alt

উপ-সম্পাদকীয়

ভাবমূর্তির উন্নয়ন

শেখর ভট্টাচার্য

: রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে সচেতন নাগরিকেরা সারা বছরই নানাভাবে সরব থাকেন। সরকারি দলের সমর্থকরা সরকারের সব উদ্যোগের মধ্যেই দেশের ভাবমূর্তির উজ্জ্বলতা খুঁজে বেড়ান। বিরোধী দলের সদস্যরা কোন কিছুতেই বিশেষ করে সরকারের কোন উদ্যোগেই ভাবমূর্তির উন্নয়ন খুঁজে পান না। দু’পক্ষই চরমপন্থি। ভাবমূর্তি নিয়ে জমজমাট উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয় আমাদের মূল ধারার গণমাধ্যমের টকশোগুলোতে। আমাদের টিভি টকশো, একসময় বেশ আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান ছিল। কোন কোন চ্যানেলের টকশো উপভোগ করার জন্য মানুষ উদগ্রীব হয়ে বসে থাকত। অনেক খ্যাতিমান, বিদ্যান এবং নির্মোহভাবে আলোচনা করার মতো মানুষেরা আসতেন টকশোগুলোতে। তাদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক হতো কিন্তু সৌজন্যের সীমা কখনো লঙ্ঘন হতে দেখা যেত না। সাম্প্রতিককালের টকশোগুলোর আলোচকরা নিজেদের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার জন্য যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে আবির্ভূত হন। তাদের চেহারা দেখেই দর্শকরা বুঝতে পারেন কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা কী আলোচনা করতে এসেছেন। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই যদি দর্শক অনুমান করতে পারেন কী আলোচনা হবে এবং কীভাবে আলোচনা হবে, তাহলে নিশ্চয়ই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দর্শকদের খুব বেশি আকর্ষণ থাকতে পারে না। টকশোগুলোতে কখনো কখনো সৌজন্যের সীমা এমনভাবে লঙ্ঘিত হয় যে “ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ”, “ফরেস্ট পুলিশের” মতো যদি “গণমাধ্যম পুলিশ” বলে কোন বাহিনী থাকতো তাদের হয়তো উপস্থাপক ডেকে নিয়ে আসতেন।

ভাবমূর্তি নিয়ে এত আলোচনা কেন? ইতিবাচকভাবে ভাবলে “দেশের ভাবমূর্তির” জন্য নাগরিক সমাজ কিছুটা অনুভূতি প্রবণ হয়ে থাকেন। সামষ্টিক এবং ব্যক্তিগত যে কোন বিশেষ ধরনের অর্জন যা দেশ বিদেশের মানুষের কাছে উদাহরণ তৈরি করে, সে রকম অর্জনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় বলে সবার ধারণা। ভাবমূর্তি কি শুধু উজ্জ্বল হয়? সচেতন পাঠকেরা খুব ভালো জানেন, নেতিবাচক কাজ কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনৈতিক কাজ যা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, সে ধরনের কাজ দেশের ভাবমূর্তিকে দ্রুত ম্লান করতে সক্ষম।

সম্প্রতি প্রকৃত অর্থে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি ভেবেছিলাম আমাদের গণমাধ্যমে শুভ শক্তি সম্পন্ন মানুষেরা ব্যাপকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি হতাশ হলাম গণমাধ্যমে প্রত্যাশিত সাড়া না দেখে। গণমাধ্যম কী বিশ্বাস করে নেতিবাচক সংবাদই আকর্ষণীয় সংবাদ, ইতিবাচক বিষয় প্রকৃত পক্ষে কোন সংবাদ নয়। করপোরেট সংস্থার নির্বাহীদের ভাবনা কি চেপে বসলো আমাদের গণমাধ্যমে। যে কথাটি বলছিলাম, ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো ঘটনা। সম্প্রতি আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের দুজন তারকা, বিশ্বের একটি স্বনামধন্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিখ্যাত পরিচালকের চলচ্চিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন, এ ঘটনাটিই আমার কাছে স্বাধীন দেশের আত্মসম্মান সম্পন্ন নাগরিকের একটি ইতিবাচক কাজ হিসাবে মনে হয়েছে।

অনেকেই বলবেন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনা তো হরহামেশাই ঘটে থাকে, এটি কেন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো ঘটনা? প্রতিযোগিতামূলক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুখিয়ে থাকে। খ্যাতি এবং অর্থযোগ যেখানে প্রবল সেখানে বেশিরভাগ মানুষই নীতি, মূল্যবোধ ত্যাগ করতে এক মুহূর্তও চিন্তা করেন না। আমাদের দুজন তারকা কিন্তু সে পথে হাটেননি। তারা নির্দ্বিধায় লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ম্লান হওয়ার মতো কাহিনী নিয়ে যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ হবে মুবাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সে রকম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলেন তারা; দেশপ্রেম, দেশকে ভালোবাসা শর্তহীন, এ ভালোবাসার তাগিদে তারা দুবার ভাবেননি এ রকম লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করত।

ভাবমূর্তি ম্লান করার যে কোন প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে সবাই মিলে। ভাবমূর্তি নিয়ে শুধু উদ্দেশ্যমূলক আলোচনা না করে সেটাকে উজ্জ্বলতর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে

মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রথমে প্রস্তাব পান আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সম্ভাবনাময় নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। বলিউডের অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ও বিখ্যাত পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ, যার কাছ থেকে ডাক পাওয়ার জন্য মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকারা দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকেন, তাকে অপারগতা জানাতে খুব বেশি ভাবেননি মিম। গত ঈদের পর বিদ্যা সিনহা মিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি বলেন ‘ঈদের আগে একটি মেইল পাই। কাস্টিং ডিরেক্টর সোফিয়া খান আমার সঙ্গে কথা বলেন। আমার চরিত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। গল্পটি পড়ার পর দেখি, এটা পলিটিক্যাল ঘরানার গল্প। গল্পে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং আরও কিছু বিষয়ে সঠিকভাবে না জেনে গল্পটি তৈরি করা হয়েছে। সবকিছু ভেবে মনে হয়েছে, এ ধরনের ভুল উপস্থাপনের কোন কিছুতে আমার যুক্ত হওয়াটা ঠিক হবে না। এরপর বিনয়ের সঙ্গে আমি তাদের না করে দিই।’

বিশাল ভরদ্বাজের মাপের পরিচালককে ‘না’ বলতে খারাপ লাগলেও করার কিছু ছিল না বলে জানান মিম। বিশাল ভরদ্বাজ বেশ কয়েকটি উচ্চমানের এবং জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নির্মাতা। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে, ‘মকবুল’, ‘ইশকিয়া’, ‘কামিনে’, ‘হায়দার’, ‘ওমকারা’র মতো বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র। সেই বিশাল এবার একটি ওয়েব সিনেমা নির্মাণ করবেন। নাম ‘খুফিয়া’। প্রচার হবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে। ডাক পেলেই কী দৌড় দিতে হবে। না, বিষয়টি মিম এভাবে ভাবেননি। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে যেভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, আমাদের সর্বোচ্চ গৌরবকে যেখানে অস্বীকার করা হয়েছে সেখানে তো আপোস করার আর সুযোগ থাকে না। মিম ঠিক তাই করেছেন।

জানা যায়, বিদ্যা সিনহা মিম সবিনয়ে অপারগতা জানানোর পর ‘খুফিয়া’ নামে সেই সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে মেহজাবিনের দরজায় কড়া নাড়েন বলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। কিন্তু বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার কারণে মেহজাবীনও তাকে ‘না’ করে দিয়েছেন। মেহজাবীন, আমাদের নাট্যাঙ্গনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে মেধাবী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। আমাদের নাটকে এই মুহূর্তে তার উপস্থিতি সব চেয়ে উজ্জ্বল। মেহজাবীন যদি এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ে সম্মতি প্রদান করতেন তাহলে এটি হতো তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। দেশপ্রেমিক মেহজাবীন কখনও চাবেন না তার প্রথম চলচ্চিত্র হোক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা কোন গল্পের নির্মাণ। মেহজাবীন তাই সঠিক কাজটি করেছেন, প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে। যে কয়জন তারকাকে বিশাল প্রস্তাব দিয়েছেন, তারা কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেহজাবীন প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার বিষয়ে চমৎকারভাবে একটি কথা বলেন। কথাটি যে কোন মানুষের হৃদয় ছোঁয়ে যাবে। তিনি বলেছেন, ‘গত জুলাই মাসে বিশাল ভরদ্বাজের কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে সিনেমাটির প্রস্তাব দেন। নিশ্চিত হওয়ার পর আমি সিনেমার গল্প সম্পর্কে জানতে চাই। বিস্তারিত জানার পর না করে দিয়েছি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, সিনেমা হিসেবে এটা বিতর্কিত কিছু হবে। এখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। জীবনের প্রথম সিনেমা নিয়েই বিতর্ক হোক, এমনটা চাইনি। ‘শুনেছি বিশাল ভরদ্বাজের এজেন্টরা আমাদের আরও মেধাবী অভিনেত্রীদের পেছনে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে এ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তাতে দেশপ্রেমিক যে কোন মানুষের বুক গর্বে ফুলে ওঠার কথা। অর্থ এবং খ্যাতির কাছে আমাদের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীরা নিজেদের বিকিয়ে দেননি। আর এ রকম ঘটনাই আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে দেশে এবং বিদেশে।

বলিউডের চলচ্চিত্রে নানা সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর, ভুল এবং মিথ্যা বার্তা প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবজনক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের নানাভাবে সহায়তা করেছে, ভারতের মিত্র বাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী হাতে হাত রেখে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। ভারতের সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত ও নিহত হয়েছেন। তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা চিরকাল থাকবে। আমাদের হৃদয় বেদনার্থ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বলিউডের চলচ্চিত্র পাক-ভারত যুদ্ধ বলে অবলীলাক্রমে অভিহিত করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি মহৎ এবং বৃহৎ প্রেক্ষাপট আছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে যার পথ যাত্রা শুরু। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। দুই লাখ নারী নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। লাখ, লাখ মানুষ আহত হয়েছেন। কত ত্যাগ, কত বেদনা এবং কত গৌরবের আখ্যান এই মুক্তি যুদ্ধ। এ মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত করা কোন গল্পে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক কোন অভিনেত্রী অভিনয় করতে পারেন না।

মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করা বলিউডের চলচ্চিত্রে নতুন কোন ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া “গুন্ডে” নামক একটি চলচ্চিত্রে দেখানো হয় ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতের বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্ম হয়। চলচ্চিত্রটিতে সুকৌশলে মুক্তিবাহিনী, লাখো লোকের ত্যাগ এবং যৌথ বাহিনীর সঙ্গে যে পাকিস্তানি বাহিনীর যুদ্ধ সংগঠিত হয় এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়। এছাড়াও ‘জাব হ্যারি মেট সেজাল’ সিনেমায় ইউরোপে অবস্থিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের অসম্মানজনক চরিত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়। চলচ্চিত্রটিতে একজন অভিবাসী বাংলাদেশিকে নকল জুয়েলারি চক্রের মূলহোতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

ভাবমূর্তি ম্লান করার যে কোন প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে সবাই মিলে। ভাবমূর্তি নিয়ে শুধু উদ্দেশ্যমূলক আলোচনা না করে সেটাকে উজ্জ্বলতর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। নিজেদের জ্ঞান, মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটানো এক্ষেত্রে খুব জরুরি। উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন আমাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত হয়ে প্রান্তজনদের এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিতে হবে। জাতি হিসাবে আমাদের মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, স্বপ্ন বাস্তবায়নের দক্ষতার প্রতি আমাদের আস্থা আছে জাতীয় সংহতির একটি অভাবনীয় উদাহরণ আমরা তৈরি করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে। আমাদের আবার জাতীয় সংহতি তৈরি করতে হবে। আর এ সংহতি তৈরির ভিত্তি স্থাপনের দায়িত্ব কিন্তু রাজনীতির মাঠের মানুষের। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম। রাজনীতির মানুষেরা নিশ্চয় আমাদের হতাশ করবেন না।

[লেখক : প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন গবেষক]

রাজধানী লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির অত্যাচার থেকে মুক্ত হবে কবে?

ছবি

শিশুর জন্য নিরাপদ হয়ে উঠুক পৃথিবী

কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ

‘ঘটনাচক্রে শিক্ষক’ কেন তৈরি হচ্ছে

ছবি

নয়ন সমুখে তুমি নেই

ছবি

স্মরণ:কিংবদন্তি সাধক ফকির লালন শাহ

বজ্রপাতে মৃত্যু ও বিলুপ্ত তালগাছ

হায় হায় কোম্পানির ফাঁদ

ধর্মনিরপেক্ষতা, বামফ্রন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার

ছবি

যিনি আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের রূপ, রস, বর্ণ ও গন্ধ চিনিয়েছেন

বেশি মজুরি তত্ত্বে অর্থনীতির নোবেল

‘বেতন আলোচনা সাপেক্ষ’

বর্গী সেনাপতি ভাস্কর পন্ডিতের অসমাপ্ত দুর্গাপূজা

ছবি

এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব

নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যের বাজার, লাগাম টানবে কে?

নিরাময় অযোগ্য রোগীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার

আখভিত্তিক চিনিশিল্প উদ্ধারে কী করা যায়

‘ম্যাকবেথ’-এর আলোকে বঙ্গবন্ধু ও রাজা ডানকান হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট ও নিষ্ঠুরতা

পাঠ্যপুস্তকে ভুল

জমি জবরদখল করলেই মালিক হওয়া যাবে?

ছবি

নীলিমা ইব্রাহিম : বাংলার নারী জাগরণের প্রতিভূ

বিশ্ব ডাক দিবস ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ

কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন ও আন্তর্জাতিক বাজার

আগাছা-পরগাছা ভর করে বটবৃক্ষে

রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়

তথ্য প্রাপ্তির অধিকার

করোনাকালে তরুণদের মানসিক ব্যাধি ও করণীয়

রবীন্দ্রনাথের চুলও লম্বা ছিল

ফোনে আড়িপাতা রোধ ও ফোনালাপ ফাঁস হওয়া সংক্রান্ত রিট

প্রাথমিক বিদ্যালয় রি-ওপেনিংকে ফলপ্রসূ করার পথ

গণতন্ত্রকে সঙ সাজিয়ে সংবিধান ভন্ডুলের প্রবণতা

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব দুরভিসন্ধিমূলক

প্রমিথিউস : মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের চিরন্তন প্রেরণা

পারিবারিক কৃষির রূপ ও রূপান্তর

রাষ্ট্র কি সবার করা গেল

আদিবাসী-হরিজনরাও মানুষ

tab

উপ-সম্পাদকীয়

ভাবমূর্তির উন্নয়ন

শেখর ভট্টাচার্য

রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে সচেতন নাগরিকেরা সারা বছরই নানাভাবে সরব থাকেন। সরকারি দলের সমর্থকরা সরকারের সব উদ্যোগের মধ্যেই দেশের ভাবমূর্তির উজ্জ্বলতা খুঁজে বেড়ান। বিরোধী দলের সদস্যরা কোন কিছুতেই বিশেষ করে সরকারের কোন উদ্যোগেই ভাবমূর্তির উন্নয়ন খুঁজে পান না। দু’পক্ষই চরমপন্থি। ভাবমূর্তি নিয়ে জমজমাট উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয় আমাদের মূল ধারার গণমাধ্যমের টকশোগুলোতে। আমাদের টিভি টকশো, একসময় বেশ আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান ছিল। কোন কোন চ্যানেলের টকশো উপভোগ করার জন্য মানুষ উদগ্রীব হয়ে বসে থাকত। অনেক খ্যাতিমান, বিদ্যান এবং নির্মোহভাবে আলোচনা করার মতো মানুষেরা আসতেন টকশোগুলোতে। তাদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক হতো কিন্তু সৌজন্যের সীমা কখনো লঙ্ঘন হতে দেখা যেত না। সাম্প্রতিককালের টকশোগুলোর আলোচকরা নিজেদের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার জন্য যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে আবির্ভূত হন। তাদের চেহারা দেখেই দর্শকরা বুঝতে পারেন কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা কী আলোচনা করতে এসেছেন। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই যদি দর্শক অনুমান করতে পারেন কী আলোচনা হবে এবং কীভাবে আলোচনা হবে, তাহলে নিশ্চয়ই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দর্শকদের খুব বেশি আকর্ষণ থাকতে পারে না। টকশোগুলোতে কখনো কখনো সৌজন্যের সীমা এমনভাবে লঙ্ঘিত হয় যে “ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ”, “ফরেস্ট পুলিশের” মতো যদি “গণমাধ্যম পুলিশ” বলে কোন বাহিনী থাকতো তাদের হয়তো উপস্থাপক ডেকে নিয়ে আসতেন।

ভাবমূর্তি নিয়ে এত আলোচনা কেন? ইতিবাচকভাবে ভাবলে “দেশের ভাবমূর্তির” জন্য নাগরিক সমাজ কিছুটা অনুভূতি প্রবণ হয়ে থাকেন। সামষ্টিক এবং ব্যক্তিগত যে কোন বিশেষ ধরনের অর্জন যা দেশ বিদেশের মানুষের কাছে উদাহরণ তৈরি করে, সে রকম অর্জনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় বলে সবার ধারণা। ভাবমূর্তি কি শুধু উজ্জ্বল হয়? সচেতন পাঠকেরা খুব ভালো জানেন, নেতিবাচক কাজ কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনৈতিক কাজ যা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, সে ধরনের কাজ দেশের ভাবমূর্তিকে দ্রুত ম্লান করতে সক্ষম।

সম্প্রতি প্রকৃত অর্থে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি ভেবেছিলাম আমাদের গণমাধ্যমে শুভ শক্তি সম্পন্ন মানুষেরা ব্যাপকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি হতাশ হলাম গণমাধ্যমে প্রত্যাশিত সাড়া না দেখে। গণমাধ্যম কী বিশ্বাস করে নেতিবাচক সংবাদই আকর্ষণীয় সংবাদ, ইতিবাচক বিষয় প্রকৃত পক্ষে কোন সংবাদ নয়। করপোরেট সংস্থার নির্বাহীদের ভাবনা কি চেপে বসলো আমাদের গণমাধ্যমে। যে কথাটি বলছিলাম, ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো ঘটনা। সম্প্রতি আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের দুজন তারকা, বিশ্বের একটি স্বনামধন্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিখ্যাত পরিচালকের চলচ্চিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন, এ ঘটনাটিই আমার কাছে স্বাধীন দেশের আত্মসম্মান সম্পন্ন নাগরিকের একটি ইতিবাচক কাজ হিসাবে মনে হয়েছে।

অনেকেই বলবেন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনা তো হরহামেশাই ঘটে থাকে, এটি কেন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো ঘটনা? প্রতিযোগিতামূলক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুখিয়ে থাকে। খ্যাতি এবং অর্থযোগ যেখানে প্রবল সেখানে বেশিরভাগ মানুষই নীতি, মূল্যবোধ ত্যাগ করতে এক মুহূর্তও চিন্তা করেন না। আমাদের দুজন তারকা কিন্তু সে পথে হাটেননি। তারা নির্দ্বিধায় লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ম্লান হওয়ার মতো কাহিনী নিয়ে যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ হবে মুবাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সে রকম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলেন তারা; দেশপ্রেম, দেশকে ভালোবাসা শর্তহীন, এ ভালোবাসার তাগিদে তারা দুবার ভাবেননি এ রকম লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করত।

ভাবমূর্তি ম্লান করার যে কোন প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে সবাই মিলে। ভাবমূর্তি নিয়ে শুধু উদ্দেশ্যমূলক আলোচনা না করে সেটাকে উজ্জ্বলতর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে

মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রথমে প্রস্তাব পান আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সম্ভাবনাময় নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। বলিউডের অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ও বিখ্যাত পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ, যার কাছ থেকে ডাক পাওয়ার জন্য মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকারা দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকেন, তাকে অপারগতা জানাতে খুব বেশি ভাবেননি মিম। গত ঈদের পর বিদ্যা সিনহা মিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি বলেন ‘ঈদের আগে একটি মেইল পাই। কাস্টিং ডিরেক্টর সোফিয়া খান আমার সঙ্গে কথা বলেন। আমার চরিত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। গল্পটি পড়ার পর দেখি, এটা পলিটিক্যাল ঘরানার গল্প। গল্পে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং আরও কিছু বিষয়ে সঠিকভাবে না জেনে গল্পটি তৈরি করা হয়েছে। সবকিছু ভেবে মনে হয়েছে, এ ধরনের ভুল উপস্থাপনের কোন কিছুতে আমার যুক্ত হওয়াটা ঠিক হবে না। এরপর বিনয়ের সঙ্গে আমি তাদের না করে দিই।’

বিশাল ভরদ্বাজের মাপের পরিচালককে ‘না’ বলতে খারাপ লাগলেও করার কিছু ছিল না বলে জানান মিম। বিশাল ভরদ্বাজ বেশ কয়েকটি উচ্চমানের এবং জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নির্মাতা। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে, ‘মকবুল’, ‘ইশকিয়া’, ‘কামিনে’, ‘হায়দার’, ‘ওমকারা’র মতো বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র। সেই বিশাল এবার একটি ওয়েব সিনেমা নির্মাণ করবেন। নাম ‘খুফিয়া’। প্রচার হবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে। ডাক পেলেই কী দৌড় দিতে হবে। না, বিষয়টি মিম এভাবে ভাবেননি। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে যেভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, আমাদের সর্বোচ্চ গৌরবকে যেখানে অস্বীকার করা হয়েছে সেখানে তো আপোস করার আর সুযোগ থাকে না। মিম ঠিক তাই করেছেন।

জানা যায়, বিদ্যা সিনহা মিম সবিনয়ে অপারগতা জানানোর পর ‘খুফিয়া’ নামে সেই সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে মেহজাবিনের দরজায় কড়া নাড়েন বলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। কিন্তু বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার কারণে মেহজাবীনও তাকে ‘না’ করে দিয়েছেন। মেহজাবীন, আমাদের নাট্যাঙ্গনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে মেধাবী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। আমাদের নাটকে এই মুহূর্তে তার উপস্থিতি সব চেয়ে উজ্জ্বল। মেহজাবীন যদি এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ে সম্মতি প্রদান করতেন তাহলে এটি হতো তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। দেশপ্রেমিক মেহজাবীন কখনও চাবেন না তার প্রথম চলচ্চিত্র হোক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা কোন গল্পের নির্মাণ। মেহজাবীন তাই সঠিক কাজটি করেছেন, প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে। যে কয়জন তারকাকে বিশাল প্রস্তাব দিয়েছেন, তারা কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেহজাবীন প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার বিষয়ে চমৎকারভাবে একটি কথা বলেন। কথাটি যে কোন মানুষের হৃদয় ছোঁয়ে যাবে। তিনি বলেছেন, ‘গত জুলাই মাসে বিশাল ভরদ্বাজের কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে সিনেমাটির প্রস্তাব দেন। নিশ্চিত হওয়ার পর আমি সিনেমার গল্প সম্পর্কে জানতে চাই। বিস্তারিত জানার পর না করে দিয়েছি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, সিনেমা হিসেবে এটা বিতর্কিত কিছু হবে। এখানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। জীবনের প্রথম সিনেমা নিয়েই বিতর্ক হোক, এমনটা চাইনি। ‘শুনেছি বিশাল ভরদ্বাজের এজেন্টরা আমাদের আরও মেধাবী অভিনেত্রীদের পেছনে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে এ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তাতে দেশপ্রেমিক যে কোন মানুষের বুক গর্বে ফুলে ওঠার কথা। অর্থ এবং খ্যাতির কাছে আমাদের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীরা নিজেদের বিকিয়ে দেননি। আর এ রকম ঘটনাই আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে দেশে এবং বিদেশে।

বলিউডের চলচ্চিত্রে নানা সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর, ভুল এবং মিথ্যা বার্তা প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবজনক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের নানাভাবে সহায়তা করেছে, ভারতের মিত্র বাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী হাতে হাত রেখে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। ভারতের সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত ও নিহত হয়েছেন। তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা চিরকাল থাকবে। আমাদের হৃদয় বেদনার্থ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বলিউডের চলচ্চিত্র পাক-ভারত যুদ্ধ বলে অবলীলাক্রমে অভিহিত করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি মহৎ এবং বৃহৎ প্রেক্ষাপট আছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে যার পথ যাত্রা শুরু। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। দুই লাখ নারী নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। লাখ, লাখ মানুষ আহত হয়েছেন। কত ত্যাগ, কত বেদনা এবং কত গৌরবের আখ্যান এই মুক্তি যুদ্ধ। এ মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত করা কোন গল্পে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক কোন অভিনেত্রী অভিনয় করতে পারেন না।

মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করা বলিউডের চলচ্চিত্রে নতুন কোন ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া “গুন্ডে” নামক একটি চলচ্চিত্রে দেখানো হয় ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতের বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্ম হয়। চলচ্চিত্রটিতে সুকৌশলে মুক্তিবাহিনী, লাখো লোকের ত্যাগ এবং যৌথ বাহিনীর সঙ্গে যে পাকিস্তানি বাহিনীর যুদ্ধ সংগঠিত হয় এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়। এছাড়াও ‘জাব হ্যারি মেট সেজাল’ সিনেমায় ইউরোপে অবস্থিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের অসম্মানজনক চরিত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়। চলচ্চিত্রটিতে একজন অভিবাসী বাংলাদেশিকে নকল জুয়েলারি চক্রের মূলহোতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

ভাবমূর্তি ম্লান করার যে কোন প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে সবাই মিলে। ভাবমূর্তি নিয়ে শুধু উদ্দেশ্যমূলক আলোচনা না করে সেটাকে উজ্জ্বলতর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। নিজেদের জ্ঞান, মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটানো এক্ষেত্রে খুব জরুরি। উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন আমাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত হয়ে প্রান্তজনদের এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিতে হবে। জাতি হিসাবে আমাদের মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, স্বপ্ন বাস্তবায়নের দক্ষতার প্রতি আমাদের আস্থা আছে জাতীয় সংহতির একটি অভাবনীয় উদাহরণ আমরা তৈরি করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে। আমাদের আবার জাতীয় সংহতি তৈরি করতে হবে। আর এ সংহতি তৈরির ভিত্তি স্থাপনের দায়িত্ব কিন্তু রাজনীতির মাঠের মানুষের। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম। রাজনীতির মানুষেরা নিশ্চয় আমাদের হতাশ করবেন না।

[লেখক : প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন গবেষক]

back to top