alt

সাময়িকী

অমিতাভ ঘোষের ‘গান আইল্যান্ড’

চাণক্য বাড়ৈ

: বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৩

‘গান আইল্যান্ড’ অমিতাভ ঘোষের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসের জন্য লেখক পেয়েছেন ৫৪তম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার। বলা যায়, বেশ দ্রুতই এটি মূল ইংরেজি থেকে বাংলায় অনূদিত হয়ে বাংলাভাষী পাঠকের হাতে পৌঁছেছে। ‘বন্দুক দ্বীপ’ নামে বাংলায় এর চমৎকার অনুবাদ করেছেন অরুণাভ সিংহ।

‘বন্দুক দ্বীপ’ নিয়ে কথা বলতে গেলে যে-কেউ প্রথমেই যে সমস্যায় পড়বেন, সেটি হলো, উপন্যাসের ঠিক কোন প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি আলোচনা শুরু করবেন। কেননা, সমসময়ের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসটিতে। সেই সঙ্গে উপন্যাসের কাহিনিতে অন্তঃসলিল স্রোতধারার মতো প্রবাহিত হয়েছে বহুশ্রুত পৌরাণিক আখ্যানের পুরাতত্ত্ব ও ভাষাবিজ্ঞানভিত্তিক অতিকাল্পনিক বিনির্মাণ।

অন্যান্য উপন্যাস নিয়ে আলোচনার মতো ‘বন্দুক দ্বীপ’ নিয়ে কেবল একটি-দুটি কিংবা তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে এবং ছোট পরিসরে আলোচনা করে এর সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করা প্রায় অসম্ভব। সেই সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে এখানে উপন্যাসের প্রধান কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ও উপজীব্যের আলোকে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো: ১. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ২. জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের পরিণতি ৩. ঝুঁকিপূর্ণ মানব পাচার ও মানব পরিযায়ন ৪. পৌরাণিক আখ্যানের অভিনব বিনির্মাণ ৫. পরিবেশ আন্দোলন এবং এর ঝুঁকি ৬. ভাষা ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা ৭. প্রাসঙ্গিক প্রচুর তথ্য-উপাত্তের অনায়াস সংযোজন ৮. তিন মহাদেশে কাহিনি নির্মাণ ৯. ‘ভাটির দেশ’ (দ্য হাঙ্গরি টাইড) উপন্যাসের ধারাক্রমিক বিস্তার এবং ১০. অত্যন্ত গতিময় সাবলীল ও কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনিপ্রবাহ।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের স্থান কাল পাত্র জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বায়ুম-লে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বিশ্বজুড়েই ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের মূল পটভূমি বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী সুন্দরবনও এই বিপর্যয়ের আওতামুক্ত নয়, বরং এখানকার প্রাণিকুল এমনকি ভূ-তত্ত্বও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম শিকার। ঔপন্যাসিক অত্যন্ত সহানুভূতিশীলতার সাথে এই বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রচ- এক ঘূর্ণিঝড়ে স্বামীকে হারানো ময়নার একটি উক্তি থেকে স্পষ্ট হওয়া যায়, কীভাবে একটি অঞ্চল মানববসতির অযোগ্য হয়ে উঠছে। ময়নার বক্তব্য, ‘জমি আর জল দুটোই সুন্দরবনের মানুষের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে।’ [পৃ: ৫১]

আর শুধু সুন্দরবনই তো নয়, এখান থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজার কিলোমিটার দূরের দ্বীপ ভেনিসেও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের। ডীনের বন্ধু ইতিহাসবিদ চিনতা ভেনিসের আদি বাসিন্দা। তাঁর বাড়িরও নিচতলা জোয়ারের জলে প্লাবিত হয়। ডুবে যায় উপহ্রদের নরোম কাদার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শতবছরের শহর ভেনিস। সুন্দরবন থেকে ভেনিসে অভিবাসিত স্বল্পশিক্ষিত রফি এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পায় শহরের উত্তরপ্রান্তে ফন্দামেন্তে নোভে নামক যে বাঁধ রয়েছে সেখানে। এখানে একটি উদ্ধৃতির সাহায্য নেওয়া সঙ্গত, ‘রফি মাথা ঝাঁকালো। “ভাল চিনি ওই জায়গাটা। বানের সময়ে মাঝেমাঝে রাত কাটাই আমরা। ওই জেটিগুলোতে গেছি আমি, আওয়াজ শুনেছি।”

“কিসের আওয়াজ?”

“পোকাদের। ঠিক সুন্দরবনের মতো। ওখানেও বাঁধে কান রাখলে ভেতরে কাঁকড়া ঘুরে বেড়ানোর আওয়াজ শোনা যায়।... মন দিয়ে শুনলে কখনো কখনো আগে থেকে বোঝা যায় বাঁধ ভেঙে পড়বে কি না।”’ [পৃ: ২২২] ফন্দামেন্তে নোভেতে রফি যে আওয়াজ শুনতে পায়, তা মূলত, শিপওয়ার্ম নামক এক ধরনের পোকার সৃষ্ট, যারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ধীরে ধীরে তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করছে।

লস এঞ্জেলেসের দাবানল, ভেনিসের ঘূর্ণিবাত, জলোচ্ছ্বাস, পশ্চিম আমেরিকার উপকূলে গভীর সমুদ্র থেকে হলুদ পেট সাপ সৈকতে চলে, বার্ক বিটল, শিপওয়ার্ম, বিষধর মাকড়সার প্রাদুর্ভাব প্রভৃতি ঘটনার মধ্য দিয়ে শিল্পোন্নত দেশসমূহকে সুকৌশলে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না।

জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের পরিণতি : যদিও পৃথিবীর সর্বত্রই কম-বেশি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে, এর সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোকে। আরও রূঢ় বাস্তবতা হলো, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলো। উন্নত দেশসমূহ এখনও এর অভিঘাত মোকাবেলা করতে সক্ষম হলেও দরিদ্র দেশের মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সুন্দরবন তেমনই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

২০০৯ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং তৎপরবর্তী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ছোবলে সুন্দরবনের চরাঞ্চল ও অদূরবর্তী উপকূলে যে দীর্ঘমেয়াদী ফসলহীনতা দেখা দিয়েছে, তার ফলে এখানকার বন ও মৎস্যম্পদ আহরণের ওপর নির্ভরশীল জনজীবন কতখানি বিপন্ন, তার ছবি ফুটে উঠেছে ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসে।

ঝুঁকিপূর্ণ মানব পাচার ও মানব পরিযায়ন : অবৈধ অভিবাসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সহায়-সম্পত্তি খোয়ানো থেকে শুরু করে অঙ্গহানি তো বটে, প্রাণ হারানোর ঝুঁকিও থাকে প্রবল। দেশি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে নিয়মিতই আমরা এ সম্পর্কিত খবর দেখতে পাই। ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ এই অবৈধ অভিবাসন সমস্যা। এই উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই ভূমধ্য সাগর ব্যবহার করে ইতালি হয়ে ইউরোপগামী হাজারো অভিবাসনপ্রার্থীর মিছিল। দক্ষিণ এশিয়া আর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে মিশর তুরস্ক লিবিয়া হয়ে পাচারকারীদের সাহায্যে স্বপ্নে বিভোর তরুণেরা নৌকা ভাসাচ্ছে ভূমধ্য সাগরে। এর আগেও রয়েছে নির্মম আর রুদ্ধশ্বাস কাহিনি। রফি ও টিপু ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে আবারও ভারত হয়ে পাকিস্তান, সেখান থেকে ইরান হয়ে বহু কায়ক্লেশে তুরস্ক পৌঁছায়। তুরস্কে গিয়ে দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে একটি অগ্রবর্তী শরণার্থী দলের সাথে বুলগেরিয়া সার্বিয়া হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়া হয়ে শেষপর্যন্ত ইতালির ভেনিসে পৌঁছাতে সক্ষম হয়ে রফি। এই দলে বাঙালিদের সঙ্গে ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের মানুষও ছিল।

পৌরাণিক আখ্যানের অভিনব বিনির্মাণ : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো পৌরাণিক আখ্যানের অভিনব রূপান্তর। মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সওদাগরের কাহিনি এই উপন্যাসে আমরা ভিন্ন আঙ্গিকে পাই। উপন্যাসের মূল চরিত্র ডীন দত্তর অভিযানের শুরুটা মূলত সুন্দরবনের গভীরে বন্দুকি সওদাগরের ধাম বা মন্দির খুঁজতে গিয়ে। কানাইয়ের কাছে প্রথম বন্দুকি সওদাগরের বিষয়ে জানতে পেরে নীলিমার কাছে যে গল্প ডীন শুনেছেন, তাতে ডীন দত্তকে প্রায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সুন্দরবন যাওয়ার। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন সওদাগর সাপের ভয়ে বাংলা ত্যাগ করে সুন্দরবন হয়ে বন্দুক দ্বীপে চলে যান। এরপর তালমিশ্রির দ্বীপ, রুমালি দ্বীপ, শেকল দ্বীপ ঘুরে সুন্দরবন হয়ে ফেরার পথে একটি ধাম নির্মাণ করেন। সেই ধামের টেরাকোটায় বেশ কয়েকটি সাংকেতিক চিহ্ন সওদাগরের অভিযান সম্পর্কে জানতে ডীনকে দ্বিগুণ আগ্রহী করে তোলে।

পরিবেশ আন্দোলন এবং এর ঝুঁকি : উপন্যাসটির গল্পের স্তরে স্তরে প্রসঙ্গক্রমে চলে এসেছে পরিবেশ সচেতনতা এবং তা থেকে উদ্ভূত অ্যাক্টিভিজমের ইঙ্গিত। পিয়া যেহেতু ডলফিন নিয়ে গবেষণা করছেন, সেই সূত্রেই তিনি দেখতে পান, কেবল বিরল প্রজাতির শুশুকই নয়, সমুদ্রের ও উপকূলের অধিকাংশ প্রাণী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কলকারখানা সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রত্যক্ষ শিকার। আর এই যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সেটিও মানুষের কর্মেরই প্রতিফল। মহাসাগরিক মৃত এলাকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে পিয়া বলেন, ‘রাসায়নিক সারের অবশিষ্টাংশের দরুন এই এলাকাগুলো সাংঘাতিক গতিতে বাড়ছে। এগুলো সমুদ্রে গিয়ে পড়লে যে চেন রিয়্যাকশন শুরু হয় সেগুলো জল থেকে সব অক্সিজেন শুষে নেয়। সেই পরিস্থিতিতে খুব অল্পসংখ্যক কিছু বিশেষ ধরণের প্রাণী বাস করতে পারে, বাকি সকলের মৃত্যু হয়, যার জন্য জায়গাগুলোকে মৃত এলাকা বলা হয়।... একেকটা মাঝারি মাপের দেশের সমান।’ [পৃ: ৯১]

এই পিয়া একসময়ে সুন্দরবনের উত্তরাঞ্চল ও কলকাতার কারখানার কর্তৃপক্ষের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন।

ভাষা ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা : ‘এই আশ্চর্য যাত্রার সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার, এর সূচনা হয় একটা শব্দ দিয়ে- সেরকম অসাধারণ কিছু নয়, বরং বহুব্যবহৃত মামুলি একটাশব্দ, কায়রো থেকে কলকাতা সব জায়গায় শোনা যায়। শব্দটা হল বন্দুক, অনেক ভাষাতেই প্রচলিত।’ ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের শুরু হয়েছে এই বাক্য দিয়ে। বাক্যটি উত্তম পুরুষে দীননাথ দত্তর বয়ান। এই বাক্য থেকেই উপন্যাসটির প্রোটাগনিস্টের মূল প্রবণতা বোঝা যায়। আর কেবল শব্দ বা ভাষাই নয়, পুরাতত্ত্ব, মুদ্রণ, হরফ বা ফন্ট, বই, বাঁধাই এসবের ওপর বিশদ গবেষণার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় পুরো উপন্যাসজুড়ে। মূল উপন্যাসটি ইংরেজি ভাষায় লিখিত হলেও বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অন্যতম নিদর্শন মনসামঙ্গল কাব্যের গভীর ব্যুৎপত্তি বিধৃত হয়েছে ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসে। ডীন দত্তর প্রথম সুন্দরবন অভিযাত্রার সূত্রপাত হয় নীলিমার মুখে শোনা একটি ছড়ার অংশবিশেষ শোনার পর- ‘কলতায় তখন না ছিল লোক না ছিল মকান / বাংলার পাটানি তখন নগর-এ-জাঁহা’

এমন আপাত অদ্ভুত লোকশ্রুতি, আধুনিক বাংলা লোককথা, বন্দুকি সওদাগরের ধামের সাথে বিষ্ণুপুরের স্থাপত্যের সাযুজ্য- এসবই ডীনকে এমন ‘আশ্চর্য অভিযাত্রা’য় উদ্বুদ্ধ করে, যেখানে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে শামিল হয়েছেন ইতিহাসবিদ চিনতা।

প্রাসঙ্গিক প্রচুর তথ্য-উপাত্তের অনায়াস সংযোজন : অমিতাভ ঘোষের অন্যান্য উপন্যাসের মতো ‘বন্দুক দ্বীপ’ও প্রচুর তথ্যসমৃদ্ধ। এবং অন্য উপন্যাগুলোর মতো এই উপন্যাসেও তথ্য-উপাত্ত এসেছে খুবই প্রাসঙ্গিকভাবে। এইসব তথ্য গল্পের গতিবেগ যেমন বাড়িয়ে তুলেছে, তেমনি পাঠককে নতুনভাবে গল্পে মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে। কোনো রান্নার মূল উপাদানের সাথে মসলা যেভাবে যুক্ত হয়ে পদটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে, তেমনই। যেমন: ‘সপ্তদশ শতাব্দীর একাধিক মহান কীর্তির উল্লেখ করলেন বক্তা, তাদের মধ্যে একটি আমার স্মৃতিকে ধাক্কা দিয়ে গেল, তাজমহল। নাম শুনে ভারতবর্ষের কথা মনে পড়ল, আর মাথায় এল যে তাজহল আর বিষ্ণুপুরের মন্দির মোটামুটি একই সমযে নির্মিত হয়েছে। এর থেকে বন্দুকি সওদাগরের ধামের কথা খেয়াল হল... তাহলে কি ক্ষুদ্র হিমযুগের নানা দুর্দশাই এই কিংবদন্তির উৎস?’ [পৃ: ১১৭] এখানে ক্ষুদ্র হিমযুগে ঘটে যাওয়া নানা দুর্বিপাকের সাথে ডীন দত্ত মঙ্গলকাব্যে উল্লিখিত খরা, বন্যা, ঝঞ্ঝায় চাঁদ সওদাগরের দুর্ভোগের সম্পর্ক আবিষ্কার করলেন। এতে এই তথ্য প্রাসঙ্গিক তো হলোই, গল্পের রহস্য ঘনীভূতকরণেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করল।

এভাবেই অমিতাভ ঘোষর উপন্যাসে সংযোজিত তথ্য কাহিনিকে বাধাগ্রস্ত না করে বরং গল্পের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের স্থান কাল পাত্র জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বায়ুম-লে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বিশ্বজুড়েই ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে

তিন মহাদেশে কাহিনি নির্মাণ : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসে দীর্ঘ ভৌগোলিক পরিক্রমা থাকলেও তিনটি দেশের তিনটি অঞ্চলে গল্পের বেশিরভাগ আখ্যান তৈরি করেছেন ঔপন্যাসিক। ভারতের কলকাতায় শুরু হলেও মূলত সুন্দরবনের বর্তমান বাস্তবতা দেখানো হয়েছে বন্দুকি সওদাগরের ধাম দেখতে ডীন দত্তর সুন্দরবন যাওয়াকে উপলক্ষ করে। এরপর আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে তিনি যান একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার জন্য। সেখানেও দাবানল পরিস্থিতি, হলুদ পেট সাপের উপকূলের কাছাকাছি চলে আসার মতো ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। নিউইয়র্কের ডীন দত্ত ব্রুকলিনের বাসিন্দা, আর পিয়া থাকেন অরেগনে। আর কাহিনি সমাপ্ত হয়েছে ইতালির ভেনিসে। সেখানে দেখা যায় বড় এক বাঙালি কমিউনিটি, যার বেশির ভাগই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষ। তারও একটা বৃহত্তর অংশ বাংলদেশের মাদারীপুর জেলার, ঘটনাক্রমে ডীন দত্তরও পূর্বপুরুষের বাড়ি ছিল মাদারীপুরে।

‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসের ধারাক্রমিক বিস্তার : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসটি ‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসের ধারাক্রমিক বিস্তার। উপন্যাসের শুরুর দিকে তাই ‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসের চরিত্রগুলোর প্রাধান্য দেখা যায়। এস সময় দীননাথ দত্ত আর চিনতাকে পাওয়া যায় নতুন চরিত্র হিসেবে। রফি চরিত্রটিও নতুন, তবে সে সুন্দরবনেরই ভূমিপুত্র। টিপু নামটিকেও নতুন মনে হতে পারে, তবে সে ‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসেরই পরিচিত চরিত্র টুটুল। ফকির ও ময়নার ছেলে টুটুল। ঘটনাক্রমে সে নিজেই তার নাম বদলে টিপু নামে নিজেকে পরিচিত করে। বন্দুক দ্বীপে এসে পিয়ার চরিত্র কিছুটা গৌণ হয়ে আসে বলেই প্রতীয়মান হয়। কানাই, নীলিমার দায়িত্ব কেবল নতুন অভিযাত্রার নেশাকে উসকে দেওয়া। চিনতার উজ্জ্বল ভূমিকা উপন্যাসে গতি ও গভীরতা দারুণভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপন্যাসটিকে লেখক দুটি পর্বে ভাগ করেছেন; ‘বন্দুকি সওদাগর’ ও ‘ভেনিস’। দ্বিতীয় পর্বে আমেরিকা হয়ে ভেনিসেই গল্পের ক্লাইমেক্স চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। যদিও উপন্যাসের সর্বত্র টানটান উত্তেজনা বজায় থেকেছে। ভেনিসে সুন্দরবন থেকে উঠে আসা চরিত্র রফি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ক্রমান্বয়ে। ‘ভেনিস’ পর্বে লুবনা নামের এক নারীর আগমন ঘটে যিনি ভেনিসের অভিবাসীদের আইনি সহয়তা দিয়ে থাকেন। লুবনা বাংলাদেশের মাদারীপুরের মেয়ে। মজার বিষয় হলো, ডীন দত্তর পূর্বপুরুষের জন্মভিটাও মাদারীপুর, যেখানে ঔপন্যাসিক অমিতাভ ঘোষেরও পিতৃভূমি।

অত্যন্ত গতিময় সাবলীল ও কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনিপ্রবাহ : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত চমকপ্রদ ও চিত্তাকর্ষক। একবার শুরু করলে শেষ না করে ওঠা খুবই দুরূহ। চাঁদ সওদাগর মনসা দেবীর হাত থেকে রেহাই পেতে বন্দুক দ্বীপ হয়ে ফেরার পথে সুন্দরবনে একটি ধাম তৈরি করেন। এখান থেকে গল্পের শুরু হলে এক পর্যায়ে প্রতীয়মান হয় যে চাঁদ সওদাগর যে দ্বীপে গিয়েছিলেন সেটি মূলত ভেনিস। আর সমুদ্রপথে তালমিশ্রির দ্বীপ, রুমালি দ্বীপ, শেকল দ্বীপসমূহ ঘুরে শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনে এসে মনসার মন্দির নির্মাণ করেন।

উপন্যাসের কাহিনি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রফি ও টিপুর অবৈধ অভিবাসনের তীব্র আকাক্সক্ষা এবং স্বপ্নের পানে প্রাণান্তকর ছুটে চলা আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে গল্পটিকে।

মূলত ‘বন্দুক দ্বীপ’ একটি বহুরৈখিক উপন্যাস। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেই একে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা যেতে পারে। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লিখিত বলেই একটি কথা আলাদাভাবে বলা প্রয়োজন, সেটি হলো, অন্য ভূগোলের পাঠকের কাছে এ উপন্যাসের যে প্রাসঙ্গিকতা, বাঙালি পাঠকের কাছে তারচেয়ে অনেক অনেক বেশি। এর চরিত্র, পরিবেশ, ইতিহাস, স্থান, কিংবদন্তি প্রভৃতির সাথে আত্মিক নৈকট্যও প্রণিধানযোগ্য। সঙ্গত কারণেই উপন্যাসটি বাঙালি পাঠকের বিপুল মনোযোগ দাবি করে।

আর অনুবাদ সম্পর্কে বলতে গেলে বলা প্রয়োজন, পড়তে গিয়ে একটিবারের জন্যেও মনে হবে না যে, ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসটি অনূদিত। এমন সুন্দর সাবলীল অনুবাদের জন্য প্রখ্যাত অনুবাদক অরুণাভ সিংহ নিঃসন্দেহে ধন্যবাদার্হ।

বন্দুক দ্বীপ। অমিতাভ ঘোষ। অনুবাদ: অরুণাভ সিংহ। প্রকাশক: একা। পৃষ্ঠা: ২৭০।

ছবি

দূরের তারাটিকে

ছবি

একটি দুর্বিনীত নাশকতার অন্তিম চিৎকার

ছবি

যেদিন সুবিমল মিশ্র চলে গেলেন

ছবি

ফিরবে না তা জানি

ছবি

ওবায়েদ আকাশের বাছাই ৩২ কবিতা

ছবি

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’

ছবি

স্মৃতির অতল তলে

ছবি

দেহাবশেষ

ছবি

যাদুবাস্তবতা ও ইলিয়াসের যোগাযোগ

ছবি

বাংলার স্বাধীনতা আমার কবিতা

ছবি

মিহির মুসাকীর কবিতা

ছবি

শুশ্রƒষার আশ্রয়ঘর

ছবি

সময়োত্তরের কবি

ছবি

নাট্যকার অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৭৪

ছবি

মহত্ত্বম অনুভবে রবিউল হুসাইন

‘লাল গহনা’ উপন্যাসে বিষয়ের গভীরতা

ছবি

‘শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা’

ছবি

স্মৃতির অতল তলে

ছবি

মোহিত কামাল

ছবি

আশরাফ আহমদের কবিতা

ছবি

‘আমাদের সাহিত্যের আন্তর্জাতিকীকরণে আমাদেরই আগ্রহ নেই’

ছবি

ছোটগল্পের অনন্যস্বর হাসান আজিজুল হক

‘দীপান্বিত গুরুকুল’

ছবি

নাসির আহমেদের কবিতা

ছবি

শেষ থেকে শুরু

সাময়িকী কবিতা

ছবি

স্মৃতির অতল তলে

ছবি

রবীন্দ্রবোধন

ছবি

বাঙালির ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি হয়ে ওঠার দীর্ঘ সংগ্রাম

ছবি

হাফিজ রশিদ খানের নির্বাচিত কবিতা আদিবাসীপর্ব

ছবি

আনন্দধাম

ছবি

কান্নার কুসুমে চিত্রিত ‘ধূসরযাত্রা’

সাময়িকী কবিতা

ছবি

ফারুক মাহমুদের কবিতা

ছবি

পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ও তাঁর অমর সৃষ্টি ‘আসমানী’

ছবি

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’

tab

সাময়িকী

অমিতাভ ঘোষের ‘গান আইল্যান্ড’

চাণক্য বাড়ৈ

বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৩

‘গান আইল্যান্ড’ অমিতাভ ঘোষের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসের জন্য লেখক পেয়েছেন ৫৪তম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার। বলা যায়, বেশ দ্রুতই এটি মূল ইংরেজি থেকে বাংলায় অনূদিত হয়ে বাংলাভাষী পাঠকের হাতে পৌঁছেছে। ‘বন্দুক দ্বীপ’ নামে বাংলায় এর চমৎকার অনুবাদ করেছেন অরুণাভ সিংহ।

‘বন্দুক দ্বীপ’ নিয়ে কথা বলতে গেলে যে-কেউ প্রথমেই যে সমস্যায় পড়বেন, সেটি হলো, উপন্যাসের ঠিক কোন প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি আলোচনা শুরু করবেন। কেননা, সমসময়ের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসটিতে। সেই সঙ্গে উপন্যাসের কাহিনিতে অন্তঃসলিল স্রোতধারার মতো প্রবাহিত হয়েছে বহুশ্রুত পৌরাণিক আখ্যানের পুরাতত্ত্ব ও ভাষাবিজ্ঞানভিত্তিক অতিকাল্পনিক বিনির্মাণ।

অন্যান্য উপন্যাস নিয়ে আলোচনার মতো ‘বন্দুক দ্বীপ’ নিয়ে কেবল একটি-দুটি কিংবা তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে এবং ছোট পরিসরে আলোচনা করে এর সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করা প্রায় অসম্ভব। সেই সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে এখানে উপন্যাসের প্রধান কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ও উপজীব্যের আলোকে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো: ১. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ২. জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের পরিণতি ৩. ঝুঁকিপূর্ণ মানব পাচার ও মানব পরিযায়ন ৪. পৌরাণিক আখ্যানের অভিনব বিনির্মাণ ৫. পরিবেশ আন্দোলন এবং এর ঝুঁকি ৬. ভাষা ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা ৭. প্রাসঙ্গিক প্রচুর তথ্য-উপাত্তের অনায়াস সংযোজন ৮. তিন মহাদেশে কাহিনি নির্মাণ ৯. ‘ভাটির দেশ’ (দ্য হাঙ্গরি টাইড) উপন্যাসের ধারাক্রমিক বিস্তার এবং ১০. অত্যন্ত গতিময় সাবলীল ও কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনিপ্রবাহ।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের স্থান কাল পাত্র জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বায়ুম-লে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বিশ্বজুড়েই ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের মূল পটভূমি বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী সুন্দরবনও এই বিপর্যয়ের আওতামুক্ত নয়, বরং এখানকার প্রাণিকুল এমনকি ভূ-তত্ত্বও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম শিকার। ঔপন্যাসিক অত্যন্ত সহানুভূতিশীলতার সাথে এই বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রচ- এক ঘূর্ণিঝড়ে স্বামীকে হারানো ময়নার একটি উক্তি থেকে স্পষ্ট হওয়া যায়, কীভাবে একটি অঞ্চল মানববসতির অযোগ্য হয়ে উঠছে। ময়নার বক্তব্য, ‘জমি আর জল দুটোই সুন্দরবনের মানুষের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে।’ [পৃ: ৫১]

আর শুধু সুন্দরবনই তো নয়, এখান থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজার কিলোমিটার দূরের দ্বীপ ভেনিসেও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের। ডীনের বন্ধু ইতিহাসবিদ চিনতা ভেনিসের আদি বাসিন্দা। তাঁর বাড়িরও নিচতলা জোয়ারের জলে প্লাবিত হয়। ডুবে যায় উপহ্রদের নরোম কাদার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শতবছরের শহর ভেনিস। সুন্দরবন থেকে ভেনিসে অভিবাসিত স্বল্পশিক্ষিত রফি এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পায় শহরের উত্তরপ্রান্তে ফন্দামেন্তে নোভে নামক যে বাঁধ রয়েছে সেখানে। এখানে একটি উদ্ধৃতির সাহায্য নেওয়া সঙ্গত, ‘রফি মাথা ঝাঁকালো। “ভাল চিনি ওই জায়গাটা। বানের সময়ে মাঝেমাঝে রাত কাটাই আমরা। ওই জেটিগুলোতে গেছি আমি, আওয়াজ শুনেছি।”

“কিসের আওয়াজ?”

“পোকাদের। ঠিক সুন্দরবনের মতো। ওখানেও বাঁধে কান রাখলে ভেতরে কাঁকড়া ঘুরে বেড়ানোর আওয়াজ শোনা যায়।... মন দিয়ে শুনলে কখনো কখনো আগে থেকে বোঝা যায় বাঁধ ভেঙে পড়বে কি না।”’ [পৃ: ২২২] ফন্দামেন্তে নোভেতে রফি যে আওয়াজ শুনতে পায়, তা মূলত, শিপওয়ার্ম নামক এক ধরনের পোকার সৃষ্ট, যারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ধীরে ধীরে তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করছে।

লস এঞ্জেলেসের দাবানল, ভেনিসের ঘূর্ণিবাত, জলোচ্ছ্বাস, পশ্চিম আমেরিকার উপকূলে গভীর সমুদ্র থেকে হলুদ পেট সাপ সৈকতে চলে, বার্ক বিটল, শিপওয়ার্ম, বিষধর মাকড়সার প্রাদুর্ভাব প্রভৃতি ঘটনার মধ্য দিয়ে শিল্পোন্নত দেশসমূহকে সুকৌশলে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না।

জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের পরিণতি : যদিও পৃথিবীর সর্বত্রই কম-বেশি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে, এর সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোকে। আরও রূঢ় বাস্তবতা হলো, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলো। উন্নত দেশসমূহ এখনও এর অভিঘাত মোকাবেলা করতে সক্ষম হলেও দরিদ্র দেশের মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সুন্দরবন তেমনই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

২০০৯ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং তৎপরবর্তী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ছোবলে সুন্দরবনের চরাঞ্চল ও অদূরবর্তী উপকূলে যে দীর্ঘমেয়াদী ফসলহীনতা দেখা দিয়েছে, তার ফলে এখানকার বন ও মৎস্যম্পদ আহরণের ওপর নির্ভরশীল জনজীবন কতখানি বিপন্ন, তার ছবি ফুটে উঠেছে ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসে।

ঝুঁকিপূর্ণ মানব পাচার ও মানব পরিযায়ন : অবৈধ অভিবাসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সহায়-সম্পত্তি খোয়ানো থেকে শুরু করে অঙ্গহানি তো বটে, প্রাণ হারানোর ঝুঁকিও থাকে প্রবল। দেশি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে নিয়মিতই আমরা এ সম্পর্কিত খবর দেখতে পাই। ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ এই অবৈধ অভিবাসন সমস্যা। এই উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই ভূমধ্য সাগর ব্যবহার করে ইতালি হয়ে ইউরোপগামী হাজারো অভিবাসনপ্রার্থীর মিছিল। দক্ষিণ এশিয়া আর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে মিশর তুরস্ক লিবিয়া হয়ে পাচারকারীদের সাহায্যে স্বপ্নে বিভোর তরুণেরা নৌকা ভাসাচ্ছে ভূমধ্য সাগরে। এর আগেও রয়েছে নির্মম আর রুদ্ধশ্বাস কাহিনি। রফি ও টিপু ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে আবারও ভারত হয়ে পাকিস্তান, সেখান থেকে ইরান হয়ে বহু কায়ক্লেশে তুরস্ক পৌঁছায়। তুরস্কে গিয়ে দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে একটি অগ্রবর্তী শরণার্থী দলের সাথে বুলগেরিয়া সার্বিয়া হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়া হয়ে শেষপর্যন্ত ইতালির ভেনিসে পৌঁছাতে সক্ষম হয়ে রফি। এই দলে বাঙালিদের সঙ্গে ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের মানুষও ছিল।

পৌরাণিক আখ্যানের অভিনব বিনির্মাণ : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো পৌরাণিক আখ্যানের অভিনব রূপান্তর। মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সওদাগরের কাহিনি এই উপন্যাসে আমরা ভিন্ন আঙ্গিকে পাই। উপন্যাসের মূল চরিত্র ডীন দত্তর অভিযানের শুরুটা মূলত সুন্দরবনের গভীরে বন্দুকি সওদাগরের ধাম বা মন্দির খুঁজতে গিয়ে। কানাইয়ের কাছে প্রথম বন্দুকি সওদাগরের বিষয়ে জানতে পেরে নীলিমার কাছে যে গল্প ডীন শুনেছেন, তাতে ডীন দত্তকে প্রায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সুন্দরবন যাওয়ার। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন সওদাগর সাপের ভয়ে বাংলা ত্যাগ করে সুন্দরবন হয়ে বন্দুক দ্বীপে চলে যান। এরপর তালমিশ্রির দ্বীপ, রুমালি দ্বীপ, শেকল দ্বীপ ঘুরে সুন্দরবন হয়ে ফেরার পথে একটি ধাম নির্মাণ করেন। সেই ধামের টেরাকোটায় বেশ কয়েকটি সাংকেতিক চিহ্ন সওদাগরের অভিযান সম্পর্কে জানতে ডীনকে দ্বিগুণ আগ্রহী করে তোলে।

পরিবেশ আন্দোলন এবং এর ঝুঁকি : উপন্যাসটির গল্পের স্তরে স্তরে প্রসঙ্গক্রমে চলে এসেছে পরিবেশ সচেতনতা এবং তা থেকে উদ্ভূত অ্যাক্টিভিজমের ইঙ্গিত। পিয়া যেহেতু ডলফিন নিয়ে গবেষণা করছেন, সেই সূত্রেই তিনি দেখতে পান, কেবল বিরল প্রজাতির শুশুকই নয়, সমুদ্রের ও উপকূলের অধিকাংশ প্রাণী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কলকারখানা সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রত্যক্ষ শিকার। আর এই যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সেটিও মানুষের কর্মেরই প্রতিফল। মহাসাগরিক মৃত এলাকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে পিয়া বলেন, ‘রাসায়নিক সারের অবশিষ্টাংশের দরুন এই এলাকাগুলো সাংঘাতিক গতিতে বাড়ছে। এগুলো সমুদ্রে গিয়ে পড়লে যে চেন রিয়্যাকশন শুরু হয় সেগুলো জল থেকে সব অক্সিজেন শুষে নেয়। সেই পরিস্থিতিতে খুব অল্পসংখ্যক কিছু বিশেষ ধরণের প্রাণী বাস করতে পারে, বাকি সকলের মৃত্যু হয়, যার জন্য জায়গাগুলোকে মৃত এলাকা বলা হয়।... একেকটা মাঝারি মাপের দেশের সমান।’ [পৃ: ৯১]

এই পিয়া একসময়ে সুন্দরবনের উত্তরাঞ্চল ও কলকাতার কারখানার কর্তৃপক্ষের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন।

ভাষা ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা : ‘এই আশ্চর্য যাত্রার সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার, এর সূচনা হয় একটা শব্দ দিয়ে- সেরকম অসাধারণ কিছু নয়, বরং বহুব্যবহৃত মামুলি একটাশব্দ, কায়রো থেকে কলকাতা সব জায়গায় শোনা যায়। শব্দটা হল বন্দুক, অনেক ভাষাতেই প্রচলিত।’ ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের শুরু হয়েছে এই বাক্য দিয়ে। বাক্যটি উত্তম পুরুষে দীননাথ দত্তর বয়ান। এই বাক্য থেকেই উপন্যাসটির প্রোটাগনিস্টের মূল প্রবণতা বোঝা যায়। আর কেবল শব্দ বা ভাষাই নয়, পুরাতত্ত্ব, মুদ্রণ, হরফ বা ফন্ট, বই, বাঁধাই এসবের ওপর বিশদ গবেষণার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় পুরো উপন্যাসজুড়ে। মূল উপন্যাসটি ইংরেজি ভাষায় লিখিত হলেও বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অন্যতম নিদর্শন মনসামঙ্গল কাব্যের গভীর ব্যুৎপত্তি বিধৃত হয়েছে ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসে। ডীন দত্তর প্রথম সুন্দরবন অভিযাত্রার সূত্রপাত হয় নীলিমার মুখে শোনা একটি ছড়ার অংশবিশেষ শোনার পর- ‘কলতায় তখন না ছিল লোক না ছিল মকান / বাংলার পাটানি তখন নগর-এ-জাঁহা’

এমন আপাত অদ্ভুত লোকশ্রুতি, আধুনিক বাংলা লোককথা, বন্দুকি সওদাগরের ধামের সাথে বিষ্ণুপুরের স্থাপত্যের সাযুজ্য- এসবই ডীনকে এমন ‘আশ্চর্য অভিযাত্রা’য় উদ্বুদ্ধ করে, যেখানে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে শামিল হয়েছেন ইতিহাসবিদ চিনতা।

প্রাসঙ্গিক প্রচুর তথ্য-উপাত্তের অনায়াস সংযোজন : অমিতাভ ঘোষের অন্যান্য উপন্যাসের মতো ‘বন্দুক দ্বীপ’ও প্রচুর তথ্যসমৃদ্ধ। এবং অন্য উপন্যাগুলোর মতো এই উপন্যাসেও তথ্য-উপাত্ত এসেছে খুবই প্রাসঙ্গিকভাবে। এইসব তথ্য গল্পের গতিবেগ যেমন বাড়িয়ে তুলেছে, তেমনি পাঠককে নতুনভাবে গল্পে মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে। কোনো রান্নার মূল উপাদানের সাথে মসলা যেভাবে যুক্ত হয়ে পদটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে, তেমনই। যেমন: ‘সপ্তদশ শতাব্দীর একাধিক মহান কীর্তির উল্লেখ করলেন বক্তা, তাদের মধ্যে একটি আমার স্মৃতিকে ধাক্কা দিয়ে গেল, তাজমহল। নাম শুনে ভারতবর্ষের কথা মনে পড়ল, আর মাথায় এল যে তাজহল আর বিষ্ণুপুরের মন্দির মোটামুটি একই সমযে নির্মিত হয়েছে। এর থেকে বন্দুকি সওদাগরের ধামের কথা খেয়াল হল... তাহলে কি ক্ষুদ্র হিমযুগের নানা দুর্দশাই এই কিংবদন্তির উৎস?’ [পৃ: ১১৭] এখানে ক্ষুদ্র হিমযুগে ঘটে যাওয়া নানা দুর্বিপাকের সাথে ডীন দত্ত মঙ্গলকাব্যে উল্লিখিত খরা, বন্যা, ঝঞ্ঝায় চাঁদ সওদাগরের দুর্ভোগের সম্পর্ক আবিষ্কার করলেন। এতে এই তথ্য প্রাসঙ্গিক তো হলোই, গল্পের রহস্য ঘনীভূতকরণেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করল।

এভাবেই অমিতাভ ঘোষর উপন্যাসে সংযোজিত তথ্য কাহিনিকে বাধাগ্রস্ত না করে বরং গল্পের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের স্থান কাল পাত্র জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বায়ুম-লে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বিশ্বজুড়েই ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে

তিন মহাদেশে কাহিনি নির্মাণ : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসে দীর্ঘ ভৌগোলিক পরিক্রমা থাকলেও তিনটি দেশের তিনটি অঞ্চলে গল্পের বেশিরভাগ আখ্যান তৈরি করেছেন ঔপন্যাসিক। ভারতের কলকাতায় শুরু হলেও মূলত সুন্দরবনের বর্তমান বাস্তবতা দেখানো হয়েছে বন্দুকি সওদাগরের ধাম দেখতে ডীন দত্তর সুন্দরবন যাওয়াকে উপলক্ষ করে। এরপর আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে তিনি যান একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার জন্য। সেখানেও দাবানল পরিস্থিতি, হলুদ পেট সাপের উপকূলের কাছাকাছি চলে আসার মতো ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। নিউইয়র্কের ডীন দত্ত ব্রুকলিনের বাসিন্দা, আর পিয়া থাকেন অরেগনে। আর কাহিনি সমাপ্ত হয়েছে ইতালির ভেনিসে। সেখানে দেখা যায় বড় এক বাঙালি কমিউনিটি, যার বেশির ভাগই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষ। তারও একটা বৃহত্তর অংশ বাংলদেশের মাদারীপুর জেলার, ঘটনাক্রমে ডীন দত্তরও পূর্বপুরুষের বাড়ি ছিল মাদারীপুরে।

‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসের ধারাক্রমিক বিস্তার : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসটি ‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসের ধারাক্রমিক বিস্তার। উপন্যাসের শুরুর দিকে তাই ‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসের চরিত্রগুলোর প্রাধান্য দেখা যায়। এস সময় দীননাথ দত্ত আর চিনতাকে পাওয়া যায় নতুন চরিত্র হিসেবে। রফি চরিত্রটিও নতুন, তবে সে সুন্দরবনেরই ভূমিপুত্র। টিপু নামটিকেও নতুন মনে হতে পারে, তবে সে ‘ভাটির দেশ’ উপন্যাসেরই পরিচিত চরিত্র টুটুল। ফকির ও ময়নার ছেলে টুটুল। ঘটনাক্রমে সে নিজেই তার নাম বদলে টিপু নামে নিজেকে পরিচিত করে। বন্দুক দ্বীপে এসে পিয়ার চরিত্র কিছুটা গৌণ হয়ে আসে বলেই প্রতীয়মান হয়। কানাই, নীলিমার দায়িত্ব কেবল নতুন অভিযাত্রার নেশাকে উসকে দেওয়া। চিনতার উজ্জ্বল ভূমিকা উপন্যাসে গতি ও গভীরতা দারুণভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপন্যাসটিকে লেখক দুটি পর্বে ভাগ করেছেন; ‘বন্দুকি সওদাগর’ ও ‘ভেনিস’। দ্বিতীয় পর্বে আমেরিকা হয়ে ভেনিসেই গল্পের ক্লাইমেক্স চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। যদিও উপন্যাসের সর্বত্র টানটান উত্তেজনা বজায় থেকেছে। ভেনিসে সুন্দরবন থেকে উঠে আসা চরিত্র রফি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ক্রমান্বয়ে। ‘ভেনিস’ পর্বে লুবনা নামের এক নারীর আগমন ঘটে যিনি ভেনিসের অভিবাসীদের আইনি সহয়তা দিয়ে থাকেন। লুবনা বাংলাদেশের মাদারীপুরের মেয়ে। মজার বিষয় হলো, ডীন দত্তর পূর্বপুরুষের জন্মভিটাও মাদারীপুর, যেখানে ঔপন্যাসিক অমিতাভ ঘোষেরও পিতৃভূমি।

অত্যন্ত গতিময় সাবলীল ও কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনিপ্রবাহ : ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত চমকপ্রদ ও চিত্তাকর্ষক। একবার শুরু করলে শেষ না করে ওঠা খুবই দুরূহ। চাঁদ সওদাগর মনসা দেবীর হাত থেকে রেহাই পেতে বন্দুক দ্বীপ হয়ে ফেরার পথে সুন্দরবনে একটি ধাম তৈরি করেন। এখান থেকে গল্পের শুরু হলে এক পর্যায়ে প্রতীয়মান হয় যে চাঁদ সওদাগর যে দ্বীপে গিয়েছিলেন সেটি মূলত ভেনিস। আর সমুদ্রপথে তালমিশ্রির দ্বীপ, রুমালি দ্বীপ, শেকল দ্বীপসমূহ ঘুরে শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনে এসে মনসার মন্দির নির্মাণ করেন।

উপন্যাসের কাহিনি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রফি ও টিপুর অবৈধ অভিবাসনের তীব্র আকাক্সক্ষা এবং স্বপ্নের পানে প্রাণান্তকর ছুটে চলা আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে গল্পটিকে।

মূলত ‘বন্দুক দ্বীপ’ একটি বহুরৈখিক উপন্যাস। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেই একে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা যেতে পারে। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লিখিত বলেই একটি কথা আলাদাভাবে বলা প্রয়োজন, সেটি হলো, অন্য ভূগোলের পাঠকের কাছে এ উপন্যাসের যে প্রাসঙ্গিকতা, বাঙালি পাঠকের কাছে তারচেয়ে অনেক অনেক বেশি। এর চরিত্র, পরিবেশ, ইতিহাস, স্থান, কিংবদন্তি প্রভৃতির সাথে আত্মিক নৈকট্যও প্রণিধানযোগ্য। সঙ্গত কারণেই উপন্যাসটি বাঙালি পাঠকের বিপুল মনোযোগ দাবি করে।

আর অনুবাদ সম্পর্কে বলতে গেলে বলা প্রয়োজন, পড়তে গিয়ে একটিবারের জন্যেও মনে হবে না যে, ‘বন্দুক দ্বীপ’ উপন্যাসটি অনূদিত। এমন সুন্দর সাবলীল অনুবাদের জন্য প্রখ্যাত অনুবাদক অরুণাভ সিংহ নিঃসন্দেহে ধন্যবাদার্হ।

বন্দুক দ্বীপ। অমিতাভ ঘোষ। অনুবাদ: অরুণাভ সিংহ। প্রকাশক: একা। পৃষ্ঠা: ২৭০।

back to top