আরও ৫ জেলায় জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা, ভাঙচুর
রাজধানীর বিজয় নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে -সংবাদ
আগের দিনের সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে দলের কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। তারা বাইরে থেকে কার্যালয় ভাঙচুর করে। এর কিছু সময় পর সেখানে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। হামলার পর সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের জলকামান দিয়ে আগুন নেভানো হয়।
এ হামলার জন্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণঅধিকার পরিষদকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, ‘গতকাল (শুক্রবার) ঘটনার জের ধরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, আগুন ও ভাঙচুর চালাচ্ছে।’ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘ওদের (গণঅধিকার পরিষদের) একটা কর্মসূচি ছিল, কর্মসূচি শেষে ওরা আগুন দিয়েছিল। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়ে আগুন নিভিয়ে দিয়েছি। এখন পরিবেশ শান্ত।’
এর আগে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংঘর্ষ এবং সংঘর্ষের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার বিজয়নগরে আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সেখানে সড়কের মাঝে টায়ার জ্বালিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। তারা ‘একটা একটা জাপা ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’, ‘জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ কর, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত কেন, প্রশাসন জবাব দে’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভের ফাঁকে সেখানে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা বলেন, ‘যে কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, একই কারণে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। ‘আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকার গড়িমসি করছে। কোনো গড়িমসি না করে অতিদ্রুত জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘আর আমার ভাই, নুরুল হক নুরুসহ যাদের ওপর হামলা হয়েছে, তা পরিকল্পিত। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
শনিবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পুলিশ পাহারার মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা গেছে। শনিবার সকাল থেকে শতাধিক পুলিশ কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি বেলা ৩টার দিকে জুলাই মঞ্চের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী কিছুক্ষণ পরপর মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যাচ্ছেন। তাদের ব্যানারে লেখা রয়েছে- ‘জাতীয় পার্টিসহ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রুদের বিরুদ্ধে হুলিয়া মিছিল’।
জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে ‘নূর ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন বিচার চাই’ স্লোগান দেন। এই মিছিল কেন্দ্র করে পুলিশকেও সতর্ক পাহারায় দেখা গেছে। এ বিষয়ে রমনা মডেল থানার ওসি অপারেশন আতিকুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা সতর্ক আছি।’ জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মীকে কার্যালয়টিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে পুলিশ কাউকে এর সামনে অবস্থান করতে দিচ্ছে না। জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মশাল মিছিল করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এরপর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন। আহত অবস্থায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গণধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের ভাষ্য, তাদের মিছিলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে মশাল মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে। এতে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নুরসহ আহতদের প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাতে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার নাকে গুরুতর আঘাত রয়েছে। নুরের চিকিৎসায় গতকাল শুক্রবার রাতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
৫ জেলায় জাতীয় পার্টির অফিস হামলা, ভাঙচুর
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে লাঠিপেটা করে আহত করার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, গাইবান্ধায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুরে ও রাজশাহীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগও করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
ঠাকুরগাঁও
শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুর ও বাইরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
হরিপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা আমাদের কার্যালয়ের ৪০-৫০টা চেয়ার, দুটি টেবিল, চারটা ফ্যান, দুইটা আলমিরা ভাঙচুর করে এবং কিছু আসবাবপত্র বাহিরে বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মোজাক্কের ইসলাম সুমন বলেন, “আমাদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুপুরে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গেলে নেতাকর্মীরা ক্ষোভে তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে।”
হরিপুর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর পেয়ে হরিপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইল
নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। শনিবার সকালে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বলে জানান টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানভীর হাসান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা চালান। তারা অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। এ সময় অফিসের সাইনবোর্ড, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, সারাদেশে মব সৃষ্টি করে যেভাবে হামলা করা হচ্ছে এবং আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা করছি।
তিনি আরও বলেন, “টাঙ্গাইলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই আমাদের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে। তাই অফিস ভাংচুর নিয়ে থানায় অভিযোগ করারও কোনো ভরসা পাচ্ছি না।” জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি জানিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানভীর হাসান বলেন, “আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাৎক্ষণিক তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা
ময়মনসিংহ
জাতীয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে নেতা-কর্মীরা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, “সাবেক ভিপি নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে থাকা সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়।”
তবে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
রাজশাহী
জাতীয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নগরীর গণপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলার সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এনসিপির রাজশাহী মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক মোবাশ্বের আলীর আহ্বানে আয়োজিত এ মিছিলে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যোগ দেন।
মিছিলটি সাহেববাজার এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গণপাড়া মোড়ে পৌঁছালে মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মী জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় দরজাসহ অফিসকক্ষ ভাঙচুরের পাশাপাশি ভেতরের আসবাবপত্র ও ছবি বাইরে এনে সড়কের উপর ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বিকালে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও শার্টার ভেঙে ফেলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে শহরে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন জেলখানা মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে আবারও মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জড়ো হন। এতে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা।
পরবর্তীতে সেখান থেকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে যেতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরোয়ার হোসেন শাহীন বলেন, “হঠাৎ পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালানো হলো। গেইটের তালা ও শার্টার ভাঙচুর করা হয়েছে। এ হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।” গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহীনুর তালুকদার বলেন, “উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”
আরও ৫ জেলায় জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা, ভাঙচুর
রাজধানীর বিজয় নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে -সংবাদ
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
আগের দিনের সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে দলের কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। তারা বাইরে থেকে কার্যালয় ভাঙচুর করে। এর কিছু সময় পর সেখানে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। হামলার পর সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের জলকামান দিয়ে আগুন নেভানো হয়।
এ হামলার জন্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণঅধিকার পরিষদকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, ‘গতকাল (শুক্রবার) ঘটনার জের ধরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, আগুন ও ভাঙচুর চালাচ্ছে।’ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘ওদের (গণঅধিকার পরিষদের) একটা কর্মসূচি ছিল, কর্মসূচি শেষে ওরা আগুন দিয়েছিল। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়ে আগুন নিভিয়ে দিয়েছি। এখন পরিবেশ শান্ত।’
এর আগে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংঘর্ষ এবং সংঘর্ষের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার বিজয়নগরে আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সেখানে সড়কের মাঝে টায়ার জ্বালিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। তারা ‘একটা একটা জাপা ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’, ‘জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ কর, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত কেন, প্রশাসন জবাব দে’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভের ফাঁকে সেখানে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা বলেন, ‘যে কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, একই কারণে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। ‘আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকার গড়িমসি করছে। কোনো গড়িমসি না করে অতিদ্রুত জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘আর আমার ভাই, নুরুল হক নুরুসহ যাদের ওপর হামলা হয়েছে, তা পরিকল্পিত। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
শনিবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পুলিশ পাহারার মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা গেছে। শনিবার সকাল থেকে শতাধিক পুলিশ কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি বেলা ৩টার দিকে জুলাই মঞ্চের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী কিছুক্ষণ পরপর মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যাচ্ছেন। তাদের ব্যানারে লেখা রয়েছে- ‘জাতীয় পার্টিসহ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রুদের বিরুদ্ধে হুলিয়া মিছিল’।
জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে ‘নূর ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন বিচার চাই’ স্লোগান দেন। এই মিছিল কেন্দ্র করে পুলিশকেও সতর্ক পাহারায় দেখা গেছে। এ বিষয়ে রমনা মডেল থানার ওসি অপারেশন আতিকুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা সতর্ক আছি।’ জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মীকে কার্যালয়টিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে পুলিশ কাউকে এর সামনে অবস্থান করতে দিচ্ছে না। জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মশাল মিছিল করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এরপর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন। আহত অবস্থায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গণধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের ভাষ্য, তাদের মিছিলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে মশাল মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে। এতে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নুরসহ আহতদের প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাতে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার নাকে গুরুতর আঘাত রয়েছে। নুরের চিকিৎসায় গতকাল শুক্রবার রাতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
৫ জেলায় জাতীয় পার্টির অফিস হামলা, ভাঙচুর
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে লাঠিপেটা করে আহত করার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, গাইবান্ধায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুরে ও রাজশাহীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগও করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
ঠাকুরগাঁও
শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুর ও বাইরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
হরিপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা আমাদের কার্যালয়ের ৪০-৫০টা চেয়ার, দুটি টেবিল, চারটা ফ্যান, দুইটা আলমিরা ভাঙচুর করে এবং কিছু আসবাবপত্র বাহিরে বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মোজাক্কের ইসলাম সুমন বলেন, “আমাদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুপুরে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গেলে নেতাকর্মীরা ক্ষোভে তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে।”
হরিপুর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর পেয়ে হরিপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইল
নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। শনিবার সকালে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বলে জানান টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানভীর হাসান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা চালান। তারা অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। এ সময় অফিসের সাইনবোর্ড, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, সারাদেশে মব সৃষ্টি করে যেভাবে হামলা করা হচ্ছে এবং আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা করছি।
তিনি আরও বলেন, “টাঙ্গাইলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই আমাদের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে। তাই অফিস ভাংচুর নিয়ে থানায় অভিযোগ করারও কোনো ভরসা পাচ্ছি না।” জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি জানিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানভীর হাসান বলেন, “আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাৎক্ষণিক তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা
ময়মনসিংহ
জাতীয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে নেতা-কর্মীরা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, “সাবেক ভিপি নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে থাকা সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়।”
তবে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
রাজশাহী
জাতীয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নগরীর গণপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলার সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এনসিপির রাজশাহী মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক মোবাশ্বের আলীর আহ্বানে আয়োজিত এ মিছিলে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যোগ দেন।
মিছিলটি সাহেববাজার এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গণপাড়া মোড়ে পৌঁছালে মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মী জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় দরজাসহ অফিসকক্ষ ভাঙচুরের পাশাপাশি ভেতরের আসবাবপত্র ও ছবি বাইরে এনে সড়কের উপর ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বিকালে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও শার্টার ভেঙে ফেলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে শহরে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন জেলখানা মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে আবারও মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জড়ো হন। এতে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা।
পরবর্তীতে সেখান থেকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে যেতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরোয়ার হোসেন শাহীন বলেন, “হঠাৎ পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালানো হলো। গেইটের তালা ও শার্টার ভাঙচুর করা হয়েছে। এ হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।” গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহীনুর তালুকদার বলেন, “উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”