alt

সাময়িকী

ওবায়েদ আকাশের ১৮টি প্রেমের কবিতা

: শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

https://sangbad.net.bd/images/2022/April/23Apr22/news/obayed-akash-1.jpg


একবার, নদীতীরে

মনে পড়ে বকুলফুল তুলতে এসে
সাদা সাদা নখগুলো ধরতে দিয়েছিলে-
বকের হাড়ের মতো সাদা আর বিশ্বাসের সৌগন্ধের মতো
বাস্তবতা থেকে মেঘগুলো যথেষ্ট আড়ালে

এখনো শেয়ালের পশমের মতো কোমল আর
ঝরঝরে তোমার মন। স্লিপিং পিল, টুথ ব্রাশ
অভ্যাসবশত কাছে কাছে রাখো। বাহুডোরে
মায়ের ঝোলানো তাবিজ, গলায় পিতলের লকেট
এখনো অবিকল আছে। তবু সুদর্শন গৃহশিক্ষককে ঘিরে
তোমার নামে যে কলঙ্ক রটানো আছে
তোমার ধার্মিক বাবা, বাজার থেকে কিনে আনা দেশী মোরগের
সুস্বাদু ব্যঞ্জন রেঁধে তা ভুলিয়ে দিতে চান

আমি ভাবি- বাড়িভর্তি এইরকম বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জায়
জোছনারাত বেছে নেবার প্রসঙ্গ- বাতুলতা নয় কি?
তোমার জমানো ডাকটিকিটগুলো প্রাপককে ফিরিয়ে দিতে গেলে
দীর্ঘদিন লেগে যেতে পারে- আমি বরং
শীতল পাটিতে ছড়িয়ে নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জমাট স্পর্শ থেকে
তোমার আমার সম্পর্কের পরম্পরাগুলো সুনির্ণয় করি-

আজকাল নদীতীর ধরে হাঁটতে গেলে ইলশেমাছ
গায়ে উঠে আসে। পরিচিত মানুষের মতো কাশবন- আর
সাম্প্রতিক দুঃখের মতো চিরতরুণ মেঘ। দেখে দেখে একবার
এই নদীতীরে, তুমি-আমি কান্না ধুয়েছিলাম, মনে পড়ে?

সম্পর্ক

তোমার আমার সম্পর্ক ঘিরে
জনে জনে কত কথা ওঠে
যেভাবে বৃষ্টির দিনে উঠোনে-পালানে ওঠে
ডাঙর কৈ-মাছ

আর, তুমি-আমি এই কথা জানি-
আজকাল, আমাদের সম্পর্কখানি
চুপসানো বেলুনের মতো
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা
সাদাকালো প্রাচীন ইতিহাস

আমরা তো মেঘের গর্জন শুনে
ডাল ভেঙে পড়ে গেছি
স্রোতশীলা হ্রদে
এরপর দেখা হলে কোনো চাঁদে-
আমিই কলঙ্ক আর তুমি তার আলো
অথবা তুমিই কলঙ্ক যদি-
আমার তো সব কিছু কালো

আর ধরো, দেখা হলো
কতশত প্রজন্মের পরে
আমাদের সম্পর্কখানি
কালিঝুলি মুড়িয়ে তারা
জনে জনে বেড়াবে ঘুরে

আমাদের নির্বাণকাল

তারকাঁটায় হেঁটে হেঁটে একদিন ঠিক পৌঁছে গিয়েছিলাম
নিষিদ্ধ শরীরী বিদ্যায়
আমার শরীর তা জানে
যেভাবে তোমার অতীত তা মানে

এখন এতদিন পর স্মৃতিচারণের মতো চিহ্নগুলো
গলায় ঝুলিয়ে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য প্রদর্শন করে চলেছি

আমাকে দেখলেই তোমাদের গৃহপালিত নদী
মুখ লুকায় উত্তাল দিনের সামুদ্রিক সন্ত্রাসে
তোমাকে দেখলেই আমাদের প্রহরারত মাঠে
অশ্বদৌড় কেঁপে ওঠে মধ্যরাতে অকুণ্ঠ উত্তাপে

আজকাল ঊনঘুম ঊনঅন্নে রাত জেগে তীর্থ রচনা করি
পুরনো নোটবই ঘেঁটে অনাবশ্যক বাক্য কেটে
ভুল শুধরে নিই

আজকাল গঞ্জে বাজারে ঘুরি, নানা বরণ মানুষ ঘেঁটে
চোখে চোখে খুঁজে দেখি শরীরী সম্পর্কের ভাষা
আমাদের এই বিদ্যা ভেসে উঠেছিল
ঢলে পাওয়া কইমাছের দিনে; আজও কেউ জানেনি তো
দুজনেই মজে আছি সেই এক চিরকালীন নির্বাণের ঋণে

এই চৈত্রে তুমি জ্বরগ্রস্ত হলে

তীব্র জ্বরের ঘোরে বিদ্যুৎ বাতির দিকে রেখেছো চোখ
আলনায় বসেছে কালো কাক
এবার জানালার পাশে, চৈত্রের কিছু ভালোবাসা ছাড়া
আর কোনো কূজন ওড়েনি

আমি ও সেবিকা তোমার- অসুখের পাশে
ভররাত বসে থেকে
দক্ষিণে বারান্দায় বসে কাঁদি

এবার শীত চলে গেল হঠাৎ বিদ্যুচ্চমকের মতো-
বিশুদ্ধ জলের বোতলে লালনীল পথ্যগুলো
পচে-গলে ঝাঁঝিয়ে উঠেছে

তোমার মুখভর্তি আলো
চোখের গড়ান ধরে বয়ে যাওয়া রোগগুলো
তারা অবিকল দেখে-

আমি ও সেবিকা তোমার- আলনার কাঁধে
কালো কাক দেখে
দূর থেকে ডেকে আনি
দক্ষ এক পাখিবধকারী

বৃষ্টি, বকুল ও আমাদের কথা

তখনও তাকে কিছুই বলিনি, অথচ সে আমার গানের খাতা টেনে নিয়ে
গাইতে শুরু করেছে-
কখনও ইশারা করিনি, অথচ নিতান্ত বৃষ্টিতে
সে আমার ছাতার নিচে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছে

আমার সারা শরীর তন্ন তন্ন করে খুঁজে
হলুদ পাঞ্জাবির পকেটে পাওয়া একটা শুকনো চ্যাপ্টা
বকুলফুল তার হাতে দিয়ে বলি:
এতদঞ্চলে বকুলের চারা রোপণে নিষেধাজ্ঞা হেতু
একবার সমুদ্রপারের পুজোঘর থেকে ফুলটি হাতিয়ে নিয়েছিলাম

আলোচ্য ফুলটি তখন ধূসর থেকে সাদা হতে শুরু করল
গন্ধ ছড়াল- আমাদের সঙ্গে
চমৎকার কথপোকথনে গুমোট সময়টা আনন্দে ভরিয়ে তুলল

তখন আমার সান্নিধ্য ছেড়ে অদূরে বটগাছের
শেকড় ধরে ঝুলতে থাকলে
আমার হাতের একমাত্র ছাতা ছুড়ে মারলে শূন্য আকাশে-

ততক্ষণে আমাদের প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে কথপোকথন শুরু হয়ে গেছে
বৃষ্টি নাচল, আমরা দেখলাম
বৃষ্টি হাসল, আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম
বৃষ্টি যখন প্রচণ্ড জ্বরে তপ্তশরীরে হাত-পা ঘামিয়ে
বমি করতে শুরু করল, আমরা দিগ্বিদিক পাগলের মতো
ছোটাছুটি করে কাছে-দূরের পাখিদের সাহায্য চাইলাম

তারা বৃষ্টির শরীর থেকে তপ্ত জ্বরকণাগুলো খুঁটে খুঁটে খেল
এবং চারদিকে পালক মেলে দিয়ে সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলে
মিলিয়ে গেল অনন্ত আকাশে-

আমরা আবার বৃষ্টিকে প্রতিরোধ করে
একই ছাতার নিচে মিলিত হলাম

https://sangbad.net.bd/images/2022/April/23Apr22/news/obayed-akash-2.jpg

শিল্পী : মনিরুল ইসলাম

মায়াটান

মায়াটান একাই বেড়াতে আসে, হাসে-
তোমার কি বড়সড় ঘর, চোখমুখ, গ্রীবাকাঁধ সঙ্গে নিয়েই
ভ্রমণবিলাসী হওয়া যাবে?

দীর্ঘায়ু মুঠো করে আলোয় উড়িয়ে দেয়া মনোবল
এখনো কি বোতলে নিবদ্ধ জারক, মেঘের রুপালি জলে
অবিকল ফিরে পাওয়া যাবে?

এক হাতে বাঁশি আর তৃষ্ণা দুধে ভাতে
বলো তো পরিচ্ছন্ন ঘুমে স্বপ্নেরা খেয়েপরে
ঘুম ভেঙে বৈকালিক ভ্রমণে আসে কুমার নদের তীরে?

আমগাছ দীঘিতে ঝাঁপিয়ে পড়ায়, পাকুড়পাতা-নাও আর
ডিঙি নায়ে মাছ ধরে ঘরে ফিরে জ্বরের প্রকোপে পড়া-
এসব পুরনো খেলায় মায়াটান উদাস পোশাক পরে
শুয়ে আছে ঘুমের কঙ্কাল খুঁড়ে

বৃষ্টি তো কাপালিক নয়, বললাম
আর আমাদের কপাল ভিজিয়ে দিয়ে নদের কিনারে জিরিয়ে নেবে বেলা
তোমারও কত খেলা
দেখে দেখে এই মায়া এই অভ্যাশবসতা যা গলগ্রহ ছাড়া অন্য কিছু নয়
অন্তত তোমার কাছে

যখন এসেই পড়েছে, মায়াটান
ও যাদুবাস্তবতা তোমার চোখের ওপর আঙুল বুলিয়ে যাক
আর ওপরে তাকাও, দেখো কী কী ছুঁতে চায় মন
আর পড়ে যেতে যেতে তোমার দেহের কী হাল হলো...
তার চে’ বরং এই বেলা আবার মায়ায় জড়ানো যাক
কথা রাখো

সঙ্গীতাকে ভালবাসতাম

সঙ্গীতা পরম সঙ্গী ছিল বহুদিন
নারকেলপাতার বাঁশি আর সোনালুপোকার
হিম সবুজ ডানায়
কে যেন তা লিখে রেখেছিল

কে ছিল সঙ্গীতা?

দেখো যাই যাই করে কয়েকশ’ গ্রাম যেয়ে
ঘুরে এলাম
কোথাও কোনো নারকেলগাছ নেই
খেজুরের পাতায় একটিও সোনালুপোকা নেই

অথচ সঙ্গীতা আছে- যে অযথাই
আমার সঙ্গে ছায়ার মতো ঘুরে ঘুরে
ঐ স্মারক লেখাটি খুঁজছে- আর
পিছন ফিরে তার অবয়ব, শাড়ি- কিছুই দেখছি না

একদিন ঘুমের ঘোরে বলে ফেললাম:
সঙ্গীতা, তোমাকে ভালবাসি খুব
তখন প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে
শত শত নারকেল গাছ, সবুজ খেজুরপাতায় ভর করে
সারি সারি সোনালুপোকা

সাম্প্রতিকগুলো

হাল আমলের এই ব্যাপারগুলোই আমার মর্মে ঢুকে পড়া ছিল
সাধারণ ব্যাপার
রাত্রির দোহাই দিয়ে তোমার হাতে তুলে দিয়েছি
একটি অন্ধকার গোলাপ
অথবা ঝড় এলো বলে পতিত নক্ষত্রগুলোয় ঝলসে দেবো
তোমার অদিতি
প্রতীক বিশ্বের দিকে আমার অন্ধত্বকে খুঁজে দেবো ভাষা
আর যাদুবাস্তবতা, তুমি দেখো- এই মায়াবিশ্বের ব্যাপারগুলো
পরস্পর সম্বন্ধতাড়িত হয়ে
আমার ভেতরে যে পরস্ত্রীকাতরতা ভর করেছিল-
আর আমার মহাত্মা ধানজমিগুলো
ক্রমাগত
জলের দামে বিকিয়ে দিয়েছিলাম...

ঐ ধানের জন্য মায়া, আর
ঋণের জন্য খুলে দিয়েছিলাম অন্দরের সিঁড়ি...
এই পরস্পর নিভৃত ব্যাপারগুলোয়
তোমার দিকে হাত পাততেই জমেছিল দ্বিধা-
তোমার শ্রেষ্ঠত্ব থেকে একে একে খুলে নিয়েছিলাম
কপোলের অভ্রকুচি, চুলের সুষমা...
তুমি সিংহ-শাবক কোলে তুলে নিয়ে, দ্বিধান্বিত পৃথিবীর পটে
ভেঙে ফেলেছিলে তাজমহলের কাঁচ
যা কিছু সাধারণ ব্যাপার-
একদিন প্রিয়কবি সাফোকে তোমার এ প্রকার সাম্প্রতিকগুলো
লিখে দিয়েছিলে
ম্যাটাফর কবিতার ভাষায়

তোমার এই দিনগুলো

তোমাকে কিছু দিতে চাইলেই সেদিন
বাড়িঘর থেকে ধোঁয়ার উৎসব চিরতরে বিলীন হয়ে যায়

কতশত গঞ্জনা উঠে তোমার ওপর ভর করে আর নাচে
তবু ক্রাচে ভর করে একটুখানি পৃথিবীর মুখ দেখে নিতে চাও
চুলে ফুল গুঁজে অন্তত একবার হলেও
বিকেলটাকে ঘ্রাণে ভরিয়ে দিতে চাও

এখনও অনঙ্গ আগুনের মতো তোমার কাছে আসি
অন্তত হাজারে কিংবা অজস্র বছরে একবারমাত্র এই কাছে আসাআসি
আমার পালকগুলো বুড়ো হয়ে যায়
দৃষ্টিগুলো উঠতে-বসতে নুলো হয়ে যায়

শুধু স্ত্রীর কাছে সন্তানের কাছে
ঘুণে খাওয়া প্রেমপত্র, তেলচিটচিটে আলোকচিত্র দেখিয়ে
সপ্রমাণ নিবেদন করি- এই দেখো
হারিয়ে পাওয়া মরচেধরা আধুলির মতো
তোমাদের প্রতি স্বাস্থ্যকর ভালবাসা পুনর্বার ফিরিয়ে এনেছি

স্ত্রীর চোখে মৃত মানুষের পুনরুজ্জীবনের বিস্ময় আর
সন্তানের চোখে প্রাযুক্তিক আলোছায়ার ভেল্কিবাজি বলে
অন্তত সাতদিন হলো ঘরের উঠোনে খোলা আকাশের নিচে
নির্ঘুম রাত্রি যাপন করি

শুধু ঘুম নেই তোমার
চারপাশে পরিশ্রান্ত পৃথিবীর চুলে বিলি কেটে দিয়ে
প্রতিদিন একা এই পথে আসো
ক্রাচে ভর দিয়ে প্রতিদিন দেখি এই পথে যাও

ভেঙে পড়ছে আমার সম্ভাব্য নগরী

এবার আমার সেলাই-সুতো পড়ে থাকছে। ঝড় দেখে উঠে পড়ছি বেগুন গাছে। আমাকে দেখতে এসেছেন প্রযুক্তিবিদ। ভাল গান করে তার সুনাম রটেছে গাঁয়ে। আর আমার মনোযোগ ভেঙে বলবেন কিছু কথা। আমি তাকে দাঁড়াতে বলি। হাতের কাজ ফেলে ডেকে আনি আমার সদ্য প্রণয়িনী। সে তার পা ধুয়ে দেয়। ছিপি খুলে এগিয়ে দেয় জলভর্তি সালশার বোতল। পূর্বপুরুষের ব্যামো। একবার ফুঁ দিয়ে দেন যদি
আজ আমার ঘুম হচ্ছে ভাল। আজ কোনো মসলার বায়না নেই। ঢোলকলমি, জলকচু- এ সবই বাজারে উঠেছে। তবে কি যাবো! এ সবই অগ্নিনাশক। মা বলেন, অতটা ঘুষখোর হলে রেহাই কি আর পাবি! চল্ এবার শীতে- শিলং কিংবা জলপাইগুড়ি- কত রকম চাষবাস হলো... মেঘ-রৌদ্রের আর্দ্রকথা... হায় তোর মরমে পাওয়া সখি- তার জন্যে ঘর-কবরেজ... এসব কোনো কথা হয়রে বাপ!
দিন যাচ্ছে। আমরা ক’জন ময়মুরব্বি স্নেহত্রাতা কারো মুখে তাকাবার আগে, প্রবল তোড়ে ঝড় বয়ে যায় সুখে। হায়রে দক্ষিণা হাওয়া... নরম-ডাঁটা ফসলের ঘ্রাণ... মগভর্তি দুধ। আজ হাটবার। ধামাভর্তি ফল... হাটভর্তি পদ্মার ইলিশের চাঁই- এ আমার মনোযোগ ভেঙে পড়ে আছে যমুনার ব্রিজের পাড়ে।... কেউ কি জানো, ঝড় উঠছে- কপোতাক্ষের পাড়ে যে কবির ভেসে গেছে বিপন্ন নগরের এত অভিবাস-স্মৃতি, সে নদে উঠেছে ঝড়; ঢেউয়ে ঝড়ে উগড়ে উঠছে স্মৃতি, মৃতের ক্রন্দনধ্বনি ঈশানে শ্মশানে... কেউ কি জানো, এবার আরাধ্য শীতে ভেঙে পড়ছে পৃথিবীর অব্যক্ত নগর, অনাগত তাজমহলের কাঁচ; আর আমার সম্ভাব্য সুরম্য প্রাসাদ পৃথিবীর অন্ধকার গহ্বর ধরে ডুবে যাচ্ছে প্রাচীন প্রহরে। একদিন চাঁদের মুখশ্রী ভেঙে ঝড় এলে- আমি চড়ে বসি মর্মরিত বেগুন শাখায়। একদিন আরোগ্য এলো দেশে। হায় আমার সদ্য প্রণয়িনী...

একরাত্রির স্পর্শ

তোমার হাত ধরেই যে বসেছিলাম- রাত্রিসঙ্ঘের অগ্নিদূত
দু’জনকে জ্বালিয়ে দিয়ে প্রমাণ করে গেল

শুধু যাই যাই করে উঠছ না, আর আমি তো
গাছতলায় এমন শীতল মাটিতে আয়েসে ঘুমাই
আমাদের আলিঙ্গন আজ উঠে এসেছিল পরস্পরের হাতে
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একমাত্র আমাদের মমতাময় হাত ধরাধরি
কতকাল আর অন্য কারও চক্ষুশূল না হয়ে পারে!

অথচ আমরা চাইলেই এই গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্যের দিনরাতের
আলিঙ্গন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি এবং তাদের বৈধতা নিয়ে
সন্ধিগ্ধ হয়ে আদালতে তুলে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারি
তখন চারদিক থেকে হৈ হৈ করে না হয় রব উঠবে
না না ফাঁসি নয়, মৃত্যু নয়- এবারের মতো লঘু দণ্ডে
নিশ্ছিদ্র কারাগারেই বন্দি রাখা হোক-

অথচ আমরা যে একরাত্রির স্পর্শের অভিযোগে
মুহূর্তেই জ্বলেপুড়ে ভস্ম হয়ে গেছি
তখন চারদিক থেকে বাতাস কি বলেছে বৃষ্টি কি বলেছে
ধরো ধরো, বাঁচাও বাঁচাও, ওদের শরীরে জল ঢেলে দাও?

জানি, দাঁত কেলিয়ে অনেকে হেসেছে দানবের হাসি
তুমি বরং ফাঁসির দড়িতে ঘি-তেল ঢেলে মজবুত করে তোলো
আর আমি তাদের শেষবারের মতো কলেমা পড়তে বলি

বিশ বছর পেছন থেকে

রাতে খুব বিড়াল ডাকছে। তোমাদের বাড়ি আশশ্যাওড়ার ঝোপের আড়াল থেকে
দেখা যায়। মাদুর বিছানো পথ। ভর সন্ধ্যায় ঘোড়দৌড়ের আয়োজন দেখে
মনে পড়ে- বিশ বছর পেছন থেকে তোমার ডাক শুনে কতবার এই
অভয়ারণ্য চিনে ফেলেছি। এখন বাঘ-সিংহ, ডাকাতের হলুদ তরবারি
নির্বিঘ্নে উপেক্ষা করে তোমাদের জঙ্গলের বাড়ির দিকে পা বাড়াতে পারি

হাতে লেগে আছে তোমার সদ্য কেনা শাড়ির আলগা কাচা রং
রকমারি বাজার থেকে চেরাগের সলতের আলোয় পরখ করে যা তোমাকে
ওষুধের কৌটোয় ভরে সযত্ন উপহার দিতাম। সাত দিন স্নান না করেও যেমন
গোলাপের শরীর থেকে অভিন্ন সৌগন্ধ আসে- বিশ বছর পেছন থেকে
তোমাদের সন্তানমুখরিত উঠোন থেকে তোমার ভালবাসার সুরভি টের পাই

আজো অরণ্যের ভেতর আকাশ ভেঙে ঝরে পড়ে বৃষ্টির সোনাদানা, আরণ্যক দ্যুতি
মাছ ভাজার ঘ্রাণ টের পেয়ে ভূতপ্রেতের আনাগোনা আজকাল যে কোনো হরর গল্পের
দুর্দান্ত তরল। ভাঙা টঙ ঘর অমনি পড়ে আছে। রাতে তার ফাঁক গলে অগণ্য
প্রেতের শরীর বধ করে ভোরবেলা কুড়িয়ে এনেছি অবিশ্বাস্য কাকের শরীর

বিশ বছর পেছন থেকে মৃত গাঙের অধর ছিঁড়ে বিদ্যুৎ চমকানো হাসি
আজ আবার মনে পড়ছে। আর রাতভর বিড়াল ডাকছে খুব। আজ রাতের এত
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুচ্চমকের ভেতর সেইসকল হাসির সাদৃশ্য শুধু অপার রহস্যময়

https://sangbad.net.bd/images/2022/April/23Apr22/news/obayed-akash-3.jpg

শিল্পী : মনিরুল ইসলাম

আমি আর বকুল

আমি আর বকুল এখন শুধু প্রেমপত্র টানাটানি করেই
রাত পার করে দেই

বকুল যখন লিখতে বসতো
আমি পৃষ্ঠার নিচের অন্ধকারে লুকিয়ে বসে
ওর শৈশবের ভাবনার ভেতর কত না ঋতু-পরিবর্তনের গল্পে
ওর দু’চোখ জুড়ে অশ্রু নামিয়ে আনতাম

যেমন একদিন জলে নেমেই মেপে নিয়েছিলাম
শৈশবের বয়স- জলের ঢেউ আর শরীরের আঁকাবাঁকা এসে
আমাদের বিদ্যালয়ের বয়সের শূন্যস্থানগুলো পূর্ণ করে যেত
আবার যখন তালগাছ, নারকেলগাছে চড়ে ঘুরে ঘুরে
অনেকটা সন্ধে পার করে দিতাম
পরদিন ভোরেই আবার ভবিষ্যৎ আরোগ্যালয়ে
টিকা গেলানোর উৎসব শুরু করে দিতেন স্বাস্থ্য-আপারা

আর যখন আমি লিখতে বসতাম
কলমের মুখের সমস্ত সম্ভাবনা নিয়ে রমনার বটমূলে দাঁড়িয়ে
ঘোষণা করেছিল বকুল:
আমরা ভোরবেলার শিশিরে ভিজে ফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে
আবার সন্ধ্যেয় তাকে বিসর্জন দিয়ে
তারই কিছু সুখ-দুঃখ ঘিরে জীবনের চিত্তানন্দের কথা বলতে এসেছি-

অথচ তখন দর্শক সারিতে আমি ও বকুল
আপামর মানুষের মতো শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় গ্রেফতার হয়ে
দেশপ্রেমে চোখ ভিজিয়ে যাচ্ছি-

আমি আর বকুল- আজকাল রাত্রি হলে প্রেমপত্রের
একটি পৃষ্ঠা ওল্টাতে গেলেই সমস্ত জীবন উল্টে যেতে চায়
ঋতুভিত্তিক উন্মাদনায় আমাদের শৈশব কৈশোর যৌবন
একবার মাত্র ভিজে পরক্ষণেরই বাতাসে শুকিয়ে যায়...

সমূহ গোপনে থাকে শৃঙ্গারতিলক

তোমার কপালে শৃঙ্গারতিলক এঁকে
হারিয়ে যেতে পারেন না কালিদাস
তাঁকে নিয়ে মিরন্দার প্রশ্নে
এখনও তিনি যারপরনাই শঙ্কিত হয়ে আছেন

কালিদাস, বিরহী কাতর মেঘ
সুবিস্তৃত ডানা মেলে এত যে ডাকছে তোমায়
অথচ অলকাপুরীতে তুমি নেই
একদিন রামগিরি হতে বিরহী যক্ষ
হঠাৎ ডাক দিয়ে গেলে
তাতে কি কখনও সাড়া না দিয়ে পারতে বলো?

তোমার মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে ক্লান্ত হলো মেঘ
কুঁকড়ে গেল শৃঙ্গারের রতি

কেউ কেউ বলে অনিবদ্ধ তোমাকে আজ
নিবদ্ধ সড়কে বুক চিতিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়
আর আমি বলি, তোমার শৃঙ্গারতিলক
এখনও আকাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে

প্রতিভালবাসা

ধরো, একটি বাড়বাড়ন্ত সংসার কিনে এনে
তোমার হাতে তুলে দিয়ে একপ্রকার দায়িত্ব সম্পন্ন শেষে
ছুটে গেলাম মরুভূমির দিকে

সেখানে উটের গ্রীবায় লুক্কায়িত মানুষের সমস্ত জীবন
ভাসমান মরীচিকা জুড়ে সংঘাত ও তস্করহীন
মানুষের নির্বিঘ্ন বিচরণ

এখন এই সংসারে এসে
আমাকে ডাকতে ডাকতে ডাহুক তার গলায় রক্ত তুলে আনবে
কানাকুয়ো কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাবে
আর লক্ষ্মীপেঁচারা নির্ঘুম কাটাতে কাটাতে একদিন ভোর শুরু হলে
তাদের লাশের সারিতে শুরু হবে রাজ্যের প্রতিবাদ

জানি বরাবরের মতোই
সংসারে আমার প্রয়োজন নিয়ে দফায় দফায় চিন্তিত হবে
এটা ওটা দুচার কথা বলতে ভুলবে না
পরপুরুষের দিকে তখনও তাকাবার বয়স হবে না হয়তো

অথচ ইচ্ছে করলেও মরুভূমির তপ্ত বালুতে
পোড়াতে পারবে না তোমার অসামান্য মায়ার সংসার

তখন ভালবাসার পরিবর্তে আমার প্রতি বর্ষণযোগ্য
ঘৃণার প্রয়োজন পড়বে খুব। আর একদিন
প্রতিবিপ্লবীর ভূমিকায় তোমাকে দেখতে চাইবে
দীর্ঘাঙ্গি সংসারের কতগুলো প্রয়োজনীয় মানুষ

আমাকে কেউ

আমাকে কেউ ভাবছে না আজকাল
এমন কথা কেমন করে বলি-

যারা ঢিল ছুড়ছে, ফুল ছিঁড়ছে, আবার
পাতার সৌন্দর্য দেখে ছুটে যাচ্ছে বনে, তাদের
এমন কথা কেমন করে বলি-

তুমি গান ধরছ, ঘুম পাড়ছ
বৃষ্টির মর্মরে তোমার জেগে উঠছে বাড়ি

আমাকে কেউ ভাবছে না আজকাল
তোমার পরনে কলাপাতার শাড়ি

তোমার অস্তিত্ব

তোমার অস্তিত্ব থেকে আমি নিশ্চুপ ক’টি হলুদ পাতায়
জমা করে রাখি মুখের লাবণ্যরাশি। তুমি ঝরে যাচ্ছ
এই মরাকটালের দেশে ছাইরঙ মৃত প্রজাপতি-

আমি হাত পাতি, আর নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকি-
ইলিশের ঘ্রাণ এসে লাগে- নাকে
দু’পাশে কালোজাম শাড়ি
মুঘল বাদশাহী হতে ঋণে পাওয়া উত্তরাধিকারের স্বর

এবার তাকিয়ে থাকি, আর তোমার সদ্য কেনা শৌখিন
কলসির পাড়, গাঢ়-ত্বক কোলবালিশের রোদ
সরে যাচ্ছে মৃদু গুঞ্জরণে
তোমার অস্তিত্ব বুঝি টলমান রেলব্রিজ হয়ে
উঠে পড়ছে মধ্য যমুনার বাঁকে
আর আমার ঘরে ফেরার পালা শেষ হবে বুঝি

তোমার সন্ধিগ্ধ প্রকাশ কবন্ধ মানুষের মতো
যদি অন্ধ হয়ে ফিরে চলে আসে
আর আসে ধান-ফসলের ঘ্রাণে আমার বিস্মৃত শৈশব
বিহ্বল জোনাকির চোখ, খুব রাত হেঁটে হেঁটে
মধ্যরাতে হাটুরের মুখর কোলাহল...

আমি আবার এসে প্রগাঢ় অন্ধকার দু’ভাগ করে
খুঁজে পাবো তোমার অস্তিত্বধারা

তবে ফুল হতে যে ভোরের সান্নিধ্যগাথা
সন্ধ্যার ক্লান্তির মতো নুয়ে এলো প্রায়ান্ধ রাতের শহরে
আমি তার দাঁড়াবার ঢঙ, চোখের বঙ্কিম রেখায়
না হয় জ্বালিয়ে দেবো একঝাঁক লাল মোমবাতি

আমাকে দেখ

জেগে আছে বিপুল সমুদ্রপারে একাকী ফসিল
ভাষা নেই ছুটে গেছে, মেঘের বারতা নিয়ে রঙিন কোকিল
আরো কত হৃত রাজ্য হৃত প্রেম এপারে ওপারে
আষাঢ়ে ঘনায় ক্ষণ উচ্ছ্বসিত নদীদের অবাক দু’ধারে

পলিবিদ্যা ভেসে যায়, হেরে যায় নিষ্কামতা টাপুর টুপুর
বৃষ্টি পড়ে শোনো সখি তুমি আমি সারাদিন একলা দুপুর
অযথাই ঘোরোফেরো, হাত ছেড়ে ঢেউ ধরো কী জানি ভাষায়!
কবে যেন ভেসে ছিলে, আমাকে একেলা ফেলে শরীরী বিভায়?

সেই থেকে ভেবে ভেবে তুমিও ফসিল আজ হাজার বছর
দ্বিধার কঙ্কালগুলো অবিকল জেগে আছো আশাহত ঘাসের ওপর

অথচ আমাকে দেখো-
কতটা বিশ্বস্ত হলে সমুদ্র-প্রবাল কেটে রামগিরি প্রাসাদ বানাই
বিপুল তরঙ্গ ভেঙে সহস্র বছরে এই কূলে-ওঠা নিজেকে জানাই

***

ওবায়েদ আকাশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ওবায়েদ আকাশের জন্ম ১৯৭৩ সালের ১৩ জুন, বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর গ্রামে। একাডেমিক পড়াশোনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতা। ২৫ বছর ধরে একই পেশায় কাজ করছেন। বর্তমানে দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক সংবাদ’-এ সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
পতন গুঞ্জনে ভাসে খরস্রোতা চাঁদ (বর্তমান সময়, ২০০১), নাশতার টেবিলে প্রজাপতিগণ (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৩), দুরারোগ্য বাড়ি (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৪), কুয়াশা উড়ালো যারা (বিশাকা, ২০০৫), পাতাল নির্মাণের প্রণালী (আগামী, ২০০৬), তারপরে, তারকার হাসি (আগামী, ২০০৭), শীতের প্রকার (বৃক্ষ, ২০০৮), ঋতুভেদে, পালকের মনোবৃত্তিগুলি (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০০৯), বিড়ালনৃত্য, প্রেতের মস্করা (শুদ্ধস্বর, ২০০৯), যা কিছু সবুজ, সঙ্কেতময় (ইত্যাদি, ২০১০), স্বতন্ত্র ৬০টি কবিতা (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০১০), প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায় (ইত্যাদি, ২০১১), ওবায়েদ আকাশের কবিতা ॥ আদি পর্ব (কাব্য সংকলন, জনান্তিক, ২০১১), শুশ্রূষার বিপরীতে (ধ্রুবপদ, ২০১১), রঙ করা দুঃখের তাঁবু (ইত্যাদি, ২০১২), বিবিধ জন্মের মাছরাঙা (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, ইত্যাদি, ২০১৩), তৃতীয় লিঙ্গ (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, শুদ্ধস্বর, ২০১৩), উদ্ধারকৃত মুখম-ল (বাংলা একাডেমি কর্র্তৃক প্রকাশিত নির্বাচিত কাব্য সংকলন, ২০১৩), হাসপাতাল থেকে ফিরে (কলকাতা, উদার আকাশ, ২০১৪), ৯৯ নতুন কবিতা (ইত্যাদি, ২০১৪) এবং বর্ষণসিক্ত হাসপাতাল (বৃক্ষ, ২০১৪), পাতাগুলি আলো (ইত্যাদি, ২০১৬), মৌলিক পৃষ্ঠায় হেঁয়ালি (ঐহিক, কলকাতা, ২০১৭), তথ্যসূত্র পেরুলেই সরোবর (মাওলা, ২০১৮), বাছাই কবিতা (নির্বাচিত কবিতা সংকলন, বেহুলা বাংলা ২০১৮), স্বতন্ত্র কবিতা (নির্বাচিত কবিতা সংকলন, ভাষাচিত্র ২০১৮) সর্বনামের সুখদুঃখ (ইত্যাদি, ২০১৯), শ্রেষ্ঠ কবিতা (বাছাই করা কবিতার সংকলন, অভিযান, কলকাতা, ২০১৯), পৃষ্ঠাজুড়ে সুলতানপুর (অরিত্র, ২০২০) নির্জনতা শুয়ে আছে সমুদ্র প্রহরায় (শালুক, ২০২১) এবং কাগুজে দিন, কাগুজে রাত (বেহুলা বাংলা, ২০২২)।

অনুবাদ :
‘ফরাসি কবিতার একাল / কথারা কোনোই প্রতিশ্র“তি বহন করে না’ (ফরাসি কবিতার অনুবাদ, জনান্তিক, ২০০৯)

‘জাপানি প্রেমের কবিতা/ এমন কাউকে ভালবাস যে তোমাকে বাসে না’ (জাপানি প্রেমের কবিতা, জনান্তিক, ২০১৪)

গদ্যগ্রন্থ : ‘ঘাসের রেস্তরাঁ’ (বৃক্ষ, ২০০৮) ও ‘লতাপাতার শৃঙ্খলা’ (ধ্রুবপদ, ২০১২)

সম্পাদনা গ্রন্থ :
দুই বাংলার নব্বইয়ের দশকের নির্বাচিত কবিতা (শিখা, ২০১২)

পাঁচ দশকে বাংলাদেশ : সাহিত্য সংস্কৃতি সমাজ ভাবনা / বিশিষ্ট কবি লেখক বুদ্ধিজীবীর সাক্ষাৎকার সংকলন (অরিত্র, ২০১৮)

সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন : শালুক (১৯৯৯-)। এ যাবত প্রকাশিত সংখ্যা ২৩টি।

পুরস্কার ও সম্মাননা:
‘শীতের প্রকার’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি পুরস্কার ২০০৮’;

‘শালুক’ সম্পাদনার জন্য ‘কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র পুরস্কার ২০০৯’।

এবং সামগ্রিক কাজের জন্য লন্ডন থেকে ‘সংহতি বিশেষ সম্মাননা পদক ২০১২’।

ঐহিক মৈত্রী সম্মাননা পদক, কলকাতা, ২০১৬।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি লিটল ম্যাগাজিন সম্মাননা ২০২২।

ছবি

বাংলাদেশের নব্বইয়ের দশকের কবিতা : বিষয়, প্রকরণ ও বিশেষত্ব

ছবি

এক আশ্চর্য ফুল: বিনয় মজুমদার

ছবি

বিভ্রম

ছবি

সাময়িকী কবিতা

ছবি

শিকিবু

ছবি

একাত্তরের মার্চ এবং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সূচনা

ছবি

বিদ্রোহীর ‘আমি’ এক পৌরাণিক নায়ক

ছবি

সুফিয়া কামাল ও বিশ শতকের মুসলিম নারী মানস

ছবি

স্থির, দিঘল-দীর্ঘশ্বাস

ছবি

শিকিবু

সাময়িকী কবিতা

ছবি

কামাল চৌধুরীর কবিতা

ছবি

আগন্তুকের গল্প

ছবি

‘আমার স্বপ্ন ছিল আমি ছবি আঁকব’-তাহেরা খানম

ছবি

শিকিবু

ছবি

খালেদ হামিদী : জীবন-পিরিচে স্বপ্নের উৎসব

সাময়িকী কবিতা

ছবি

কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

ছবি

এক বাউল জীবনের কথা

ছবি

হাসান আজিজুল হকের দর্শনচিন্তা

ছবি

স্পর্শের ওপারে স্বনির্মিত হাসান আজিজুল হক

ছবি

‘প্রবৃত্তির তাড়নাতেই লেখক সত্তার জন্ম’

ছবি

পৃষ্ঠাজুড়ে কবিতা

ছবি

সিজোফ্রেনিক রাখালবালিকায় কবিতার নতুন নন্দন

ছবি

গণমানুষের ছড়াকার মনজুরুল আহসান বুলবুল

ছবি

শিকিবু

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

বাংলা কবিতার প্রকৃত পরহেজগার

ছবি

মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের ফোকলোর সাধনা

ছবি

সৃজনশীল কাব্যগ্রন্থ ‘অজ্ঞাত আগুন’

ছবি

‘ভিন্নচোখ’-এর ‘বাংলাবিশ্ব কবিতাসংখ্যা’

ছবি

কালের প্রেক্ষাপটে চিরসখা অন্নদাশঙ্কর রায়

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

আনোয়ারা সৈয়দ হকের সত্যভাষণের শিল্প

ছবি

জীবনানন্দ দাশ ও বুদ্ধদেব বসু

tab

সাময়িকী

ওবায়েদ আকাশের ১৮টি প্রেমের কবিতা

শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

https://sangbad.net.bd/images/2022/April/23Apr22/news/obayed-akash-1.jpg


একবার, নদীতীরে

মনে পড়ে বকুলফুল তুলতে এসে
সাদা সাদা নখগুলো ধরতে দিয়েছিলে-
বকের হাড়ের মতো সাদা আর বিশ্বাসের সৌগন্ধের মতো
বাস্তবতা থেকে মেঘগুলো যথেষ্ট আড়ালে

এখনো শেয়ালের পশমের মতো কোমল আর
ঝরঝরে তোমার মন। স্লিপিং পিল, টুথ ব্রাশ
অভ্যাসবশত কাছে কাছে রাখো। বাহুডোরে
মায়ের ঝোলানো তাবিজ, গলায় পিতলের লকেট
এখনো অবিকল আছে। তবু সুদর্শন গৃহশিক্ষককে ঘিরে
তোমার নামে যে কলঙ্ক রটানো আছে
তোমার ধার্মিক বাবা, বাজার থেকে কিনে আনা দেশী মোরগের
সুস্বাদু ব্যঞ্জন রেঁধে তা ভুলিয়ে দিতে চান

আমি ভাবি- বাড়িভর্তি এইরকম বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জায়
জোছনারাত বেছে নেবার প্রসঙ্গ- বাতুলতা নয় কি?
তোমার জমানো ডাকটিকিটগুলো প্রাপককে ফিরিয়ে দিতে গেলে
দীর্ঘদিন লেগে যেতে পারে- আমি বরং
শীতল পাটিতে ছড়িয়ে নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জমাট স্পর্শ থেকে
তোমার আমার সম্পর্কের পরম্পরাগুলো সুনির্ণয় করি-

আজকাল নদীতীর ধরে হাঁটতে গেলে ইলশেমাছ
গায়ে উঠে আসে। পরিচিত মানুষের মতো কাশবন- আর
সাম্প্রতিক দুঃখের মতো চিরতরুণ মেঘ। দেখে দেখে একবার
এই নদীতীরে, তুমি-আমি কান্না ধুয়েছিলাম, মনে পড়ে?

সম্পর্ক

তোমার আমার সম্পর্ক ঘিরে
জনে জনে কত কথা ওঠে
যেভাবে বৃষ্টির দিনে উঠোনে-পালানে ওঠে
ডাঙর কৈ-মাছ

আর, তুমি-আমি এই কথা জানি-
আজকাল, আমাদের সম্পর্কখানি
চুপসানো বেলুনের মতো
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা
সাদাকালো প্রাচীন ইতিহাস

আমরা তো মেঘের গর্জন শুনে
ডাল ভেঙে পড়ে গেছি
স্রোতশীলা হ্রদে
এরপর দেখা হলে কোনো চাঁদে-
আমিই কলঙ্ক আর তুমি তার আলো
অথবা তুমিই কলঙ্ক যদি-
আমার তো সব কিছু কালো

আর ধরো, দেখা হলো
কতশত প্রজন্মের পরে
আমাদের সম্পর্কখানি
কালিঝুলি মুড়িয়ে তারা
জনে জনে বেড়াবে ঘুরে

আমাদের নির্বাণকাল

তারকাঁটায় হেঁটে হেঁটে একদিন ঠিক পৌঁছে গিয়েছিলাম
নিষিদ্ধ শরীরী বিদ্যায়
আমার শরীর তা জানে
যেভাবে তোমার অতীত তা মানে

এখন এতদিন পর স্মৃতিচারণের মতো চিহ্নগুলো
গলায় ঝুলিয়ে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য প্রদর্শন করে চলেছি

আমাকে দেখলেই তোমাদের গৃহপালিত নদী
মুখ লুকায় উত্তাল দিনের সামুদ্রিক সন্ত্রাসে
তোমাকে দেখলেই আমাদের প্রহরারত মাঠে
অশ্বদৌড় কেঁপে ওঠে মধ্যরাতে অকুণ্ঠ উত্তাপে

আজকাল ঊনঘুম ঊনঅন্নে রাত জেগে তীর্থ রচনা করি
পুরনো নোটবই ঘেঁটে অনাবশ্যক বাক্য কেটে
ভুল শুধরে নিই

আজকাল গঞ্জে বাজারে ঘুরি, নানা বরণ মানুষ ঘেঁটে
চোখে চোখে খুঁজে দেখি শরীরী সম্পর্কের ভাষা
আমাদের এই বিদ্যা ভেসে উঠেছিল
ঢলে পাওয়া কইমাছের দিনে; আজও কেউ জানেনি তো
দুজনেই মজে আছি সেই এক চিরকালীন নির্বাণের ঋণে

এই চৈত্রে তুমি জ্বরগ্রস্ত হলে

তীব্র জ্বরের ঘোরে বিদ্যুৎ বাতির দিকে রেখেছো চোখ
আলনায় বসেছে কালো কাক
এবার জানালার পাশে, চৈত্রের কিছু ভালোবাসা ছাড়া
আর কোনো কূজন ওড়েনি

আমি ও সেবিকা তোমার- অসুখের পাশে
ভররাত বসে থেকে
দক্ষিণে বারান্দায় বসে কাঁদি

এবার শীত চলে গেল হঠাৎ বিদ্যুচ্চমকের মতো-
বিশুদ্ধ জলের বোতলে লালনীল পথ্যগুলো
পচে-গলে ঝাঁঝিয়ে উঠেছে

তোমার মুখভর্তি আলো
চোখের গড়ান ধরে বয়ে যাওয়া রোগগুলো
তারা অবিকল দেখে-

আমি ও সেবিকা তোমার- আলনার কাঁধে
কালো কাক দেখে
দূর থেকে ডেকে আনি
দক্ষ এক পাখিবধকারী

বৃষ্টি, বকুল ও আমাদের কথা

তখনও তাকে কিছুই বলিনি, অথচ সে আমার গানের খাতা টেনে নিয়ে
গাইতে শুরু করেছে-
কখনও ইশারা করিনি, অথচ নিতান্ত বৃষ্টিতে
সে আমার ছাতার নিচে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছে

আমার সারা শরীর তন্ন তন্ন করে খুঁজে
হলুদ পাঞ্জাবির পকেটে পাওয়া একটা শুকনো চ্যাপ্টা
বকুলফুল তার হাতে দিয়ে বলি:
এতদঞ্চলে বকুলের চারা রোপণে নিষেধাজ্ঞা হেতু
একবার সমুদ্রপারের পুজোঘর থেকে ফুলটি হাতিয়ে নিয়েছিলাম

আলোচ্য ফুলটি তখন ধূসর থেকে সাদা হতে শুরু করল
গন্ধ ছড়াল- আমাদের সঙ্গে
চমৎকার কথপোকথনে গুমোট সময়টা আনন্দে ভরিয়ে তুলল

তখন আমার সান্নিধ্য ছেড়ে অদূরে বটগাছের
শেকড় ধরে ঝুলতে থাকলে
আমার হাতের একমাত্র ছাতা ছুড়ে মারলে শূন্য আকাশে-

ততক্ষণে আমাদের প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে কথপোকথন শুরু হয়ে গেছে
বৃষ্টি নাচল, আমরা দেখলাম
বৃষ্টি হাসল, আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম
বৃষ্টি যখন প্রচণ্ড জ্বরে তপ্তশরীরে হাত-পা ঘামিয়ে
বমি করতে শুরু করল, আমরা দিগ্বিদিক পাগলের মতো
ছোটাছুটি করে কাছে-দূরের পাখিদের সাহায্য চাইলাম

তারা বৃষ্টির শরীর থেকে তপ্ত জ্বরকণাগুলো খুঁটে খুঁটে খেল
এবং চারদিকে পালক মেলে দিয়ে সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলে
মিলিয়ে গেল অনন্ত আকাশে-

আমরা আবার বৃষ্টিকে প্রতিরোধ করে
একই ছাতার নিচে মিলিত হলাম

https://sangbad.net.bd/images/2022/April/23Apr22/news/obayed-akash-2.jpg

শিল্পী : মনিরুল ইসলাম

মায়াটান

মায়াটান একাই বেড়াতে আসে, হাসে-
তোমার কি বড়সড় ঘর, চোখমুখ, গ্রীবাকাঁধ সঙ্গে নিয়েই
ভ্রমণবিলাসী হওয়া যাবে?

দীর্ঘায়ু মুঠো করে আলোয় উড়িয়ে দেয়া মনোবল
এখনো কি বোতলে নিবদ্ধ জারক, মেঘের রুপালি জলে
অবিকল ফিরে পাওয়া যাবে?

এক হাতে বাঁশি আর তৃষ্ণা দুধে ভাতে
বলো তো পরিচ্ছন্ন ঘুমে স্বপ্নেরা খেয়েপরে
ঘুম ভেঙে বৈকালিক ভ্রমণে আসে কুমার নদের তীরে?

আমগাছ দীঘিতে ঝাঁপিয়ে পড়ায়, পাকুড়পাতা-নাও আর
ডিঙি নায়ে মাছ ধরে ঘরে ফিরে জ্বরের প্রকোপে পড়া-
এসব পুরনো খেলায় মায়াটান উদাস পোশাক পরে
শুয়ে আছে ঘুমের কঙ্কাল খুঁড়ে

বৃষ্টি তো কাপালিক নয়, বললাম
আর আমাদের কপাল ভিজিয়ে দিয়ে নদের কিনারে জিরিয়ে নেবে বেলা
তোমারও কত খেলা
দেখে দেখে এই মায়া এই অভ্যাশবসতা যা গলগ্রহ ছাড়া অন্য কিছু নয়
অন্তত তোমার কাছে

যখন এসেই পড়েছে, মায়াটান
ও যাদুবাস্তবতা তোমার চোখের ওপর আঙুল বুলিয়ে যাক
আর ওপরে তাকাও, দেখো কী কী ছুঁতে চায় মন
আর পড়ে যেতে যেতে তোমার দেহের কী হাল হলো...
তার চে’ বরং এই বেলা আবার মায়ায় জড়ানো যাক
কথা রাখো

সঙ্গীতাকে ভালবাসতাম

সঙ্গীতা পরম সঙ্গী ছিল বহুদিন
নারকেলপাতার বাঁশি আর সোনালুপোকার
হিম সবুজ ডানায়
কে যেন তা লিখে রেখেছিল

কে ছিল সঙ্গীতা?

দেখো যাই যাই করে কয়েকশ’ গ্রাম যেয়ে
ঘুরে এলাম
কোথাও কোনো নারকেলগাছ নেই
খেজুরের পাতায় একটিও সোনালুপোকা নেই

অথচ সঙ্গীতা আছে- যে অযথাই
আমার সঙ্গে ছায়ার মতো ঘুরে ঘুরে
ঐ স্মারক লেখাটি খুঁজছে- আর
পিছন ফিরে তার অবয়ব, শাড়ি- কিছুই দেখছি না

একদিন ঘুমের ঘোরে বলে ফেললাম:
সঙ্গীতা, তোমাকে ভালবাসি খুব
তখন প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে
শত শত নারকেল গাছ, সবুজ খেজুরপাতায় ভর করে
সারি সারি সোনালুপোকা

সাম্প্রতিকগুলো

হাল আমলের এই ব্যাপারগুলোই আমার মর্মে ঢুকে পড়া ছিল
সাধারণ ব্যাপার
রাত্রির দোহাই দিয়ে তোমার হাতে তুলে দিয়েছি
একটি অন্ধকার গোলাপ
অথবা ঝড় এলো বলে পতিত নক্ষত্রগুলোয় ঝলসে দেবো
তোমার অদিতি
প্রতীক বিশ্বের দিকে আমার অন্ধত্বকে খুঁজে দেবো ভাষা
আর যাদুবাস্তবতা, তুমি দেখো- এই মায়াবিশ্বের ব্যাপারগুলো
পরস্পর সম্বন্ধতাড়িত হয়ে
আমার ভেতরে যে পরস্ত্রীকাতরতা ভর করেছিল-
আর আমার মহাত্মা ধানজমিগুলো
ক্রমাগত
জলের দামে বিকিয়ে দিয়েছিলাম...

ঐ ধানের জন্য মায়া, আর
ঋণের জন্য খুলে দিয়েছিলাম অন্দরের সিঁড়ি...
এই পরস্পর নিভৃত ব্যাপারগুলোয়
তোমার দিকে হাত পাততেই জমেছিল দ্বিধা-
তোমার শ্রেষ্ঠত্ব থেকে একে একে খুলে নিয়েছিলাম
কপোলের অভ্রকুচি, চুলের সুষমা...
তুমি সিংহ-শাবক কোলে তুলে নিয়ে, দ্বিধান্বিত পৃথিবীর পটে
ভেঙে ফেলেছিলে তাজমহলের কাঁচ
যা কিছু সাধারণ ব্যাপার-
একদিন প্রিয়কবি সাফোকে তোমার এ প্রকার সাম্প্রতিকগুলো
লিখে দিয়েছিলে
ম্যাটাফর কবিতার ভাষায়

তোমার এই দিনগুলো

তোমাকে কিছু দিতে চাইলেই সেদিন
বাড়িঘর থেকে ধোঁয়ার উৎসব চিরতরে বিলীন হয়ে যায়

কতশত গঞ্জনা উঠে তোমার ওপর ভর করে আর নাচে
তবু ক্রাচে ভর করে একটুখানি পৃথিবীর মুখ দেখে নিতে চাও
চুলে ফুল গুঁজে অন্তত একবার হলেও
বিকেলটাকে ঘ্রাণে ভরিয়ে দিতে চাও

এখনও অনঙ্গ আগুনের মতো তোমার কাছে আসি
অন্তত হাজারে কিংবা অজস্র বছরে একবারমাত্র এই কাছে আসাআসি
আমার পালকগুলো বুড়ো হয়ে যায়
দৃষ্টিগুলো উঠতে-বসতে নুলো হয়ে যায়

শুধু স্ত্রীর কাছে সন্তানের কাছে
ঘুণে খাওয়া প্রেমপত্র, তেলচিটচিটে আলোকচিত্র দেখিয়ে
সপ্রমাণ নিবেদন করি- এই দেখো
হারিয়ে পাওয়া মরচেধরা আধুলির মতো
তোমাদের প্রতি স্বাস্থ্যকর ভালবাসা পুনর্বার ফিরিয়ে এনেছি

স্ত্রীর চোখে মৃত মানুষের পুনরুজ্জীবনের বিস্ময় আর
সন্তানের চোখে প্রাযুক্তিক আলোছায়ার ভেল্কিবাজি বলে
অন্তত সাতদিন হলো ঘরের উঠোনে খোলা আকাশের নিচে
নির্ঘুম রাত্রি যাপন করি

শুধু ঘুম নেই তোমার
চারপাশে পরিশ্রান্ত পৃথিবীর চুলে বিলি কেটে দিয়ে
প্রতিদিন একা এই পথে আসো
ক্রাচে ভর দিয়ে প্রতিদিন দেখি এই পথে যাও

ভেঙে পড়ছে আমার সম্ভাব্য নগরী

এবার আমার সেলাই-সুতো পড়ে থাকছে। ঝড় দেখে উঠে পড়ছি বেগুন গাছে। আমাকে দেখতে এসেছেন প্রযুক্তিবিদ। ভাল গান করে তার সুনাম রটেছে গাঁয়ে। আর আমার মনোযোগ ভেঙে বলবেন কিছু কথা। আমি তাকে দাঁড়াতে বলি। হাতের কাজ ফেলে ডেকে আনি আমার সদ্য প্রণয়িনী। সে তার পা ধুয়ে দেয়। ছিপি খুলে এগিয়ে দেয় জলভর্তি সালশার বোতল। পূর্বপুরুষের ব্যামো। একবার ফুঁ দিয়ে দেন যদি
আজ আমার ঘুম হচ্ছে ভাল। আজ কোনো মসলার বায়না নেই। ঢোলকলমি, জলকচু- এ সবই বাজারে উঠেছে। তবে কি যাবো! এ সবই অগ্নিনাশক। মা বলেন, অতটা ঘুষখোর হলে রেহাই কি আর পাবি! চল্ এবার শীতে- শিলং কিংবা জলপাইগুড়ি- কত রকম চাষবাস হলো... মেঘ-রৌদ্রের আর্দ্রকথা... হায় তোর মরমে পাওয়া সখি- তার জন্যে ঘর-কবরেজ... এসব কোনো কথা হয়রে বাপ!
দিন যাচ্ছে। আমরা ক’জন ময়মুরব্বি স্নেহত্রাতা কারো মুখে তাকাবার আগে, প্রবল তোড়ে ঝড় বয়ে যায় সুখে। হায়রে দক্ষিণা হাওয়া... নরম-ডাঁটা ফসলের ঘ্রাণ... মগভর্তি দুধ। আজ হাটবার। ধামাভর্তি ফল... হাটভর্তি পদ্মার ইলিশের চাঁই- এ আমার মনোযোগ ভেঙে পড়ে আছে যমুনার ব্রিজের পাড়ে।... কেউ কি জানো, ঝড় উঠছে- কপোতাক্ষের পাড়ে যে কবির ভেসে গেছে বিপন্ন নগরের এত অভিবাস-স্মৃতি, সে নদে উঠেছে ঝড়; ঢেউয়ে ঝড়ে উগড়ে উঠছে স্মৃতি, মৃতের ক্রন্দনধ্বনি ঈশানে শ্মশানে... কেউ কি জানো, এবার আরাধ্য শীতে ভেঙে পড়ছে পৃথিবীর অব্যক্ত নগর, অনাগত তাজমহলের কাঁচ; আর আমার সম্ভাব্য সুরম্য প্রাসাদ পৃথিবীর অন্ধকার গহ্বর ধরে ডুবে যাচ্ছে প্রাচীন প্রহরে। একদিন চাঁদের মুখশ্রী ভেঙে ঝড় এলে- আমি চড়ে বসি মর্মরিত বেগুন শাখায়। একদিন আরোগ্য এলো দেশে। হায় আমার সদ্য প্রণয়িনী...

একরাত্রির স্পর্শ

তোমার হাত ধরেই যে বসেছিলাম- রাত্রিসঙ্ঘের অগ্নিদূত
দু’জনকে জ্বালিয়ে দিয়ে প্রমাণ করে গেল

শুধু যাই যাই করে উঠছ না, আর আমি তো
গাছতলায় এমন শীতল মাটিতে আয়েসে ঘুমাই
আমাদের আলিঙ্গন আজ উঠে এসেছিল পরস্পরের হাতে
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একমাত্র আমাদের মমতাময় হাত ধরাধরি
কতকাল আর অন্য কারও চক্ষুশূল না হয়ে পারে!

অথচ আমরা চাইলেই এই গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্যের দিনরাতের
আলিঙ্গন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি এবং তাদের বৈধতা নিয়ে
সন্ধিগ্ধ হয়ে আদালতে তুলে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারি
তখন চারদিক থেকে হৈ হৈ করে না হয় রব উঠবে
না না ফাঁসি নয়, মৃত্যু নয়- এবারের মতো লঘু দণ্ডে
নিশ্ছিদ্র কারাগারেই বন্দি রাখা হোক-

অথচ আমরা যে একরাত্রির স্পর্শের অভিযোগে
মুহূর্তেই জ্বলেপুড়ে ভস্ম হয়ে গেছি
তখন চারদিক থেকে বাতাস কি বলেছে বৃষ্টি কি বলেছে
ধরো ধরো, বাঁচাও বাঁচাও, ওদের শরীরে জল ঢেলে দাও?

জানি, দাঁত কেলিয়ে অনেকে হেসেছে দানবের হাসি
তুমি বরং ফাঁসির দড়িতে ঘি-তেল ঢেলে মজবুত করে তোলো
আর আমি তাদের শেষবারের মতো কলেমা পড়তে বলি

বিশ বছর পেছন থেকে

রাতে খুব বিড়াল ডাকছে। তোমাদের বাড়ি আশশ্যাওড়ার ঝোপের আড়াল থেকে
দেখা যায়। মাদুর বিছানো পথ। ভর সন্ধ্যায় ঘোড়দৌড়ের আয়োজন দেখে
মনে পড়ে- বিশ বছর পেছন থেকে তোমার ডাক শুনে কতবার এই
অভয়ারণ্য চিনে ফেলেছি। এখন বাঘ-সিংহ, ডাকাতের হলুদ তরবারি
নির্বিঘ্নে উপেক্ষা করে তোমাদের জঙ্গলের বাড়ির দিকে পা বাড়াতে পারি

হাতে লেগে আছে তোমার সদ্য কেনা শাড়ির আলগা কাচা রং
রকমারি বাজার থেকে চেরাগের সলতের আলোয় পরখ করে যা তোমাকে
ওষুধের কৌটোয় ভরে সযত্ন উপহার দিতাম। সাত দিন স্নান না করেও যেমন
গোলাপের শরীর থেকে অভিন্ন সৌগন্ধ আসে- বিশ বছর পেছন থেকে
তোমাদের সন্তানমুখরিত উঠোন থেকে তোমার ভালবাসার সুরভি টের পাই

আজো অরণ্যের ভেতর আকাশ ভেঙে ঝরে পড়ে বৃষ্টির সোনাদানা, আরণ্যক দ্যুতি
মাছ ভাজার ঘ্রাণ টের পেয়ে ভূতপ্রেতের আনাগোনা আজকাল যে কোনো হরর গল্পের
দুর্দান্ত তরল। ভাঙা টঙ ঘর অমনি পড়ে আছে। রাতে তার ফাঁক গলে অগণ্য
প্রেতের শরীর বধ করে ভোরবেলা কুড়িয়ে এনেছি অবিশ্বাস্য কাকের শরীর

বিশ বছর পেছন থেকে মৃত গাঙের অধর ছিঁড়ে বিদ্যুৎ চমকানো হাসি
আজ আবার মনে পড়ছে। আর রাতভর বিড়াল ডাকছে খুব। আজ রাতের এত
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুচ্চমকের ভেতর সেইসকল হাসির সাদৃশ্য শুধু অপার রহস্যময়

https://sangbad.net.bd/images/2022/April/23Apr22/news/obayed-akash-3.jpg

শিল্পী : মনিরুল ইসলাম

আমি আর বকুল

আমি আর বকুল এখন শুধু প্রেমপত্র টানাটানি করেই
রাত পার করে দেই

বকুল যখন লিখতে বসতো
আমি পৃষ্ঠার নিচের অন্ধকারে লুকিয়ে বসে
ওর শৈশবের ভাবনার ভেতর কত না ঋতু-পরিবর্তনের গল্পে
ওর দু’চোখ জুড়ে অশ্রু নামিয়ে আনতাম

যেমন একদিন জলে নেমেই মেপে নিয়েছিলাম
শৈশবের বয়স- জলের ঢেউ আর শরীরের আঁকাবাঁকা এসে
আমাদের বিদ্যালয়ের বয়সের শূন্যস্থানগুলো পূর্ণ করে যেত
আবার যখন তালগাছ, নারকেলগাছে চড়ে ঘুরে ঘুরে
অনেকটা সন্ধে পার করে দিতাম
পরদিন ভোরেই আবার ভবিষ্যৎ আরোগ্যালয়ে
টিকা গেলানোর উৎসব শুরু করে দিতেন স্বাস্থ্য-আপারা

আর যখন আমি লিখতে বসতাম
কলমের মুখের সমস্ত সম্ভাবনা নিয়ে রমনার বটমূলে দাঁড়িয়ে
ঘোষণা করেছিল বকুল:
আমরা ভোরবেলার শিশিরে ভিজে ফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে
আবার সন্ধ্যেয় তাকে বিসর্জন দিয়ে
তারই কিছু সুখ-দুঃখ ঘিরে জীবনের চিত্তানন্দের কথা বলতে এসেছি-

অথচ তখন দর্শক সারিতে আমি ও বকুল
আপামর মানুষের মতো শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় গ্রেফতার হয়ে
দেশপ্রেমে চোখ ভিজিয়ে যাচ্ছি-

আমি আর বকুল- আজকাল রাত্রি হলে প্রেমপত্রের
একটি পৃষ্ঠা ওল্টাতে গেলেই সমস্ত জীবন উল্টে যেতে চায়
ঋতুভিত্তিক উন্মাদনায় আমাদের শৈশব কৈশোর যৌবন
একবার মাত্র ভিজে পরক্ষণেরই বাতাসে শুকিয়ে যায়...

সমূহ গোপনে থাকে শৃঙ্গারতিলক

তোমার কপালে শৃঙ্গারতিলক এঁকে
হারিয়ে যেতে পারেন না কালিদাস
তাঁকে নিয়ে মিরন্দার প্রশ্নে
এখনও তিনি যারপরনাই শঙ্কিত হয়ে আছেন

কালিদাস, বিরহী কাতর মেঘ
সুবিস্তৃত ডানা মেলে এত যে ডাকছে তোমায়
অথচ অলকাপুরীতে তুমি নেই
একদিন রামগিরি হতে বিরহী যক্ষ
হঠাৎ ডাক দিয়ে গেলে
তাতে কি কখনও সাড়া না দিয়ে পারতে বলো?

তোমার মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে ক্লান্ত হলো মেঘ
কুঁকড়ে গেল শৃঙ্গারের রতি

কেউ কেউ বলে অনিবদ্ধ তোমাকে আজ
নিবদ্ধ সড়কে বুক চিতিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়
আর আমি বলি, তোমার শৃঙ্গারতিলক
এখনও আকাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে

প্রতিভালবাসা

ধরো, একটি বাড়বাড়ন্ত সংসার কিনে এনে
তোমার হাতে তুলে দিয়ে একপ্রকার দায়িত্ব সম্পন্ন শেষে
ছুটে গেলাম মরুভূমির দিকে

সেখানে উটের গ্রীবায় লুক্কায়িত মানুষের সমস্ত জীবন
ভাসমান মরীচিকা জুড়ে সংঘাত ও তস্করহীন
মানুষের নির্বিঘ্ন বিচরণ

এখন এই সংসারে এসে
আমাকে ডাকতে ডাকতে ডাহুক তার গলায় রক্ত তুলে আনবে
কানাকুয়ো কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাবে
আর লক্ষ্মীপেঁচারা নির্ঘুম কাটাতে কাটাতে একদিন ভোর শুরু হলে
তাদের লাশের সারিতে শুরু হবে রাজ্যের প্রতিবাদ

জানি বরাবরের মতোই
সংসারে আমার প্রয়োজন নিয়ে দফায় দফায় চিন্তিত হবে
এটা ওটা দুচার কথা বলতে ভুলবে না
পরপুরুষের দিকে তখনও তাকাবার বয়স হবে না হয়তো

অথচ ইচ্ছে করলেও মরুভূমির তপ্ত বালুতে
পোড়াতে পারবে না তোমার অসামান্য মায়ার সংসার

তখন ভালবাসার পরিবর্তে আমার প্রতি বর্ষণযোগ্য
ঘৃণার প্রয়োজন পড়বে খুব। আর একদিন
প্রতিবিপ্লবীর ভূমিকায় তোমাকে দেখতে চাইবে
দীর্ঘাঙ্গি সংসারের কতগুলো প্রয়োজনীয় মানুষ

আমাকে কেউ

আমাকে কেউ ভাবছে না আজকাল
এমন কথা কেমন করে বলি-

যারা ঢিল ছুড়ছে, ফুল ছিঁড়ছে, আবার
পাতার সৌন্দর্য দেখে ছুটে যাচ্ছে বনে, তাদের
এমন কথা কেমন করে বলি-

তুমি গান ধরছ, ঘুম পাড়ছ
বৃষ্টির মর্মরে তোমার জেগে উঠছে বাড়ি

আমাকে কেউ ভাবছে না আজকাল
তোমার পরনে কলাপাতার শাড়ি

তোমার অস্তিত্ব

তোমার অস্তিত্ব থেকে আমি নিশ্চুপ ক’টি হলুদ পাতায়
জমা করে রাখি মুখের লাবণ্যরাশি। তুমি ঝরে যাচ্ছ
এই মরাকটালের দেশে ছাইরঙ মৃত প্রজাপতি-

আমি হাত পাতি, আর নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকি-
ইলিশের ঘ্রাণ এসে লাগে- নাকে
দু’পাশে কালোজাম শাড়ি
মুঘল বাদশাহী হতে ঋণে পাওয়া উত্তরাধিকারের স্বর

এবার তাকিয়ে থাকি, আর তোমার সদ্য কেনা শৌখিন
কলসির পাড়, গাঢ়-ত্বক কোলবালিশের রোদ
সরে যাচ্ছে মৃদু গুঞ্জরণে
তোমার অস্তিত্ব বুঝি টলমান রেলব্রিজ হয়ে
উঠে পড়ছে মধ্য যমুনার বাঁকে
আর আমার ঘরে ফেরার পালা শেষ হবে বুঝি

তোমার সন্ধিগ্ধ প্রকাশ কবন্ধ মানুষের মতো
যদি অন্ধ হয়ে ফিরে চলে আসে
আর আসে ধান-ফসলের ঘ্রাণে আমার বিস্মৃত শৈশব
বিহ্বল জোনাকির চোখ, খুব রাত হেঁটে হেঁটে
মধ্যরাতে হাটুরের মুখর কোলাহল...

আমি আবার এসে প্রগাঢ় অন্ধকার দু’ভাগ করে
খুঁজে পাবো তোমার অস্তিত্বধারা

তবে ফুল হতে যে ভোরের সান্নিধ্যগাথা
সন্ধ্যার ক্লান্তির মতো নুয়ে এলো প্রায়ান্ধ রাতের শহরে
আমি তার দাঁড়াবার ঢঙ, চোখের বঙ্কিম রেখায়
না হয় জ্বালিয়ে দেবো একঝাঁক লাল মোমবাতি

আমাকে দেখ

জেগে আছে বিপুল সমুদ্রপারে একাকী ফসিল
ভাষা নেই ছুটে গেছে, মেঘের বারতা নিয়ে রঙিন কোকিল
আরো কত হৃত রাজ্য হৃত প্রেম এপারে ওপারে
আষাঢ়ে ঘনায় ক্ষণ উচ্ছ্বসিত নদীদের অবাক দু’ধারে

পলিবিদ্যা ভেসে যায়, হেরে যায় নিষ্কামতা টাপুর টুপুর
বৃষ্টি পড়ে শোনো সখি তুমি আমি সারাদিন একলা দুপুর
অযথাই ঘোরোফেরো, হাত ছেড়ে ঢেউ ধরো কী জানি ভাষায়!
কবে যেন ভেসে ছিলে, আমাকে একেলা ফেলে শরীরী বিভায়?

সেই থেকে ভেবে ভেবে তুমিও ফসিল আজ হাজার বছর
দ্বিধার কঙ্কালগুলো অবিকল জেগে আছো আশাহত ঘাসের ওপর

অথচ আমাকে দেখো-
কতটা বিশ্বস্ত হলে সমুদ্র-প্রবাল কেটে রামগিরি প্রাসাদ বানাই
বিপুল তরঙ্গ ভেঙে সহস্র বছরে এই কূলে-ওঠা নিজেকে জানাই

***

ওবায়েদ আকাশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ওবায়েদ আকাশের জন্ম ১৯৭৩ সালের ১৩ জুন, বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর গ্রামে। একাডেমিক পড়াশোনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতা। ২৫ বছর ধরে একই পেশায় কাজ করছেন। বর্তমানে দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক সংবাদ’-এ সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
পতন গুঞ্জনে ভাসে খরস্রোতা চাঁদ (বর্তমান সময়, ২০০১), নাশতার টেবিলে প্রজাপতিগণ (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৩), দুরারোগ্য বাড়ি (মঙ্গলসন্ধ্যা, ২০০৪), কুয়াশা উড়ালো যারা (বিশাকা, ২০০৫), পাতাল নির্মাণের প্রণালী (আগামী, ২০০৬), তারপরে, তারকার হাসি (আগামী, ২০০৭), শীতের প্রকার (বৃক্ষ, ২০০৮), ঋতুভেদে, পালকের মনোবৃত্তিগুলি (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০০৯), বিড়ালনৃত্য, প্রেতের মস্করা (শুদ্ধস্বর, ২০০৯), যা কিছু সবুজ, সঙ্কেতময় (ইত্যাদি, ২০১০), স্বতন্ত্র ৬০টি কবিতা (কাব্য সংকলন, বৃক্ষ, ২০১০), প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায় (ইত্যাদি, ২০১১), ওবায়েদ আকাশের কবিতা ॥ আদি পর্ব (কাব্য সংকলন, জনান্তিক, ২০১১), শুশ্রূষার বিপরীতে (ধ্রুবপদ, ২০১১), রঙ করা দুঃখের তাঁবু (ইত্যাদি, ২০১২), বিবিধ জন্মের মাছরাঙা (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, ইত্যাদি, ২০১৩), তৃতীয় লিঙ্গ (দীর্ঘ কবিতার সংকলন, শুদ্ধস্বর, ২০১৩), উদ্ধারকৃত মুখম-ল (বাংলা একাডেমি কর্র্তৃক প্রকাশিত নির্বাচিত কাব্য সংকলন, ২০১৩), হাসপাতাল থেকে ফিরে (কলকাতা, উদার আকাশ, ২০১৪), ৯৯ নতুন কবিতা (ইত্যাদি, ২০১৪) এবং বর্ষণসিক্ত হাসপাতাল (বৃক্ষ, ২০১৪), পাতাগুলি আলো (ইত্যাদি, ২০১৬), মৌলিক পৃষ্ঠায় হেঁয়ালি (ঐহিক, কলকাতা, ২০১৭), তথ্যসূত্র পেরুলেই সরোবর (মাওলা, ২০১৮), বাছাই কবিতা (নির্বাচিত কবিতা সংকলন, বেহুলা বাংলা ২০১৮), স্বতন্ত্র কবিতা (নির্বাচিত কবিতা সংকলন, ভাষাচিত্র ২০১৮) সর্বনামের সুখদুঃখ (ইত্যাদি, ২০১৯), শ্রেষ্ঠ কবিতা (বাছাই করা কবিতার সংকলন, অভিযান, কলকাতা, ২০১৯), পৃষ্ঠাজুড়ে সুলতানপুর (অরিত্র, ২০২০) নির্জনতা শুয়ে আছে সমুদ্র প্রহরায় (শালুক, ২০২১) এবং কাগুজে দিন, কাগুজে রাত (বেহুলা বাংলা, ২০২২)।

অনুবাদ :
‘ফরাসি কবিতার একাল / কথারা কোনোই প্রতিশ্র“তি বহন করে না’ (ফরাসি কবিতার অনুবাদ, জনান্তিক, ২০০৯)

‘জাপানি প্রেমের কবিতা/ এমন কাউকে ভালবাস যে তোমাকে বাসে না’ (জাপানি প্রেমের কবিতা, জনান্তিক, ২০১৪)

গদ্যগ্রন্থ : ‘ঘাসের রেস্তরাঁ’ (বৃক্ষ, ২০০৮) ও ‘লতাপাতার শৃঙ্খলা’ (ধ্রুবপদ, ২০১২)

সম্পাদনা গ্রন্থ :
দুই বাংলার নব্বইয়ের দশকের নির্বাচিত কবিতা (শিখা, ২০১২)

পাঁচ দশকে বাংলাদেশ : সাহিত্য সংস্কৃতি সমাজ ভাবনা / বিশিষ্ট কবি লেখক বুদ্ধিজীবীর সাক্ষাৎকার সংকলন (অরিত্র, ২০১৮)

সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন : শালুক (১৯৯৯-)। এ যাবত প্রকাশিত সংখ্যা ২৩টি।

পুরস্কার ও সম্মাননা:
‘শীতের প্রকার’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি পুরস্কার ২০০৮’;

‘শালুক’ সম্পাদনার জন্য ‘কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র পুরস্কার ২০০৯’।

এবং সামগ্রিক কাজের জন্য লন্ডন থেকে ‘সংহতি বিশেষ সম্মাননা পদক ২০১২’।

ঐহিক মৈত্রী সম্মাননা পদক, কলকাতা, ২০১৬।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি লিটল ম্যাগাজিন সম্মাননা ২০২২।

back to top