর-৪ আসনে আবারও নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। এর আগে তিনি পরপর দুবার নৌকা নিয়ে হেরেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন) কাছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নিক্সন এবারও নৌকা চেয়ে পাননি। তবে আগের মতোই থাকছেন ভোটের লড়াইয়ে।

রংপুর-৬ আসনে আবারও নৌকা পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। নৌকা না পেয়ে এখান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম। তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ইতোমধ্যেই।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে নৌকা চেয়ে পাননি আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন। ইতোমধ্যেই ফেইসবুকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সায়েদুল হক সুমন নির্বাচনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে ফেইসবুকের একাধিক পোস্টে।

চাঁদপুর-৪ আসনে আবারও মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক ভূঁইয়া। তিনি চাঁদুপর-৩ আসন থেকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চাঁদপুর-১ আসনে এবার নৌকা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মাহমুদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন। চাঁদপুরের অন্য আসনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে তোড়জোড় চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান আলম। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মঈনউদ্দিন মঈন।

জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোট করে নবম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন করেছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপির বর্জনে দশম সংসদ নির্বাচনে শুধু ১৪ দলীয় জোট শরিকদের সঙ্গে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়নি ক্ষমতাসীনরা।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে এইচ এম এরশাদের দল জাতীয় পার্টি ২৩টি, রাশেদ খান মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, হাসানুল হক ইনুর জাদস ৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল। সমঝোতার মধ্য দিয়ে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর দল তরিকত ফেডারেশন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি এবং একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারাও আসন পেয়েছিল।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে হাসানুল হক ইনুর আসন কুষ্টিয়া-২ এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের আসন নারায়ণগঞ্জ-৫ ফাঁকা রেখে শরিকদের সব আসইে নৌকার প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

back to top