alt

সাময়িকী

ডিগ্রি ডাক্তার ও কর্পোরেশনের দাঁত

রুহুল আমিন বাচ্চু

: বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১

আ...রে ডাক্তার সাব নিকি? আছেন আছেন, আপনের লাইগাই তো বইয়া রইছি। রোগি একখান আইছে, লগে কোভিড-নাইনটিন। আইছে মানে হুনেন, সরকারি মেডিকেলের রোগি আমার হালার-হালা দুলাইল্যায় ভাগাইয়া আনছে কইবার পারেন। আরেকটু আউগাইয়া আহেন, কানে কানে হুনেন, রোগি হালায় শ্যামবাজারের মালদার পাট্টি। পিঁয়াজ-রসুনের তিনমাস কাঁপা কাঁপা বিজনেস কইরা ডবল বাম্পার লাভ বাইত্তে তুলছে।

কইরে কালু, পান দে ডিব্বা থেইক্যা...

হালদার সর্দারের পান থাকে তার অ্যাসিস্টেন্ট কালুর হাতব্যাগে।

http://sangbad.net.bd/images/2021/July/15Jul21/news/degree-doctor-1.jpg

চিত্র : ইন্টারনেট

- কি জানি কইবার লইছিলাম...

একত্রে দুইখিলি পান জর্দাসমেত তার দীর্ঘ মুখগহ্বরে ঢুকিয়ে কয়েকটা চিবানি দিয়ে পিচকি ফেলার ভান করলে কালু তার ঝোলানো ব্যাগ থেকে ছোট্ট চিলমচি বের করে সামনে ধরে। হালদার সর্দার ডাক্তারের সম্মানে একটু আড়াল করে পুচ্চুত শব্দ তুলে পিচকি ফেলে মুখগহ্বরের পানের আড়মোড়া ভেঙে এগাল-ওগাল করে হিহি করে হেসে ফেলে।

- কিচ্ছু মনে কইরেন না ডাক্তার সাব। সাতপুরুষের খানদানি অভ্যাস; ফালাইবার পারি নাইক্কা অক্ষনো। তয় বেশিদিন নাই। আমাগো পোলাপানে ঘেন্না করে। পান বলে ছাগলের খাওন! হিহি- মজা পায়নাই তো। কউকগা...

ডাক্তার নাহিদ ক্লিনিকের মালিকের দিকে না তাকিয়ে নিজ চেম্বারে গিয়ে বসলেন।

- ও, কইবার চাইছিলাম- রোগি আমার নেংটাকালের বন্ধু, জানেন তো একসময় আমারও ভি আড়ত আছিলো শ্যামবাজারে। হেরপর কাওরান বাজারে। খালি খালি ঝাম্লা, রাইত কইরা জাগন থাকন লাগে। কর্মচারি হালাগো উপরে ভরসা নাইক্কা, আমি রাইত কইরা থাকলে পাই বিশ-পঁচিশ হাজার ট্যাকা ডেইলি, হেগ হাত্তে দিলে বারো-তেরো হাজার। দেখলেন, অর্ধেকই নাইক্কা। দিলাম ছাড়াইরা; হগ্গল কিছু, অহন আপনেগোরে লইয়া ক্লিনিক ভি খুইলা বইছি।

ডাক্তার নাহিদ বিরক্তিসহকারে তার রোগিদের ফাইল গোছিয়ে নিচ্ছেন। ক্লিনিকের মালিক হালদার সর্দারের কথায় হ্যাঁ-না কিছুই বলছেন না।

ডাক্তারের মুখোমুখি চেয়ারে বসে পড়েন সর্দার। পেছনে ফিরে কালুকে চিলমচি ধরার ইশারা করেন। সর্দার ডান হাত দিয়ে ডাক্তারকে আড়াল করে মুখ পরিষ্কার করে ইশারায় কালুকে বাইরে যেতে বলেন।

- ছুনেন ডাক্তার সাব, নিচু গলায় ডাক্তার নাহিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সর্দার। ঐ রোগি হালার পোলাপান- মাইয়ার জামাই বেবাকহালায় কোটি-কোটি পতি। বেবাকতেই আইছে আমগো ক্লিনিকে। তিনতলায় যাইবেন, রোগি দেইখ্যা চোক-মুক উল্টাইয়া কইবেন অক্ষনেভি আইসিইউতে হান্দান লাগবো, তারবাদে কইবেন ভেন্টিলেশনেও যাওন লাগবার পারে। মাইনে নগদা-নগদ আজরাইলের ডরভি দেহাইবেন।

ডাক্তার নাহিদ দুপুরে রাউন্ডে এসেছেন। তিন-চার তলা মিলে তার রোগি চারজন। রোগি ভিজিট মানে বারোশ’ টাকা করে প্রতিজন। মনে মনে ভাবছেন, সরকারি হাসপাতালের পরিত্যাক্ত যন্ত্রপাতি এনে ক্লিনিকের মালিক মেরামত করে নতুন বলে শো-শা করে সাজিয়েছেন। এসব যন্ত্রপাতির কার্যকরিতা নিয়ে তার নিজেরও সন্দেহ আছে। ব্যবসা বলে কথা, কোভিড-নাইনটিন এলো বলেই তো ডাক্তার-ক্লিনিক মালিকের রমরমা ডোজের ব্যবসা।

http://sangbad.net.bd/images/2021/July/15Jul21/news/degree-doctor-2.jpg

ডাক্তার নাহিদ মনে মনে ভাবছেন, রোগিকে তিন-চার লাখ টাকা বিল ধরিয়ে আমাকে দিবে শুধু ভিজিটের টাকা!

- কি অত চিন্তা করার লইছেন ডাক্তার সাব? জলদি কইরা যান। এমন এক-দুইখান রোগি পাওন ভাগ্যের কথা। আরে আপনেওভি কমিশন পাইবেন। ঠকামুনা- আরো কাম আছে।

ডাক্তার নাহিদ অ্যাপ্রোন পরে গলায় স্টেথেসকোপ ঝুলিয়ে পা বাড়ালেন। কালু ফিস্ ফিস্ করে হালদারকে বলে- স্যার, কইলেন না ডাক্তার সাবেরে পেপারখান দেহাইতে।

- আব্বেহালায়! তোফা কতা মনে করছস্, খাড়ান খাড়ান ডাক্তার সাব... বলে কালুর হাত থেকে ভাঁজ করা একটা পত্রিকার বিশেষ খবর ডাক্তারের সামনে মেলে ধরে- খালি দোষ আপনের-আমার অইবো ক্যালা? দেহেন দুই লম্বর ডাক্তারের তিন লম্বর কাম। কর্পোরেশনের দাঁতের ডাক্তার কি কামডাইনা করলো...।

হি হি করে হাসতে গিয়ে পানের পিক তার নিজের পাঞ্জাবির এক অংশ রাঙিয়ে দেয়। নিজে নিজেকে সরি বলে পাঞ্জাবি ঝাড়া দিতেই কালুর থুতনি রাঙ্গিয়ে দেয়। কালু হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিয়ে নিজেকে আড়াল করে। ডাক্তার তাৎক্ষণিকভাবে সরে যাওয়ায় বেঁচে যায়।

- বুঝছি হালায়, পান খাওন আর কপালে নাইক্কা। দেখলেন হালায়, কী করছি নিজেরে। দুরহালা; আমি না এই ক্লিনিকের মালিক। যাউকগা- আপনে হালায় খবরখান পড়েন, হেডিংখানও মজাদার বানাইছে হালার সাম্বাদিক- ‘অডিট আপত্তি। কর্পোরেশনের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারির মুখে দাঁত নাই’।

সর্দার মুখে হাতের পিঠের ঢাকনি দিয়ে বলে- হালায় কর্পোরেশন, পাবলিকেরে খিলাইয়া অক্ষনে নিজের দাঁত ভি খিলাইবার লইছে।

ডাক্তার নাহিদ একনজরে পত্রিকার বক্সকরা নিউজে চোখ বুলিয়ে যান। কর্পোরেশনের কর্মচারি-কর্মকর্তাগণ দাঁতের চিকিৎসা নিতে এসে একটি ফার্মে সহি করে যান, আর কর্পোরেশনের নিযুক্ত ডেন্টিস্ট দাঁত তোলার বিল বানিয়ে গত তিন বছরে যে টাকা তুলে নেন, সে হিসেবে কর্পোরেশনের তিন হাজার কর্মচারি-কর্মকর্তার কারো মুখে দাঁত থাকার কথা নয়। হিসেব করে দেখা যায় তিন হাজার কর্মচারি-কর্মকর্তার ছিয়ানব্বই হাজার দাঁত ঢুকেছে ডেন্টিস্টের পকেটে। খোদ কর্পোরেশনের কর্মচারি-কর্মকর্তাগণ নিজের দাঁত কেলিয়ে হাসাহাসি করছেন। অডিট-সুপার কয়েকজনের দাঁত নকল কীনা পরীক্ষা করে আসল দাঁতই পেয়েছেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ করা যেতে পারে, দন্তচিকিৎসক সাধারণ চিকিৎসার জন্য তিনশ’ টাকা করে বিল করতে পারেন। আর প্রতিটি দাঁত তোলার জন্য রেট রয়েছে দুই হাজার টাকা। সে হিসেবে কর্পোরেশনের আর্থিক ক্ষতি উনিশ কোটি বিশ লাখ টাকা।

- হিসাব ঠিক আছেরে কালু? কেশিয়াররে হুম্কে আইয়া হিসাবখান মিলাইবার ক’। তিন হাজার ইনটু বত্রিশ-দাঁত ইনটু দুই হাজার। আব্বেহালায়! কম কইরা খিলাইতি, ধরাভি খাইতি না। খিলাইছস গলা ছমান, অক্ষন ঠ্যালাভি সামলা- কুত্তা-বিলাই খাইবো তর ট্যাকা- তর ইজ্জত। হি হি হি... আরে ডাক্তার সাব আপনে খাড়াইয়া রইছেন ক্যালা? যান যান। র্দু আপনের হালায় ডর কিয়ের- আমি আছিনা? হুনেন, ফিরা ভি কইবার লাগছি, রোগিরে আইসিইউতে হান্দাইছে খবর আইছে মেসেজে। দেইখ্যা মুখ-চোক্কু উল্টাইয়া বাইর অইবেন, কইবেন- নাইক্কা আবার আছে...

ডাক্তার পা বাড়াতেই আবার ডাকেন সর্দার- আরে হুনেন, ঐযে কোভিড-১৯ এর দামি ইনজেকশন কী য্যান কয়? যাউকগা, আমার জাননের কাম নাইক্কা। একজনে ভি দিয়া গেছে- নগদা-নগদ পনেরো হাজারে রাইখ্যা দিছি। ইনজেকশনের আর্জেন্ট নাম দিবেন- কইবেন, এই দ্যাশে নাইক্কা। লেকিন লন্ডন থাইক্যা আননেরও সময় নাইক্কা। হ্যারা দুই-চাইর ঘণ্টা এদিক-হেদিক ঘুরবো। শ্যাষকালে কইবেন তিনখান পাইছি- হি হি... ষাইট হাজার কইরা এক লাখ আশি হাজারের বিল ধরাইয়া দিবেন। যান যান আপনে জলদি কইরা যান। আমার হালার-হালা দুলাল্যা আরও দুইখান রোগি ভাও কইরা ভি আনতাছে- মেসেজ দিছে। আরে হারা বচ্ছর কি কামান যায়? মওকা পাইছি, বানায়া লই- হি হি হি...

ডাক্তার সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় যায়, সর্দার ডাক্তারের চেয়ারে বসে মোবাইলে সময় দেখে দেয়াল ঘড়ির সাথে মিলিয়ে নেয়। মোবাইল-ঘড়িতে সময় ঠিক থাকলেও দেয়াল-ঘড়িতে তিন মিনিট ফার্স্ট। মনে মনে সর্দার ডাক্তারের তারিফ করে। ঘড়ি ফার্স্ট রেখে ডাক্তার নিজেকে সময়ের আগে তাড়িয়ে নেন। ডাক্তার নাহিদ দশ মিনিটের মধ্যে ফিরে আসনে। সর্দার ডাক্তারের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারকে বসতে দেন। ডাক্তার স্টেথেসকোপ টেবিলে রাখতে রাখতে বলেন, রোগির অবস্থা তো ততটা খারাপ নয়। আইসিইউ’রও দরকার নেই।

- মরজ্বালা! কিযে কন আপনে। আরে এইডা আমার-আপনের ব্যবসা। এউগা ইনজেকশন মাইরা খারাপ কইরা ফালান, হেরপর ভালা অওনের ওষুধ ভি দেন। হেগো পাবলিকেরে কিচ্ছু বুঝবার দিবেন না, দেখবারও দিবেন না। কইবেন, রোগি বাঁচানের লাইগা হাসপাতালের কড়াকড়ি। ঐ ব্যাটা মচুয়া দারোয়ানরে গেইটে বহায়া দেন। হগ্গলই আমার কওন লাগবো?

- দেখেন সর্দার সাহেব, আমি ডাক্তার। একটা ইথিক্স আছে আমার। সরি, এসব আমার দ্বারা হবে না।

- দাদারে ভি আদাপড়া হিগায়েন না কইলাম। যান যান দেরি কইরেন না।

- দেখুন আমি ডাক্তার, কি করতে হবে আমি বুঝি। সরি। আপনার কথা আমি রাখতে পারবো না। দরকার হলে চেম্বার ছেড়ে দেব।

- এক্কেরে কইলেই অইলো! এক লাখ বিশ হাজার ট্যাকা দিয়া আপনের চেম্বার বানাইছি। পিতলে, গ্লাসে জা’গায় জা’গায় আপনের নাম, দশ রকমের ডিগ্রির তালিকা রাখছি। তিন মিনিটের রোগির ফি বারোশ’ ট্যাকা, প্যাথলজি, ওষুধ কমিশন, কই পাইবেন এতো এতো ট্যাকা? হুনেন, আপনের ভিতরের খবর কইলাম জানা আছে।

- সরি সর্দার সাহেব। আমি একজন ডাক্তার, আমাদের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারি না। তাছাড়া এটা রীতিমত নৈতিকতাবিরোধী কাজ। অসম্ভব! ...ডাক্তার উঠে দাঁড়ান।

- যাইবেন গা? হুনেন হুনেন ডাক্তার সাব। আরে মজার কথা হুনেন। আমার ছোডভাই বিএ কোনরকম। নামও হেই আক্কাস আলী সর্দার। আগে তো বুঝতাম না ডাক্তার কি আর ডক্টর কি। কি বলে থিসিস-মিসিস লেখন লাগে। কী আর লিখবো! হে জানেইবা কী লিখবো কী!

নিউমার্কেটের নীলক্ষেত থেইক্যা একজনে হগ্গলকিচ্ছু আইন্যা, লিইখ্যা, সার্টিফিকেট আইন্যা দিছে। একলাখ ট্যাকা খরচা। হি হি হি- আমার ইস্ত্রি মানে ওয়াইফ হেরে গিয়া কয়- কইরে ডাক্তার আক্কাইচ্যা, দে মাথা ধরার, পেট ব্যথার ওষুধ দে। হের ওয়াইফও কয়, পাড়া-প্রতিবেশীরাও কয় ওষুধ লেইখা দেরে বাজান। হে তো পলাইলো; অক্ষন নয়াবাজার মেসে থাহে। হাপ্তায় একদিন পলাইয়া ঘরে আহে। হি হি হি- কেউ কেউ আইয়া কয় আমার স্কুল-কলেজে একখান লেকচার মাইরা দেন। অয় নি লেকচার দিবো! লাস্ট বেঞ্চির হারাজীবনের ছাত্র।

- আমাকে এসব শুনাচ্ছেন কেন? ...ডাক্তার অধৈর্য হয়ে পা বাড়ান।

- বহেন, এইবার আপনের কথা। হব্বেকালে একজন আইছিলো, সাম্বাদিক-টাম্বাদিক অইবো কইলো। আপনেরে তালাশ করার লাগছিলো- কইলো আপনের বয়স কতো... চল্লিশের নিচে অইবো হাচা না?

- জ্বি, আটত্রিশ।

- আপনে আছিলেন তিনতলায়, আমি কইছি নাইক্কা। ফোন লম্বর চাইলো দেই নাইক্কা। হাবভাবে বুঝলাম আপনেরেভি খাইবার আইছে। কইরে কাল্লা, ডাক্তার সাবে দুপুরের খানা খিলাইছেরে?

- জ্বিনা, আমি বাসায় গিয়ে খাব।

- বুঝলাম, বাকি কথা কওনের আগে কামডা সাইরা ফালান। আরো দুইখান রোগি অক্ষনই আইবো কইলাম। আপনেরই দেহন লাগবো। ...কালু ডাক্তার সাবের লাইগা হাজীর কাচ্চি বিরানী লইয়া আয়। বাসায় যাওনের কাম নাইক্কা অক্ষনে।

- সর্দার সাহেব, আমি বাসায় যাবো। কিছু জরুরি কাজও আছে। তাছাড়া বাহিরের খাবার আমি খাই না।

- এই রোগির থাকনের ব্যবস্থাডা কইরা যান।

- আমি দুঃখিত।

এত শিক্ষিৎ মানুষ, দশখান ডিগ্রি, বারোশ’ ট্যাকা ফি- আমার কথা অক্ষনো বুঝবার পারেন নাইক্কা? খবর লইছি, লন্ডনে আছিলেন একবছর। বছরে ছয়খান ডিগ্রি পাতাইলেন? সাম্বাদিকরে কইলাম হেইদিন পঁচিশ হাজার ট্যাকা দিয়া বিদায় করছি। কইছি কাগজে লিখলে টেংরি ছাড়াইয়া দিমু। আপনে তো কইবার পারবেন না, কিচ্ছুভি করবারও পারবেন না। খালি পারেন ডিগ্রির বহর বাড়াইতে- তয়, খবর লইছি আপনে যে ডিগ্রি লাগাইছেন হেইডা দশ বছরের কাম। কি সাচ্চা কইছিনা ডাক্তার সাব। কতা না হুনলে পত্রিকায় ব্লক মাইরা নিউজ আইবো। দশ বছরের বিদেশী ডিগ্রি একবছরে অর্জন। হা হা হা... হেডিং অইবো ‘প্রতারণার নতুন দিগন্ত’। হা হা হা বুঝবার পারলেন কিচ্ছু!

ছবি

শিকিবু

ছবি

কবিতায় যখন অন্ত্যজ মানুষের কথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

ছলম

ছবি

তারাশঙ্করের ‘কবি’ এবং উত্তরহীন অনন্ত জিজ্ঞাসা

ছবি

রবীন্দ্রনাথ ও মানবতা

ছবি

বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা

ছবি

একটি পূর্ণাঙ্গ কোষগ্রন্থ

ছবি

সুবেদার রাজ্জাকের বীরত্বগাথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

লরেন্স ফারলিঙ্ঘেতির কবিতা

ছবি

অলকানন্দা

ছবি

মুখের দিকে না দেখে

ছবি

সোনা-মোড়া কথাশিল্প শহীদুল জহির

সাময়িকী কবিতা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

তাপস গায়েনের কবিতা

ছবি

চির অন্তরালে বশীর আলহেলাল

ছবি

“জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান”

ছবি

শব্দহীন শোকের ভেলায় চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ!

ছবি

শোকার্ত পুষ্পাঞ্জলি

ছবি

মনন-মেধা আর বিনোদনের ত্রিবেণী সঙ্গম

ছবি

বিস্ময় না কাটে

ছবি

বিশ্বসাহিত্যে এক অপার বিস্ময়

ছবি

কাজী নজরুল ও কাজী আব্দুল ওদুদ প্রসঙ্গ

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

লকডাউন

সাময়িকী কবিতা

ছবি

রাজবন্দি নজরুল

ছবি

তাঁর তৃতীয় জীবন

ছবি

নজরুল ইসলাম ও উন্মুক্ত পথ

ছবি

শহরের শেষ রোদ

ছবি

একজন মায়াতরুর গল্প

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

tab

সাময়িকী

ডিগ্রি ডাক্তার ও কর্পোরেশনের দাঁত

রুহুল আমিন বাচ্চু

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১

আ...রে ডাক্তার সাব নিকি? আছেন আছেন, আপনের লাইগাই তো বইয়া রইছি। রোগি একখান আইছে, লগে কোভিড-নাইনটিন। আইছে মানে হুনেন, সরকারি মেডিকেলের রোগি আমার হালার-হালা দুলাইল্যায় ভাগাইয়া আনছে কইবার পারেন। আরেকটু আউগাইয়া আহেন, কানে কানে হুনেন, রোগি হালায় শ্যামবাজারের মালদার পাট্টি। পিঁয়াজ-রসুনের তিনমাস কাঁপা কাঁপা বিজনেস কইরা ডবল বাম্পার লাভ বাইত্তে তুলছে।

কইরে কালু, পান দে ডিব্বা থেইক্যা...

হালদার সর্দারের পান থাকে তার অ্যাসিস্টেন্ট কালুর হাতব্যাগে।

http://sangbad.net.bd/images/2021/July/15Jul21/news/degree-doctor-1.jpg

চিত্র : ইন্টারনেট

- কি জানি কইবার লইছিলাম...

একত্রে দুইখিলি পান জর্দাসমেত তার দীর্ঘ মুখগহ্বরে ঢুকিয়ে কয়েকটা চিবানি দিয়ে পিচকি ফেলার ভান করলে কালু তার ঝোলানো ব্যাগ থেকে ছোট্ট চিলমচি বের করে সামনে ধরে। হালদার সর্দার ডাক্তারের সম্মানে একটু আড়াল করে পুচ্চুত শব্দ তুলে পিচকি ফেলে মুখগহ্বরের পানের আড়মোড়া ভেঙে এগাল-ওগাল করে হিহি করে হেসে ফেলে।

- কিচ্ছু মনে কইরেন না ডাক্তার সাব। সাতপুরুষের খানদানি অভ্যাস; ফালাইবার পারি নাইক্কা অক্ষনো। তয় বেশিদিন নাই। আমাগো পোলাপানে ঘেন্না করে। পান বলে ছাগলের খাওন! হিহি- মজা পায়নাই তো। কউকগা...

ডাক্তার নাহিদ ক্লিনিকের মালিকের দিকে না তাকিয়ে নিজ চেম্বারে গিয়ে বসলেন।

- ও, কইবার চাইছিলাম- রোগি আমার নেংটাকালের বন্ধু, জানেন তো একসময় আমারও ভি আড়ত আছিলো শ্যামবাজারে। হেরপর কাওরান বাজারে। খালি খালি ঝাম্লা, রাইত কইরা জাগন থাকন লাগে। কর্মচারি হালাগো উপরে ভরসা নাইক্কা, আমি রাইত কইরা থাকলে পাই বিশ-পঁচিশ হাজার ট্যাকা ডেইলি, হেগ হাত্তে দিলে বারো-তেরো হাজার। দেখলেন, অর্ধেকই নাইক্কা। দিলাম ছাড়াইরা; হগ্গল কিছু, অহন আপনেগোরে লইয়া ক্লিনিক ভি খুইলা বইছি।

ডাক্তার নাহিদ বিরক্তিসহকারে তার রোগিদের ফাইল গোছিয়ে নিচ্ছেন। ক্লিনিকের মালিক হালদার সর্দারের কথায় হ্যাঁ-না কিছুই বলছেন না।

ডাক্তারের মুখোমুখি চেয়ারে বসে পড়েন সর্দার। পেছনে ফিরে কালুকে চিলমচি ধরার ইশারা করেন। সর্দার ডান হাত দিয়ে ডাক্তারকে আড়াল করে মুখ পরিষ্কার করে ইশারায় কালুকে বাইরে যেতে বলেন।

- ছুনেন ডাক্তার সাব, নিচু গলায় ডাক্তার নাহিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সর্দার। ঐ রোগি হালার পোলাপান- মাইয়ার জামাই বেবাকহালায় কোটি-কোটি পতি। বেবাকতেই আইছে আমগো ক্লিনিকে। তিনতলায় যাইবেন, রোগি দেইখ্যা চোক-মুক উল্টাইয়া কইবেন অক্ষনেভি আইসিইউতে হান্দান লাগবো, তারবাদে কইবেন ভেন্টিলেশনেও যাওন লাগবার পারে। মাইনে নগদা-নগদ আজরাইলের ডরভি দেহাইবেন।

ডাক্তার নাহিদ দুপুরে রাউন্ডে এসেছেন। তিন-চার তলা মিলে তার রোগি চারজন। রোগি ভিজিট মানে বারোশ’ টাকা করে প্রতিজন। মনে মনে ভাবছেন, সরকারি হাসপাতালের পরিত্যাক্ত যন্ত্রপাতি এনে ক্লিনিকের মালিক মেরামত করে নতুন বলে শো-শা করে সাজিয়েছেন। এসব যন্ত্রপাতির কার্যকরিতা নিয়ে তার নিজেরও সন্দেহ আছে। ব্যবসা বলে কথা, কোভিড-নাইনটিন এলো বলেই তো ডাক্তার-ক্লিনিক মালিকের রমরমা ডোজের ব্যবসা।

http://sangbad.net.bd/images/2021/July/15Jul21/news/degree-doctor-2.jpg

ডাক্তার নাহিদ মনে মনে ভাবছেন, রোগিকে তিন-চার লাখ টাকা বিল ধরিয়ে আমাকে দিবে শুধু ভিজিটের টাকা!

- কি অত চিন্তা করার লইছেন ডাক্তার সাব? জলদি কইরা যান। এমন এক-দুইখান রোগি পাওন ভাগ্যের কথা। আরে আপনেওভি কমিশন পাইবেন। ঠকামুনা- আরো কাম আছে।

ডাক্তার নাহিদ অ্যাপ্রোন পরে গলায় স্টেথেসকোপ ঝুলিয়ে পা বাড়ালেন। কালু ফিস্ ফিস্ করে হালদারকে বলে- স্যার, কইলেন না ডাক্তার সাবেরে পেপারখান দেহাইতে।

- আব্বেহালায়! তোফা কতা মনে করছস্, খাড়ান খাড়ান ডাক্তার সাব... বলে কালুর হাত থেকে ভাঁজ করা একটা পত্রিকার বিশেষ খবর ডাক্তারের সামনে মেলে ধরে- খালি দোষ আপনের-আমার অইবো ক্যালা? দেহেন দুই লম্বর ডাক্তারের তিন লম্বর কাম। কর্পোরেশনের দাঁতের ডাক্তার কি কামডাইনা করলো...।

হি হি করে হাসতে গিয়ে পানের পিক তার নিজের পাঞ্জাবির এক অংশ রাঙিয়ে দেয়। নিজে নিজেকে সরি বলে পাঞ্জাবি ঝাড়া দিতেই কালুর থুতনি রাঙ্গিয়ে দেয়। কালু হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিয়ে নিজেকে আড়াল করে। ডাক্তার তাৎক্ষণিকভাবে সরে যাওয়ায় বেঁচে যায়।

- বুঝছি হালায়, পান খাওন আর কপালে নাইক্কা। দেখলেন হালায়, কী করছি নিজেরে। দুরহালা; আমি না এই ক্লিনিকের মালিক। যাউকগা- আপনে হালায় খবরখান পড়েন, হেডিংখানও মজাদার বানাইছে হালার সাম্বাদিক- ‘অডিট আপত্তি। কর্পোরেশনের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারির মুখে দাঁত নাই’।

সর্দার মুখে হাতের পিঠের ঢাকনি দিয়ে বলে- হালায় কর্পোরেশন, পাবলিকেরে খিলাইয়া অক্ষনে নিজের দাঁত ভি খিলাইবার লইছে।

ডাক্তার নাহিদ একনজরে পত্রিকার বক্সকরা নিউজে চোখ বুলিয়ে যান। কর্পোরেশনের কর্মচারি-কর্মকর্তাগণ দাঁতের চিকিৎসা নিতে এসে একটি ফার্মে সহি করে যান, আর কর্পোরেশনের নিযুক্ত ডেন্টিস্ট দাঁত তোলার বিল বানিয়ে গত তিন বছরে যে টাকা তুলে নেন, সে হিসেবে কর্পোরেশনের তিন হাজার কর্মচারি-কর্মকর্তার কারো মুখে দাঁত থাকার কথা নয়। হিসেব করে দেখা যায় তিন হাজার কর্মচারি-কর্মকর্তার ছিয়ানব্বই হাজার দাঁত ঢুকেছে ডেন্টিস্টের পকেটে। খোদ কর্পোরেশনের কর্মচারি-কর্মকর্তাগণ নিজের দাঁত কেলিয়ে হাসাহাসি করছেন। অডিট-সুপার কয়েকজনের দাঁত নকল কীনা পরীক্ষা করে আসল দাঁতই পেয়েছেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ করা যেতে পারে, দন্তচিকিৎসক সাধারণ চিকিৎসার জন্য তিনশ’ টাকা করে বিল করতে পারেন। আর প্রতিটি দাঁত তোলার জন্য রেট রয়েছে দুই হাজার টাকা। সে হিসেবে কর্পোরেশনের আর্থিক ক্ষতি উনিশ কোটি বিশ লাখ টাকা।

- হিসাব ঠিক আছেরে কালু? কেশিয়াররে হুম্কে আইয়া হিসাবখান মিলাইবার ক’। তিন হাজার ইনটু বত্রিশ-দাঁত ইনটু দুই হাজার। আব্বেহালায়! কম কইরা খিলাইতি, ধরাভি খাইতি না। খিলাইছস গলা ছমান, অক্ষন ঠ্যালাভি সামলা- কুত্তা-বিলাই খাইবো তর ট্যাকা- তর ইজ্জত। হি হি হি... আরে ডাক্তার সাব আপনে খাড়াইয়া রইছেন ক্যালা? যান যান। র্দু আপনের হালায় ডর কিয়ের- আমি আছিনা? হুনেন, ফিরা ভি কইবার লাগছি, রোগিরে আইসিইউতে হান্দাইছে খবর আইছে মেসেজে। দেইখ্যা মুখ-চোক্কু উল্টাইয়া বাইর অইবেন, কইবেন- নাইক্কা আবার আছে...

ডাক্তার পা বাড়াতেই আবার ডাকেন সর্দার- আরে হুনেন, ঐযে কোভিড-১৯ এর দামি ইনজেকশন কী য্যান কয়? যাউকগা, আমার জাননের কাম নাইক্কা। একজনে ভি দিয়া গেছে- নগদা-নগদ পনেরো হাজারে রাইখ্যা দিছি। ইনজেকশনের আর্জেন্ট নাম দিবেন- কইবেন, এই দ্যাশে নাইক্কা। লেকিন লন্ডন থাইক্যা আননেরও সময় নাইক্কা। হ্যারা দুই-চাইর ঘণ্টা এদিক-হেদিক ঘুরবো। শ্যাষকালে কইবেন তিনখান পাইছি- হি হি... ষাইট হাজার কইরা এক লাখ আশি হাজারের বিল ধরাইয়া দিবেন। যান যান আপনে জলদি কইরা যান। আমার হালার-হালা দুলাল্যা আরও দুইখান রোগি ভাও কইরা ভি আনতাছে- মেসেজ দিছে। আরে হারা বচ্ছর কি কামান যায়? মওকা পাইছি, বানায়া লই- হি হি হি...

ডাক্তার সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় যায়, সর্দার ডাক্তারের চেয়ারে বসে মোবাইলে সময় দেখে দেয়াল ঘড়ির সাথে মিলিয়ে নেয়। মোবাইল-ঘড়িতে সময় ঠিক থাকলেও দেয়াল-ঘড়িতে তিন মিনিট ফার্স্ট। মনে মনে সর্দার ডাক্তারের তারিফ করে। ঘড়ি ফার্স্ট রেখে ডাক্তার নিজেকে সময়ের আগে তাড়িয়ে নেন। ডাক্তার নাহিদ দশ মিনিটের মধ্যে ফিরে আসনে। সর্দার ডাক্তারের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারকে বসতে দেন। ডাক্তার স্টেথেসকোপ টেবিলে রাখতে রাখতে বলেন, রোগির অবস্থা তো ততটা খারাপ নয়। আইসিইউ’রও দরকার নেই।

- মরজ্বালা! কিযে কন আপনে। আরে এইডা আমার-আপনের ব্যবসা। এউগা ইনজেকশন মাইরা খারাপ কইরা ফালান, হেরপর ভালা অওনের ওষুধ ভি দেন। হেগো পাবলিকেরে কিচ্ছু বুঝবার দিবেন না, দেখবারও দিবেন না। কইবেন, রোগি বাঁচানের লাইগা হাসপাতালের কড়াকড়ি। ঐ ব্যাটা মচুয়া দারোয়ানরে গেইটে বহায়া দেন। হগ্গলই আমার কওন লাগবো?

- দেখেন সর্দার সাহেব, আমি ডাক্তার। একটা ইথিক্স আছে আমার। সরি, এসব আমার দ্বারা হবে না।

- দাদারে ভি আদাপড়া হিগায়েন না কইলাম। যান যান দেরি কইরেন না।

- দেখুন আমি ডাক্তার, কি করতে হবে আমি বুঝি। সরি। আপনার কথা আমি রাখতে পারবো না। দরকার হলে চেম্বার ছেড়ে দেব।

- এক্কেরে কইলেই অইলো! এক লাখ বিশ হাজার ট্যাকা দিয়া আপনের চেম্বার বানাইছি। পিতলে, গ্লাসে জা’গায় জা’গায় আপনের নাম, দশ রকমের ডিগ্রির তালিকা রাখছি। তিন মিনিটের রোগির ফি বারোশ’ ট্যাকা, প্যাথলজি, ওষুধ কমিশন, কই পাইবেন এতো এতো ট্যাকা? হুনেন, আপনের ভিতরের খবর কইলাম জানা আছে।

- সরি সর্দার সাহেব। আমি একজন ডাক্তার, আমাদের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারি না। তাছাড়া এটা রীতিমত নৈতিকতাবিরোধী কাজ। অসম্ভব! ...ডাক্তার উঠে দাঁড়ান।

- যাইবেন গা? হুনেন হুনেন ডাক্তার সাব। আরে মজার কথা হুনেন। আমার ছোডভাই বিএ কোনরকম। নামও হেই আক্কাস আলী সর্দার। আগে তো বুঝতাম না ডাক্তার কি আর ডক্টর কি। কি বলে থিসিস-মিসিস লেখন লাগে। কী আর লিখবো! হে জানেইবা কী লিখবো কী!

নিউমার্কেটের নীলক্ষেত থেইক্যা একজনে হগ্গলকিচ্ছু আইন্যা, লিইখ্যা, সার্টিফিকেট আইন্যা দিছে। একলাখ ট্যাকা খরচা। হি হি হি- আমার ইস্ত্রি মানে ওয়াইফ হেরে গিয়া কয়- কইরে ডাক্তার আক্কাইচ্যা, দে মাথা ধরার, পেট ব্যথার ওষুধ দে। হের ওয়াইফও কয়, পাড়া-প্রতিবেশীরাও কয় ওষুধ লেইখা দেরে বাজান। হে তো পলাইলো; অক্ষন নয়াবাজার মেসে থাহে। হাপ্তায় একদিন পলাইয়া ঘরে আহে। হি হি হি- কেউ কেউ আইয়া কয় আমার স্কুল-কলেজে একখান লেকচার মাইরা দেন। অয় নি লেকচার দিবো! লাস্ট বেঞ্চির হারাজীবনের ছাত্র।

- আমাকে এসব শুনাচ্ছেন কেন? ...ডাক্তার অধৈর্য হয়ে পা বাড়ান।

- বহেন, এইবার আপনের কথা। হব্বেকালে একজন আইছিলো, সাম্বাদিক-টাম্বাদিক অইবো কইলো। আপনেরে তালাশ করার লাগছিলো- কইলো আপনের বয়স কতো... চল্লিশের নিচে অইবো হাচা না?

- জ্বি, আটত্রিশ।

- আপনে আছিলেন তিনতলায়, আমি কইছি নাইক্কা। ফোন লম্বর চাইলো দেই নাইক্কা। হাবভাবে বুঝলাম আপনেরেভি খাইবার আইছে। কইরে কাল্লা, ডাক্তার সাবে দুপুরের খানা খিলাইছেরে?

- জ্বিনা, আমি বাসায় গিয়ে খাব।

- বুঝলাম, বাকি কথা কওনের আগে কামডা সাইরা ফালান। আরো দুইখান রোগি অক্ষনই আইবো কইলাম। আপনেরই দেহন লাগবো। ...কালু ডাক্তার সাবের লাইগা হাজীর কাচ্চি বিরানী লইয়া আয়। বাসায় যাওনের কাম নাইক্কা অক্ষনে।

- সর্দার সাহেব, আমি বাসায় যাবো। কিছু জরুরি কাজও আছে। তাছাড়া বাহিরের খাবার আমি খাই না।

- এই রোগির থাকনের ব্যবস্থাডা কইরা যান।

- আমি দুঃখিত।

এত শিক্ষিৎ মানুষ, দশখান ডিগ্রি, বারোশ’ ট্যাকা ফি- আমার কথা অক্ষনো বুঝবার পারেন নাইক্কা? খবর লইছি, লন্ডনে আছিলেন একবছর। বছরে ছয়খান ডিগ্রি পাতাইলেন? সাম্বাদিকরে কইলাম হেইদিন পঁচিশ হাজার ট্যাকা দিয়া বিদায় করছি। কইছি কাগজে লিখলে টেংরি ছাড়াইয়া দিমু। আপনে তো কইবার পারবেন না, কিচ্ছুভি করবারও পারবেন না। খালি পারেন ডিগ্রির বহর বাড়াইতে- তয়, খবর লইছি আপনে যে ডিগ্রি লাগাইছেন হেইডা দশ বছরের কাম। কি সাচ্চা কইছিনা ডাক্তার সাব। কতা না হুনলে পত্রিকায় ব্লক মাইরা নিউজ আইবো। দশ বছরের বিদেশী ডিগ্রি একবছরে অর্জন। হা হা হা... হেডিং অইবো ‘প্রতারণার নতুন দিগন্ত’। হা হা হা বুঝবার পারলেন কিচ্ছু!

back to top