alt

সাময়িকী

বুলবুল চৌধুরীর সাক্ষাৎকার

“জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান”

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

সরকার মাসুদ : কীভাবে লেখালেখিতে এলেন? আপনার লেখা প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়?

বুলবুল চৌধুরী : অন্য অনেকের মতো আমি লেখক হতে চাইনি। চিত্রপরিচালক হতে চেয়েছিলাম। সেজন হাসান, নির্মলেন্দু গুণসহ অনেকেই নিয়মিত আসতেন। ওদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব হয়ে গেল। আমি চিন্তা করলাম, এই সখ্য টিকিয়ে রাখতে হলে আমাকে লিখতে হবে। কায়েসও লিখতে বলত। একদিন ‘রঘুবংশীর বাংলাঘরে’ নামে একটা কবিতা লিখলাম। ওটা পড়ে হাসান বলল, কবিতাটা তো ভালোই। কিন্তু তুমি এর নাম দাও ‘প্রাকৃত কবিতা’।

লেখা প্রথম বেরোয় ১৯৬৭-তে। ওই সময় জগন্নাথ কলেজ একটা গল্প লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আমার গল্পের নাম ছিল ‘জোনাকি ও সন্নিকট কেন্দ্র’। লেখাটা দ্বিতীয় হয়। ওই গল্প পরে কামাল বিন মাহতাব সম্পাদিত ‘ছোটগল্প’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।

স. মা. : কায়েস আহমেদের লেখা নিয়ে কিছু বলেন।

বু. চৌ. : কায়েস জাত লেখক। বিশেষ করে ছোটগল্পে যথেষ্ট শক্তিশালী সে। দেখার চোখ ছিল ওর। যে বর্ণনাভঙ্গি সে ব্যবহার করেছে সেটা অনেক তথাকথিত বড় লেখকের বর্ণনাকে ছাড়িয়ে যায়।

স. মা. : আবুল হাসানের জীবনযাপন ও কবিতা নিয়ে কিছু বলবেন?

বু. চৌ. : হাসান জীবনযাপনে ছিল খুব বোহেমিয়ান কিন্তু কবিতার ক্ষেত্রে সিরিয়াস। আপাদমস্তক কবি ছিল। ওর ভাবুকতার জায়গাটা ছিল নিবিড়। একটা জীবনদর্শন ছিল ওর কবিতায়। বেশিদিন তো বাঁচল না। দীর্ঘ আয়ু পেলে ও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠত।

স. মা. : কায়েস, হাসান ও গুণ ছাড়া আর কাদের সঙ্গে আপনার ওঠাবসা ছিল?

বু. চৌ. : শেখ আব্দুল হাকিম, ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে। হাকিমের উল্লেখযোগ্য কাজ আছে অনুবাদের ক্ষেত্রে। তবে মিলনের কথা বারবার বলতে হবে। ও ছিল আমার যাকে বলে নিতুই সঙ্গী। কোথায় হাউজি চলছে, কোথায় মদের সঙ্গে শূকরের ভুনা মাংস পাওয়া যাবে এসব খবর আমরা পেয়ে যেতাম। আর মিলন যাওয়ার জন্য এক পায়ে তৈরি থাকত। মিলন, আমার খুব বড় বন্ধু। আজও।

নিভৃতবাসে থাকা এক শক্তিমান কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী। আজীবন নির্মোহ আর ভবঘুরে জীবনের ক্যানভাসে রচনা করেছেন সরলমনের প্রেম-বিরহ, সুখ-দুঃখগাথা। গল্প উপন্যাস শিশুতোষ সাহিত্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ত্রিশাধিক। তাঁর সঙ্গে এই আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলেন সরকার মাসুদ

স. মা. : গড়পড়তা পাঠকের কাছে মিলন জনপ্রিয় লেখক। অন্য অনেক জনপ্রিয় লেখকের মতো নয়, সে সৃষ্টিশীল। পরাধীনতা, নিরন্নের কাল, বারো রকম মানুষ ও এরকম আরও কিছু বই মিলনের উর্বর সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর বহন করছে। বহু আগে ‘ফুলের বয়স’ নামে তার একটা ছোটগল্প পড়েছিলাম, যেখানে একটি কিশোরীর প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার সময়কার অনুভূতি অসাধারণ দক্ষতায় তুলে আনা হয়েছে। তো আপনার কী মনে হয়?

বু. চৌ. : জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান। একটি দৌড় না থাকলে কেউ পপুলার রাইটার হতে পারে না। জনপ্রিয় হলেও মিলনের কাজের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা আছে। অনেক ছোটগল্পেও সে ওস্তাদি দেখিয়েছে।

স. মা. : লেখক জীবনের গোড়ার দিকে কোন কোন লেখক আপনাকে নাড়া দিয়েছিল?

বু. চৌ. : কায়েসের পাল্লায় পড়ে ওই সময় বইপত্র পড়া হতো। পরে তো কল্লোলযুগের প্রধান কথাসাহিত্যিকদের লেখাও পড়েছি। তার পরের লেখকদের মধ্যে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে সমরেশ বসু, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়। ‘শতদল’ নামের এক গল্পসংকলন খুব নাড়া দিয়েছিল। ওটা ছিল দুই খণ্ডের গল্প সংকলন। মোট একশটা গল্প ছিল। ওই বই পড়ে দেখলাম উৎকৃষ্ট গল্পের বিচিত্র রূপ। গল্প যে কতভাবে লেখা যায় এটা বুঝলাম ওই বইটা পড়েই।

স. মা. : মাহমুদুল হক ও রাহাত খান সম্বন্ধে কিছু জানতে চাই।

বু. চৌ. : মাহমুদুল হক লেখকের লেখক। রাহাত খানও গুরুত্বপূর্ণ, বিশষ করে তার ছোটগল্প। সাংবাদিকতা পেশা তার যথেষ্ট ক্ষতি করেছে।

স. মা. : আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও হাসান আজিজুল হক-এর লেখালেখি সম্বন্ধে আপনার কী ধারণা?

বু. চৌ. : ছোটগল্পে অসাধারণ কাজ আছে ইলিয়াসের। তার ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসটি ভবিষ্যতের পাঠক পড়বেন বলে মনে হয়। তবে গদ্য নিয়ে অতো বেশি কসরত তিনি না করলেও পারতেন। হাসান বড় শিল্পী। লেখককে তো শেষাবধি শিল্পীই হতে হয়। তার ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। উপন্যাসে তিনি সুবিধা করতে পারেননি। ‘আগুন পাখি’র স্টাইল আমার কাছে তেমন উল্লেখযোগ্য মনে হয়নি।

স. মা. : বিপ্লব দাশ তো আপনাদের বন্ধু ছিলেন। তার লেখালেখি?

বু. চৌ. তেমন ভালো গল্প বিপ্লব লিখতে পারেননি। ৪/৫ টা মাঝারি মানের গল্প আছে। পুরনো ঢাকার জীবনযাত্রা তার লেখায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তার নির্মিত চরিত্রগুলোর বেশিরভাগই জীবন্ত। তার পরেও গল্পে সে ধাক্কা দিতে পারেনি। তবে ওই যে ‘কিম্পুরুষ’ বইটা, ওটা উল্লেখযোগ্য কাজ। বাংলা ভাষায় হিজড়াদের নিয়ে লেখা সম্ভবত প্রথম উপন্যাস।

স. মা. : সত্তরের প্রজন্মের গল্প তো কমবেশি পড়েছেন। মঞ্জু সরকার, মঈনুল আহসান সাবের, সুশান্ত মজুমদার, নকিব ফিরোজ, আবু সাঈদ জুবেরী- এদের সম্বন্ধে কিছু বলবেন?

বু. চৌ. : মঞ্জুর কয়েকটা গল্প বেশ ভালো। বড় মাপের উপন্যাস লিখতে পারেননি। সাবেরের ক্ষমতা ছিল, সেটা তার প্রথমদিকের গল্প পড়লে বোঝা

যায়। পরেও কয়েকটি ভালো গল্প লিখেছে সে। “সীমাবদ্ধ” বইটাতেও সাবের তার শক্তি দেখিয়েছে। তবে জনপ্রিয়তার মোহ তার বেশ ক্ষতি করেছে।

সুশান্ত মজুমদারের গল্পের একটা ঢঙ আছে, অন্যদের সংগে মিলবে না। ৫/৭ টা প্রথম শ্রেণির গল্প আছে তার। ‘সহমরণ’ নামে একটা গল্পের কথা মনে পড়ছে। যথেষ্ট ভালো লেখা। জুবেরী তো প্রথম পর্যায়ে বেশ উজ্জ্বল ছিল। মানসম্মত গল্প তারও আছে। সে গল্প নিয়ে ভাবে। অভিজ্ঞতাও আছে। কথাসাহিত্যিককে

নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যেতে হয়। এই জায়গায় তার খামতি। সে আবার পুরোদমে লিখতে আরম্ভ করেছে। মনে রাখার মতো কোনো উপন্যাস জুবেরী লিখতেই পারে। নকিবকে আমার জেনুইন লেখক মনে হয়েছে। গল্পে সে যথেষ্ট সিরিয়াস। নিজের ভাবধারা বজায় রাখতে পারে লেখায়। কিন্তু সে লেখালেখির কাজে খুব অনিয়মিত।

স. মা. : সারোয়ার কবীর নামে সত্তরের একজন গল্পকার আছেন। তার সম্বন্ধে কী ধারণা?

বু. চৌ. : সারোয়ার প্রকৃত লেখক। গল্পে তার প্রশংসনীয় কাজ আছে। “মেন্দীপুরের ঝিউরি” নামের লেখাটা আমার মনে আছে। সে “হুকুমের দাস” নামে সম্প্রতি একটা গল্প লিখেছে। অসাধারণ লেখা। সারোয়ারের উচিত বড় লেখায় হাত দেয়া।

স. মা. : আশির প্রজন্মের লেখকদের গল্প পড়েছেন কি?

বু. চৌ. : আশির, মানে আপনাদের জেনারেশনের লেখকদের গল্প খুব কম পড়েছি। জাকিরের (জাকির তালুকদার) দু’একটা গল্প বেশ ভালো লেগেছে। ওর উপন্যাস পড়িনি। নাসরীন জাহানের “উড়ুক্কু”টা সুলিখিত উপন্যাস। আপনার “আওরাবুনিয়ার কাটা”র গল্পগুলো ভিন্ন স্বাদের। কথাসাহিত্যিকের দৃষ্টি ওই বইয়ে

টের পাওয়া যায়। শেখ লুৎফর, পারভেজ হোসেন, মশিউল আলম, আনিসুল হক এদেরও কিছু লেখা উজ্জ্বল। পারভেজের “ডুবোচর” এ সময়ের এক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। পঞ্চাশ থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত যে সংকলনটির পরিকল্পনা করেছি তাতে এদের সবার গল্প আমি রাখবো।

স. মা. : একবার আপনি বলেছিলেন একটা দীর্ঘ সময় লিখতে না পারার কথা। পরে আবার লেখায় ফিরে এসেছিলেন। ওই সময়টার কথা একটু বলুন।

বু. চৌ. : হ্যাঁ, লেখালেখিতে দীর্ঘ খরা এসেছিল জীবনে। ৮-১০ বছর কিছুই লিখতে পারিনি। ওই সময় আমি প্রেস ব্যবসায় ঢুকে পড়ি, জীবিকার তাগিদে।

স. মা. : সেটা কি ‘টুকা কাহিনী’ বেরিয়ে যাওয়ার পর?

বু. চৌ. : হ্যাঁ, ‘টুকা’ বেরোনোর পরের ঘটনা ওটা।

স. মা. : কীভাবে আবার লেখায় ফিরলেন, মানে এত বড় গ্যাপের পর?

বু. চৌ. : হয়েছিল কী, একটা সময় আমার প্রেসেই ইমদাদুল হক মিলন, হুমায়ূন আহমেদ এদের বই ছাপা হতো। কমপক্ষে ৭-৮ হাজার কপি ছাপা হতো। তো আমি ভাবলাম, আমিও তো লিখতে পারি। নিজের ভেতর একটা সাড়া পেলাম। লেখা হলো ‘পাপ-পুণ্যি’। এটা উপন্যাস। মাঝখানে একটা ঘটনা ঘটল। সেটাও আমাকে খুব হেল্প করেছিল।

স. মা. : কী রকম?

বু. চৌ. : শামসুজ্জামান খান ছিলেন আমার শিক্ষক। স্নেহছায়ায় বেঁধে রেখেছিলেন। উনি আমাকে লেখায় উৎসাহ দেওয়া ছাড়াও খোঁজখবর নিতেন। একে তো ছিলাম উড়নচ-ী, তার ওপর মাথায় লেখার ভূত। বাবা ভালো চোখে দেখতেন না বিষয়টা। স্যারকে ব্যাপারটা জানিয়ে ছিলাম। উনি একদিন আমাদের বাসায় এসে হাজির।

স. মা. : দেখা যাচ্ছে শামসুজ্জামান খানের ভূমিকা আপনার জীবনে বিরাট।

বু. চৌ. : তা তো বটেই। জগন্নাথ কলেজের সেই পুরস্কার পাওয়া (বিচারকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন) থেকে আরম্ভ করে বাংলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া পর্যন্ত- আমার জন্য কী না করেছেন তিনি? উনি বললেন, বাংলা একাডেমি তুমি পেয়ে যাচ্ছ বুলবুল। তার ঋণ শোধ হবে না কোনোদিন।

স. মা. : ‘টুকা কাহিনী’ লিখে আপনি সবার নজর কেড়েছিলেন। তার পর গত পঞ্চাশ বছরে আপনার অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য উপন্যাস বেরিয়েছে। প্রথম বই ‘টুকা’র প্রকাশ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী।

বু. চৌ. : বিখ্যাত শেক্সপিয়ার অনুবাদক ও কথাসাহিত্যিক আবু শাহরিয়ার ছিলেন আমার গুরু। প্রধানত তার প্রণোদনাতেই ‘টুকা কাহিনী’ বই হয়ে বেরোয়। প্রণোদনাতেই ‘টুকা কাহিনী’ প্রকাশ পাওয়ার পর ভালো ফিডব্যাক পেয়েছিলাম। অনেকেই ওটা নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেছিলেন। কথাসাহিত্যিক তাপস মজুমদার এক লিটল ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, প্রতিভাবান এক তরুণ কথাসাহিত্যিকের আবির্ভাব ঘটেছে। ভবিষ্যতের দশটি শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পের একটি এই ‘টুকা কাহিনী’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

স. মা. : জিনিয়াস তো আপনার একাধিক বই করেছে?

বু. চৌ. : হ্যাঁ, জিনিয়াস পাবলিকেশনস। রুবেল আগেও আমার বই করেছে। মনটা বড় ওর। ব্যবসা এখনো ততটা জমে ওঠেনি। কিন্তু ও লাইন পেয়ে গেছে। ওর কাছেও আমার অনেক ঋণ।

স. মা. : আমিও তার মনের উদারতার পরিচয় পেয়েছি। আমারও দুটি গল্পের বই উনি করেছেন, আপনি জানেন। আপনার মাধ্যমেই তো তার সঙ্গে আমার পরিচয়। ভালো মানের বই কিছুটা আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেও উনি বের করতে প্রস্তুত। এটা খুব কম প্রকাশকই পারবেন।

বু. চৌ. : রুবেল যদি ঠিকমতো এগোতে পারে, তা হলে মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশক হতে পারবে।

স. মা. : একটু পেছনে যাই, আবুল হাসান-নির্মলেন্দু গুণ ছিলেন মানিকজোড়। পরে হাসানের সঙ্গে আপনার অন্তরঙ্গতা হয়। গুণ ও আপনি দুজনেই হাসানের সঙ্গ চাইতেন। এ নিয়ে কোনো টানাপড়েন হতো না?

বু. চৌ. : তা তো হতোই। ওরা দুজন প্রায়ই এদিক-সেদিক বেরিয়ে পড়ত। আমিও ফিল করতাম, লিখতে হলে বেরোতে হবে। গুণের কাছ থেকে কোথাও যাবে এটা শুনলে হাসানকে আর কেউ আটকে রাখতে পারত না। সেজন্য হাসান আর আমার মাঝখানে গুণ এসে হাজির হলেই মনে হতো, আমার সতীন এসেছে। আবুল হাসানের তো থাকার জায়গা ছিল না। ও প্রায়ই আমার বাসায় রাত কাটাত। সেজন্য ও গুণের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লে আমার খুব খারাপ লাগত।

স. মা. : আপনার লিখতে না পারার দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট পেয়েছেন কার কাছ থেকে?

বু. চৌ. : ওই সময় সবচেয়ে বেশি মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে ধ্রুব। শিল্পী ধ্রুব এষ। শুধু মেন্টাল সাপোর্ট নয়, লেখার উপযোগী নিরিবিলি ঘর, খাবার, পয়সা-কড়ি সব সে দিয়েছে। সে বলত, আপনি লেখেন না ক্যান?

স. মা. : ধ্রুব এষ শুধু বড় মনের মানুষ নন, বড় মাপের শিল্পীও। এ ধরনের শিল্পীদের বড় ক্যানভাসে কাজ করা খুব দরকার।

বু. চৌ. : ধ্রুব জাত শিল্পী- যাকে বলে ভেতর থেকে হয়ে ওঠা।

স. মা. : আপনার সমসাময়িক ও পূর্ববর্তী অনেক লেখকই দরিদ্র লোকের অর্থনৈতিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিলেও তাদের হৃদয়বৃত্তিক অনেক বিষয়ই সেভাবে আনতে পারেননি। আপনার গল্প-উপন্যাসে দেখতে পাই নিম্নবর্গের মানুষদের প্রেম-ভালোবাসাও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত।

বু. চৌ. : কারণ আমি দেখেছি ওই মানুষগুলোর দরিদ্রদশা। তার পেছনের রাজনীতি, সমাজচিত্র এগুলো তো আছেই। অর্থকষ্ট তাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু কেবল ভাত, কাপড়ের কষ্ট নয়, ওদেরও হৃদয়ের কষ্ট আছে। এখন গরিব মানুষ বলে তার প্রকাশও আলাদা। ওটাই ধরতে চেয়েছি আমি।

স. মা. : দেশভাগ অর্থাৎ ১৯৪৭-এর আগের এবং তার পরের কথাসাহিত্যের মধ্যে প্রধান প্রধান কী পার্থক্য আপনার চোখে পড়ে?

বু. চৌ. : দ্যাখেন, পার্টিশনের আগের যে সাহিত্য সেটাই আমাদের লেখালেখির ব্যাকগ্রাউন্ড। সাহিত্যকে সচেতনভাবে শিল্পমণ্ডিত করে তোলার বিষয়টা পরে আসে। আরেকটা কথা, দেশভাগের পর কথাসাহিত্য কারও কারও হাতে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

স. মা. : মানিক, বিভূতি, তারাশঙ্কর- এদের ভেতর কাকে আপনার বেশি পছন্দ?

বু. চৌ. : এটা বলা মুশকিল। তিনজনই অনেক বড় মাপের লেখক।

স. মা. : কোনো শিল্পীই তার কাজে সম্পূর্ণ তুষ্ট হতে পারেন না। তো কথাশিল্পী হিসেবে লেখা হয়ে ওঠার বিষয়টি আপনার কাছে কী রকম?

বু. চৌ. : সরকার, আপনি নিজেও তো লেখেন; একটা কথা জানবেন, গর্ভবতী নারীর যেমন দশ মাস দশ দিন লাগে প্রসব করতে, তেমনি লেখকেরও দশ মাস দশ দিন আছে। মানে অনেকটা সময়, সেটা এক সপ্তাহ হতে পারে, এক মাস হতে পারে, এক বছর বা তার বেশিও হতে পারে, তাকে অতিবাহিত করতে হয়। লিখে ফেলার আগে সে লেখাটা মাথায় নিয়ে ঘোরে দিনের পর দিন।

স. মা. : মানে লেখাটাকে প্রথমে মাথার ভেতর পাকতে দিতে হয়। তার পর ওই পাকা ফলকে নামাতে হয় কাগজের পৃষ্ঠায়।

বু. চৌ. : ঠিক তাই। আগে মাথার ভেতর লেখা হয়।

স. মা. : মোটা দাগে পৃথিবীতে দুধরনের উপন্যাস আছে। একটিতে গুরুত্ব পেয়েছে গল্প, অন্যটিতে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে প্রকাশভঙ্গি। আপনার মতে, উপন্যাসের মূল শক্তি কোথায়?

বু. চৌ. : লেখক যা বলতে চান সেটা এবং তার সঙ্গে উপন্যাসের স্টোরি খুব গুরুত্বপূর্ণ। গল্প যদি নড়বড়ে হয়ে যায় তা হলে কায়দা-কৌশল দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যায় না। আর লেখাটা সুলিখিত না হলে গল্প বলেন, স্টাইল বলেন, কোনোটাই শেষ পর্যন্ত কাজে আসে না।

স. মা. : কেউ যদি আনপার তিনটি উপন্যাস পড়তে চান, কোন বইগুলোর কথা বলবেন?

বু. চৌ. : তিয়াসের লিখন, এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে, পাপ-পুণ্যি।

স. মা. : পঞ্চাশের দশকের আপনার প্রিয় দুজন কথাসাহিত্যিকের নাম বলেন।

বু. চৌ. : আলাউদ্দিন আল আজাদ। আল মাহমুদ। আল মাহমুদের জলবেশ্যা, আজাদের বৃষ্টি... এগুলো খুব উঁচু দরের সাহিত্য।

স. মা. : সৈয়দ শামসুল হক সম্বন্ধে কিছু বলার নেই?

বু. চৌ. : তার গদ্যটা জুতসই মনে হয় না। উনি গল্প বানিয়ে লেখেন। ঠিক ভেতর থেকে হয়ে ওঠা মনে হয় না।

স. মা. : ছোটগল্প ও লেখকের সামর্থ্য বিষয়ে আপনার ধারণা?

বু. চৌ. : ছোটগল্পের পরিসর যেহেতু ছোট, এখানে কথাসাহিত্যিকের ক্ষমতাটা বোঝা যায়।

স. মা. : ঢাকার ষাটের ও সত্তরের দশকের সাহিত্য পরিম-লের আবহাওয়া সম্বন্ধে কিছু বলবেন?

বু. চৌ. : তখন পরিবেশটা অনেক সহনীয় ছিল। শুধু সিনিয়রদের প্রতি নয়, সমসাময়িক অন্যান্য লেখক ও বন্ধু-লেখকের ভেতরেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল। একে অপরকে তুলে ধরার প্রবণতা ছিল। এখন তা বিরল হয়ে গেছে।

স. মা. : নবীন লেখকদের একটা বড় অংশ যত না নিজেদের প্রস্তুত করার পেছনে সময় দিচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন প্রচার-প্রোপাগা-ার পেছনে। এদের ধৈর্যও কম। ভালো কিছুর জন্য এরা অপেক্ষা করে না।

বু. চৌ. : নবীন-প্রবীণ সবাই প্রচার চায়। কিন্তু বয়স ও অভিজ্ঞতা একটা ব্যাপার। মনে রাখতে হবে, সাহিত্যের একটা অঙ্ক আছে। সেটা কেউ শেখাতে পারে না। অঙ্কটা নিজে নিজে শিখতে হয়। শেখার পেছনে সময় দিতে হয়।

স. মা. : আপনার ভালো লেগেছে এমন আরও দু-একটা গল্প বা গল্পের বইয়ের নাম জানতে পারি?

বু. চৌ. : আহমেদ বশরের গল্প, ‘অবশিষ্ট কথা’, সারোয়ার কবীরের গল্প ‘মেন্দিপুরের ঝিউরি’। সারোয়ার এখনো লিখছে। বশরের ক্ষমতা ছিল কিন্তু ওর লেখালেখি সেভাবে আর এগোলো না।

স. মা. : পাঠকের ভালোবাসা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, খ্যাতি যথেষ্ট পেয়েছেন। তো জীবনের এতটা সময় পেরিয়ে আসার পর এখন কী মনে হচ্ছে আপনার?

বু. চৌ. : প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আশা-নিরাশা নিয়েই তো লেখকের জীবন। এখন মনে হয়, যদি আরও খানিকটা সময় পাই তা হলে নতুন করে কিছু ভাবব। আর কিছু পুনর্লেখন, সংযোজন-বিয়োজন এসব তো আছেই। অনেক সময় বাস্তব উপাদান কম থাকলে অনেকখানি কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়, যেমনটা ঘটেছে ‘এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে’ উপন্যাসে। কারণ এই উপন্যাসের বেশ্যা মেয়েটি বাধ্য হয়ে নয়, স্বেচ্ছায় ওই পেশায় এসেছে। যা হোক এটা সাহিত্যিকের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ যে, সে কীভাবে পুরো বিষয়টা সামলাবে।

ছবি

শিকিবু

ছবি

কবিতায় যখন অন্ত্যজ মানুষের কথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

ছলম

ছবি

তারাশঙ্করের ‘কবি’ এবং উত্তরহীন অনন্ত জিজ্ঞাসা

ছবি

রবীন্দ্রনাথ ও মানবতা

ছবি

বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা

ছবি

একটি পূর্ণাঙ্গ কোষগ্রন্থ

ছবি

সুবেদার রাজ্জাকের বীরত্বগাথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

লরেন্স ফারলিঙ্ঘেতির কবিতা

ছবি

অলকানন্দা

ছবি

মুখের দিকে না দেখে

ছবি

সোনা-মোড়া কথাশিল্প শহীদুল জহির

সাময়িকী কবিতা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

তাপস গায়েনের কবিতা

ছবি

চির অন্তরালে বশীর আলহেলাল

ছবি

শব্দহীন শোকের ভেলায় চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ!

ছবি

শোকার্ত পুষ্পাঞ্জলি

ছবি

মনন-মেধা আর বিনোদনের ত্রিবেণী সঙ্গম

ছবি

বিস্ময় না কাটে

ছবি

বিশ্বসাহিত্যে এক অপার বিস্ময়

ছবি

কাজী নজরুল ও কাজী আব্দুল ওদুদ প্রসঙ্গ

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

লকডাউন

সাময়িকী কবিতা

ছবি

রাজবন্দি নজরুল

ছবি

তাঁর তৃতীয় জীবন

ছবি

নজরুল ইসলাম ও উন্মুক্ত পথ

ছবি

শহরের শেষ রোদ

ছবি

একজন মায়াতরুর গল্প

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

tab

সাময়িকী

বুলবুল চৌধুরীর সাক্ষাৎকার

“জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান”

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

সরকার মাসুদ : কীভাবে লেখালেখিতে এলেন? আপনার লেখা প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়?

বুলবুল চৌধুরী : অন্য অনেকের মতো আমি লেখক হতে চাইনি। চিত্রপরিচালক হতে চেয়েছিলাম। সেজন হাসান, নির্মলেন্দু গুণসহ অনেকেই নিয়মিত আসতেন। ওদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব হয়ে গেল। আমি চিন্তা করলাম, এই সখ্য টিকিয়ে রাখতে হলে আমাকে লিখতে হবে। কায়েসও লিখতে বলত। একদিন ‘রঘুবংশীর বাংলাঘরে’ নামে একটা কবিতা লিখলাম। ওটা পড়ে হাসান বলল, কবিতাটা তো ভালোই। কিন্তু তুমি এর নাম দাও ‘প্রাকৃত কবিতা’।

লেখা প্রথম বেরোয় ১৯৬৭-তে। ওই সময় জগন্নাথ কলেজ একটা গল্প লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আমার গল্পের নাম ছিল ‘জোনাকি ও সন্নিকট কেন্দ্র’। লেখাটা দ্বিতীয় হয়। ওই গল্প পরে কামাল বিন মাহতাব সম্পাদিত ‘ছোটগল্প’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।

স. মা. : কায়েস আহমেদের লেখা নিয়ে কিছু বলেন।

বু. চৌ. : কায়েস জাত লেখক। বিশেষ করে ছোটগল্পে যথেষ্ট শক্তিশালী সে। দেখার চোখ ছিল ওর। যে বর্ণনাভঙ্গি সে ব্যবহার করেছে সেটা অনেক তথাকথিত বড় লেখকের বর্ণনাকে ছাড়িয়ে যায়।

স. মা. : আবুল হাসানের জীবনযাপন ও কবিতা নিয়ে কিছু বলবেন?

বু. চৌ. : হাসান জীবনযাপনে ছিল খুব বোহেমিয়ান কিন্তু কবিতার ক্ষেত্রে সিরিয়াস। আপাদমস্তক কবি ছিল। ওর ভাবুকতার জায়গাটা ছিল নিবিড়। একটা জীবনদর্শন ছিল ওর কবিতায়। বেশিদিন তো বাঁচল না। দীর্ঘ আয়ু পেলে ও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠত।

স. মা. : কায়েস, হাসান ও গুণ ছাড়া আর কাদের সঙ্গে আপনার ওঠাবসা ছিল?

বু. চৌ. : শেখ আব্দুল হাকিম, ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে। হাকিমের উল্লেখযোগ্য কাজ আছে অনুবাদের ক্ষেত্রে। তবে মিলনের কথা বারবার বলতে হবে। ও ছিল আমার যাকে বলে নিতুই সঙ্গী। কোথায় হাউজি চলছে, কোথায় মদের সঙ্গে শূকরের ভুনা মাংস পাওয়া যাবে এসব খবর আমরা পেয়ে যেতাম। আর মিলন যাওয়ার জন্য এক পায়ে তৈরি থাকত। মিলন, আমার খুব বড় বন্ধু। আজও।

নিভৃতবাসে থাকা এক শক্তিমান কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী। আজীবন নির্মোহ আর ভবঘুরে জীবনের ক্যানভাসে রচনা করেছেন সরলমনের প্রেম-বিরহ, সুখ-দুঃখগাথা। গল্প উপন্যাস শিশুতোষ সাহিত্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ত্রিশাধিক। তাঁর সঙ্গে এই আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলেন সরকার মাসুদ

স. মা. : গড়পড়তা পাঠকের কাছে মিলন জনপ্রিয় লেখক। অন্য অনেক জনপ্রিয় লেখকের মতো নয়, সে সৃষ্টিশীল। পরাধীনতা, নিরন্নের কাল, বারো রকম মানুষ ও এরকম আরও কিছু বই মিলনের উর্বর সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর বহন করছে। বহু আগে ‘ফুলের বয়স’ নামে তার একটা ছোটগল্প পড়েছিলাম, যেখানে একটি কিশোরীর প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার সময়কার অনুভূতি অসাধারণ দক্ষতায় তুলে আনা হয়েছে। তো আপনার কী মনে হয়?

বু. চৌ. : জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান। একটি দৌড় না থাকলে কেউ পপুলার রাইটার হতে পারে না। জনপ্রিয় হলেও মিলনের কাজের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা আছে। অনেক ছোটগল্পেও সে ওস্তাদি দেখিয়েছে।

স. মা. : লেখক জীবনের গোড়ার দিকে কোন কোন লেখক আপনাকে নাড়া দিয়েছিল?

বু. চৌ. : কায়েসের পাল্লায় পড়ে ওই সময় বইপত্র পড়া হতো। পরে তো কল্লোলযুগের প্রধান কথাসাহিত্যিকদের লেখাও পড়েছি। তার পরের লেখকদের মধ্যে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে সমরেশ বসু, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়। ‘শতদল’ নামের এক গল্পসংকলন খুব নাড়া দিয়েছিল। ওটা ছিল দুই খণ্ডের গল্প সংকলন। মোট একশটা গল্প ছিল। ওই বই পড়ে দেখলাম উৎকৃষ্ট গল্পের বিচিত্র রূপ। গল্প যে কতভাবে লেখা যায় এটা বুঝলাম ওই বইটা পড়েই।

স. মা. : মাহমুদুল হক ও রাহাত খান সম্বন্ধে কিছু জানতে চাই।

বু. চৌ. : মাহমুদুল হক লেখকের লেখক। রাহাত খানও গুরুত্বপূর্ণ, বিশষ করে তার ছোটগল্প। সাংবাদিকতা পেশা তার যথেষ্ট ক্ষতি করেছে।

স. মা. : আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও হাসান আজিজুল হক-এর লেখালেখি সম্বন্ধে আপনার কী ধারণা?

বু. চৌ. : ছোটগল্পে অসাধারণ কাজ আছে ইলিয়াসের। তার ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসটি ভবিষ্যতের পাঠক পড়বেন বলে মনে হয়। তবে গদ্য নিয়ে অতো বেশি কসরত তিনি না করলেও পারতেন। হাসান বড় শিল্পী। লেখককে তো শেষাবধি শিল্পীই হতে হয়। তার ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। উপন্যাসে তিনি সুবিধা করতে পারেননি। ‘আগুন পাখি’র স্টাইল আমার কাছে তেমন উল্লেখযোগ্য মনে হয়নি।

স. মা. : বিপ্লব দাশ তো আপনাদের বন্ধু ছিলেন। তার লেখালেখি?

বু. চৌ. তেমন ভালো গল্প বিপ্লব লিখতে পারেননি। ৪/৫ টা মাঝারি মানের গল্প আছে। পুরনো ঢাকার জীবনযাত্রা তার লেখায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তার নির্মিত চরিত্রগুলোর বেশিরভাগই জীবন্ত। তার পরেও গল্পে সে ধাক্কা দিতে পারেনি। তবে ওই যে ‘কিম্পুরুষ’ বইটা, ওটা উল্লেখযোগ্য কাজ। বাংলা ভাষায় হিজড়াদের নিয়ে লেখা সম্ভবত প্রথম উপন্যাস।

স. মা. : সত্তরের প্রজন্মের গল্প তো কমবেশি পড়েছেন। মঞ্জু সরকার, মঈনুল আহসান সাবের, সুশান্ত মজুমদার, নকিব ফিরোজ, আবু সাঈদ জুবেরী- এদের সম্বন্ধে কিছু বলবেন?

বু. চৌ. : মঞ্জুর কয়েকটা গল্প বেশ ভালো। বড় মাপের উপন্যাস লিখতে পারেননি। সাবেরের ক্ষমতা ছিল, সেটা তার প্রথমদিকের গল্প পড়লে বোঝা

যায়। পরেও কয়েকটি ভালো গল্প লিখেছে সে। “সীমাবদ্ধ” বইটাতেও সাবের তার শক্তি দেখিয়েছে। তবে জনপ্রিয়তার মোহ তার বেশ ক্ষতি করেছে।

সুশান্ত মজুমদারের গল্পের একটা ঢঙ আছে, অন্যদের সংগে মিলবে না। ৫/৭ টা প্রথম শ্রেণির গল্প আছে তার। ‘সহমরণ’ নামে একটা গল্পের কথা মনে পড়ছে। যথেষ্ট ভালো লেখা। জুবেরী তো প্রথম পর্যায়ে বেশ উজ্জ্বল ছিল। মানসম্মত গল্প তারও আছে। সে গল্প নিয়ে ভাবে। অভিজ্ঞতাও আছে। কথাসাহিত্যিককে

নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যেতে হয়। এই জায়গায় তার খামতি। সে আবার পুরোদমে লিখতে আরম্ভ করেছে। মনে রাখার মতো কোনো উপন্যাস জুবেরী লিখতেই পারে। নকিবকে আমার জেনুইন লেখক মনে হয়েছে। গল্পে সে যথেষ্ট সিরিয়াস। নিজের ভাবধারা বজায় রাখতে পারে লেখায়। কিন্তু সে লেখালেখির কাজে খুব অনিয়মিত।

স. মা. : সারোয়ার কবীর নামে সত্তরের একজন গল্পকার আছেন। তার সম্বন্ধে কী ধারণা?

বু. চৌ. : সারোয়ার প্রকৃত লেখক। গল্পে তার প্রশংসনীয় কাজ আছে। “মেন্দীপুরের ঝিউরি” নামের লেখাটা আমার মনে আছে। সে “হুকুমের দাস” নামে সম্প্রতি একটা গল্প লিখেছে। অসাধারণ লেখা। সারোয়ারের উচিত বড় লেখায় হাত দেয়া।

স. মা. : আশির প্রজন্মের লেখকদের গল্প পড়েছেন কি?

বু. চৌ. : আশির, মানে আপনাদের জেনারেশনের লেখকদের গল্প খুব কম পড়েছি। জাকিরের (জাকির তালুকদার) দু’একটা গল্প বেশ ভালো লেগেছে। ওর উপন্যাস পড়িনি। নাসরীন জাহানের “উড়ুক্কু”টা সুলিখিত উপন্যাস। আপনার “আওরাবুনিয়ার কাটা”র গল্পগুলো ভিন্ন স্বাদের। কথাসাহিত্যিকের দৃষ্টি ওই বইয়ে

টের পাওয়া যায়। শেখ লুৎফর, পারভেজ হোসেন, মশিউল আলম, আনিসুল হক এদেরও কিছু লেখা উজ্জ্বল। পারভেজের “ডুবোচর” এ সময়ের এক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। পঞ্চাশ থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত যে সংকলনটির পরিকল্পনা করেছি তাতে এদের সবার গল্প আমি রাখবো।

স. মা. : একবার আপনি বলেছিলেন একটা দীর্ঘ সময় লিখতে না পারার কথা। পরে আবার লেখায় ফিরে এসেছিলেন। ওই সময়টার কথা একটু বলুন।

বু. চৌ. : হ্যাঁ, লেখালেখিতে দীর্ঘ খরা এসেছিল জীবনে। ৮-১০ বছর কিছুই লিখতে পারিনি। ওই সময় আমি প্রেস ব্যবসায় ঢুকে পড়ি, জীবিকার তাগিদে।

স. মা. : সেটা কি ‘টুকা কাহিনী’ বেরিয়ে যাওয়ার পর?

বু. চৌ. : হ্যাঁ, ‘টুকা’ বেরোনোর পরের ঘটনা ওটা।

স. মা. : কীভাবে আবার লেখায় ফিরলেন, মানে এত বড় গ্যাপের পর?

বু. চৌ. : হয়েছিল কী, একটা সময় আমার প্রেসেই ইমদাদুল হক মিলন, হুমায়ূন আহমেদ এদের বই ছাপা হতো। কমপক্ষে ৭-৮ হাজার কপি ছাপা হতো। তো আমি ভাবলাম, আমিও তো লিখতে পারি। নিজের ভেতর একটা সাড়া পেলাম। লেখা হলো ‘পাপ-পুণ্যি’। এটা উপন্যাস। মাঝখানে একটা ঘটনা ঘটল। সেটাও আমাকে খুব হেল্প করেছিল।

স. মা. : কী রকম?

বু. চৌ. : শামসুজ্জামান খান ছিলেন আমার শিক্ষক। স্নেহছায়ায় বেঁধে রেখেছিলেন। উনি আমাকে লেখায় উৎসাহ দেওয়া ছাড়াও খোঁজখবর নিতেন। একে তো ছিলাম উড়নচ-ী, তার ওপর মাথায় লেখার ভূত। বাবা ভালো চোখে দেখতেন না বিষয়টা। স্যারকে ব্যাপারটা জানিয়ে ছিলাম। উনি একদিন আমাদের বাসায় এসে হাজির।

স. মা. : দেখা যাচ্ছে শামসুজ্জামান খানের ভূমিকা আপনার জীবনে বিরাট।

বু. চৌ. : তা তো বটেই। জগন্নাথ কলেজের সেই পুরস্কার পাওয়া (বিচারকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন) থেকে আরম্ভ করে বাংলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া পর্যন্ত- আমার জন্য কী না করেছেন তিনি? উনি বললেন, বাংলা একাডেমি তুমি পেয়ে যাচ্ছ বুলবুল। তার ঋণ শোধ হবে না কোনোদিন।

স. মা. : ‘টুকা কাহিনী’ লিখে আপনি সবার নজর কেড়েছিলেন। তার পর গত পঞ্চাশ বছরে আপনার অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য উপন্যাস বেরিয়েছে। প্রথম বই ‘টুকা’র প্রকাশ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী।

বু. চৌ. : বিখ্যাত শেক্সপিয়ার অনুবাদক ও কথাসাহিত্যিক আবু শাহরিয়ার ছিলেন আমার গুরু। প্রধানত তার প্রণোদনাতেই ‘টুকা কাহিনী’ বই হয়ে বেরোয়। প্রণোদনাতেই ‘টুকা কাহিনী’ প্রকাশ পাওয়ার পর ভালো ফিডব্যাক পেয়েছিলাম। অনেকেই ওটা নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেছিলেন। কথাসাহিত্যিক তাপস মজুমদার এক লিটল ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, প্রতিভাবান এক তরুণ কথাসাহিত্যিকের আবির্ভাব ঘটেছে। ভবিষ্যতের দশটি শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পের একটি এই ‘টুকা কাহিনী’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

স. মা. : জিনিয়াস তো আপনার একাধিক বই করেছে?

বু. চৌ. : হ্যাঁ, জিনিয়াস পাবলিকেশনস। রুবেল আগেও আমার বই করেছে। মনটা বড় ওর। ব্যবসা এখনো ততটা জমে ওঠেনি। কিন্তু ও লাইন পেয়ে গেছে। ওর কাছেও আমার অনেক ঋণ।

স. মা. : আমিও তার মনের উদারতার পরিচয় পেয়েছি। আমারও দুটি গল্পের বই উনি করেছেন, আপনি জানেন। আপনার মাধ্যমেই তো তার সঙ্গে আমার পরিচয়। ভালো মানের বই কিছুটা আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেও উনি বের করতে প্রস্তুত। এটা খুব কম প্রকাশকই পারবেন।

বু. চৌ. : রুবেল যদি ঠিকমতো এগোতে পারে, তা হলে মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশক হতে পারবে।

স. মা. : একটু পেছনে যাই, আবুল হাসান-নির্মলেন্দু গুণ ছিলেন মানিকজোড়। পরে হাসানের সঙ্গে আপনার অন্তরঙ্গতা হয়। গুণ ও আপনি দুজনেই হাসানের সঙ্গ চাইতেন। এ নিয়ে কোনো টানাপড়েন হতো না?

বু. চৌ. : তা তো হতোই। ওরা দুজন প্রায়ই এদিক-সেদিক বেরিয়ে পড়ত। আমিও ফিল করতাম, লিখতে হলে বেরোতে হবে। গুণের কাছ থেকে কোথাও যাবে এটা শুনলে হাসানকে আর কেউ আটকে রাখতে পারত না। সেজন্য হাসান আর আমার মাঝখানে গুণ এসে হাজির হলেই মনে হতো, আমার সতীন এসেছে। আবুল হাসানের তো থাকার জায়গা ছিল না। ও প্রায়ই আমার বাসায় রাত কাটাত। সেজন্য ও গুণের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লে আমার খুব খারাপ লাগত।

স. মা. : আপনার লিখতে না পারার দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট পেয়েছেন কার কাছ থেকে?

বু. চৌ. : ওই সময় সবচেয়ে বেশি মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে ধ্রুব। শিল্পী ধ্রুব এষ। শুধু মেন্টাল সাপোর্ট নয়, লেখার উপযোগী নিরিবিলি ঘর, খাবার, পয়সা-কড়ি সব সে দিয়েছে। সে বলত, আপনি লেখেন না ক্যান?

স. মা. : ধ্রুব এষ শুধু বড় মনের মানুষ নন, বড় মাপের শিল্পীও। এ ধরনের শিল্পীদের বড় ক্যানভাসে কাজ করা খুব দরকার।

বু. চৌ. : ধ্রুব জাত শিল্পী- যাকে বলে ভেতর থেকে হয়ে ওঠা।

স. মা. : আপনার সমসাময়িক ও পূর্ববর্তী অনেক লেখকই দরিদ্র লোকের অর্থনৈতিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিলেও তাদের হৃদয়বৃত্তিক অনেক বিষয়ই সেভাবে আনতে পারেননি। আপনার গল্প-উপন্যাসে দেখতে পাই নিম্নবর্গের মানুষদের প্রেম-ভালোবাসাও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত।

বু. চৌ. : কারণ আমি দেখেছি ওই মানুষগুলোর দরিদ্রদশা। তার পেছনের রাজনীতি, সমাজচিত্র এগুলো তো আছেই। অর্থকষ্ট তাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু কেবল ভাত, কাপড়ের কষ্ট নয়, ওদেরও হৃদয়ের কষ্ট আছে। এখন গরিব মানুষ বলে তার প্রকাশও আলাদা। ওটাই ধরতে চেয়েছি আমি।

স. মা. : দেশভাগ অর্থাৎ ১৯৪৭-এর আগের এবং তার পরের কথাসাহিত্যের মধ্যে প্রধান প্রধান কী পার্থক্য আপনার চোখে পড়ে?

বু. চৌ. : দ্যাখেন, পার্টিশনের আগের যে সাহিত্য সেটাই আমাদের লেখালেখির ব্যাকগ্রাউন্ড। সাহিত্যকে সচেতনভাবে শিল্পমণ্ডিত করে তোলার বিষয়টা পরে আসে। আরেকটা কথা, দেশভাগের পর কথাসাহিত্য কারও কারও হাতে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

স. মা. : মানিক, বিভূতি, তারাশঙ্কর- এদের ভেতর কাকে আপনার বেশি পছন্দ?

বু. চৌ. : এটা বলা মুশকিল। তিনজনই অনেক বড় মাপের লেখক।

স. মা. : কোনো শিল্পীই তার কাজে সম্পূর্ণ তুষ্ট হতে পারেন না। তো কথাশিল্পী হিসেবে লেখা হয়ে ওঠার বিষয়টি আপনার কাছে কী রকম?

বু. চৌ. : সরকার, আপনি নিজেও তো লেখেন; একটা কথা জানবেন, গর্ভবতী নারীর যেমন দশ মাস দশ দিন লাগে প্রসব করতে, তেমনি লেখকেরও দশ মাস দশ দিন আছে। মানে অনেকটা সময়, সেটা এক সপ্তাহ হতে পারে, এক মাস হতে পারে, এক বছর বা তার বেশিও হতে পারে, তাকে অতিবাহিত করতে হয়। লিখে ফেলার আগে সে লেখাটা মাথায় নিয়ে ঘোরে দিনের পর দিন।

স. মা. : মানে লেখাটাকে প্রথমে মাথার ভেতর পাকতে দিতে হয়। তার পর ওই পাকা ফলকে নামাতে হয় কাগজের পৃষ্ঠায়।

বু. চৌ. : ঠিক তাই। আগে মাথার ভেতর লেখা হয়।

স. মা. : মোটা দাগে পৃথিবীতে দুধরনের উপন্যাস আছে। একটিতে গুরুত্ব পেয়েছে গল্প, অন্যটিতে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে প্রকাশভঙ্গি। আপনার মতে, উপন্যাসের মূল শক্তি কোথায়?

বু. চৌ. : লেখক যা বলতে চান সেটা এবং তার সঙ্গে উপন্যাসের স্টোরি খুব গুরুত্বপূর্ণ। গল্প যদি নড়বড়ে হয়ে যায় তা হলে কায়দা-কৌশল দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যায় না। আর লেখাটা সুলিখিত না হলে গল্প বলেন, স্টাইল বলেন, কোনোটাই শেষ পর্যন্ত কাজে আসে না।

স. মা. : কেউ যদি আনপার তিনটি উপন্যাস পড়তে চান, কোন বইগুলোর কথা বলবেন?

বু. চৌ. : তিয়াসের লিখন, এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে, পাপ-পুণ্যি।

স. মা. : পঞ্চাশের দশকের আপনার প্রিয় দুজন কথাসাহিত্যিকের নাম বলেন।

বু. চৌ. : আলাউদ্দিন আল আজাদ। আল মাহমুদ। আল মাহমুদের জলবেশ্যা, আজাদের বৃষ্টি... এগুলো খুব উঁচু দরের সাহিত্য।

স. মা. : সৈয়দ শামসুল হক সম্বন্ধে কিছু বলার নেই?

বু. চৌ. : তার গদ্যটা জুতসই মনে হয় না। উনি গল্প বানিয়ে লেখেন। ঠিক ভেতর থেকে হয়ে ওঠা মনে হয় না।

স. মা. : ছোটগল্প ও লেখকের সামর্থ্য বিষয়ে আপনার ধারণা?

বু. চৌ. : ছোটগল্পের পরিসর যেহেতু ছোট, এখানে কথাসাহিত্যিকের ক্ষমতাটা বোঝা যায়।

স. মা. : ঢাকার ষাটের ও সত্তরের দশকের সাহিত্য পরিম-লের আবহাওয়া সম্বন্ধে কিছু বলবেন?

বু. চৌ. : তখন পরিবেশটা অনেক সহনীয় ছিল। শুধু সিনিয়রদের প্রতি নয়, সমসাময়িক অন্যান্য লেখক ও বন্ধু-লেখকের ভেতরেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল। একে অপরকে তুলে ধরার প্রবণতা ছিল। এখন তা বিরল হয়ে গেছে।

স. মা. : নবীন লেখকদের একটা বড় অংশ যত না নিজেদের প্রস্তুত করার পেছনে সময় দিচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন প্রচার-প্রোপাগা-ার পেছনে। এদের ধৈর্যও কম। ভালো কিছুর জন্য এরা অপেক্ষা করে না।

বু. চৌ. : নবীন-প্রবীণ সবাই প্রচার চায়। কিন্তু বয়স ও অভিজ্ঞতা একটা ব্যাপার। মনে রাখতে হবে, সাহিত্যের একটা অঙ্ক আছে। সেটা কেউ শেখাতে পারে না। অঙ্কটা নিজে নিজে শিখতে হয়। শেখার পেছনে সময় দিতে হয়।

স. মা. : আপনার ভালো লেগেছে এমন আরও দু-একটা গল্প বা গল্পের বইয়ের নাম জানতে পারি?

বু. চৌ. : আহমেদ বশরের গল্প, ‘অবশিষ্ট কথা’, সারোয়ার কবীরের গল্প ‘মেন্দিপুরের ঝিউরি’। সারোয়ার এখনো লিখছে। বশরের ক্ষমতা ছিল কিন্তু ওর লেখালেখি সেভাবে আর এগোলো না।

স. মা. : পাঠকের ভালোবাসা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, খ্যাতি যথেষ্ট পেয়েছেন। তো জীবনের এতটা সময় পেরিয়ে আসার পর এখন কী মনে হচ্ছে আপনার?

বু. চৌ. : প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আশা-নিরাশা নিয়েই তো লেখকের জীবন। এখন মনে হয়, যদি আরও খানিকটা সময় পাই তা হলে নতুন করে কিছু ভাবব। আর কিছু পুনর্লেখন, সংযোজন-বিয়োজন এসব তো আছেই। অনেক সময় বাস্তব উপাদান কম থাকলে অনেকখানি কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়, যেমনটা ঘটেছে ‘এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে’ উপন্যাসে। কারণ এই উপন্যাসের বেশ্যা মেয়েটি বাধ্য হয়ে নয়, স্বেচ্ছায় ওই পেশায় এসেছে। যা হোক এটা সাহিত্যিকের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ যে, সে কীভাবে পুরো বিষয়টা সামলাবে।

back to top