alt

সাময়িকী

কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেন-এর কবিতা

অনুবাদ ও ভূমিকা : কামরুল ইসলাম

: মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১

কারণ গাংচিলগুলো তাদের উচ্চতায় ফিরে আসে

জনগণ বলছে কিন্তু কে সেই যে সেগুলি একদিন লিখবে

যা কিছু ভালবাসার কথা বলে বিষাদের গান গায়,

কে সেই যে কবিতা লিখবে শিহরিত না হয়ে মৃত্যুকে পাত্তা না দিয়ে

কে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসে মানব হতে চায় পিছু না হটে

যে বলতে জানে, আমি দুঃখিত, আমার অনুমতি দরকার

কে সেই যে সূর্যের তীব্র আলোয় ভয় না পেয়ে সটান আকাশের দিকে তাকায়

অনবরত বলতে থাকে ভালোবাসো, কাছে আসো,

আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাক চাই

ওই বিষাদময় চেহারা কার

যে মায়ার কথা বলে এবং পাইন গাছের গন্ধের।

এবং আমি তাদের বলি: তোমরা কেন জানতে চাও আমি কে,

যদি আমি পুমা হই

আমি যদি ক্ষমা চাই তোমরা কীভাবে তা দেখবে

এমনকি যদি আমি ঈগল পাখি হবার ইচ্ছে করি

এবং সীমাহীনভাবে ঘুরি।

কিন্তু লোকে জেদ করে

এবং আমি যখন নিজেকে কোনো শহরের বাসিন্দা বলে কল্পনা করি

তুমি বলো আমার শরীর কেন কোনো ছায়া ফেলে না।

কিন্তু তুমি আমাকে খুশি মনেই চেনো, এবং আমি যখন ঘুমিয়ে থাকি তখনো

আমার অভিভাবক দেবদূত মানুষের মতো পোশাক পরিধান করে

এবং প্রত্যুষকে উপভোগ করে

এবং তুমি তাকে ভার্জিলের জায়গায় স্থান দাও।

তারা এখনো অনেক কথা বলে যাবে

যে সব মৃতদের আমি এখনো খুন করতে পারি নি তারা জেদ করবে

তারা তাদের উন্মত্ত হিংসায় আমাকে ধ্বংস করবে

এবং তারা আমার বক্ষের কেন্দ্রভূমিতে একটি গর্ত করবে

আমার জরুরি কাজগুলো নিতে

কিন্তু তুমি সর্বদা আমার পাশে থাকবে

ওয়ালপেপার দিয়ে রাস্তা বপন করে

তারা কি বলছে এটা কোনো বিষয় নয়

আমি আমার ভগ্ন আত্মা দিয়ে বলতে থাকবো ক্রুদ্ধ পরিখার কথা।

আমি কবিতা লিখি যাতে গাংচিলগুলো অনেক উঁচুতে ফিরে যেতে পারে

এবং সেজন্য আমি বলে যেতে থাকি: ভালোবাসো, কাছে আসো,

আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকে চাই,

তুমি আমার চরম প্রসারণ

আমার চূড়া

আমার পর্বত।

যখন আর জিলগুয়েরোর শব্দ শোনা যাবে না

তার মৃত্যু অবধি তার তিন মিটার সুচালো দাঁত

বেড়েছে শুধু

হস্তীটি আমার বাড়ির যত্নে নিত

ঘোষণা দিয়েই তারা তাকে পরিধান

করাতো প্রকৃতির সহস্র রঙের পোশাক

কাল জাম রঙ

নীল কালো কাঁটা ফল

এবং আরো কাজু বাদাম

এবং এটা অনুধাবন করতো না

টুনেরা ফুল

এবং শক্ত কঙ্কালের মতো কোরাল

উজ্জ্বল কালো কোরাল

বায়ুপরাগী পুষ্প এবং আরো অভিজাত বিষয়

কখনো কখনো যখন বৃষ্টি হয় না,

যারা তাদের নিজেদের মধ্যে গর্ব করে-

উত্তপ্ত নারীলিপ্সু জিমন্যাস্ট

সামুদ্রিক লাল শেওলা

আমব্রেলা-গুল্ম

এবং প্রবাহমান জল

এবং এটা মিথ্যাও মনে হয়

যেভাবে তারা গান শুরু করে

যেমন চক্রবাক

ডুবপাখি

ফ্লেমেনকো

ভবঘুরে পাখি

এবং বালিহাঁস,

কীভাবে তারা সমুদ্রের গভীরে

বুদ্বুদের সৃষ্টি করে

অ্যাগ্লান্টা, গ্যারার্দিয়া এইসব শেওলা

শক্ত কঙ্কালের মতো কোরাল

এবং তারাও অনেক ওপরের

সূর্যকে সম্মানিত করেছিল।

যেভাবে হেঁটে হেঁটে ইতিহাস শেখা যায়

আজ আর সেইসব বন্ধুরা নেই

যারা আমার সাথে আলাপ জমাতো শান্ত পরিবেশে।

আর আমি কেমন করে পারি অনুভব না করে

এই রসাতলের শেষটা।

গঙ্গাফড়িংয়ের শান্তির কথা আমি কীভাবে ভুলে যাই

যারা ভালোবেসে আমার আনন্দ ঘিরে ঘিরে নাচতো

এবং সত্যটা হলো আমি ওইসব জিনিসের

প্রাকৃতিক ভাষাটা খুঁজে বেড়াই-

পাইনগাছের সেই ভীষণ বার্তাগুলো

যারা রাত্রে কথা বলতো

আমার ছায়ার সাথে।

আজ জীবন ও মৃত্যুর পরিবর্তন এসেছে

নাটকীয়ভাবে

এবং জলের পাদদেশে দীর্ঘ সুন্দর কোনো জলপ্রবাহ নেই

নাই কোনো বিনম্র নদী-পাথর, এক উদ্বিগ্নতার মধ্যে আছি

কারণ পাহাড়ের খাড়ির ভালোবাসায় আমি

অনেকদিন গাছ হয়ে আছি

আমি এখন নিঃসঙ্গবোধ করি।

পাখিদের মধ্যে বন্ধুদের খোঁজে

খোঁয়াড়ের দিকে গিয়ে

আমি নিজেকে মাঝেমাঝে দেখি যে

আমি বরফের মধ্য দিয়ে উঠে যাচ্ছি কিংবা

চূড়া থেকে নেমে আসছি

সেইসব পুরানো বন্ধুদের খোঁজার জন্য

কিন্তু আমি তাদের আর দেখি না।

এবং তারপর আমি তীর্থযাত্রা শুরু করি

প্রবল তুষারঝড় আমার মাথার ভেতরের সবকিছু

অবশ করে দিচ্ছে

কেউ যেন আলো নিভে দিচ্ছে

কাজুবাদামের গাছের নিচে।

কিন্তু পৃথিবী তার নিয়মেই চলছে, যেন কিছুই হয়নি, লজ্জাকর।

নিজের ওপর জোর খাটিয়ে আমি পরে বুঝেছি যে

চারিদিকে হেঁটে হেঁটেই ইতিহাস শিখতে হয়।

*jilguero- Europian goldfish bird, flamenco- ব্যাপক অর্থে এখন এটা দ্বারা স্প্যানিশ সংগীতের বিভিন্ন স্টাইলকে বোঝায়।

কবি সম্পর্কে-

পেরুর স্প্যানিশভাষী কবি কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেন বিশ্বসাহিত্যে একটি পরিচিত নাম। পেরুর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কালচার (INC) তাঁকে লিভিং কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রুজিলোর জাতীয় ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা ও আইনে ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি পেরুর টাম্বেস প্রদেশের জোরিটস জেলায় ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন ১৯৭০ সাল থেকে ’৭৬ সাল পর্যন্ত এবং তিনি ট্রুজিলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় অধ্যায়নরত ছিলেন ১৯৯০ থেকে ’৯৫ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৭ সালে তিনি জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নজরে আসেন এবং জাতীয়ভাবে সম্মানিত হন। বিশ্বসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০০৯ সালে কবিতায় ‘অ্যান্ড্রেস বেলো’ পুরস্কার পান ভেনিজুয়েলা থেকে। এটা একটি বিশ্বমানের পুরস্কার। এছাড়াও তিনি দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৮৫ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং INC অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আর্নেস্টো কানান এই কবি স¤পর্কে বলেছেন ‘পেরুর কবিদের মধ্যে তাঁর উচ্চতা অনেক ওপরে এবং তিনি এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী কবিব্যক্তিত্ব, যিনি আবির্ভূত হয়েছেন মানব ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে। এস্পানিওল জগতে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর কবিতায় সমুদ্র ও তার বিস্তৃতি অন্যভাবে প্রতিভাত হয়েছে।’ যিনি বলেন- ‘আমি কবিতা লিখি যাতে গাংচিলগুলো অনেক উঁচুতে ফিরে যেতে পারে’ তার দিকে আমাদের নিবিষ্টচিত্তে তাকাতেই হয়। তিনি পশু-পাখি-উদ্ভিদ-সামুদ্রিক শ্যাওলা-কোরাল-গুল্ম ইত্যাদির মধ্যে যে বিশালতার, যে শক্তির আভা দেখেন, তিনি তা তাঁর কবিতায় উচ্চকিত করেছেন। ম্যামোথকে মেটাফর হিসেবে নানামাত্রিকভাবে যে বিশ্বকে তিনি পরিভ্রমণ করেছেন, তা তুলনাহীন। তিনি একেবারেই আলাদা ধরনের কবিতা লিখেন। এমন এক ভাষায় তার অধিকার রয়েছে , যা কেবল তারই নিজস্ব ভুবনের আলো-আঁধারের রহস্যময়তার মৌলিকত্বকে চিহ্নিত করে। খুব সাবধানে না পড়লে তার কবিতার মৌলিক দিগন্ত স্পর্শ করা যাবে না। গত বছরের নোবেল প্রাইজের লিস্টে তার নাম ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে Founder Executive President of Union Hispanomundial de Escritores (UHE- Spanish Writers Union)) এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এখন পরিবার নিয়ে পেরুর লিমায় বাস করেন। অনূদিত কবিতা তিনটি তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ The Returned To The Promised Land এবং সম্প্রতি প্রকাশিত The House of The Mammoth ( LA CASA DEL MAMUT) এবং CONFESSIONS OF A TREE-এর অন্তর্ভুক্ত। সমালেচকরা তার The House of The Mammoth-কে The ode of the century হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার কবিতা পৃথিবীর অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। কবিতাকে এক পবিত্র উঁচু জায়গা থেকে দেখেছেন তিনি। তাঁর কবিতা পড়তে পড়তে মালার্মের কথা মনে হয়। তিনি বলেছিলেন- Obscurity is the shield of poetry. এই Obscurity কিংবা এই যে কবিতা যাকে ভারতীয় শাস্ত্রবিদরা অলৌকিক মায়াবী ভুবন বলতে চেয়েছেন কিংবা এই যে আলো-আঁধারীর রহস্যময় খেলা- এসব কবির নিতান্তই অবচেতনের ক্রিয়াকলাপ যাকে জড়িয়ে আছে এক মহাসৌন্দর্যের লীলা, এক তীর থেকে অন্য তীরে যাবার রূপকথা। তাঁর কবিতা সত্যি সত্যি এক রূপকথার জগতে প্রবেশের মতোই। ডেরেক ওয়ালকটের মতো তিনিও মনে করেন কবিতা লেখা এক পবিত্র ভোকেশন। পেরুর লোককাহিনি, লোকজীবনের বিচিত্র সম্ভার, সমাজের ভেতরের নানা টানাপড়েন, ব্যক্তিজীবনের নানা সংঘাত, দুঃখবেদনা-ভালোবাসা-বিরহ সবই রূপক কিংবা প্রতীকের আশ্রয়ে নিবিড় সাজুয্যে কবিতায় গাঢ়ীকৃত হয়েছে। একজন বড়ো মাপের প্রতিভাবান সাধক কবির হাতেই কেবল সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি-জীবন একাকার হয়ে মহাকালের দিকে গড়িয়ে যেতে পারে শিল্পের আশ্রয়ে। কবিতার উঠোন প্রশস্ত না হলে, সেই উঠোনে মধ্যরাতের ঝোড়ো-হাওয়া কিংবা জলভারানত মেঘ নেমে না এলে, সেখানে বিচিত্র পথের সংগীতমালা বৃষ্টি হয়ে না ঝরলে কিংবা নিভৃতের বারান্দায় একাকী পূর্ণিমার গোপন পাতারা এসে নৃত্যে নৃত্যে মেতে না উঠলে, সেই কবিতার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ জন্মে না। কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেনের কবিতার বিস্তৃত উঠোনে দাঁড়িয়ে সেই মায়াবী ভুবনের কুয়াশাময় দিগন্তের নন্দনবনের সুরভী পাওয়া যায়। কবিতা যে Highest form of art একথা বার বার মনে হয় যখন কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেনের কবিতা পড়ি। কবি যখন নস্টালজিয়ায় ভোগেন, তখনো আমরা দেখি এমনসব চিত্রকল্প, এমনসব মেটাফরের মধ্য দিয়ে সুদক্ষ কারিগরের মতো তিনি যে জাল বুনে যান কবিতার তা সত্যিই আমাদেরকে কবিতার নতুন সত্যের দিকে মনোযোগী করে। শেলী একসময় বলেছিলেন- poetry is something divine. কার্লোস হুগোর কবিতা পড়লে সেই কথা স্মরণে আসে। তাঁর কবিতা পড়ার সময় মনে হয় যে এক জোনাক-জ¦লা বিশাল ঘন অরণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, এ যেন ভয় ও আনন্দের যৌথ যাত্রা। ‘যে সব মৃতদের আমি এখনো খুন করতে পারি নি তারা জেদ করবে/তারা তাদের উন্মত্ত হিংসায় আমাকে ধ্বংস করবে/এবং তারা আমার বক্ষের কেন্দ্রভূমিতে একটি গর্ত করবে’ (কারণ গাংচিলগুলো তাদের উচ্চতায় ফিরে আসে)। কবিতা যদি এক গভীর চিন্তার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে এক নতুন দর্শনকে প্রতিফলিত করে যা আমাদের চমকে দেয়, তাহলে তা সত্যিকারের কবিতা হয়ে ওঠে। কবিতার জন্যই কবিকে ফিকশনও পড়তে হয়- খুব সিরিয়াসলিই পড়তে হয়। আবার ফিকশন-লেখকদেরও বেশি বেশি কবিতা পড়া দরকার। এদেশে খুব কম পড়ে, খুব কম শ্রম দিয়ে অনেকেই বড় লেখক হতে চান।

ম্যামোথকে মেটাফর হিসেবে নানামাত্রিকভাবে যে বিশ্বকে তিনি পরিভ্রমণ করেছেন, তা তুলনাহীন। তিনি একেবারেই আলাদা ধরনের কবিতা লিখেন। এমন এক ভাষায় তার অধিকার রয়েছে, যা কেবল তারই নিজস্ব ভুবনের আলো-আঁধারের রহস্যময়তার মৌলিকত্বকে চিহ্নিত করে

আসলে বড় লেখক সম্বন্ধেও অনেকের ভালো ধারণা নেই। কার্লোস হুগো শুধু একজন বড় মাপের কবিই নন, তিনি একজন বড় মাপের ফিকশন রাইটারও বটে। তাঁর গল্প-উপন্যাসেও এক গভীর জীবনান্বেষী শিল্পীর পরিচয় পাওয়া যায়। এস্পানিওল জগতে এখন তার মতো বড় মাপের লেখক খুব কমই আছেন। আমাদের প্রত্যাশা তাঁকে অচিরেই নোবেল প্রাইজ দেওয়া হবে, এবং তিনি তা পাবার যোগ্য বলে মনে হয়েছে। তাঁর খঅ ঈঅঝঅ উঊখ গঅগটঞ কাব্যগ্রন্থটি স্প্যানিশ ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে তো বটেই, সারা পৃথিবীতেই একটি স্বতন্ত্র ও অসাধারণ কাব্যের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশে এই কবি খুব পরিচিত নন। বাংলাদেশের পাঠকদের সাথে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশেই আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

ছবি

শিকিবু

ছবি

কবিতায় যখন অন্ত্যজ মানুষের কথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

ছলম

ছবি

তারাশঙ্করের ‘কবি’ এবং উত্তরহীন অনন্ত জিজ্ঞাসা

ছবি

রবীন্দ্রনাথ ও মানবতা

ছবি

বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা

ছবি

একটি পূর্ণাঙ্গ কোষগ্রন্থ

ছবি

সুবেদার রাজ্জাকের বীরত্বগাথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

লরেন্স ফারলিঙ্ঘেতির কবিতা

ছবি

অলকানন্দা

ছবি

মুখের দিকে না দেখে

ছবি

সোনা-মোড়া কথাশিল্প শহীদুল জহির

সাময়িকী কবিতা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

তাপস গায়েনের কবিতা

ছবি

চির অন্তরালে বশীর আলহেলাল

ছবি

“জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান”

ছবি

শব্দহীন শোকের ভেলায় চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ!

ছবি

শোকার্ত পুষ্পাঞ্জলি

ছবি

মনন-মেধা আর বিনোদনের ত্রিবেণী সঙ্গম

ছবি

বিস্ময় না কাটে

ছবি

বিশ্বসাহিত্যে এক অপার বিস্ময়

ছবি

কাজী নজরুল ও কাজী আব্দুল ওদুদ প্রসঙ্গ

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

লকডাউন

সাময়িকী কবিতা

ছবি

রাজবন্দি নজরুল

ছবি

তাঁর তৃতীয় জীবন

ছবি

নজরুল ইসলাম ও উন্মুক্ত পথ

ছবি

শহরের শেষ রোদ

ছবি

একজন মায়াতরুর গল্প

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

tab

সাময়িকী

কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেন-এর কবিতা

অনুবাদ ও ভূমিকা : কামরুল ইসলাম

মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১

কারণ গাংচিলগুলো তাদের উচ্চতায় ফিরে আসে

জনগণ বলছে কিন্তু কে সেই যে সেগুলি একদিন লিখবে

যা কিছু ভালবাসার কথা বলে বিষাদের গান গায়,

কে সেই যে কবিতা লিখবে শিহরিত না হয়ে মৃত্যুকে পাত্তা না দিয়ে

কে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসে মানব হতে চায় পিছু না হটে

যে বলতে জানে, আমি দুঃখিত, আমার অনুমতি দরকার

কে সেই যে সূর্যের তীব্র আলোয় ভয় না পেয়ে সটান আকাশের দিকে তাকায়

অনবরত বলতে থাকে ভালোবাসো, কাছে আসো,

আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাক চাই

ওই বিষাদময় চেহারা কার

যে মায়ার কথা বলে এবং পাইন গাছের গন্ধের।

এবং আমি তাদের বলি: তোমরা কেন জানতে চাও আমি কে,

যদি আমি পুমা হই

আমি যদি ক্ষমা চাই তোমরা কীভাবে তা দেখবে

এমনকি যদি আমি ঈগল পাখি হবার ইচ্ছে করি

এবং সীমাহীনভাবে ঘুরি।

কিন্তু লোকে জেদ করে

এবং আমি যখন নিজেকে কোনো শহরের বাসিন্দা বলে কল্পনা করি

তুমি বলো আমার শরীর কেন কোনো ছায়া ফেলে না।

কিন্তু তুমি আমাকে খুশি মনেই চেনো, এবং আমি যখন ঘুমিয়ে থাকি তখনো

আমার অভিভাবক দেবদূত মানুষের মতো পোশাক পরিধান করে

এবং প্রত্যুষকে উপভোগ করে

এবং তুমি তাকে ভার্জিলের জায়গায় স্থান দাও।

তারা এখনো অনেক কথা বলে যাবে

যে সব মৃতদের আমি এখনো খুন করতে পারি নি তারা জেদ করবে

তারা তাদের উন্মত্ত হিংসায় আমাকে ধ্বংস করবে

এবং তারা আমার বক্ষের কেন্দ্রভূমিতে একটি গর্ত করবে

আমার জরুরি কাজগুলো নিতে

কিন্তু তুমি সর্বদা আমার পাশে থাকবে

ওয়ালপেপার দিয়ে রাস্তা বপন করে

তারা কি বলছে এটা কোনো বিষয় নয়

আমি আমার ভগ্ন আত্মা দিয়ে বলতে থাকবো ক্রুদ্ধ পরিখার কথা।

আমি কবিতা লিখি যাতে গাংচিলগুলো অনেক উঁচুতে ফিরে যেতে পারে

এবং সেজন্য আমি বলে যেতে থাকি: ভালোবাসো, কাছে আসো,

আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকে চাই,

তুমি আমার চরম প্রসারণ

আমার চূড়া

আমার পর্বত।

যখন আর জিলগুয়েরোর শব্দ শোনা যাবে না

তার মৃত্যু অবধি তার তিন মিটার সুচালো দাঁত

বেড়েছে শুধু

হস্তীটি আমার বাড়ির যত্নে নিত

ঘোষণা দিয়েই তারা তাকে পরিধান

করাতো প্রকৃতির সহস্র রঙের পোশাক

কাল জাম রঙ

নীল কালো কাঁটা ফল

এবং আরো কাজু বাদাম

এবং এটা অনুধাবন করতো না

টুনেরা ফুল

এবং শক্ত কঙ্কালের মতো কোরাল

উজ্জ্বল কালো কোরাল

বায়ুপরাগী পুষ্প এবং আরো অভিজাত বিষয়

কখনো কখনো যখন বৃষ্টি হয় না,

যারা তাদের নিজেদের মধ্যে গর্ব করে-

উত্তপ্ত নারীলিপ্সু জিমন্যাস্ট

সামুদ্রিক লাল শেওলা

আমব্রেলা-গুল্ম

এবং প্রবাহমান জল

এবং এটা মিথ্যাও মনে হয়

যেভাবে তারা গান শুরু করে

যেমন চক্রবাক

ডুবপাখি

ফ্লেমেনকো

ভবঘুরে পাখি

এবং বালিহাঁস,

কীভাবে তারা সমুদ্রের গভীরে

বুদ্বুদের সৃষ্টি করে

অ্যাগ্লান্টা, গ্যারার্দিয়া এইসব শেওলা

শক্ত কঙ্কালের মতো কোরাল

এবং তারাও অনেক ওপরের

সূর্যকে সম্মানিত করেছিল।

যেভাবে হেঁটে হেঁটে ইতিহাস শেখা যায়

আজ আর সেইসব বন্ধুরা নেই

যারা আমার সাথে আলাপ জমাতো শান্ত পরিবেশে।

আর আমি কেমন করে পারি অনুভব না করে

এই রসাতলের শেষটা।

গঙ্গাফড়িংয়ের শান্তির কথা আমি কীভাবে ভুলে যাই

যারা ভালোবেসে আমার আনন্দ ঘিরে ঘিরে নাচতো

এবং সত্যটা হলো আমি ওইসব জিনিসের

প্রাকৃতিক ভাষাটা খুঁজে বেড়াই-

পাইনগাছের সেই ভীষণ বার্তাগুলো

যারা রাত্রে কথা বলতো

আমার ছায়ার সাথে।

আজ জীবন ও মৃত্যুর পরিবর্তন এসেছে

নাটকীয়ভাবে

এবং জলের পাদদেশে দীর্ঘ সুন্দর কোনো জলপ্রবাহ নেই

নাই কোনো বিনম্র নদী-পাথর, এক উদ্বিগ্নতার মধ্যে আছি

কারণ পাহাড়ের খাড়ির ভালোবাসায় আমি

অনেকদিন গাছ হয়ে আছি

আমি এখন নিঃসঙ্গবোধ করি।

পাখিদের মধ্যে বন্ধুদের খোঁজে

খোঁয়াড়ের দিকে গিয়ে

আমি নিজেকে মাঝেমাঝে দেখি যে

আমি বরফের মধ্য দিয়ে উঠে যাচ্ছি কিংবা

চূড়া থেকে নেমে আসছি

সেইসব পুরানো বন্ধুদের খোঁজার জন্য

কিন্তু আমি তাদের আর দেখি না।

এবং তারপর আমি তীর্থযাত্রা শুরু করি

প্রবল তুষারঝড় আমার মাথার ভেতরের সবকিছু

অবশ করে দিচ্ছে

কেউ যেন আলো নিভে দিচ্ছে

কাজুবাদামের গাছের নিচে।

কিন্তু পৃথিবী তার নিয়মেই চলছে, যেন কিছুই হয়নি, লজ্জাকর।

নিজের ওপর জোর খাটিয়ে আমি পরে বুঝেছি যে

চারিদিকে হেঁটে হেঁটেই ইতিহাস শিখতে হয়।

*jilguero- Europian goldfish bird, flamenco- ব্যাপক অর্থে এখন এটা দ্বারা স্প্যানিশ সংগীতের বিভিন্ন স্টাইলকে বোঝায়।

কবি সম্পর্কে-

পেরুর স্প্যানিশভাষী কবি কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেন বিশ্বসাহিত্যে একটি পরিচিত নাম। পেরুর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কালচার (INC) তাঁকে লিভিং কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রুজিলোর জাতীয় ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা ও আইনে ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি পেরুর টাম্বেস প্রদেশের জোরিটস জেলায় ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত আইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন ১৯৭০ সাল থেকে ’৭৬ সাল পর্যন্ত এবং তিনি ট্রুজিলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় অধ্যায়নরত ছিলেন ১৯৯০ থেকে ’৯৫ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৭ সালে তিনি জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নজরে আসেন এবং জাতীয়ভাবে সম্মানিত হন। বিশ্বসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০০৯ সালে কবিতায় ‘অ্যান্ড্রেস বেলো’ পুরস্কার পান ভেনিজুয়েলা থেকে। এটা একটি বিশ্বমানের পুরস্কার। এছাড়াও তিনি দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৮৫ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং INC অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আর্নেস্টো কানান এই কবি স¤পর্কে বলেছেন ‘পেরুর কবিদের মধ্যে তাঁর উচ্চতা অনেক ওপরে এবং তিনি এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী কবিব্যক্তিত্ব, যিনি আবির্ভূত হয়েছেন মানব ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে। এস্পানিওল জগতে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর কবিতায় সমুদ্র ও তার বিস্তৃতি অন্যভাবে প্রতিভাত হয়েছে।’ যিনি বলেন- ‘আমি কবিতা লিখি যাতে গাংচিলগুলো অনেক উঁচুতে ফিরে যেতে পারে’ তার দিকে আমাদের নিবিষ্টচিত্তে তাকাতেই হয়। তিনি পশু-পাখি-উদ্ভিদ-সামুদ্রিক শ্যাওলা-কোরাল-গুল্ম ইত্যাদির মধ্যে যে বিশালতার, যে শক্তির আভা দেখেন, তিনি তা তাঁর কবিতায় উচ্চকিত করেছেন। ম্যামোথকে মেটাফর হিসেবে নানামাত্রিকভাবে যে বিশ্বকে তিনি পরিভ্রমণ করেছেন, তা তুলনাহীন। তিনি একেবারেই আলাদা ধরনের কবিতা লিখেন। এমন এক ভাষায় তার অধিকার রয়েছে , যা কেবল তারই নিজস্ব ভুবনের আলো-আঁধারের রহস্যময়তার মৌলিকত্বকে চিহ্নিত করে। খুব সাবধানে না পড়লে তার কবিতার মৌলিক দিগন্ত স্পর্শ করা যাবে না। গত বছরের নোবেল প্রাইজের লিস্টে তার নাম ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে Founder Executive President of Union Hispanomundial de Escritores (UHE- Spanish Writers Union)) এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এখন পরিবার নিয়ে পেরুর লিমায় বাস করেন। অনূদিত কবিতা তিনটি তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ The Returned To The Promised Land এবং সম্প্রতি প্রকাশিত The House of The Mammoth ( LA CASA DEL MAMUT) এবং CONFESSIONS OF A TREE-এর অন্তর্ভুক্ত। সমালেচকরা তার The House of The Mammoth-কে The ode of the century হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার কবিতা পৃথিবীর অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। কবিতাকে এক পবিত্র উঁচু জায়গা থেকে দেখেছেন তিনি। তাঁর কবিতা পড়তে পড়তে মালার্মের কথা মনে হয়। তিনি বলেছিলেন- Obscurity is the shield of poetry. এই Obscurity কিংবা এই যে কবিতা যাকে ভারতীয় শাস্ত্রবিদরা অলৌকিক মায়াবী ভুবন বলতে চেয়েছেন কিংবা এই যে আলো-আঁধারীর রহস্যময় খেলা- এসব কবির নিতান্তই অবচেতনের ক্রিয়াকলাপ যাকে জড়িয়ে আছে এক মহাসৌন্দর্যের লীলা, এক তীর থেকে অন্য তীরে যাবার রূপকথা। তাঁর কবিতা সত্যি সত্যি এক রূপকথার জগতে প্রবেশের মতোই। ডেরেক ওয়ালকটের মতো তিনিও মনে করেন কবিতা লেখা এক পবিত্র ভোকেশন। পেরুর লোককাহিনি, লোকজীবনের বিচিত্র সম্ভার, সমাজের ভেতরের নানা টানাপড়েন, ব্যক্তিজীবনের নানা সংঘাত, দুঃখবেদনা-ভালোবাসা-বিরহ সবই রূপক কিংবা প্রতীকের আশ্রয়ে নিবিড় সাজুয্যে কবিতায় গাঢ়ীকৃত হয়েছে। একজন বড়ো মাপের প্রতিভাবান সাধক কবির হাতেই কেবল সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি-জীবন একাকার হয়ে মহাকালের দিকে গড়িয়ে যেতে পারে শিল্পের আশ্রয়ে। কবিতার উঠোন প্রশস্ত না হলে, সেই উঠোনে মধ্যরাতের ঝোড়ো-হাওয়া কিংবা জলভারানত মেঘ নেমে না এলে, সেখানে বিচিত্র পথের সংগীতমালা বৃষ্টি হয়ে না ঝরলে কিংবা নিভৃতের বারান্দায় একাকী পূর্ণিমার গোপন পাতারা এসে নৃত্যে নৃত্যে মেতে না উঠলে, সেই কবিতার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ জন্মে না। কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেনের কবিতার বিস্তৃত উঠোনে দাঁড়িয়ে সেই মায়াবী ভুবনের কুয়াশাময় দিগন্তের নন্দনবনের সুরভী পাওয়া যায়। কবিতা যে Highest form of art একথা বার বার মনে হয় যখন কার্লোস হুগো গ্যারিডো চালেনের কবিতা পড়ি। কবি যখন নস্টালজিয়ায় ভোগেন, তখনো আমরা দেখি এমনসব চিত্রকল্প, এমনসব মেটাফরের মধ্য দিয়ে সুদক্ষ কারিগরের মতো তিনি যে জাল বুনে যান কবিতার তা সত্যিই আমাদেরকে কবিতার নতুন সত্যের দিকে মনোযোগী করে। শেলী একসময় বলেছিলেন- poetry is something divine. কার্লোস হুগোর কবিতা পড়লে সেই কথা স্মরণে আসে। তাঁর কবিতা পড়ার সময় মনে হয় যে এক জোনাক-জ¦লা বিশাল ঘন অরণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, এ যেন ভয় ও আনন্দের যৌথ যাত্রা। ‘যে সব মৃতদের আমি এখনো খুন করতে পারি নি তারা জেদ করবে/তারা তাদের উন্মত্ত হিংসায় আমাকে ধ্বংস করবে/এবং তারা আমার বক্ষের কেন্দ্রভূমিতে একটি গর্ত করবে’ (কারণ গাংচিলগুলো তাদের উচ্চতায় ফিরে আসে)। কবিতা যদি এক গভীর চিন্তার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে এক নতুন দর্শনকে প্রতিফলিত করে যা আমাদের চমকে দেয়, তাহলে তা সত্যিকারের কবিতা হয়ে ওঠে। কবিতার জন্যই কবিকে ফিকশনও পড়তে হয়- খুব সিরিয়াসলিই পড়তে হয়। আবার ফিকশন-লেখকদেরও বেশি বেশি কবিতা পড়া দরকার। এদেশে খুব কম পড়ে, খুব কম শ্রম দিয়ে অনেকেই বড় লেখক হতে চান।

ম্যামোথকে মেটাফর হিসেবে নানামাত্রিকভাবে যে বিশ্বকে তিনি পরিভ্রমণ করেছেন, তা তুলনাহীন। তিনি একেবারেই আলাদা ধরনের কবিতা লিখেন। এমন এক ভাষায় তার অধিকার রয়েছে, যা কেবল তারই নিজস্ব ভুবনের আলো-আঁধারের রহস্যময়তার মৌলিকত্বকে চিহ্নিত করে

আসলে বড় লেখক সম্বন্ধেও অনেকের ভালো ধারণা নেই। কার্লোস হুগো শুধু একজন বড় মাপের কবিই নন, তিনি একজন বড় মাপের ফিকশন রাইটারও বটে। তাঁর গল্প-উপন্যাসেও এক গভীর জীবনান্বেষী শিল্পীর পরিচয় পাওয়া যায়। এস্পানিওল জগতে এখন তার মতো বড় মাপের লেখক খুব কমই আছেন। আমাদের প্রত্যাশা তাঁকে অচিরেই নোবেল প্রাইজ দেওয়া হবে, এবং তিনি তা পাবার যোগ্য বলে মনে হয়েছে। তাঁর খঅ ঈঅঝঅ উঊখ গঅগটঞ কাব্যগ্রন্থটি স্প্যানিশ ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে তো বটেই, সারা পৃথিবীতেই একটি স্বতন্ত্র ও অসাধারণ কাব্যের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশে এই কবি খুব পরিচিত নন। বাংলাদেশের পাঠকদের সাথে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশেই আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

back to top