alt

উপ-সম্পাদকীয়

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

নাজমুল হুদা খান

: বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
image

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ধাপে ধাপে খুলেছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ। করোনার বৈশ্বিক অতিমারী বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ২২৯টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ ছিল। ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী এ অতিমারীর কারণে বিশ্বে ১৬ কোটি শিশু স্কুলজীবন শুরু করতে পারেনি। বাংলাদেশে এর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

দেশে করোনা অতিমারীর প্রকোপ বিভিন্ন পর্যায়ে কিছুটা কমতির লক্ষণ দেখা দিলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খোলার চেষ্টা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ব্যাহত করে দেয়। এ পর্যায়ে করোনা সংক্রমণের সর্বশেষ তথ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্র সিডিসি এবং দেশের করোনাবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ও পরামর্শ মোতাবেক ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন ধাপে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ/ খোলার বিষয়ে মতামত ও তথ্য : সায়েন্স মার্স জার্নাল ২০৬টি গবেষণা বিশ্লেষণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় দেশের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পায় বলে মতপ্রকাশ করে এবং এ হার জাতীয়ভাবে মোট সংক্রমণ হ্রাসের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা কোন দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য তেমন একটা দায়ী নয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ দিনের বিরতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিক স্তরের জন্য সংক্রমণ ১.৭ গুণ এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাজ্যে ক্লাসে অর্ধেক শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম চালানোয় সংক্রমণের হার বাড়েনি। তবে মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের ক্ষেত্রে সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া করোনা সংক্রমণের প্রথম দিকে ছাত্রদের Super Spreader হিসেবে অভিহিত করলেও বিভিন্ন গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়নি। স্কুল খোলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বেশ ক’টি স্কুলের প্রায় ৯০,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩২ জন করোনা আক্রান্ত হয়। অন্য একটি জরিপে ২০ হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র দুজনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়। তবে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার্থীরা যেহেতু বেশি সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসে, তাই এসব শিক্ষার্থীরা সামাজিক সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশে অনুসৃত নীতিমালা : ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং করোনা সংক্রমণের হার যাতে বদ্ধি না পায় সে লক্ষ্যে নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়। এ নীতিমালায় প্রধানত ৩টি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া করা হয়। যথা : তুলনামূলক অধিক ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর স্তর, শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচি ও শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যার হ্রাস এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।

কিছু কিছু দেশ সংক্রমণের ওপর কম প্রভাব বিস্তার করে এমন উপাত্তের ভিত্তিতে শুধু প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়। কতক দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যথা : পাবলিক পরীক্ষা ইত্যাদির নিরিখে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। সময়সূচির প্রেক্ষিতে ক্লাস শুরু, বিরতি ও ছুটির সময়কে শ্রেণীভেদে আলাদা করা এবং কতক অঞ্চলে ক্লাসের শিফট ও দিবসের পরিবর্তন আনা হয়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযোজ্যদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধানে বাধ্যবাধকতা, তাপমাত্রা পরীক্ষা, ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস বা সেকশন সংখ্যা বদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিতকরণ, উপসর্গযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশ না নেয়া এবং করোনা স্ক্রিনিং ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে অনেক দেশে সংক্রমণ হার বদ্ধি পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরায় বন্ধ করে দেয় হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো যৌথ নির্দেশাবলীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য বিভিন্ন স্তর যথা- ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের যৌথ অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

সামাজিক ভূমিকা : স্থানীয় ও জাতীয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে যথাযথ দিক নির্দেশনা, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্কুলে না পাঠানো, অযথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় ভিড় বা জমায়েত না করা এবং স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগকে সাফল্যে পরিণত করার সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম : করোনা অতিমারীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকে ফলপ্রসূ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের রয়েছে মুখ্য ভূমিকা। করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রমণ হ্রাসে সহায়ক। যথা :-

-স্কুল কার্যক্রমের সময়সূচি যথা : আরম্ভ, বিরতি, ছুটি ইত্যাদিতে ভিন্নতা আনয়নের মাধ্যমে জমায়েত পরিহার ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সংক্রমণ হ্রাসে সহায়ক।

-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ/ বাহির হওয়ার ভিন্ন পথ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়া থেকে দূরে রাখে এবং সংক্রমণ হ্রাসে সহায়তা করে।

-স্কুলের পরিচ্ছন্নতা ও আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করোনা সংক্রমণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

-মাস্ক করোনা প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। বয়সভেদে জাতীয় নীতিমালা অনুসরণে শিক্ষার্থীকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

-স্কুলের পরিবহনসমূহে গণপরিবহনের ন্যায় করোনা বিস্তারে ভূমিকা রাখে সুতরাং পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

-স্কুলে আগত সব শিক্ষক/স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা ও উপসর্গ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।

-শিক্ষক, স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত করে সুরক্ষা বলয়, ক্যাপসুল, সার্কেল বা স্কোয়াড ইত্যাদিতে ভাগ করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ফলপ্রসূ করতে সাফল্য পাওয়া যায়।

-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতামূলক মোটিভেশন ক্লাসের আয়োজন করতে হবে।

-স্কুলে আইসোলেশন কক্ষের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের স্ক্রিনিংয়ের জন্য মেডিকেল টিম ও সিক রুমের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

-শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

-জাতীয় নীতিমালা মোতাবেক সব শিক্ষক, স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে।

শ্রেণীকক্ষের সুরক্ষা ব্যবস্থা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষই মূলত সংক্রমণের প্রধান ক্ষেত্র। সংক্রমণ হ্রাসে ক্লাসরুমসমূহে করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে- ক্লাসরুমসমূহে মাস্ক পরিধান, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা, ঘন ঘন হাত ধোয়া, হাঁচি/কাশির সৌজন্যতা, ক্লাস ও ক্লাসের আসবাবপত্র পরিচ্ছন্নতা, আলো বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি।

৯ দফা নির্দেশনা প্রণয়নে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি : এ কমিটি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াকে স্বাগত জানিয়ে ৯ দফার একটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিবেচনায় রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ৫ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী ছাড়া সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, হাত ধোঁয়া ও সাধারণ পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা, বিদ্যালয়ে সব ধরনের জনসমাগম জনিত কর্মসূচি বন্ধ রাখা, পরীক্ষার্থীরা ছাড়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে ১/২ দিন চালু রাখা, সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান, স্কুলে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং এবং সব বিধিনিষেধ নিশ্চিতকল্পে মনিটরিং টিম গঠন ইত্যাদি।

বাউশির ১৯ দিফা নির্দেশনা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১৯ দফা দিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (বাউশি)। তন্মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সবাইকে মাস্ক পরিধান, হাত ধোঁয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা; প্রতিষ্ঠানে ঢোকার সময় সবার তাপমাত্রা পরীক্ষণ, প্রতি স্কুলে আইসোলেশন কক্ষ স্থাপন, ক্লাসরুমে শারীরিক দূরত্ব বজায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাসরুমের সব স্থানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, করোনা সচেতনতামূলক পোস্টার, ব্যানার স্থাপন এবং স্বাস্থ্যবিধি পালনে নজরদারির জন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন এবং ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে মিটিং করে যৌথ উদ্যোগে সব কার্যক্রম সফল করা ইত্যাদি।

মহামারীর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ইতিহাস নতুন নয়। নিকট অতীতে শত বছর আগেও আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক দেশে স্কুল বন্ধ রাখা, অতঃপর খোলা আকাশের নিচে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ইতিহাস রয়েছে। ভয়ঙ্কর করোনা অতিমারীতে বাংলাদেশসহ দুই শতাধিক দেশে বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। সংক্রমণের হার প্রায় ১০% থাকার পরও আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে করোনার ব্যপক সংক্রমণ সত্ত্বেও মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রেখে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ঠ সবার ঐকান্তিক সহযোগিতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার এ উদ্যোগ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মতোই সফল হবে এটি আমাদের বিশ্বাস। গত দেড় বছরের অধিক সময়ব্যাপী করোনা যুদ্ধে একে প্রতিরোধের সব কৌশল আমাদের জানা রয়েছে। উপরন্তু কোভিড-১৯ জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপাত্তের আলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এসব নির্দেশনার যথাযথ নিশ্চিতকরণ সম্ভব। আসুন আমরা সবাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে করোনাকালে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজ নিজ দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালনে সচেষ্ট হই।

[লেখক : সহকারী পরিচালক, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল]

অপার সম্ভাবনার পর্যটন

ভাবমূর্তির উন্নয়ন

ধর্ম যখন বর্ম

ফল ও সবজি রপ্তানি এবং কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ

আফগানিস্তানে তালেবান ও ভূলুণ্ঠিত মানবাধিকার

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন প্রসঙ্গে

আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য

পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থিদের নেতৃত্বে কারা আসছেন

বোনেরা প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হলে কী করবেন?

ছবি

তালেবানরা উদারপন্থি হচ্ছে কি

ছবি

কারিকুলাম প্রণয়নের চেয়ে বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

দুর্বিনীত লোভের ফাঁদ

কিশোর শিক্ষার্থীদের কোভিড ভ্যাকসিন

সমাপনী পরীক্ষা এবার থেকেই বাদ নয় কেন

ইটিং ডিজঅর্ডার সম্পর্কে জানা জরুরি

ধনী হওয়ার মন্ত্র ও বোকা বানানোর যন্ত্র

মুজিব বাহিনী ও মুজিববাদ

দেশের ইস্পাত শিল্প

আদিবাসীদের শ্মশানও দখল হয়ে গেল

অন্ধকার অতল গহ্বরে আফগান জনগণ

সংকটে রবিদাস জনগোষ্ঠী

প্রশাসনকে মাটির কাছাকাছি আসতে হবে

তালেবানদের সরকার গঠন

যেখানে সময় এসে মানুষকে ধরা দেয়

পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত

ছবি

শিক্ষা দিবস

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শূন্যতা ও জঙ্গিবাদ

ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনে ট্রুথ কমিশন

’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও আজকের শিক্ষা

আন্তর্জাতিক ওজন দিবস

ভূমিসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন জরুরি

বেশি দামে সার বিক্রিতে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষক

হাঁস-মুরগির রোগ ও চিকিৎসা

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স

ছবি

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মহামারীকালে মানসিক স্বাস্থ্য

tab

উপ-সম্পাদকীয়

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

নাজমুল হুদা খান

image

বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ধাপে ধাপে খুলেছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ। করোনার বৈশ্বিক অতিমারী বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ২২৯টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ ছিল। ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী এ অতিমারীর কারণে বিশ্বে ১৬ কোটি শিশু স্কুলজীবন শুরু করতে পারেনি। বাংলাদেশে এর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

দেশে করোনা অতিমারীর প্রকোপ বিভিন্ন পর্যায়ে কিছুটা কমতির লক্ষণ দেখা দিলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খোলার চেষ্টা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ব্যাহত করে দেয়। এ পর্যায়ে করোনা সংক্রমণের সর্বশেষ তথ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্র সিডিসি এবং দেশের করোনাবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ও পরামর্শ মোতাবেক ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন ধাপে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ/ খোলার বিষয়ে মতামত ও তথ্য : সায়েন্স মার্স জার্নাল ২০৬টি গবেষণা বিশ্লেষণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় দেশের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পায় বলে মতপ্রকাশ করে এবং এ হার জাতীয়ভাবে মোট সংক্রমণ হ্রাসের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা কোন দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য তেমন একটা দায়ী নয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ দিনের বিরতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিক স্তরের জন্য সংক্রমণ ১.৭ গুণ এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাজ্যে ক্লাসে অর্ধেক শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম চালানোয় সংক্রমণের হার বাড়েনি। তবে মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের ক্ষেত্রে সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া করোনা সংক্রমণের প্রথম দিকে ছাত্রদের Super Spreader হিসেবে অভিহিত করলেও বিভিন্ন গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়নি। স্কুল খোলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বেশ ক’টি স্কুলের প্রায় ৯০,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩২ জন করোনা আক্রান্ত হয়। অন্য একটি জরিপে ২০ হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র দুজনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়। তবে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার্থীরা যেহেতু বেশি সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসে, তাই এসব শিক্ষার্থীরা সামাজিক সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশে অনুসৃত নীতিমালা : ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং করোনা সংক্রমণের হার যাতে বদ্ধি না পায় সে লক্ষ্যে নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়। এ নীতিমালায় প্রধানত ৩টি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া করা হয়। যথা : তুলনামূলক অধিক ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর স্তর, শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচি ও শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যার হ্রাস এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।

কিছু কিছু দেশ সংক্রমণের ওপর কম প্রভাব বিস্তার করে এমন উপাত্তের ভিত্তিতে শুধু প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়। কতক দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যথা : পাবলিক পরীক্ষা ইত্যাদির নিরিখে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। সময়সূচির প্রেক্ষিতে ক্লাস শুরু, বিরতি ও ছুটির সময়কে শ্রেণীভেদে আলাদা করা এবং কতক অঞ্চলে ক্লাসের শিফট ও দিবসের পরিবর্তন আনা হয়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযোজ্যদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধানে বাধ্যবাধকতা, তাপমাত্রা পরীক্ষা, ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস বা সেকশন সংখ্যা বদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিতকরণ, উপসর্গযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশ না নেয়া এবং করোনা স্ক্রিনিং ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে অনেক দেশে সংক্রমণ হার বদ্ধি পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরায় বন্ধ করে দেয় হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো যৌথ নির্দেশাবলীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য বিভিন্ন স্তর যথা- ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের যৌথ অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

সামাজিক ভূমিকা : স্থানীয় ও জাতীয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে যথাযথ দিক নির্দেশনা, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্কুলে না পাঠানো, অযথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় ভিড় বা জমায়েত না করা এবং স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগকে সাফল্যে পরিণত করার সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম : করোনা অতিমারীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকে ফলপ্রসূ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের রয়েছে মুখ্য ভূমিকা। করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রমণ হ্রাসে সহায়ক। যথা :-

-স্কুল কার্যক্রমের সময়সূচি যথা : আরম্ভ, বিরতি, ছুটি ইত্যাদিতে ভিন্নতা আনয়নের মাধ্যমে জমায়েত পরিহার ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সংক্রমণ হ্রাসে সহায়ক।

-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ/ বাহির হওয়ার ভিন্ন পথ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়া থেকে দূরে রাখে এবং সংক্রমণ হ্রাসে সহায়তা করে।

-স্কুলের পরিচ্ছন্নতা ও আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করোনা সংক্রমণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

-মাস্ক করোনা প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। বয়সভেদে জাতীয় নীতিমালা অনুসরণে শিক্ষার্থীকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

-স্কুলের পরিবহনসমূহে গণপরিবহনের ন্যায় করোনা বিস্তারে ভূমিকা রাখে সুতরাং পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

-স্কুলে আগত সব শিক্ষক/স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা ও উপসর্গ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।

-শিক্ষক, স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত করে সুরক্ষা বলয়, ক্যাপসুল, সার্কেল বা স্কোয়াড ইত্যাদিতে ভাগ করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ফলপ্রসূ করতে সাফল্য পাওয়া যায়।

-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতামূলক মোটিভেশন ক্লাসের আয়োজন করতে হবে।

-স্কুলে আইসোলেশন কক্ষের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের স্ক্রিনিংয়ের জন্য মেডিকেল টিম ও সিক রুমের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

-শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

-জাতীয় নীতিমালা মোতাবেক সব শিক্ষক, স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে।

শ্রেণীকক্ষের সুরক্ষা ব্যবস্থা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষই মূলত সংক্রমণের প্রধান ক্ষেত্র। সংক্রমণ হ্রাসে ক্লাসরুমসমূহে করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে- ক্লাসরুমসমূহে মাস্ক পরিধান, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা, ঘন ঘন হাত ধোয়া, হাঁচি/কাশির সৌজন্যতা, ক্লাস ও ক্লাসের আসবাবপত্র পরিচ্ছন্নতা, আলো বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি।

৯ দফা নির্দেশনা প্রণয়নে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি : এ কমিটি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াকে স্বাগত জানিয়ে ৯ দফার একটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিবেচনায় রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ৫ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী ছাড়া সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, হাত ধোঁয়া ও সাধারণ পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা, বিদ্যালয়ে সব ধরনের জনসমাগম জনিত কর্মসূচি বন্ধ রাখা, পরীক্ষার্থীরা ছাড়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে ১/২ দিন চালু রাখা, সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান, স্কুলে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং এবং সব বিধিনিষেধ নিশ্চিতকল্পে মনিটরিং টিম গঠন ইত্যাদি।

বাউশির ১৯ দিফা নির্দেশনা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১৯ দফা দিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (বাউশি)। তন্মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সবাইকে মাস্ক পরিধান, হাত ধোঁয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা; প্রতিষ্ঠানে ঢোকার সময় সবার তাপমাত্রা পরীক্ষণ, প্রতি স্কুলে আইসোলেশন কক্ষ স্থাপন, ক্লাসরুমে শারীরিক দূরত্ব বজায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাসরুমের সব স্থানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, করোনা সচেতনতামূলক পোস্টার, ব্যানার স্থাপন এবং স্বাস্থ্যবিধি পালনে নজরদারির জন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন এবং ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে মিটিং করে যৌথ উদ্যোগে সব কার্যক্রম সফল করা ইত্যাদি।

মহামারীর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ইতিহাস নতুন নয়। নিকট অতীতে শত বছর আগেও আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক দেশে স্কুল বন্ধ রাখা, অতঃপর খোলা আকাশের নিচে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ইতিহাস রয়েছে। ভয়ঙ্কর করোনা অতিমারীতে বাংলাদেশসহ দুই শতাধিক দেশে বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। সংক্রমণের হার প্রায় ১০% থাকার পরও আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে করোনার ব্যপক সংক্রমণ সত্ত্বেও মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রেখে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ঠ সবার ঐকান্তিক সহযোগিতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার এ উদ্যোগ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মতোই সফল হবে এটি আমাদের বিশ্বাস। গত দেড় বছরের অধিক সময়ব্যাপী করোনা যুদ্ধে একে প্রতিরোধের সব কৌশল আমাদের জানা রয়েছে। উপরন্তু কোভিড-১৯ জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপাত্তের আলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এসব নির্দেশনার যথাযথ নিশ্চিতকরণ সম্ভব। আসুন আমরা সবাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে করোনাকালে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজ নিজ দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালনে সচেষ্ট হই।

[লেখক : সহকারী পরিচালক, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল]

back to top