alt

রাজনীতি

ছাত্রলীগ : চিঠির ফাঁকা স্থানে নাম বসিয়ে দিলেই কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা!

খালেদ মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২

শোকের মাস আগস্টে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো কমিটি দেয়া থেকে বিরত থাকে। বিরত থাকে সব ধরনের উৎসবের আয়োজন থেকেও। তবে এবার সেই চিরায়ত রেওয়াজ ভেঙে আগস্ট মাস (শোকের মাস) শুরুর আগে রোববার (৩১ জুলাই) রাতে একদিনে জেলা, উপজেলা মিলে ১১টি কমিটি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ ছিল ৩০টির মতো। সেগুলোতেও চিঠি ইস্যুর মাধ্যমে দেয়া হয়েছে বর্ধিত কমিটি, যা শূন্য পদ থেকে কয়েকগুণ বেশি।

বর্ধিত কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ইস্যু করা চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই সেটিকে এডিট করে নাম বসিয়ে নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমিত আয়াত সাহিদা নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দাবি করে এডিট করা একটি চিঠি ফেইসবুকে পোস্ট করেন। যদিও সে চিঠি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নজরে আসলে তাকে বহিষ্কার করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। একই কাজ করেন সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গ্রিন ইউনিভার্সিটির এক নেতা। তাকেও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরকম অসংখ্য এডিট করা ছবি ঘুরছে সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে। এ নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা ও হাসি-ঠাট্টা। মামুন সরকার নামে একজন ফেইসবুকে লেখেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পোস্ট এখন সবার জন্য উম্মুক্ত। ৫০ লাখ কর্মীর এখনই ৫০ লাখ নেতা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। আশা করি এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করবেন না।’

নাঈম হোসেন নামে আরেকজন লেখেন, ‘পিতা মুজিবের নিজ হাতে গড়া সংগঠনকে এমন জোকার সংগঠনে পরিণত করার ধৃষ্টতা যারা দেখাতে পারে, তাদের হাতেই একবিংশ শতকের ছাত্রলীগ।’ নামের জায়গা ফাঁকা রেখে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়ার একটি চিঠির অনুলিপি ফেইসবুকে শেয়ার করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির পদ এখন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে কি না! নাম ও পদ বসিয়ে দিলেই হলো।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বিএনপি-জামায়াত উল্লাস করে আগস্ট মাসে। আর আমাদের দুই নেতাও (আল নাহিয়ান ও লেখক) উল্লাসের উপলক্ষ সৃষ্টি করলেন এই মাসে।’

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় সহ-সভপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, আমরা পদায়নের বিরুদ্ধে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল কমিটিতে যারা নেতৃত্বে আসতে পারে নাই, তাদের অবশ্যই পদায়ন করা দরকার ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে হল কমিটি হওয়ার পর পাঁচ মাসেও কেন তারা পদায়ন করতে পারে নাই। এখন হঠাৎ নামে-বেনামে শত শত ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়িত করা হলো। এদের অনেকে ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়েও নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। স্পষ্টত এখানে অর্থের অনৈতিক লেনদেন হয়েছে। এটা জয়-লেখকের চূড়ান্তভাবে সাংগঠনিক ব্যর্থতা। ধোঁয়াশা সৃষ্টির মাধ্যমে পকেট ভারি করে তারা তাদের আখের গোছাচ্ছে। এটি এখন দিবালোকের মতো সত্য।

সহ-সভাপতি সোহান খান বলেন, ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার উচিত হবে সংগঠনের স্বচ্ছতার স্বার্থে বর্ধিত কমিটিতে আসা নামগুলোর নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা। যদি তা না করা হয় তাহলে এদের কেউ কোন অপকর্ম করলে তার দায়ভার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেই নিতে হবে।

অতীতে চিঠি ইস্যুর মাধ্যমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বর্ধিত করার রীতি থাকলেও এত ব্যাপকহারে কখনো পদায়িত করতে দেখা যায়নি। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে বর্ধিত কমিটিতে আনা হলেও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নাম প্রকাশ করা হয়নি। যারা ফলে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মার কাছে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হল কমিটিতে যেসব পদ-প্রত্যাশী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি, তাদের নাম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগস্টের শোক ভুলে পদপ্রাপ্ত এবং তাদের অনুসারী-সমর্থক-পরিচিতজনরা উৎসবে মগ্ন হয়েছেন ফেইসবুকে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে সহ-সভাপতি কামাল খান বলেন, আমাদের কাছে ছাত্রলীগ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আমানত। এই শোকের মাসে জয়-লেখক সেই আমানতের খেয়ানত করেছে। ছাত্রলীগের কমিটিকে হাসি-ঠাট্টার বিষয়ে পরিণত করেছে। আমরা শীঘ্রই জয়-লেখক বরাবর সাধারণ সভা ডাকার জন্য চিঠি দিব। সেখানে এসব ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। পনের দিনের মধ্যে সভা না ডাকলে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির এক তৃতীয়ংশকে নিয়ে সভা ডাকব। সেখানে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে জয়-লেখককে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষমতাও আমরা সংরক্ষণ করি।

এসব বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

ছবি

সরকার ও শাসনব্যবস্থা বদলাতে জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ডাক

‘জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনো কেউ মারা যায়নি’

ছবি

আন্দোলনে থাকবে বিএনপি, তবে বড় কর্মসূচি এখনই নয়

ছবি

নতুন রাজনৈতিক জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ

ছবি

আমরা রাজপথের পুরাতন খেলোয়াড় : ওবায়দুল কাদের

ছবি

জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা পুনঃবিবেচনার দাবি গণতন্ত্রী পার্টির

ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও জ্বালানিমূল্য সমন্বয় করা হবে : সেতুমন্ত্রী

ছবি

আইএমএফের ঋণ পেতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: মির্জা ফখরুল

ছবি

দেশের মানুষের প্রতি সরকারের কোন দরদ নেই: জিএম কাদের

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেত্রী নীলাকে দল থেকে অব্যাহতি

ছবি

বৃহস্পতিবার ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বিএনপির

ছবি

ভোলায় সংঘর্ষে আহত ছাত্রদল নেতা নুরে আলম মারা গেছেন

ছবি

হারিকেন ধরার সময় এসেছে সরকারের: মির্জা ফখরুল

ছবি

বিএনপি’র শাসনামলে দৈনিক ১৩-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল: ওবায়দুল কাদের

কৌশলপত্র তৈরির পর বিশেষ সংলাপে বসবে ইসি

ছবি

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান

ছবি

হাজি সেলিমের লিভ টু আপিলের শুনানি ২৩ অক্টোবর

ছবি

৩০০ আসনেই ইভিএমে ভোট চায় আওয়ামী লীগ

রাতে ভোটের কাজ হয়, আমরাও করিয়েছি : ইসিকে জাপা

বিএনপির সংলাপ নিয়ে শরিকদের ক্ষোভ

ছবি

২০১৪-২০১৮ সালের ভোট নিয়ে অতিমাত্রায় বিতর্ক হচ্ছে: সিইসি

ছবি

ইসির সঙ্গে সংলাপ: ৩০০ আসনেই ইভিএম চায় আ.লীগ

ছবি

আ.লীগের ব্যয়ের থেকে আয় তিনগুণ বেশি

ধাক্কা দিয়ে সরকারকে সরাতে পারবে না বিএনপি: কৃষিমন্ত্রী

ছবি

রেলপথের দুর্ঘটনাগুলো প্রমাণ করে কতটা পিছিয়ে আমরা : জিএম কাদের

ছবি

বিদ্যুৎ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ হাস্যকর : আবদুস সবুর

ছবি

সরকার পতনের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে: ফখরুল

ছবি

জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ, রাস্তায় যানজট

ছবি

শেষ পর্যন্ত ‘অস্তিত্ব’ রক্ষায় নির্বাচনে যাবে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

ছবি

রিমোট কন্ট্রোলের ডাকা আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেবে না: কাদের

ছবি

আয়ের চেয়ে কোটি টাকা ব্যয় বেশি বিএনপির

ছবি

স্কুল মাঠে আ.লীগের সম্মেলন, বিব্রত ও লজ্জিত শিক্ষামন্ত্রী

ছবি

আজ ন্যাপের ৬৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

ছবি

‘উটপাখির’ নীতিতে চলছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

ছবি

নির্বাচন বাঁচাতে না পারলে রাজনীতি উধাও হয়ে যাবে: সিইসি

ছবি

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

tab

রাজনীতি

ছাত্রলীগ : চিঠির ফাঁকা স্থানে নাম বসিয়ে দিলেই কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা!

খালেদ মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২

শোকের মাস আগস্টে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো কমিটি দেয়া থেকে বিরত থাকে। বিরত থাকে সব ধরনের উৎসবের আয়োজন থেকেও। তবে এবার সেই চিরায়ত রেওয়াজ ভেঙে আগস্ট মাস (শোকের মাস) শুরুর আগে রোববার (৩১ জুলাই) রাতে একদিনে জেলা, উপজেলা মিলে ১১টি কমিটি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ ছিল ৩০টির মতো। সেগুলোতেও চিঠি ইস্যুর মাধ্যমে দেয়া হয়েছে বর্ধিত কমিটি, যা শূন্য পদ থেকে কয়েকগুণ বেশি।

বর্ধিত কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ইস্যু করা চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই সেটিকে এডিট করে নাম বসিয়ে নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমিত আয়াত সাহিদা নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দাবি করে এডিট করা একটি চিঠি ফেইসবুকে পোস্ট করেন। যদিও সে চিঠি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নজরে আসলে তাকে বহিষ্কার করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। একই কাজ করেন সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গ্রিন ইউনিভার্সিটির এক নেতা। তাকেও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরকম অসংখ্য এডিট করা ছবি ঘুরছে সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে। এ নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা ও হাসি-ঠাট্টা। মামুন সরকার নামে একজন ফেইসবুকে লেখেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পোস্ট এখন সবার জন্য উম্মুক্ত। ৫০ লাখ কর্মীর এখনই ৫০ লাখ নেতা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। আশা করি এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করবেন না।’

নাঈম হোসেন নামে আরেকজন লেখেন, ‘পিতা মুজিবের নিজ হাতে গড়া সংগঠনকে এমন জোকার সংগঠনে পরিণত করার ধৃষ্টতা যারা দেখাতে পারে, তাদের হাতেই একবিংশ শতকের ছাত্রলীগ।’ নামের জায়গা ফাঁকা রেখে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়ার একটি চিঠির অনুলিপি ফেইসবুকে শেয়ার করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির পদ এখন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে কি না! নাম ও পদ বসিয়ে দিলেই হলো।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বিএনপি-জামায়াত উল্লাস করে আগস্ট মাসে। আর আমাদের দুই নেতাও (আল নাহিয়ান ও লেখক) উল্লাসের উপলক্ষ সৃষ্টি করলেন এই মাসে।’

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় সহ-সভপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, আমরা পদায়নের বিরুদ্ধে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল কমিটিতে যারা নেতৃত্বে আসতে পারে নাই, তাদের অবশ্যই পদায়ন করা দরকার ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে হল কমিটি হওয়ার পর পাঁচ মাসেও কেন তারা পদায়ন করতে পারে নাই। এখন হঠাৎ নামে-বেনামে শত শত ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়িত করা হলো। এদের অনেকে ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়েও নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। স্পষ্টত এখানে অর্থের অনৈতিক লেনদেন হয়েছে। এটা জয়-লেখকের চূড়ান্তভাবে সাংগঠনিক ব্যর্থতা। ধোঁয়াশা সৃষ্টির মাধ্যমে পকেট ভারি করে তারা তাদের আখের গোছাচ্ছে। এটি এখন দিবালোকের মতো সত্য।

সহ-সভাপতি সোহান খান বলেন, ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার উচিত হবে সংগঠনের স্বচ্ছতার স্বার্থে বর্ধিত কমিটিতে আসা নামগুলোর নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা। যদি তা না করা হয় তাহলে এদের কেউ কোন অপকর্ম করলে তার দায়ভার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেই নিতে হবে।

অতীতে চিঠি ইস্যুর মাধ্যমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বর্ধিত করার রীতি থাকলেও এত ব্যাপকহারে কখনো পদায়িত করতে দেখা যায়নি। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে বর্ধিত কমিটিতে আনা হলেও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নাম প্রকাশ করা হয়নি। যারা ফলে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মার কাছে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হল কমিটিতে যেসব পদ-প্রত্যাশী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি, তাদের নাম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগস্টের শোক ভুলে পদপ্রাপ্ত এবং তাদের অনুসারী-সমর্থক-পরিচিতজনরা উৎসবে মগ্ন হয়েছেন ফেইসবুকে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে সহ-সভাপতি কামাল খান বলেন, আমাদের কাছে ছাত্রলীগ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আমানত। এই শোকের মাসে জয়-লেখক সেই আমানতের খেয়ানত করেছে। ছাত্রলীগের কমিটিকে হাসি-ঠাট্টার বিষয়ে পরিণত করেছে। আমরা শীঘ্রই জয়-লেখক বরাবর সাধারণ সভা ডাকার জন্য চিঠি দিব। সেখানে এসব ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। পনের দিনের মধ্যে সভা না ডাকলে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির এক তৃতীয়ংশকে নিয়ে সভা ডাকব। সেখানে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে জয়-লেখককে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষমতাও আমরা সংরক্ষণ করি।

এসব বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

back to top