alt

opinion » post-editorial

রম্যগদ্য:“কবি এখন জেলে...”

জাঁ-নেসার ওসমান

: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫

“এইডা আবার কী কথা! কবি এখন জেলে? আরে ভাই যেই ব্যাডার প্রতিভা থাকপে সেই ব্যাডাই কবিতা

লিখপে, সে জেলে হোক বা ধীবর হোক! এই নিয়া কি প্রশ্ন চলে? এই যে জাউল্লার পোলা শিব শংকর

হনুমান দাস, বছরের শ্রেষ্ঠ লেখকের পুরষ্কার পাইলো, তো! হালায় জালিয়া বইল্লা কি সাহিত্য সাধনা করা

পারবো না?”

“আরে না, আমি বলছিলাম যে কবিরা তো, সাহিত্যের পূজা করবে, শান্ত রস, হাস্য রস, বিভৎস রস, বীর রস, জুগুপ্সা এইসব নিয়ে লিখলে তাদের জেলে যেতে হবে ক্যান?”

“আদি রসের কথা কোইলেন ন?”

“না না, এটা পাবলিকলি বলা যাবে না। শিখ-ীর জাত তো। তাই অন্য সব রস নিয়ে নাড়াচাড়া কর, কেবল আদি রস আলাদা।”

“তায়লে জেল, মানে আপনে চৌদ্দশিকের কথা বলছেন যে, মানে যেখানে চুরচুট্টা-বদমায়েস গুলারে ভইরা রাখে, সমাজের নোংরা জীবগুলার কথা বলছেন যে?”

“জ্বী, জ্বী, আমি তোমার ওই চৌদ্দ-শিকের কথাই বলছিলাম, যে কবিরা সমাজের বিবেক, সমাজের মঙ্গলবোধ, তারা কেনো বর্তমানে জেল খেটে মরবে!”

“আরে লেখার জন্য লেখকের জেল খাটার ঘটনা তো নতুন না! ওই যে “রবীনসন ক্রুসোর” লেখক, ড্যানিয়েল ডুফো, যার বই বাইবেলের পরে সবের থ্যেইক্কা বেশি ভাষায় অনূদিত হোইছে, হ্যারে পর্যন্ত লেখার জন্য জেল খাটতে হোইছে। সনটা খেয়াল কোইরা দ্যাখেন, ১৭১৫ সাল।”

“আরে ভাই লেখার জন্য জেল খেটেছেন এমন লেখক অনেক আছে, টার্কি, ইয়েমেন, চীন, পাকিস্তানে। মুনির চৌধুরী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সত্যেন সেন, রণেশ দাস গুপ্ত, ভূরিভূরি...।”

“আচ্ছা কন দেখি কুন লিখক সরকারের বিরুদ্ধে উপন্যাস লেইখ্যাও ধরা তো খাই-ই নাই, উপরন্তু উনি পুরষ্কার পাইছেন!”

“যাহ স্বৈরসরকারের বিরুদ্ধে লিখে পুরষ্কার! তা হয় নাকি? সামান্য কার্টুন আঁকলে কান চাপাতিতে চড় মেরে মৃত্যু, সেখানে শাষকের বিরুদ্ধে লিখে পুরষ্কার! গাঁজায় দম দিয়েছিস নাকি!”

“ভাই বুঝেন না, বর্বর পাকিস্তান আমল, স্বৈরাচার সরকার আয়ূব খান তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু কোইলেই জেল-গ্রেফতার। আয়ূব আমালের একটা জোক হুনেন।”

“বল দেখি কি জোক?”

“পাকিস্তান আমলে সিনেমা হলে, পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা শুরুর আগে দশ-বিশ মিনিট “চিত্রে-পাকিস্তানি খবর”, মানে আয়ূব সরকারের উন্নয়নের ডকুমেন্টারি সিনেমা দ্যেখাইতো। একবার আয়ূব খান ছদ্মবেশে ফ্রন্টস্টলে সাধারণ দশর্কের মাঝে বসছে সিনেমা দেখবো। যথারীতি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা শুরুর আগে দশ-বিশ মিনিট চিত্রে পাকিস্তানি খবর শুরু হোইছে। ব্যাস চিত্রে পাকিস্তানি খবর শুরু হোইছে কি শুরু হয় নাই লগে লগে হলের মইধ্যে প্রচ- হাততালি। হাততালির চোটে হল ফাইট্টা যায়।”

“ তখন আয়ূব খান কী করলেন?”

“আরে মিয়া হুনেন,আয়ূব খানতো তালির আওয়াজে খুশীরে খুশী। আমজনতা হ্যারে কিরাম ভালোবাসে। আয়ূব তো আর তালি দ্যায় না। হ্যায় মনের আনন্দে বয়া বয়া চিলগোদা বাদাম খাইতাছে। তখন পাশের থ্যেইক্কা এক ব্যাডা ছদ্মবেশী আয়ূব খানরে কয়, “ওই ব্যাডা যলদি তালি দে নইলে তোরে অ্যারেষ্ট করবো।”

“তার মানে তখনকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ডাইরেক্টার জেনারেলরা প্রত্যেক সিনেমা হলে লিখিত অর্ডার দিতো যে, চিত্রে পাকিস্তানি খবর দেখে যেই দর্শক তালি দিবে না, তারে অ্যারেষ্ট। এই নাকি আয়ূব খানের স্বৈরাচারি হুকুম, কিন্তু সমাজের এই অবস্থায় কী কোরে আয়ূব শাহীর বিরুদ্ধে উপন্যাস লিখে প্রাইজ পায়?”

“মজাতো ওই হানেই,“ক্রীতদাসের হাসি” উপন্যাসে লিখক প্রচুর আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দ ব্যবহার কোইরা আয়ূব খানের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখলো। কিন্তু হালারা উপন্যাসের পটভূমি বাগদাদ, মুসলিম সমাজ, বাদশাহ-বুদশাহ, প্রচুর আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দ ব্যবহার দেইখ্যা লগে লগে পাকিস্তানিরা বেস্ট নভেল প্রইজ দিয়া দিলো।”

“পরে কি কমিটি বুঝে নাই?”

“বুজছে, দেরিতে বুজছে, প্রেসিডেন্ট যেই উপন্যাসরে বেস্ট নভেল কোইছে হেইডা তো আর ফেরৎ লওয়া যায় না, ব্যাস লেখক শওকত ওসমান বাইচ্চা গেলোগা।”

“কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের যে কবিরা জেলে পঁচছে তারা তো লেখার জন্য জেলে যায়নি...!”

“কন কি কবি গেলো জেলে তাও আবার লেখার জন্য না! তায়লে হ্যারা কি পরের জমি দখল...”

“ধ্যাৎ আমাদের কবিরা গত পনের বছর স্বৈরাচারের পা-চেঁটে, পয়সা মেরে লালে লাল। বাপের নামে বই, ভায়ের নামে বই, বোনের নামে বই, ম য়ের নামে বই, ছেলের নামে বই, মেয়ের নামে বই, মায়ের বাড়ির কাজের বুয়ার নামে বই, নিজের নামে বই ও কবিতা লিখে, এখন এক একজন কবি হাজার কোটি টাকার মালিক।”

“কী কন, কবি যারা সমাজের বিবেক, যারা মাইনষের মাঝে শুভোবোধ জাগাইবো, মাইনষের সুকোমোল প্রবৃত্তিরে পরিচর্যা করবো হ্যারাই অহন মাল দ্যেইক্ষা সারমেয় সন্তানের মতো জীহ্বলা বাইর কইরা ল্যালাইতাছে, হালারা কবি না জানোয়ার?”

“কী বলবো বল, বাংলাদেশের কপাল খারাপ, যেই লঙ্কায় গ্যেছে সেই রাবণ মানে রাক্ষসের মতো আচরণ করেছে। কিছুতেই এই মানব সন্তানরা অর্থের লোভ সংবরণ করতে পারেনি। ফলে আজ বাঙালি জাতির অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় মানে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। টাকা টাকা কোরে এখন আমরা কি বাঙালি না ভিনদেশী এই নিয়েই পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ঝামেলা বাধবেই বাধবে!”

“তায়লে এই কবিগুলা কি খানের পোলাগুলা কবিতা লিখতে গেলো ক্যান? শালারা স্বৈরাচারের দালালি কইরা একটা জাতিকে ধ্বংস করতাছে! আসলে আপনের কথাই ঠিক এই হালারা কবিতা না ল্যেইখ্যা জাইল্লা হয়া মাছ ধরলে অন্তত বাঙালি জাতি বাইচ্চা যাইতো।”

“সেই ভালো রে, কবি এখন জেলে, মানে কবি এখন ধীবর, এইসব অর্থলোভী নোংরা মানসিকতাসম্পন্ন কিছু কবি এখন আর কবিতা লিখবে না এরা সবাই মাছ ধরবে! বাঙালি জাতি রক্ষা পাবে।”

“ হেঃ হেঃ হেঃ নোংরা কবিগুলা অহন মাছ মারব হালারা জাউল্লা হোইবো! হিঃ হিঃ হিঃ... ঠিকই কোইছেন কবি এখন জেলে!”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

বাংলাদেশের দারিদ্র্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ

ক্লাউডবার্স্ট: মৃত্যুর বার্তা নিয়ে, আকাশ যখন কান্নায় ভেঙে পড়ে

কারা কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা ও ‘কারেকশন সার্ভিস’-এর বাস্তবতা

ছবি

বাংলাদেশের শহর পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

ছবি

‘আজ ফির তুমপে পেয়ার আয়া হ্যায়’

স্বপ্নের দক্ষিণ কোরিয়া; বাংলাদেশে আন্দোলন, ভিয়েতনামের সাফল্য

ডাকসু নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতি

ঢাকা শহরের উষ্ণতা: সবুজ হারানোর মূল্য

তিন বাহিনী প্রধানদের আশা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা

গনমাধ্যম জগতও নিষ্ঠুরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে!

মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা: জাপান এক অনুসরণীয় আদর্শ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন ট্র্যাজেডি

হোক সবুজ বিপ্লব

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি : একজন বিধায়কের জামিন

নিউটনের আপেল : পতনের ভেতরে জাগরণের গল্প

বায়ুদূষণ গবেষণার প্রসার ও তরুণদের ভূমিকা : প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা আহমদ

চাপে সামষ্টিক অর্থনীতি

ছবি

একাত্তরের গণহত্যা : সংখ্যার বিতর্ক নাকি দায় হালকা করার চেষ্টা?

রম্যগদ্য : ‘দালাল-ধন্বন্তরি-জীবন রক্ষাকারী...’

সাদা পাথর লুটে সর্বদলীয় ঐক্য

গণিতের বহুমুখী ব্যবহার : আধুনিক বিজ্ঞানের চালিকাশক্তি

প্রসঙ্গ : পেঁপের রিং স্পট ভাইরাস

ছবি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : রাজনৈতিক বিভেদের অমোচনীয় ক্ষত

ছবি

আলফ্রেড সরেন হত্যা : বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে

কারাম উৎসব : বাংলার প্রাচীন কৃষি ও সংস্কৃতির ধারক

ছবি

আলাস্কা বৈঠক : শান্তির দেখা কি মিলল?

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ কতদূর?

মবের উন্মাদনা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার

জীবন থেকে নেয়া শিক্ষাগুলোই এগিয়ে দেয় জীবনকে

রাজনৈতিক কর্মসূচি, যানজট ও আচরণগত অর্থনীতি

সম্পদের অভিশাপ : সিলেটের সাদাপাথরে সংঘাতের সমাজতত্ত্ব ও নীতি-সংকট

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তো

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার জরুরি

ছবি

সাদাপাথরের নীলাভ দেশ : ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য ও সংকট

একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সমাজতত্ত্ব

বেইজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লির নতুন ভূরাজনীতি

tab

opinion » post-editorial

রম্যগদ্য:“কবি এখন জেলে...”

জাঁ-নেসার ওসমান

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫

“এইডা আবার কী কথা! কবি এখন জেলে? আরে ভাই যেই ব্যাডার প্রতিভা থাকপে সেই ব্যাডাই কবিতা

লিখপে, সে জেলে হোক বা ধীবর হোক! এই নিয়া কি প্রশ্ন চলে? এই যে জাউল্লার পোলা শিব শংকর

হনুমান দাস, বছরের শ্রেষ্ঠ লেখকের পুরষ্কার পাইলো, তো! হালায় জালিয়া বইল্লা কি সাহিত্য সাধনা করা

পারবো না?”

“আরে না, আমি বলছিলাম যে কবিরা তো, সাহিত্যের পূজা করবে, শান্ত রস, হাস্য রস, বিভৎস রস, বীর রস, জুগুপ্সা এইসব নিয়ে লিখলে তাদের জেলে যেতে হবে ক্যান?”

“আদি রসের কথা কোইলেন ন?”

“না না, এটা পাবলিকলি বলা যাবে না। শিখ-ীর জাত তো। তাই অন্য সব রস নিয়ে নাড়াচাড়া কর, কেবল আদি রস আলাদা।”

“তায়লে জেল, মানে আপনে চৌদ্দশিকের কথা বলছেন যে, মানে যেখানে চুরচুট্টা-বদমায়েস গুলারে ভইরা রাখে, সমাজের নোংরা জীবগুলার কথা বলছেন যে?”

“জ্বী, জ্বী, আমি তোমার ওই চৌদ্দ-শিকের কথাই বলছিলাম, যে কবিরা সমাজের বিবেক, সমাজের মঙ্গলবোধ, তারা কেনো বর্তমানে জেল খেটে মরবে!”

“আরে লেখার জন্য লেখকের জেল খাটার ঘটনা তো নতুন না! ওই যে “রবীনসন ক্রুসোর” লেখক, ড্যানিয়েল ডুফো, যার বই বাইবেলের পরে সবের থ্যেইক্কা বেশি ভাষায় অনূদিত হোইছে, হ্যারে পর্যন্ত লেখার জন্য জেল খাটতে হোইছে। সনটা খেয়াল কোইরা দ্যাখেন, ১৭১৫ সাল।”

“আরে ভাই লেখার জন্য জেল খেটেছেন এমন লেখক অনেক আছে, টার্কি, ইয়েমেন, চীন, পাকিস্তানে। মুনির চৌধুরী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সত্যেন সেন, রণেশ দাস গুপ্ত, ভূরিভূরি...।”

“আচ্ছা কন দেখি কুন লিখক সরকারের বিরুদ্ধে উপন্যাস লেইখ্যাও ধরা তো খাই-ই নাই, উপরন্তু উনি পুরষ্কার পাইছেন!”

“যাহ স্বৈরসরকারের বিরুদ্ধে লিখে পুরষ্কার! তা হয় নাকি? সামান্য কার্টুন আঁকলে কান চাপাতিতে চড় মেরে মৃত্যু, সেখানে শাষকের বিরুদ্ধে লিখে পুরষ্কার! গাঁজায় দম দিয়েছিস নাকি!”

“ভাই বুঝেন না, বর্বর পাকিস্তান আমল, স্বৈরাচার সরকার আয়ূব খান তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু কোইলেই জেল-গ্রেফতার। আয়ূব আমালের একটা জোক হুনেন।”

“বল দেখি কি জোক?”

“পাকিস্তান আমলে সিনেমা হলে, পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা শুরুর আগে দশ-বিশ মিনিট “চিত্রে-পাকিস্তানি খবর”, মানে আয়ূব সরকারের উন্নয়নের ডকুমেন্টারি সিনেমা দ্যেখাইতো। একবার আয়ূব খান ছদ্মবেশে ফ্রন্টস্টলে সাধারণ দশর্কের মাঝে বসছে সিনেমা দেখবো। যথারীতি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা শুরুর আগে দশ-বিশ মিনিট চিত্রে পাকিস্তানি খবর শুরু হোইছে। ব্যাস চিত্রে পাকিস্তানি খবর শুরু হোইছে কি শুরু হয় নাই লগে লগে হলের মইধ্যে প্রচ- হাততালি। হাততালির চোটে হল ফাইট্টা যায়।”

“ তখন আয়ূব খান কী করলেন?”

“আরে মিয়া হুনেন,আয়ূব খানতো তালির আওয়াজে খুশীরে খুশী। আমজনতা হ্যারে কিরাম ভালোবাসে। আয়ূব তো আর তালি দ্যায় না। হ্যায় মনের আনন্দে বয়া বয়া চিলগোদা বাদাম খাইতাছে। তখন পাশের থ্যেইক্কা এক ব্যাডা ছদ্মবেশী আয়ূব খানরে কয়, “ওই ব্যাডা যলদি তালি দে নইলে তোরে অ্যারেষ্ট করবো।”

“তার মানে তখনকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ডাইরেক্টার জেনারেলরা প্রত্যেক সিনেমা হলে লিখিত অর্ডার দিতো যে, চিত্রে পাকিস্তানি খবর দেখে যেই দর্শক তালি দিবে না, তারে অ্যারেষ্ট। এই নাকি আয়ূব খানের স্বৈরাচারি হুকুম, কিন্তু সমাজের এই অবস্থায় কী কোরে আয়ূব শাহীর বিরুদ্ধে উপন্যাস লিখে প্রাইজ পায়?”

“মজাতো ওই হানেই,“ক্রীতদাসের হাসি” উপন্যাসে লিখক প্রচুর আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দ ব্যবহার কোইরা আয়ূব খানের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখলো। কিন্তু হালারা উপন্যাসের পটভূমি বাগদাদ, মুসলিম সমাজ, বাদশাহ-বুদশাহ, প্রচুর আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দ ব্যবহার দেইখ্যা লগে লগে পাকিস্তানিরা বেস্ট নভেল প্রইজ দিয়া দিলো।”

“পরে কি কমিটি বুঝে নাই?”

“বুজছে, দেরিতে বুজছে, প্রেসিডেন্ট যেই উপন্যাসরে বেস্ট নভেল কোইছে হেইডা তো আর ফেরৎ লওয়া যায় না, ব্যাস লেখক শওকত ওসমান বাইচ্চা গেলোগা।”

“কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের যে কবিরা জেলে পঁচছে তারা তো লেখার জন্য জেলে যায়নি...!”

“কন কি কবি গেলো জেলে তাও আবার লেখার জন্য না! তায়লে হ্যারা কি পরের জমি দখল...”

“ধ্যাৎ আমাদের কবিরা গত পনের বছর স্বৈরাচারের পা-চেঁটে, পয়সা মেরে লালে লাল। বাপের নামে বই, ভায়ের নামে বই, বোনের নামে বই, ম য়ের নামে বই, ছেলের নামে বই, মেয়ের নামে বই, মায়ের বাড়ির কাজের বুয়ার নামে বই, নিজের নামে বই ও কবিতা লিখে, এখন এক একজন কবি হাজার কোটি টাকার মালিক।”

“কী কন, কবি যারা সমাজের বিবেক, যারা মাইনষের মাঝে শুভোবোধ জাগাইবো, মাইনষের সুকোমোল প্রবৃত্তিরে পরিচর্যা করবো হ্যারাই অহন মাল দ্যেইক্ষা সারমেয় সন্তানের মতো জীহ্বলা বাইর কইরা ল্যালাইতাছে, হালারা কবি না জানোয়ার?”

“কী বলবো বল, বাংলাদেশের কপাল খারাপ, যেই লঙ্কায় গ্যেছে সেই রাবণ মানে রাক্ষসের মতো আচরণ করেছে। কিছুতেই এই মানব সন্তানরা অর্থের লোভ সংবরণ করতে পারেনি। ফলে আজ বাঙালি জাতির অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় মানে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। টাকা টাকা কোরে এখন আমরা কি বাঙালি না ভিনদেশী এই নিয়েই পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ঝামেলা বাধবেই বাধবে!”

“তায়লে এই কবিগুলা কি খানের পোলাগুলা কবিতা লিখতে গেলো ক্যান? শালারা স্বৈরাচারের দালালি কইরা একটা জাতিকে ধ্বংস করতাছে! আসলে আপনের কথাই ঠিক এই হালারা কবিতা না ল্যেইখ্যা জাইল্লা হয়া মাছ ধরলে অন্তত বাঙালি জাতি বাইচ্চা যাইতো।”

“সেই ভালো রে, কবি এখন জেলে, মানে কবি এখন ধীবর, এইসব অর্থলোভী নোংরা মানসিকতাসম্পন্ন কিছু কবি এখন আর কবিতা লিখবে না এরা সবাই মাছ ধরবে! বাঙালি জাতি রক্ষা পাবে।”

“ হেঃ হেঃ হেঃ নোংরা কবিগুলা অহন মাছ মারব হালারা জাউল্লা হোইবো! হিঃ হিঃ হিঃ... ঠিকই কোইছেন কবি এখন জেলে!”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

back to top