alt

উপ-সম্পাদকীয়

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মোস্তাফা জব্বার

: সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

চার ॥

বঙ্গবন্ধু তার জীবনের শেষ লড়াইটা শুরু করেছিলেন চরম দুঃসাহসী দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করে। ‘গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র’ অনুযায়ী দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বন্ধবন্ধু। এই চারটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর সরকারের মূল নীতি যা ৭২-এর সংবিধান হয়ে এখনও রাষ্ট্রীয় চার নীতি হিসেবে রয়েছে। তবে বাস্তবে কোনটা কতটা আছে সেটি বলা কঠিন। নাশকতা, খুন, গুম, লুটপাট, সন্ত্রাস, দুর্নীতি একসময় তাকে বাধ্য করেছে নিজের হাতে ক্ষমতা নিয়ে নিতে, বাকশাল গঠন করতে। ১৮টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাকশাল গঠিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল ছিল দেশের প্রচলিত ধারা বদলে দেয়ার কর্মসূচি। বাকশালকে তিনি ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বলেছিলেন। ১৯৭১ সালে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পর এটি ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির বিপ্লব ছিল। তবে বাকশালের মতো বিপ্লবী উদ্যোগ পৃথিবীর ইতিহাসে অভূতপূর্ব নয়। এর আগেও অনেক দেশে এই জাতীয় কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে যেটি কখনোই হয়নি সেটিই করে দেখালেন বঙ্গবন্ধু। তিনি সেটি করলেন দেশের বিদ্যমান আইন ও সংবিধানের বিধি মেনে-সম্পূর্ণ সাংবিধানিকভাবে। অন্য দেশে সেসব হয়েছে বন্দুকের নলের ডগায়।

সমস্ত মহকুমাগুলোকে তিনি জেলায় রূপান্তর করলেন, সেখানে জেলা গভর্নর নিয়োগ করেন, কারণ আমাদের জেলা ছিল উনিশটা, সেখানে প্রায় ৬০টা জেলা করেন পরবর্তীতে ৬১/৬৪টা হয়। ৬০ জন জেলা গভর্নরও তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং তাদের ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজেই বলেছেন ১৫ জুলাই থেকে এ গভর্নরদের ট্রেনিং শুরু হবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট হয়ে যাবে, এক বছরের মধ্যে থানা এডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল করতে হবে। সেখানে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ অর্থাৎ বাকশালের রিপ্রেজেন্টিটিভ থাকবে। কৃষকের রিপ্রেজেন্টেটিভ থাকবে, শ্রমিকের থাকবে, যুবকের থাকবে, মহিলাদের থাকবে, একজন গভর্নর থাকবে যিনি হবে হেড অব এডমিনিস্ট্রেশন। সেখানে পার্লামেন্টের মেম্বার নয় এমন পলিটিক্যাল ওয়ার্কার হতে পারে, সেখানে সরকারি-কর্মচারী যাকে বিশ্বাস করি তিনি হতে পারেন। নেশানস মাস্ট বি ইউনাইটেড এগেনেস্ট করাপশান। পাবলিক অপিনিয়ন মবিলাইজড না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশান বন্ধ করা যাবে না, এবং সেই সঙ্গে সিস্টেমে পরিবর্তন করতে হবে। ঘুনে ধরা সিস্টেম দিয়ে করাপশন বন্ধ করা যায় না। এ সিস্টেম করাপশন পয়দা করে করাপশন চলে। সেজন্য আমার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক, ভেঙে ফেলে সব নতুন করে গড়তে হবে।

১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু তার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ও কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে বলেন ‘একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের প্রত্যেক বছর ৩০ লাখ লোক বাড়ে। আমার জায়গা হলো ৫৫ হাজার বর্গমাইল। যদি প্রত্যেক বছর ৩০ লাখ লোক বাড়ে তাহলে ২৫-৩০ বছরে বাংলার কোন জমি থাকবে না চাষের জন্য। বাংলার মানুষের বাংলার মানুষের মাংস খাবে, সে জন্য আজকে আমাদের পপুলেশন কন্ট্রোল, ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে হবে। এটা হলো তিন নম্বর কাজ। এক নম্বর হলো দুর্নীতিবাজ খতম করুন। দুই নম্বর হলো কারখানায়-খেতে খামারে প্রোডাকশন বাড়ান, তিন নম্বর পপুলেশন প্ল্যানিং আর চার নম্বর হলো জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য গড়ার জন্য এক দল করা হয়েছে। যারা দেশকে ভালোবাসে, যারা এর আদর্শে বিশ্বাস করে, চারটি রাষ্ট্রীয় আদর্শ মেনে সৎ পথে চলে তারা সবাই এই দলের সদস্য হতে পারবেন। যারা বিদেশি এজেন্ট, যারা বহিঃশত্রুর কাছ থেকে পয়সা নেয় এতে তাদের স্থান নেই। সরকারি কর্মচারীরাও এই দলের সদস্য হতে পারবে। কারণ তারাও এই জাতির একটা অংশ। তাদেরও অধিকার থাকবে এই দলের সদস্য হওয়ার। এই জন্য সবাই যে যেখানে আছি একতাবদ্ধ হয়ে দেশের কাজে লাগাতে হবে।’

অর্থাৎ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুনভাবে সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের উন্নতি করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। একটি শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য বঙ্গবন্ধু বাকশালের কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বাকশালের কর্মসূচি বা মূল লক্ষ্য সম্পর্কে বলুন এমন এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাকশালের কর্মসূচিকে আমি প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক, প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থা।

এক. রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক পেশাভিত্তিক লোকদের জাতীয় দল বাকশালে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রেখেছি এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় দলের একাধিক প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণ তাদের মধ্যে থেকে একজনকে নির্বাচিত করবেন। প্রেসিডেন্ট জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। জাতীয় দলের সদস্য যে কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট পদাধিকার বলে জাতীয় দলের চেয়ারম্যান হবেন। প্রেসিডেন্ট জাতীয় সংসদের আস্থাভাজন একজনকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। সংসদ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের অনাস্থায় প্রেসিডেন্টকে অপসারিত করতে পারবেন। মন্ত্রিসভা প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদের কাছে দায়ী থাকবেন। স্থানীয় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব প্রত্যক্ষভাবে বজায় থাকবে।

দুই. আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক বহুমুখী গ্রাম-সমবায় প্রকল্প। এর মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থ ব্যবস্থায় উন্নয়ন বা স্বনির্ভর- স্বাধীন গ্রামীণ ব্যবস্থা বিশেষ করে ভূমি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমিহীণ কৃষকদের পুনর্বাসন তথা কৃষকদের হাতে জমি হস্তান্তর, উৎপাদন বৃদ্ধি ও সাম্যভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। ভারী শিল্পকারখানা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, বৈদেশিক বাণিজ্য, ব্যাংক, বীমা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি জাতীয়করণ করে জনগণের যৌথ শেয়ার মূলধনে। নতুন নতুন কৃষিজাত শিল্প ও অন্যান্য শিল্পকারখানা ও সংস্থা প্রতিষ্ঠা। সীমিত ব্যাক্তি মালিকানাকে উৎসাহদানের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন সংস্থাসমূহ যাতে জনসাধারণ ও তাদের শ্রমিকদের শোষণ করতে না পারে তার ব্যবস্থা থাকবে।

সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুনভাবে সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের উন্নতি করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু

তিন. প্রশাসনিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, করপোরেশন ও বিভাগগুলোর পুনর্বিন্যাস পুনর্গঠন তথা মাথাভারী প্রশাসনের উচ্ছেদ সাধন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জেলা গভর্নর ও থানা প্রশাসনিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের সব মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ, মহকুমা ও বিভাগীয় প্রশাসনকে তুলে দেয়া হচ্ছে। জেলা ও থানাগুলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে। গ্রাম সমবায় পরিষদ সদস্যদের ভোটে থানা পরিষদ গঠিত হবে। তবে থানা পরিষদের প্রশাসক/চেয়ারম্যান ও জেলা গভর্নর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। থানা প্রশাসক/চেয়ারম্যানরা ও জেলা গভর্নররা জনগণ, স্ব স্ব পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের কাছে দায়ী থাকবেন। গ্রাম সমবায় পরিষদ থানা পরিষদের কাছে থানা পরিষদ জেলা পরিষদের কাছে দায়ী থাকবে। গ্রাম সমবায় পরিষদ, থানা পরিষদ, জেলা পরিষদ - এরপরই থাকবে জাতীয় সরকার। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে জাতীয় সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতাকে বিপুলভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করে প্রশাসনকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেন তিনি। প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র, স্টিলফ্রেম গতানুগতিক বা টাইপড চরিত্রকে ভেঙে গুঁড়ো করে দেবার ব্যবস্থা নেন। তিনি ঘোষণা করেন সরকারি কর্মচারীরা এখন থেকে জনগণের সেবক।

বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্র্টকে রাজধানীতে বহাল রেখে হাইকোর্ট বিভাগকে আটটি আঞ্চলিক বিভাগে বিকেন্দ্রিকরণের ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে সুপ্রিমকোর্টের অধিবেশন বছরে অন্তত একবার করে প্রতিটি আঞ্চলিক বিভাগে (হাইকোর্ট) বসবে। জেলা আদালতসমূহ বহাল থাকবে। প্রতিটি থানাতে থাকবে একাধিক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। প্রত্যেকটি আদালতে যে কোন মামলা ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে মীমাংসা করতে হবে। গ্রামে থাকবে একাধিক সালিশ বোর্ড। সালিশ বোর্ড গঠিত হবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। সালিশ বোর্ড চেয়ারম্যান থাকবেন সরকার নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটরা। এভাবে সুষ্ঠু ন্যায় ও দ্রুততর গণমুখী বিচারকার্য সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রিকরণ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণের পর দেশের পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। অর্থনীতির ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। চালের দাম সের প্রতি আট টাকা থেকে সাড়ে পাঁচ টাকায় নেমে আসে। মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা সূচক খাদ্য মূল্য হ্রাস পায় উল্লেখযোগ্যভাবে। দ্রব্যমূল্যও নামতে থাকে। ভালো আবহাওয়ায় ফসল ভালো হওয়ায় অবস্থার উন্নতি ঘটে। জনমনেও স্বস্তি ফিরে আসে। গ্রামীণ সমবায়, সর্বস্তরে জন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সঙ্গে বাকশাল সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “চৌধুরী সাহেব, ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলাম, কত জেল খাটলাম আর এখন এক পার্টি করতে যাচ্ছি। আগস্ট মাস থেকে বাকশালের কাজ পুরোপুরি শুরু হবে। আমি এটা চাইনি। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। পাকিস্তানপন্থি বিভিন্ন ইসলামী দল এবং অস্ত্রধারী জাসদের গণবাহিনী সর্বহারা পার্টি প্রভৃতি প্রশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভেঙে ফেলার উপক্রম করে ফেলেছে। আমার বহুলোককে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। ঈদের দিন নামাজের মধ্যে হত্যা করা হয় শুনেছেন কখনো? অতএব, অন্য কোন পথ খোলা না দেখে আমি স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের নিয়ে সমমনাদের একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছি। আমার এই এক দলীয় ব্যবস্থা হবে সাময়িক। দেশটাকে প্রতিবিপ্লবীদের হাত থেকে রক্ষা করে আমি আবার গণতন্ত্রে ফিরে যাবো। বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাব।’

ঢাকা। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক]

অপার সম্ভাবনার পর্যটন

ভাবমূর্তির উন্নয়ন

ধর্ম যখন বর্ম

ফল ও সবজি রপ্তানি এবং কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ

আফগানিস্তানে তালেবান ও ভূলুণ্ঠিত মানবাধিকার

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন প্রসঙ্গে

আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য

পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থিদের নেতৃত্বে কারা আসছেন

বোনেরা প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হলে কী করবেন?

ছবি

তালেবানরা উদারপন্থি হচ্ছে কি

ছবি

কারিকুলাম প্রণয়নের চেয়ে বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

দুর্বিনীত লোভের ফাঁদ

কিশোর শিক্ষার্থীদের কোভিড ভ্যাকসিন

সমাপনী পরীক্ষা এবার থেকেই বাদ নয় কেন

ইটিং ডিজঅর্ডার সম্পর্কে জানা জরুরি

ধনী হওয়ার মন্ত্র ও বোকা বানানোর যন্ত্র

মুজিব বাহিনী ও মুজিববাদ

দেশের ইস্পাত শিল্প

আদিবাসীদের শ্মশানও দখল হয়ে গেল

অন্ধকার অতল গহ্বরে আফগান জনগণ

সংকটে রবিদাস জনগোষ্ঠী

প্রশাসনকে মাটির কাছাকাছি আসতে হবে

তালেবানদের সরকার গঠন

যেখানে সময় এসে মানুষকে ধরা দেয়

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত

ছবি

শিক্ষা দিবস

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্যতা ও জঙ্গিবাদ

ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনে ট্রুথ কমিশন

’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও আজকের শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ওজন দিবস

ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন জরুরি

ছবি

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

বেশি দামে সার বিক্রিতে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

হাঁস-মুরগির রোগ ও চিকিৎসা

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স

ছবি

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

tab

উপ-সম্পাদকীয়

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মোস্তাফা জব্বার

সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

চার ॥

বঙ্গবন্ধু তার জীবনের শেষ লড়াইটা শুরু করেছিলেন চরম দুঃসাহসী দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করে। ‘গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র’ অনুযায়ী দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বন্ধবন্ধু। এই চারটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর সরকারের মূল নীতি যা ৭২-এর সংবিধান হয়ে এখনও রাষ্ট্রীয় চার নীতি হিসেবে রয়েছে। তবে বাস্তবে কোনটা কতটা আছে সেটি বলা কঠিন। নাশকতা, খুন, গুম, লুটপাট, সন্ত্রাস, দুর্নীতি একসময় তাকে বাধ্য করেছে নিজের হাতে ক্ষমতা নিয়ে নিতে, বাকশাল গঠন করতে। ১৮টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাকশাল গঠিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল ছিল দেশের প্রচলিত ধারা বদলে দেয়ার কর্মসূচি। বাকশালকে তিনি ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বলেছিলেন। ১৯৭১ সালে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পর এটি ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির বিপ্লব ছিল। তবে বাকশালের মতো বিপ্লবী উদ্যোগ পৃথিবীর ইতিহাসে অভূতপূর্ব নয়। এর আগেও অনেক দেশে এই জাতীয় কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে যেটি কখনোই হয়নি সেটিই করে দেখালেন বঙ্গবন্ধু। তিনি সেটি করলেন দেশের বিদ্যমান আইন ও সংবিধানের বিধি মেনে-সম্পূর্ণ সাংবিধানিকভাবে। অন্য দেশে সেসব হয়েছে বন্দুকের নলের ডগায়।

সমস্ত মহকুমাগুলোকে তিনি জেলায় রূপান্তর করলেন, সেখানে জেলা গভর্নর নিয়োগ করেন, কারণ আমাদের জেলা ছিল উনিশটা, সেখানে প্রায় ৬০টা জেলা করেন পরবর্তীতে ৬১/৬৪টা হয়। ৬০ জন জেলা গভর্নরও তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং তাদের ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজেই বলেছেন ১৫ জুলাই থেকে এ গভর্নরদের ট্রেনিং শুরু হবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট হয়ে যাবে, এক বছরের মধ্যে থানা এডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল করতে হবে। সেখানে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ অর্থাৎ বাকশালের রিপ্রেজেন্টিটিভ থাকবে। কৃষকের রিপ্রেজেন্টেটিভ থাকবে, শ্রমিকের থাকবে, যুবকের থাকবে, মহিলাদের থাকবে, একজন গভর্নর থাকবে যিনি হবে হেড অব এডমিনিস্ট্রেশন। সেখানে পার্লামেন্টের মেম্বার নয় এমন পলিটিক্যাল ওয়ার্কার হতে পারে, সেখানে সরকারি-কর্মচারী যাকে বিশ্বাস করি তিনি হতে পারেন। নেশানস মাস্ট বি ইউনাইটেড এগেনেস্ট করাপশান। পাবলিক অপিনিয়ন মবিলাইজড না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশান বন্ধ করা যাবে না, এবং সেই সঙ্গে সিস্টেমে পরিবর্তন করতে হবে। ঘুনে ধরা সিস্টেম দিয়ে করাপশন বন্ধ করা যায় না। এ সিস্টেম করাপশন পয়দা করে করাপশন চলে। সেজন্য আমার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক, ভেঙে ফেলে সব নতুন করে গড়তে হবে।

১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু তার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ও কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে বলেন ‘একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের প্রত্যেক বছর ৩০ লাখ লোক বাড়ে। আমার জায়গা হলো ৫৫ হাজার বর্গমাইল। যদি প্রত্যেক বছর ৩০ লাখ লোক বাড়ে তাহলে ২৫-৩০ বছরে বাংলার কোন জমি থাকবে না চাষের জন্য। বাংলার মানুষের বাংলার মানুষের মাংস খাবে, সে জন্য আজকে আমাদের পপুলেশন কন্ট্রোল, ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে হবে। এটা হলো তিন নম্বর কাজ। এক নম্বর হলো দুর্নীতিবাজ খতম করুন। দুই নম্বর হলো কারখানায়-খেতে খামারে প্রোডাকশন বাড়ান, তিন নম্বর পপুলেশন প্ল্যানিং আর চার নম্বর হলো জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য গড়ার জন্য এক দল করা হয়েছে। যারা দেশকে ভালোবাসে, যারা এর আদর্শে বিশ্বাস করে, চারটি রাষ্ট্রীয় আদর্শ মেনে সৎ পথে চলে তারা সবাই এই দলের সদস্য হতে পারবেন। যারা বিদেশি এজেন্ট, যারা বহিঃশত্রুর কাছ থেকে পয়সা নেয় এতে তাদের স্থান নেই। সরকারি কর্মচারীরাও এই দলের সদস্য হতে পারবে। কারণ তারাও এই জাতির একটা অংশ। তাদেরও অধিকার থাকবে এই দলের সদস্য হওয়ার। এই জন্য সবাই যে যেখানে আছি একতাবদ্ধ হয়ে দেশের কাজে লাগাতে হবে।’

অর্থাৎ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুনভাবে সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের উন্নতি করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। একটি শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য বঙ্গবন্ধু বাকশালের কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বাকশালের কর্মসূচি বা মূল লক্ষ্য সম্পর্কে বলুন এমন এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাকশালের কর্মসূচিকে আমি প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক, প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থা।

এক. রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক পেশাভিত্তিক লোকদের জাতীয় দল বাকশালে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রেখেছি এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় দলের একাধিক প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণ তাদের মধ্যে থেকে একজনকে নির্বাচিত করবেন। প্রেসিডেন্ট জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। জাতীয় দলের সদস্য যে কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট পদাধিকার বলে জাতীয় দলের চেয়ারম্যান হবেন। প্রেসিডেন্ট জাতীয় সংসদের আস্থাভাজন একজনকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। সংসদ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের অনাস্থায় প্রেসিডেন্টকে অপসারিত করতে পারবেন। মন্ত্রিসভা প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদের কাছে দায়ী থাকবেন। স্থানীয় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব প্রত্যক্ষভাবে বজায় থাকবে।

দুই. আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক বহুমুখী গ্রাম-সমবায় প্রকল্প। এর মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থ ব্যবস্থায় উন্নয়ন বা স্বনির্ভর- স্বাধীন গ্রামীণ ব্যবস্থা বিশেষ করে ভূমি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমিহীণ কৃষকদের পুনর্বাসন তথা কৃষকদের হাতে জমি হস্তান্তর, উৎপাদন বৃদ্ধি ও সাম্যভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। ভারী শিল্পকারখানা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, বৈদেশিক বাণিজ্য, ব্যাংক, বীমা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি জাতীয়করণ করে জনগণের যৌথ শেয়ার মূলধনে। নতুন নতুন কৃষিজাত শিল্প ও অন্যান্য শিল্পকারখানা ও সংস্থা প্রতিষ্ঠা। সীমিত ব্যাক্তি মালিকানাকে উৎসাহদানের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন সংস্থাসমূহ যাতে জনসাধারণ ও তাদের শ্রমিকদের শোষণ করতে না পারে তার ব্যবস্থা থাকবে।

সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুনভাবে সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের উন্নতি করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু

তিন. প্রশাসনিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, করপোরেশন ও বিভাগগুলোর পুনর্বিন্যাস পুনর্গঠন তথা মাথাভারী প্রশাসনের উচ্ছেদ সাধন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জেলা গভর্নর ও থানা প্রশাসনিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের সব মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ, মহকুমা ও বিভাগীয় প্রশাসনকে তুলে দেয়া হচ্ছে। জেলা ও থানাগুলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে। গ্রাম সমবায় পরিষদ সদস্যদের ভোটে থানা পরিষদ গঠিত হবে। তবে থানা পরিষদের প্রশাসক/চেয়ারম্যান ও জেলা গভর্নর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। থানা প্রশাসক/চেয়ারম্যানরা ও জেলা গভর্নররা জনগণ, স্ব স্ব পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের কাছে দায়ী থাকবেন। গ্রাম সমবায় পরিষদ থানা পরিষদের কাছে থানা পরিষদ জেলা পরিষদের কাছে দায়ী থাকবে। গ্রাম সমবায় পরিষদ, থানা পরিষদ, জেলা পরিষদ - এরপরই থাকবে জাতীয় সরকার। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে জাতীয় সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতাকে বিপুলভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করে প্রশাসনকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেন তিনি। প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র, স্টিলফ্রেম গতানুগতিক বা টাইপড চরিত্রকে ভেঙে গুঁড়ো করে দেবার ব্যবস্থা নেন। তিনি ঘোষণা করেন সরকারি কর্মচারীরা এখন থেকে জনগণের সেবক।

বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্র্টকে রাজধানীতে বহাল রেখে হাইকোর্ট বিভাগকে আটটি আঞ্চলিক বিভাগে বিকেন্দ্রিকরণের ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে সুপ্রিমকোর্টের অধিবেশন বছরে অন্তত একবার করে প্রতিটি আঞ্চলিক বিভাগে (হাইকোর্ট) বসবে। জেলা আদালতসমূহ বহাল থাকবে। প্রতিটি থানাতে থাকবে একাধিক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। প্রত্যেকটি আদালতে যে কোন মামলা ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে মীমাংসা করতে হবে। গ্রামে থাকবে একাধিক সালিশ বোর্ড। সালিশ বোর্ড গঠিত হবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। সালিশ বোর্ড চেয়ারম্যান থাকবেন সরকার নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটরা। এভাবে সুষ্ঠু ন্যায় ও দ্রুততর গণমুখী বিচারকার্য সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রিকরণ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণের পর দেশের পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। অর্থনীতির ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। চালের দাম সের প্রতি আট টাকা থেকে সাড়ে পাঁচ টাকায় নেমে আসে। মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা সূচক খাদ্য মূল্য হ্রাস পায় উল্লেখযোগ্যভাবে। দ্রব্যমূল্যও নামতে থাকে। ভালো আবহাওয়ায় ফসল ভালো হওয়ায় অবস্থার উন্নতি ঘটে। জনমনেও স্বস্তি ফিরে আসে। গ্রামীণ সমবায়, সর্বস্তরে জন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সঙ্গে বাকশাল সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “চৌধুরী সাহেব, ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলাম, কত জেল খাটলাম আর এখন এক পার্টি করতে যাচ্ছি। আগস্ট মাস থেকে বাকশালের কাজ পুরোপুরি শুরু হবে। আমি এটা চাইনি। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। পাকিস্তানপন্থি বিভিন্ন ইসলামী দল এবং অস্ত্রধারী জাসদের গণবাহিনী সর্বহারা পার্টি প্রভৃতি প্রশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভেঙে ফেলার উপক্রম করে ফেলেছে। আমার বহুলোককে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। ঈদের দিন নামাজের মধ্যে হত্যা করা হয় শুনেছেন কখনো? অতএব, অন্য কোন পথ খোলা না দেখে আমি স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের নিয়ে সমমনাদের একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছি। আমার এই এক দলীয় ব্যবস্থা হবে সাময়িক। দেশটাকে প্রতিবিপ্লবীদের হাত থেকে রক্ষা করে আমি আবার গণতন্ত্রে ফিরে যাবো। বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাব।’

ঢাকা। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক]

back to top