ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইতিহাসের সেরা ভোট’ প্রদানের লক্ষ্য থাকলেও এবার নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। শুক্রবার নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের বিতর্কিত ভোটের কারণে তখন দুই সিইসি জেলে গিয়েছিলেন এবং ‘জুতার মালা’ পাওয়ার ঘটনা রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, এই ইতিহাসকে স্মরণ রেখে নতুন নির্বাচনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে (ইটিআই) দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব এবং ইটিআই মহাপরিচারকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কমিশনের নির্দেশনা
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম কর্মশালায় বলেন, “নির্বাচনের প্রধান দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান কমিশনকে গণঅভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সবাইকে স্মরণ করান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার দায়িত্ব সকলের।”
তিনি আরও বলেন, “ভালো নির্বাচন আমাদের কমিটমেন্ট হবে। এত রক্ত, এত প্রাণ, এত বছর মানুষের কষ্ট—যদি সঠিক নির্বাচন হত, এগুলো হতো না। আজকের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় যদি জুতার মালা পড়ে, এর অংশীদার আপনিও; মনে করবেন না যে নয়।”
আনোয়ারুল ইসলাম প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বোঝান। তিনি বলেন, “প্রায় ৫০ হাজার প্রিজাইডিং অফিসার সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সব সমস্যার একটি তালিকা তৈরি করে সমাধানের পথ নির্ধারণ করতে হবে। যদি একজন প্রিজাইডিং অফিসার সাহসী ও সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে একটি ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।”
তিনি কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি দুর্বল হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে হোঁচট খাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা রক্ষা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কমিশনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার তাগিদ দেন।
দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য সতর্কতা ও দিকনির্দেশনা
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আজকে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা কী করব? মেকানিজমটা কী?” তিনি বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তিনি প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে আইন মেনে দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব বোঝান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আইন, বিধি, নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তা সঠিকভাবে কার্যকর করা জরুরি। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “প্রফেশনালিজম, প্রফেশনালিজম, প্রফেশনালিজম এবং নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি।”
নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “দাদাগিরি করুন ইতিবাচকভাবে। দাদাগিরি মানে কাউকে মারধর বা ভয় দেখানো নয়; বরং এমনভাবে বোঝানো যাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নির্দেশনা ছাড়া আর কিছু ভাবতে না পারেন।” তিনি বলেন, সারাদেশে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শুরু হচ্ছে ৪০ জন দিয়ে, যা পরবর্তী পর্যায়ে কয়েক হাজারে পৌঁছাবে।
ভোট প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ প্রবাসীদের ভোট ও আইন কানুন বিষয়ক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, বুথ সংখ্যা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে কমিশন ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। পুরুষদের বুথে ভোটার সংখ্যা ৫০০ থেকে ৬০০ এবং নারীদের ৪০০ থেকে ৫০০ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪৯ হাজার বুথ এবং প্রায় দেড় লক্ষ কর্মকর্তার প্রয়োজন কমানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশে একটি ‘দৃষ্টান্ত’ হবে, এজন্য সবাইকে সৎভাবে এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। ইটিআই মহাপরিচারক এসএম আসাদুজ্জামান জানান, আগামী চার মাসে ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত ১০ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইতিহাসের সেরা ভোট’ প্রদানের লক্ষ্য থাকলেও এবার নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। শুক্রবার নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের বিতর্কিত ভোটের কারণে তখন দুই সিইসি জেলে গিয়েছিলেন এবং ‘জুতার মালা’ পাওয়ার ঘটনা রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, এই ইতিহাসকে স্মরণ রেখে নতুন নির্বাচনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে (ইটিআই) দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব এবং ইটিআই মহাপরিচারকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কমিশনের নির্দেশনা
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম কর্মশালায় বলেন, “নির্বাচনের প্রধান দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান কমিশনকে গণঅভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সবাইকে স্মরণ করান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার দায়িত্ব সকলের।”
তিনি আরও বলেন, “ভালো নির্বাচন আমাদের কমিটমেন্ট হবে। এত রক্ত, এত প্রাণ, এত বছর মানুষের কষ্ট—যদি সঠিক নির্বাচন হত, এগুলো হতো না। আজকের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় যদি জুতার মালা পড়ে, এর অংশীদার আপনিও; মনে করবেন না যে নয়।”
আনোয়ারুল ইসলাম প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বোঝান। তিনি বলেন, “প্রায় ৫০ হাজার প্রিজাইডিং অফিসার সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সব সমস্যার একটি তালিকা তৈরি করে সমাধানের পথ নির্ধারণ করতে হবে। যদি একজন প্রিজাইডিং অফিসার সাহসী ও সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে একটি ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।”
তিনি কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি দুর্বল হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে হোঁচট খাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা রক্ষা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কমিশনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার তাগিদ দেন।
দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য সতর্কতা ও দিকনির্দেশনা
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আজকে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা কী করব? মেকানিজমটা কী?” তিনি বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তিনি প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে আইন মেনে দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব বোঝান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আইন, বিধি, নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তা সঠিকভাবে কার্যকর করা জরুরি। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “প্রফেশনালিজম, প্রফেশনালিজম, প্রফেশনালিজম এবং নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি।”
নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “দাদাগিরি করুন ইতিবাচকভাবে। দাদাগিরি মানে কাউকে মারধর বা ভয় দেখানো নয়; বরং এমনভাবে বোঝানো যাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নির্দেশনা ছাড়া আর কিছু ভাবতে না পারেন।” তিনি বলেন, সারাদেশে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শুরু হচ্ছে ৪০ জন দিয়ে, যা পরবর্তী পর্যায়ে কয়েক হাজারে পৌঁছাবে।
ভোট প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ প্রবাসীদের ভোট ও আইন কানুন বিষয়ক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, বুথ সংখ্যা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে কমিশন ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। পুরুষদের বুথে ভোটার সংখ্যা ৫০০ থেকে ৬০০ এবং নারীদের ৪০০ থেকে ৫০০ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪৯ হাজার বুথ এবং প্রায় দেড় লক্ষ কর্মকর্তার প্রয়োজন কমানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশে একটি ‘দৃষ্টান্ত’ হবে, এজন্য সবাইকে সৎভাবে এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। ইটিআই মহাপরিচারক এসএম আসাদুজ্জামান জানান, আগামী চার মাসে ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত ১০ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।