দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ছেন লিটন ও সাইফ
সহযোগী দেশের সঙ্গে যেমনটি খেলা উচিত, ব্যাটে-বলে তেমন দাপটই পারফরম্যান্সই মেলে ধরল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটে হারাল লিটন দাসের দল।
পেস আক্রমণের নেতা তাসকিন আহমেদ জ্বলে ওঠেন বল হাতে। চার উইকেট নেন ২০ ওভারের ক্রিকেটে তৃতীয়বার। ম্যাচের সেরাও তিনি।
ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন লিটন। তিনে নেমে বাংলাদেশ অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ৬ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ বলে ৫৪ রানে।
ত্রয়োদশ ফিফটিতে তিনি স্পর্শ করেন এই সংস্করণে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ড।
শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ডাচদের ১৩৬ রানে থামিয়ে বাংলাদেশ জিতে যায় ৩৯ বল বাকি রেখেই।
সকালের বৃষ্টির কারণে উইকেটে আর্দ্রতা ছিল কিছুটা। এই মাঠে পরে ব্যাটিং করা দলের রেকর্ডও ভালো। টস জিতে তাই বোলিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন। ডাচদের শুরুটা যদিও খারাপ ছিল না।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শরিফুল ইসলামকে তিনটি চার মারেন মাক্স ও’ডাউড। অভিজ্ঞ ওপেনার পরের ওভারে শেখ মেহেদি হাসানকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ছক্কায়। তাসকিন আক্রমণে আসতেই পাল্টে যায় চিত্র। তার প্রথম বলেই বিদায় নেন ও’ডাউড (১৫ বলে ২৩)।
ডাচদের রানের গতিও অনেক কমে আসে এরপর। প্রথম তিন ওভারে ২৫ রান তোলা দল পরের তিন ওভারে তোলে ৯ রান। তাসকিন দ্বিতীয় ওভারে ফিরে আবার প্রথম বলে দেখা পান উইকেটের। ধুঁকতে থাকা ভিক্রামজিৎ সিং বিদায় নেন ১১ বলে ৪ রান করে।
তাসকিনের ওই ওভারেই শেষ দুই বলে ছক্কা ও চার মারেন তিনে নামা তেজা নিদামানুরু। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস গিয়ে চেষ্টা করেন রানের গতিতে দম দেওয়ার। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর দলে ফিরে প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট নিয়ে ডাচদের দমিয়ে দেন সাইফ হাসান। প্রথম উইকেটটি অবশ্য অনায়াসেই লিখে দেওয়া যায় জাকের আলির নামে। স্কয়ার লেগ থেকে বেশ কিছুটা ছুটে গিয়ে সামনে ডাইভ দিয়ে মুঠোয় জমান তিনি ডাচ অধিনায়ককে (৭ বলে ১২)। ওই ওভারেই উইকেট ছুড়ে দেন নিদামানুরু (২৬ বলে ২৬)।
নেদারল্যান্ডসের রান তখন ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৬৮। পরের ১০ ওভারেও ৪ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ঠিক ৬৮ রানই। শারিজ আহমেদকে (১৪ বলে ১৫) ফিরিয়ে একমাত্র উইকেটের দেখা পান ম্যাচজুড়ে ভালো বোলিং করা মুস্তাফিজুর রহমান।
অভিজ্ঞ পেসার চার ওভারে রান দেন ১৯। এই নিয়ে টানা ছয় টি-টোয়েন্টিতে ওভারপ্রতি পাঁচের কম রান দিলেন তিনি।
কাইল ক্লেইন (১২ বলে ৯) ও নোয়াহ ক্রোসকে (১৩ বলে ১১) ফিরিয়ে তাসকিন পূর্ণ করেন চার উইকেট।
অষ্টম উইকেটে টিম প্রিঙ্গল (১৪ বলে ১৬) ও আরিয়ান দত্ত (৮ বলে ১৩*) ২৭ রান যোগ করেন ১৫ বলে। শেষ ওভারে শরিফুলের বলে প্রিঙ্গলের ছক্কায় ১৩৫ ছাড়ায় দলের রান।
বাংলাদেশের রান তাড়ার শুরুটা ছিল চোধাঁধানো। ইনিংসের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি পর তৃতীয় বলটি ছক্কায় উড়িয়ে দেন পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম ওভারে মার খেলে অফ স্পিনার আরিয়ান দত্ত অবশ্য শোধ তোলেন নিজের পরের ওভারেই। দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন পারভেজকে (৮ বলে ১৫)। লিটন ক্রিজে গিয়ে সেই আরিয়ানকেই টানা দুটি চার মারেন। বাঁহাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ডোরামকে রিভার্স সুইপে ছক্কার পর তিনি চার মারেন কাভার দিয়ে।
অধিনায়কের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে শেষেও অধিনায়কে ব্যাটে সেই একই হাওয়া বইতে থাকে। তবে প্রথম বলে বাউন্ডারি দিয়ে শুরুর পর তানজিদ হাসান ঠিক ছন্দ পাননি আর। ৬৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিনি অনেকটাই ছিলেন দর্শক। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি স্পিনার প্রিঙ্গলের ফুল টস লং অনে তুলে দিয়ে বিদায় নেন এই ওপেনার (২৪ বলে ২৯)। ডাচদের অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার কোনো সুযোগ দেননি লিটন। স্পিনের সামনে তার পায়ের কাজ ছিল দেখার মতো। উইকেটের চারপাশে শট খেলে ফিফটিতে পা রাখেন ২৬ বলেই।
সবশেষ ১৯ ম্যাচে তার স্রেফ দ্বিতীয় ফিফটি এটি। গত সিরিজে দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে তার মোট রান ছিল ১৭। এশিয়া কাপের আগে অধিনায়কের ফর্মে ফেরা দলের জন্য বড় স্বস্তি।
শেষ দিকে তিন ছক্কায় সাইফ হাসানের ১৯ বলে ৩৬ রানের ইনিংসও দলের জন্য সুখবর। ফেরার ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তার দলে সুযোগ পাওয়ার কারণটিও ফুটিয়ে তুলছে। টানা দুটি ছক্কায় সাইফ শেষ করে দেন ম্যাচ। মোটামুটি সব প্রাপ্তির সন্তুষ্টি নিয়ে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নেদারল্যান্ডস ১৩৬/৮ (ও’ডাউড ২৩, ভিক্রামজিৎ ৪, নিদামানুরু ২৬, এডওয়ার্ডস ১২, শারিজ ১৫, ক্রোস ১১, ক্লেইন ৯, প্রিঙ্গল ১৬, আরিয়ান ১৩*;
উইকেট পতন: ১/২৫, ২/৩৮, ৩/৬৬, ৪/৬৮, ৫/৮৬, ৬/১০০, ৭/১০৯, ৮/১৩৫।
বোলিং: মেহেদি ৪-০-২১-০, শরিফুল ৪-১-৩০-০, তাসকিন ৪-০-২৮-৪, মোস্তাফিজ ৪-০-১৯-১, রিশাদ ২-০-১৬-০, সাইফ ২-০-১৮-২)।
বাংলাদেশ ১৩.৩ ওভারে ১৩৮/২ (পারভেজ ১৫, তানজিদ ২৯, লিটন ৫৪*, সাইফ ৩৬*; আরিয়ান ১/৩০, প্রিঙ্গল ১/১৬)। ম্যাচসেরা: তাসকিন আহমেদ।
দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ছেন লিটন ও সাইফ
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
সহযোগী দেশের সঙ্গে যেমনটি খেলা উচিত, ব্যাটে-বলে তেমন দাপটই পারফরম্যান্সই মেলে ধরল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটে হারাল লিটন দাসের দল।
পেস আক্রমণের নেতা তাসকিন আহমেদ জ্বলে ওঠেন বল হাতে। চার উইকেট নেন ২০ ওভারের ক্রিকেটে তৃতীয়বার। ম্যাচের সেরাও তিনি।
ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন লিটন। তিনে নেমে বাংলাদেশ অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ৬ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ বলে ৫৪ রানে।
ত্রয়োদশ ফিফটিতে তিনি স্পর্শ করেন এই সংস্করণে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ড।
শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ডাচদের ১৩৬ রানে থামিয়ে বাংলাদেশ জিতে যায় ৩৯ বল বাকি রেখেই।
সকালের বৃষ্টির কারণে উইকেটে আর্দ্রতা ছিল কিছুটা। এই মাঠে পরে ব্যাটিং করা দলের রেকর্ডও ভালো। টস জিতে তাই বোলিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন। ডাচদের শুরুটা যদিও খারাপ ছিল না।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শরিফুল ইসলামকে তিনটি চার মারেন মাক্স ও’ডাউড। অভিজ্ঞ ওপেনার পরের ওভারে শেখ মেহেদি হাসানকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ছক্কায়। তাসকিন আক্রমণে আসতেই পাল্টে যায় চিত্র। তার প্রথম বলেই বিদায় নেন ও’ডাউড (১৫ বলে ২৩)।
ডাচদের রানের গতিও অনেক কমে আসে এরপর। প্রথম তিন ওভারে ২৫ রান তোলা দল পরের তিন ওভারে তোলে ৯ রান। তাসকিন দ্বিতীয় ওভারে ফিরে আবার প্রথম বলে দেখা পান উইকেটের। ধুঁকতে থাকা ভিক্রামজিৎ সিং বিদায় নেন ১১ বলে ৪ রান করে।
তাসকিনের ওই ওভারেই শেষ দুই বলে ছক্কা ও চার মারেন তিনে নামা তেজা নিদামানুরু। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস গিয়ে চেষ্টা করেন রানের গতিতে দম দেওয়ার। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর দলে ফিরে প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট নিয়ে ডাচদের দমিয়ে দেন সাইফ হাসান। প্রথম উইকেটটি অবশ্য অনায়াসেই লিখে দেওয়া যায় জাকের আলির নামে। স্কয়ার লেগ থেকে বেশ কিছুটা ছুটে গিয়ে সামনে ডাইভ দিয়ে মুঠোয় জমান তিনি ডাচ অধিনায়ককে (৭ বলে ১২)। ওই ওভারেই উইকেট ছুড়ে দেন নিদামানুরু (২৬ বলে ২৬)।
নেদারল্যান্ডসের রান তখন ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৬৮। পরের ১০ ওভারেও ৪ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ঠিক ৬৮ রানই। শারিজ আহমেদকে (১৪ বলে ১৫) ফিরিয়ে একমাত্র উইকেটের দেখা পান ম্যাচজুড়ে ভালো বোলিং করা মুস্তাফিজুর রহমান।
অভিজ্ঞ পেসার চার ওভারে রান দেন ১৯। এই নিয়ে টানা ছয় টি-টোয়েন্টিতে ওভারপ্রতি পাঁচের কম রান দিলেন তিনি।
কাইল ক্লেইন (১২ বলে ৯) ও নোয়াহ ক্রোসকে (১৩ বলে ১১) ফিরিয়ে তাসকিন পূর্ণ করেন চার উইকেট।
অষ্টম উইকেটে টিম প্রিঙ্গল (১৪ বলে ১৬) ও আরিয়ান দত্ত (৮ বলে ১৩*) ২৭ রান যোগ করেন ১৫ বলে। শেষ ওভারে শরিফুলের বলে প্রিঙ্গলের ছক্কায় ১৩৫ ছাড়ায় দলের রান।
বাংলাদেশের রান তাড়ার শুরুটা ছিল চোধাঁধানো। ইনিংসের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি পর তৃতীয় বলটি ছক্কায় উড়িয়ে দেন পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম ওভারে মার খেলে অফ স্পিনার আরিয়ান দত্ত অবশ্য শোধ তোলেন নিজের পরের ওভারেই। দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন পারভেজকে (৮ বলে ১৫)। লিটন ক্রিজে গিয়ে সেই আরিয়ানকেই টানা দুটি চার মারেন। বাঁহাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ডোরামকে রিভার্স সুইপে ছক্কার পর তিনি চার মারেন কাভার দিয়ে।
অধিনায়কের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে শেষেও অধিনায়কে ব্যাটে সেই একই হাওয়া বইতে থাকে। তবে প্রথম বলে বাউন্ডারি দিয়ে শুরুর পর তানজিদ হাসান ঠিক ছন্দ পাননি আর। ৬৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিনি অনেকটাই ছিলেন দর্শক। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি স্পিনার প্রিঙ্গলের ফুল টস লং অনে তুলে দিয়ে বিদায় নেন এই ওপেনার (২৪ বলে ২৯)। ডাচদের অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার কোনো সুযোগ দেননি লিটন। স্পিনের সামনে তার পায়ের কাজ ছিল দেখার মতো। উইকেটের চারপাশে শট খেলে ফিফটিতে পা রাখেন ২৬ বলেই।
সবশেষ ১৯ ম্যাচে তার স্রেফ দ্বিতীয় ফিফটি এটি। গত সিরিজে দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে তার মোট রান ছিল ১৭। এশিয়া কাপের আগে অধিনায়কের ফর্মে ফেরা দলের জন্য বড় স্বস্তি।
শেষ দিকে তিন ছক্কায় সাইফ হাসানের ১৯ বলে ৩৬ রানের ইনিংসও দলের জন্য সুখবর। ফেরার ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তার দলে সুযোগ পাওয়ার কারণটিও ফুটিয়ে তুলছে। টানা দুটি ছক্কায় সাইফ শেষ করে দেন ম্যাচ। মোটামুটি সব প্রাপ্তির সন্তুষ্টি নিয়ে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নেদারল্যান্ডস ১৩৬/৮ (ও’ডাউড ২৩, ভিক্রামজিৎ ৪, নিদামানুরু ২৬, এডওয়ার্ডস ১২, শারিজ ১৫, ক্রোস ১১, ক্লেইন ৯, প্রিঙ্গল ১৬, আরিয়ান ১৩*;
উইকেট পতন: ১/২৫, ২/৩৮, ৩/৬৬, ৪/৬৮, ৫/৮৬, ৬/১০০, ৭/১০৯, ৮/১৩৫।
বোলিং: মেহেদি ৪-০-২১-০, শরিফুল ৪-১-৩০-০, তাসকিন ৪-০-২৮-৪, মোস্তাফিজ ৪-০-১৯-১, রিশাদ ২-০-১৬-০, সাইফ ২-০-১৮-২)।
বাংলাদেশ ১৩.৩ ওভারে ১৩৮/২ (পারভেজ ১৫, তানজিদ ২৯, লিটন ৫৪*, সাইফ ৩৬*; আরিয়ান ১/৩০, প্রিঙ্গল ১/১৬)। ম্যাচসেরা: তাসকিন আহমেদ।