রোববার বিকেলে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান -সংবাদ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।
বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন:
মির্জা ফখরুল
নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে ভারতীয় দালালরা সক্রিয়, জামায়াতও ষড়যন্ত্রের অংশ: হাফিজ উদ্দিন
নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা বোধ করছি, সরকার ও কমিশনের আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়: গয়েশ্বর চন্দ্র
রোববার,(৩১ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় এক বছর আগে নির্বাচনকে ঘিরে অদৃশ্য শক্তির তৎপরতার কথা বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। যা সম্প্রতি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বলে দাবি তার। তারেকের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে, তখন কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নানা শর্ত আরোপ করে নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তার মতে, ‘নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’ এ ধরনের উচ্চারণ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করবে এবং পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘পরাজিত ও পলাতক অপশক্তি সুযোগের অপেক্ষায় ওৎপেতে রয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কারে বিএনপি একমত। সংস্কারের গুরুত্ব আছে বলেই বিএনপি ৩১ দফা ঘোষণার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রস্তাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জনগণের অধিকার চর্চা ও প্রয়োগের পথে বাধা সৃষ্টি করে কোনো সংস্কার টেকসই করা যাবে না।’ শর্ত শিথিল করে নির্বাচনের পথে হাঁটাকে এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার প্রস্তাব, আগে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি সরকার গঠন করে, এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যান্য যৌক্তিক দাবি সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তারেক রহমান আরও বলেন, ‘রাজনীতি মানে শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।’
সভায় মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ বিএনপিই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারে বলেও দাবি তার। মির্জা ফখরুল
বলেন, ‘বিভিন্নভাবে একটি মহল দেশকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।’ নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সংখানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে না বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তবে কারও এ ধরনের হুমকিতে মাথা নত করতে রাজি নয় দেশের জনগণ। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, বিএনপিও রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে।’
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এমনকি দেশের মধ্যেও ভারতীয় দালালরা সক্রিয় হয়েছে। জামায়াতের অবস্থানও ষড়যন্ত্রের অংশ। নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগ দেশে নানাপ্রকার সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাবে। সব ধরনের দেশবিরোধী তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘যে সংস্কার জনগণ বোঝে না, সেই সংস্কার জনগণ গ্রহণ করবে না। নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা বোধ করছি। সরকার ও কমিশনের আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়নি। সরকার ও কমিশনের সদিচ্ছা যতই থাকুক, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত জনমনে শঙ্কা থাকবে।’
একই অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন বিলম্বিত করতে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশে-বিদেশে অবস্থান করে পতিত ফ্যাসিবাদীরা ষড়যন্ত্র করছে। দেশের থাকা একটি গোষ্ঠীও নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত করছে।
দলটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এজেডেএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিনের রফিকুল ইসলাম মজনু, যুব দলের এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুর রহমান প্রমুখ।
রোববার বিকেলে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান -সংবাদ
রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।
বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন:
মির্জা ফখরুল
নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে ভারতীয় দালালরা সক্রিয়, জামায়াতও ষড়যন্ত্রের অংশ: হাফিজ উদ্দিন
নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা বোধ করছি, সরকার ও কমিশনের আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়: গয়েশ্বর চন্দ্র
রোববার,(৩১ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় এক বছর আগে নির্বাচনকে ঘিরে অদৃশ্য শক্তির তৎপরতার কথা বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। যা সম্প্রতি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বলে দাবি তার। তারেকের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে, তখন কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নানা শর্ত আরোপ করে নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তার মতে, ‘নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’ এ ধরনের উচ্চারণ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করবে এবং পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘পরাজিত ও পলাতক অপশক্তি সুযোগের অপেক্ষায় ওৎপেতে রয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কারে বিএনপি একমত। সংস্কারের গুরুত্ব আছে বলেই বিএনপি ৩১ দফা ঘোষণার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রস্তাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জনগণের অধিকার চর্চা ও প্রয়োগের পথে বাধা সৃষ্টি করে কোনো সংস্কার টেকসই করা যাবে না।’ শর্ত শিথিল করে নির্বাচনের পথে হাঁটাকে এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার প্রস্তাব, আগে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি সরকার গঠন করে, এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যান্য যৌক্তিক দাবি সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তারেক রহমান আরও বলেন, ‘রাজনীতি মানে শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।’
সভায় মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ বিএনপিই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারে বলেও দাবি তার। মির্জা ফখরুল
বলেন, ‘বিভিন্নভাবে একটি মহল দেশকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।’ নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সংখানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে না বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তবে কারও এ ধরনের হুমকিতে মাথা নত করতে রাজি নয় দেশের জনগণ। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, বিএনপিও রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে।’
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এমনকি দেশের মধ্যেও ভারতীয় দালালরা সক্রিয় হয়েছে। জামায়াতের অবস্থানও ষড়যন্ত্রের অংশ। নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগ দেশে নানাপ্রকার সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাবে। সব ধরনের দেশবিরোধী তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘যে সংস্কার জনগণ বোঝে না, সেই সংস্কার জনগণ গ্রহণ করবে না। নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা বোধ করছি। সরকার ও কমিশনের আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়নি। সরকার ও কমিশনের সদিচ্ছা যতই থাকুক, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত জনমনে শঙ্কা থাকবে।’
একই অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন বিলম্বিত করতে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশে-বিদেশে অবস্থান করে পতিত ফ্যাসিবাদীরা ষড়যন্ত্র করছে। দেশের থাকা একটি গোষ্ঠীও নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত করছে।
দলটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এজেডেএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিনের রফিকুল ইসলাম মজনু, যুব দলের এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুর রহমান প্রমুখ।