alt

ক্যাম্পাস

মতিঝিল আইডিয়ালে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছাড়াই ফি ধার্য, অভিভাবকদের ‘অসন্তোষ’

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : রোববার, ০৭ এপ্রিল ২০২৪

ঈদের ছুটি ঘোষণার পর শিক্ষার্থী প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকার বিভিন্ন ভাতা ও চার্জ চাপিয়ে দিয়েছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানকেও কোনো কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত জানুয়ারিতে নতুন ভর্তি ও পূণভর্তির সময় যেসব ভাতা ও চার্জ নেয়া হয়েছিল সেগুলির অধিকাংশই নতুন করে ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির তিন ক্যাম্পাসের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি প্রথম শ্রেণীর ‘ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ও অন্য ফি আদায়ের বিবরণ’ শীর্ষক এক নোটিশে দেখা গেছে, বার্ষিকী ২০০ টাকা, আর্থিক সাহায্য ২০০ টাকা, রিপোর্ট কার্ড ৩০০ টাকা, বিদায় অনুষ্ঠান ১০০ টাকা ও জাতীয় অনুষ্ঠান ২০০ টাকা ধরা হয়েছে। আর ডায়েরি, সিলেবাস ও ওয়াসা পৌরকর, জেনারেটর, আইডিকার্ড ও অন্য ৯৫০ টাকা। সবমিলিয়ে মোট এক হাজার ৯৫০ টাকা। মাসিক বেতনের বাইরে এই টাকা অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রবিউল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘বাড়তি চার্জ ও ফি আদায়ের বিষয়টি আমার নলেজে নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।’

গত ২৯ মার্চ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে প্রায় সব ছাত্র-ছাত্রীর কাছে বিভিন্ন অঙ্কের ফি ও টাকা ধার্য করা হয়। শিক্ষাবর্ষ শুরুর তিনমাসের মধ্যে হঠাৎ এ ধরণের ব্যয় ধার্য করায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মধ্যে।

এ বিষয়ে ‘আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ গার্ডিয়ান সোসাইটির’ সভাপতি ও রামপুরা বনশ্রী শাখার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কেএম সাইফুর রহমান (খোকন) সংবাদকে বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ভর্তির সময় নানা অজুহাতে আট থেকে দশ হাজার টাকা ভর্তি ফি নিয়ে থাকে। এরপর দু’তিন মাস পরই এভাবে শিক্ষার্থী প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা ধার্য করা ‘অমানবিক’। তিনি শিক্ষার নামে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের ‘বাণিজ্য’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সৈয়দ জাফর আলী সংবাদকে বলেছেন, ‘স্কুলগুলি শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই তাদের যাবতীয় ফি নিয়ে থাকে। বছরের তিনমাসের মাথায় নতুন করে কোনো ফি আদায়ের সুযোগ নেই। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিরুদ্ধে এ ধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি শাখা (ক্যাম্পাস) রয়েছে। এর প্রধান ক্যাম্পাস মতিঝিলে। আর রামপুরা বনশ্রী ও মুগদা সড়কের পাশে দুটি শাখা ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই তিন ক্যাম্পাসে প্রথম শ্রেণী থেকে একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।

প্রতিষ্ঠানটির দু’জন শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সাবেক দু’জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি অন্তত দুই হাজার টাকা করে আদায় হলে মোট প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আদায় হয়। বেতনভাতার অতিরিক্ত হিসেবে বছরে দু’তিনবার এভাবে অভিভাবকদের ‘জিম্মি’ করে টাকা আদায় করা হয়।

একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গভর্নিং বডির ‘সম্মতির’ ভিত্তিতেই এভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। তা ব্যয় দেখানো হয়, গভর্নিং বডির বিভিন্ন সভার ‘সম্মানী’, ‘আপ্যায়ন’ ও বিভিন্ন ‘কেনাকাটার’ নামে। শিক্ষকরাও নানা ‘অজুহাত’ দেখিয়ে এই টাকার ‘ভাগ নিয়ে থাকেন। নির্বাচিত গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে ‘অ্যাডহক’ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

একাধিক শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানটির তিনটি শাখায় প্রায় সাতশ’ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত আছেন মাত্র ১০৯ জন। বাকি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকেই দিতে হয়। এ খাত দেখিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে বাড়তি চার্জ আদায় করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির গভর্ণিং বডির সাবেক সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার সংবাদকে বলেন, ‘বর্তমানে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। প্রশাসনিক পুরো কার্যক্রম জামায়াতপন্থী লোকজনের নিয়ন্ত্রণে। তারা যা খুশি তাই করছেন।’

শিক্ষা সফরের নামে ৪২ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া এক অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির তিনটি শাখার নবম ও দশম শ্রেণীর ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যমে মোট শিক্ষার্থী (নবমে ২,৬০০ এবং দশমে ২,৬৫০ জন) পাঁচ হাজার ২৫০ জন। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ শিক্ষা সফরের জন্য জনপ্রতি দুই হাজার টাকা চাঁদা নেয়া হয়। সেই হিসেবে মোট চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

এর মধ্যে দুপুরের খাবার ও দু’বেলা নাস্তাসহ সবমিলিয়ে মোট ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কামরুজ্জামান নামের এক শিক্ষক ও তার সহকারীরা ‘আত্নসাত’ করেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলির বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ধরেনি।

ছবি

জবিতে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করছে ‘বাঁধন’

ছবি

মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে: সাদেকা হালিম

ছবি

ক্যান্সার আক্রান্ত জবি অধ্যাপককে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

ছবি

টিউশনের প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা

ছবি

১১তম পরিবেশ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন রাবি

ছবি

যাদের প্রিয় কিছু নেই, তাদের জীবন অন্তঃসারশূন্য: জবি উপাচার্য

পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ঢাবি শিক্ষক সমিতির

ছবি

জাবিতে স্বেচ্ছাচারিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে প্রভোস্ট কক্ষে তালা

৩.৬৫ পেয়ে তৃতীয় হলেন জবির সেই অবন্তিকা

ছবি

বশেমুরকৃবিতে কৃষিতে রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস এর ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ছবি

বারিতে ক্যানসার কোষ কালচার বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি

গাজীপুরে ডুয়েট শিক্ষকদের মৌন মিছিল, প্রতিবাদ সভা

ছবি

বশেমুরকৃবি ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালে ইয়ং ডক্টরস লার্নিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ছবি

কৃষ্ণচূড়ার আগুন রঙ্গে সেজেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

ছবি

বিএআরআই বিজ্ঞানীদের নতুন প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ছবি

জাবির সঙ্গে এনআইএলএমআরসি’র সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত

ছবি

দক্ষতা অর্জন করতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের

জাবিতে ইভটিজিংয়ের মিথ্যা অভিযোগ করায় ছাত্রীকে জরিমানা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ

ছবি

রাবিতে প্রথম বারের মতো বিএসসিএফ ডিভিশনাল অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প ১৭ মে

ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হেনস্থার ঘটনায় বাস আটক

ছবি

স্টামফোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে “সাংবাদিকতায় নিউ মিডিয়ার ব্যবহার” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি

পরিবর্তন হলো জবির একমাত্র ছাত্রী হলের নাম

ছবি

জবিতে ব্যান্ড মিউজিক এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ফয়সাল-আরাবি

ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নির্দেশ উপাচার্যের

ছবি

দেড় মাস পর পরীক্ষায় বসলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা

ছবি

নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস জুলাইয়ে শুরু করতে চায় জবি

ছবি

দেশ সেরা“শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী উদ্যোগ” পুরস্কার পেয়েছে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ

ছবি

গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবিসহ ৩ দাবিতে ঢাবিতে মানব পতাকা প্রদর্শন ও সমাবেশ

ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠান সম্পন্ন

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয়দিনের মত অবস্থান কর্মসূচীতে কুবি শিক্ষকরা

ছবি

ঢাবিতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কোড সামুরাই হ্যাকাথন শুরু শুক্রবার

যৌন হয়রানির দায়ে ঢাবির ২ অধ্যাপককে অব্যাহতি, থিসিস জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে কমিটি

ছবি

ডিন পদ ফিরে পাচ্ছেন ঢাবি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ

ছবি

চায়না্থর আনহুই একাডেমি প্রতিনিধি দলের বারি পরিদর্শন

tab

ক্যাম্পাস

মতিঝিল আইডিয়ালে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছাড়াই ফি ধার্য, অভিভাবকদের ‘অসন্তোষ’

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

রোববার, ০৭ এপ্রিল ২০২৪

ঈদের ছুটি ঘোষণার পর শিক্ষার্থী প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকার বিভিন্ন ভাতা ও চার্জ চাপিয়ে দিয়েছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানকেও কোনো কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত জানুয়ারিতে নতুন ভর্তি ও পূণভর্তির সময় যেসব ভাতা ও চার্জ নেয়া হয়েছিল সেগুলির অধিকাংশই নতুন করে ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির তিন ক্যাম্পাসের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি প্রথম শ্রেণীর ‘ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ও অন্য ফি আদায়ের বিবরণ’ শীর্ষক এক নোটিশে দেখা গেছে, বার্ষিকী ২০০ টাকা, আর্থিক সাহায্য ২০০ টাকা, রিপোর্ট কার্ড ৩০০ টাকা, বিদায় অনুষ্ঠান ১০০ টাকা ও জাতীয় অনুষ্ঠান ২০০ টাকা ধরা হয়েছে। আর ডায়েরি, সিলেবাস ও ওয়াসা পৌরকর, জেনারেটর, আইডিকার্ড ও অন্য ৯৫০ টাকা। সবমিলিয়ে মোট এক হাজার ৯৫০ টাকা। মাসিক বেতনের বাইরে এই টাকা অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রবিউল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘বাড়তি চার্জ ও ফি আদায়ের বিষয়টি আমার নলেজে নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।’

গত ২৯ মার্চ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে প্রায় সব ছাত্র-ছাত্রীর কাছে বিভিন্ন অঙ্কের ফি ও টাকা ধার্য করা হয়। শিক্ষাবর্ষ শুরুর তিনমাসের মধ্যে হঠাৎ এ ধরণের ব্যয় ধার্য করায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মধ্যে।

এ বিষয়ে ‘আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ গার্ডিয়ান সোসাইটির’ সভাপতি ও রামপুরা বনশ্রী শাখার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কেএম সাইফুর রহমান (খোকন) সংবাদকে বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ভর্তির সময় নানা অজুহাতে আট থেকে দশ হাজার টাকা ভর্তি ফি নিয়ে থাকে। এরপর দু’তিন মাস পরই এভাবে শিক্ষার্থী প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা ধার্য করা ‘অমানবিক’। তিনি শিক্ষার নামে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের ‘বাণিজ্য’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সৈয়দ জাফর আলী সংবাদকে বলেছেন, ‘স্কুলগুলি শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই তাদের যাবতীয় ফি নিয়ে থাকে। বছরের তিনমাসের মাথায় নতুন করে কোনো ফি আদায়ের সুযোগ নেই। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিরুদ্ধে এ ধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি শাখা (ক্যাম্পাস) রয়েছে। এর প্রধান ক্যাম্পাস মতিঝিলে। আর রামপুরা বনশ্রী ও মুগদা সড়কের পাশে দুটি শাখা ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই তিন ক্যাম্পাসে প্রথম শ্রেণী থেকে একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।

প্রতিষ্ঠানটির দু’জন শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সাবেক দু’জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি অন্তত দুই হাজার টাকা করে আদায় হলে মোট প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আদায় হয়। বেতনভাতার অতিরিক্ত হিসেবে বছরে দু’তিনবার এভাবে অভিভাবকদের ‘জিম্মি’ করে টাকা আদায় করা হয়।

একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গভর্নিং বডির ‘সম্মতির’ ভিত্তিতেই এভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। তা ব্যয় দেখানো হয়, গভর্নিং বডির বিভিন্ন সভার ‘সম্মানী’, ‘আপ্যায়ন’ ও বিভিন্ন ‘কেনাকাটার’ নামে। শিক্ষকরাও নানা ‘অজুহাত’ দেখিয়ে এই টাকার ‘ভাগ নিয়ে থাকেন। নির্বাচিত গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে ‘অ্যাডহক’ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

একাধিক শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানটির তিনটি শাখায় প্রায় সাতশ’ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত আছেন মাত্র ১০৯ জন। বাকি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকেই দিতে হয়। এ খাত দেখিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে বাড়তি চার্জ আদায় করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির গভর্ণিং বডির সাবেক সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার সংবাদকে বলেন, ‘বর্তমানে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। প্রশাসনিক পুরো কার্যক্রম জামায়াতপন্থী লোকজনের নিয়ন্ত্রণে। তারা যা খুশি তাই করছেন।’

শিক্ষা সফরের নামে ৪২ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া এক অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির তিনটি শাখার নবম ও দশম শ্রেণীর ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যমে মোট শিক্ষার্থী (নবমে ২,৬০০ এবং দশমে ২,৬৫০ জন) পাঁচ হাজার ২৫০ জন। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ শিক্ষা সফরের জন্য জনপ্রতি দুই হাজার টাকা চাঁদা নেয়া হয়। সেই হিসেবে মোট চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

এর মধ্যে দুপুরের খাবার ও দু’বেলা নাস্তাসহ সবমিলিয়ে মোট ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কামরুজ্জামান নামের এক শিক্ষক ও তার সহকারীরা ‘আত্নসাত’ করেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলির বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ধরেনি।

back to top