alt

news » politics

অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে: ড. কামাল হোসেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিগত আমলের মতোই একটি অশুভ শক্তির সর্বত্র চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, খুনোখুনি ও মব সংস্কৃতির এক নতুন প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে। তিনি বলেন, এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে, যা কারও কাম্য নয়।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরামের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ড. কামাল এ কথা বলেন। সভায় তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রহীনতা ও নিপীড়নমূলক এক স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে আইনের শাসন, ভোটাধিকার, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অবাধে লুটপাট, অর্থপাচার, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে দেশ শাসনের কারণে দেশে ভয়াবহ সংকট ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। এর ফলেই চব্বিশের জুলাই ছাত্র-জনতার এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনরোষে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়।

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে মানুষ আত্মমর্যাদা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কোনো অশুভ শক্তি বা ষড়যন্ত্র যেন এই রক্তস্নাত বিজয় ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, বিগত সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমূলে ধ্বংস করে রেখে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আজকে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে, নির্বাচন যাতে না হয়। নির্বাচন বানচাল করে এই অনির্বাচিত সরকারে তারা অনুপ্রবেশ করে বসে আছে। সেখানে তাদের উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করছে। এটাকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সিপিবির সাবেক এই সভাপতি বলেন, সংস্কার না করে নির্বাচন দেবে না, সংস্কার করার জন্য যুগ যুগ বসে থাকবে, এটা হতে পারে না। এসব বাহানা দিয়ে কোনো লাভ নেই। এটা কোনো বিপ্লবী সরকার নয়, কোনো নিয়মিত সরকার নয়; এটা হলো অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের প্রধান কাজ বিগত সরকারের অপকর্মের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সাতচল্লিশকে মনে রাখতে হবে, চুয়ান্নকে অস্বীকার করা যাবে না। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন বা উনসত্তরকে ভুলে যাওয়া যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কেউ ভান করে ভুলতে চাইলে সেটা হবে আত্মপ্রবঞ্চনা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, পঁচাত্তর ও নব্বইয়ের গণ–অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা করলে চব্বিশের বাস্তবতাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যাবে না। ইতিহাসকে সামনে থেকে মোকাবিলা করতে হবে। ভুল থাকলে ভুল বলতে হবে, সত্য থাকলে স্বীকার করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থেকেও রাজনৈতিক সহিংসতা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের সরকার মাত্র তিন মাসে সবকিছু ঠিক রেখে একটি নির্বাচন দিয়েছিল। আর এখন এক বছর পার হলেও নির্বাচন কমিশন সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, রাজনৈতিক আলোচনাকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে এবং উগ্রবাদকে কোনো অবস্থাতেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ মধ্যপন্থী, অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্রকামী। উগ্রতা বা কর্তৃত্ববাদ এই মাটিতে টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না।

জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার বলছে, মব কালচার প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, সহ্য করা হবে না। কিন্তু দু–তিন দিন পরপরই হয় শাহবাগ বন্ধ বা কারও বাসায় আক্রমণ অথবা কারও অফিসে বা সভায় আক্রমণ হচ্ছে। মানে এটা শুরু হয়ে গেল এবং কোনো ধরনের জবাবদিহি নেই।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান বলেন, ‘অতীতে আমরা যে অতি নিয়ন্ত্রিত স্বৈরাচার দেখেছি, এখন তার জায়গায় চলছে অনিয়ন্ত্রিত স্বেচ্ছাচার। আগে এক গোষ্ঠীর লুটপাট ছিল, এখন চলছে বহু গোষ্ঠীর লুটপাট। আগে ছিল ফ্যাসিবাদী নিষ্ঠুরতা, এখন মব হিংস্রতা দেখছি। আগে কথিত আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসা দেখেছি, এখন মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার ও কালিমা লেপনের কার্যক্রম লক্ষ্য করছি।’

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া প্রমুখ।

ছবি

নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন

ছবি

নুরুল হক নুর আহত, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ছবি

উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদ আনার ষড়যন্ত্র চলছে: ফখরুল

ছবি

তথ্য পাচার ঠেকাতে ইসির কর্মকর্তাদের সতর্ক করলেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ার

ছবি

“ভোটের পথে কাঁটা না বিছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান” — সালাহউদ্দিন

ছবি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে

ছবি

জনগণ বিএনপির দিকে তাকিয়ে: ফখরুলের আহ্বান ঐক্যবদ্ধ হওয়ার

ছবি

ইসি: ভোট পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে রোডম্যাপে সংযোজন ও প্রস্তুতি

ছবি

বিএনপি মহাসচিব: রোডম্যাপে আমরা খুশি

ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসির কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত

ছবি

সরকারের একটি মহল গণতন্ত্রের শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দিতে চায় না: মির্জা ফখরুল

ছবি

রুমিন ফারহানাকে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে, এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

ছবি

শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি, ফজলুর রহমানের সব পদ ৩ মাস স্থগিত

ছবি

নির্বাচন ‘ফেব্রুয়ারিতেই’, ‘বর্জনকারীরা মাইনাস হবেন’: সালাহউদ্দিন আহমেদ

ছবি

শ্বশুরের বিচারক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন এনসিপি নেতা সারজিস

ছবি

বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের সব পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত

ছবি

ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল রায়ের পুনর্বিবেচনার শুনানি শুরু, আরও শুনানি হবে বুধবার

ছবি

হাসনাতের ছাত্রলীগ সংযোগ তুলে ধরে রুমিনের পাল্টা আক্রমণ, বললেন ‘ফকিন্নির বাচ্চা’

ছবি

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কালো টাকার সরবরাহ রোধে দুদকের হুঁশিয়ারি

ছবি

ইসির শুনানিতে বাগেরহাটে আসন কমানোয় আপত্তি, চারটিই বহালের দাবি

ছবি

জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: ফজলুর রহমানকে বিএনপির কারণ দর্শানোর নোটিস

ছবি

দুই মাসের বিরতির পর এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার পুনর্বহাল

ইসিকে ‘পার্টি অফিস’ আখ্যা দিয়ে পুনর্গঠনের দাবি এনসিপির

ছবি

জয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল ৭ গাড়ি ও দুই বাড়ির খোঁজ পেয়েছে দুদক

ছবি

শেখ হাসিনাকে ‘ভারতের লোক’ আখ্যা দিলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন

ছবি

সব আমলার ‘নিয়ন্ত্রণে’, উপদেষ্টারা ‘অসহায়’: মির্জা ফখরুল

ছবি

নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি এনসিপি সদস্য সচিব আখতারের

ছবি

উগ্রবাদ ছড়ানোর চেষ্টা হতাশা তৈরি করছে: মির্জা ফখরুল

ছবি

টোকিওতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এনআইডি সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন

ছবি

আট সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ২৬ অগাস্ট চীন সফরে যাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি

ছবি

সাদাপাথর লুটের অভিযোগ অস্বীকার করলেন জামায়াত ও এনসিপি নেতারা

ছবি

‘নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করা গণতন্ত্র উত্তরণে বাধা’ : তারেক রহমান

ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: আসন সীমানা ও পিআর পদ্ধতিতে জামায়াতের অবস্থান

ছবি

একাত্তর ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে: ফখরুল

ছবি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা: তারেক রহমানসহ আসামিদের খালাস বহাল থাকবে কি না ৪ সেপ্টেম্বর জানা যাবে

ছবি

২৮ অক্টোবরের বিস্ফোরক মামলায় ফখরুলসহ বিএনপির ৬৫ নেতাকর্মীর অব্যাহতি

tab

news » politics

অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে: ড. কামাল হোসেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিগত আমলের মতোই একটি অশুভ শক্তির সর্বত্র চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, খুনোখুনি ও মব সংস্কৃতির এক নতুন প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে। তিনি বলেন, এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে, যা কারও কাম্য নয়।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরামের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ড. কামাল এ কথা বলেন। সভায় তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রহীনতা ও নিপীড়নমূলক এক স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে আইনের শাসন, ভোটাধিকার, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অবাধে লুটপাট, অর্থপাচার, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে দেশ শাসনের কারণে দেশে ভয়াবহ সংকট ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। এর ফলেই চব্বিশের জুলাই ছাত্র-জনতার এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনরোষে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়।

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে মানুষ আত্মমর্যাদা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কোনো অশুভ শক্তি বা ষড়যন্ত্র যেন এই রক্তস্নাত বিজয় ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, বিগত সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমূলে ধ্বংস করে রেখে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আজকে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে, নির্বাচন যাতে না হয়। নির্বাচন বানচাল করে এই অনির্বাচিত সরকারে তারা অনুপ্রবেশ করে বসে আছে। সেখানে তাদের উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করছে। এটাকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সিপিবির সাবেক এই সভাপতি বলেন, সংস্কার না করে নির্বাচন দেবে না, সংস্কার করার জন্য যুগ যুগ বসে থাকবে, এটা হতে পারে না। এসব বাহানা দিয়ে কোনো লাভ নেই। এটা কোনো বিপ্লবী সরকার নয়, কোনো নিয়মিত সরকার নয়; এটা হলো অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের প্রধান কাজ বিগত সরকারের অপকর্মের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সাতচল্লিশকে মনে রাখতে হবে, চুয়ান্নকে অস্বীকার করা যাবে না। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন বা উনসত্তরকে ভুলে যাওয়া যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কেউ ভান করে ভুলতে চাইলে সেটা হবে আত্মপ্রবঞ্চনা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, পঁচাত্তর ও নব্বইয়ের গণ–অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা করলে চব্বিশের বাস্তবতাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যাবে না। ইতিহাসকে সামনে থেকে মোকাবিলা করতে হবে। ভুল থাকলে ভুল বলতে হবে, সত্য থাকলে স্বীকার করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থেকেও রাজনৈতিক সহিংসতা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের সরকার মাত্র তিন মাসে সবকিছু ঠিক রেখে একটি নির্বাচন দিয়েছিল। আর এখন এক বছর পার হলেও নির্বাচন কমিশন সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, রাজনৈতিক আলোচনাকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে এবং উগ্রবাদকে কোনো অবস্থাতেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ মধ্যপন্থী, অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্রকামী। উগ্রতা বা কর্তৃত্ববাদ এই মাটিতে টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না।

জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার বলছে, মব কালচার প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, সহ্য করা হবে না। কিন্তু দু–তিন দিন পরপরই হয় শাহবাগ বন্ধ বা কারও বাসায় আক্রমণ অথবা কারও অফিসে বা সভায় আক্রমণ হচ্ছে। মানে এটা শুরু হয়ে গেল এবং কোনো ধরনের জবাবদিহি নেই।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান বলেন, ‘অতীতে আমরা যে অতি নিয়ন্ত্রিত স্বৈরাচার দেখেছি, এখন তার জায়গায় চলছে অনিয়ন্ত্রিত স্বেচ্ছাচার। আগে এক গোষ্ঠীর লুটপাট ছিল, এখন চলছে বহু গোষ্ঠীর লুটপাট। আগে ছিল ফ্যাসিবাদী নিষ্ঠুরতা, এখন মব হিংস্রতা দেখছি। আগে কথিত আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসা দেখেছি, এখন মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার ও কালিমা লেপনের কার্যক্রম লক্ষ্য করছি।’

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া প্রমুখ।

back to top