alt

ক্যাম্পাস

দীর্ঘ ৫ বছর পর ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন শুরু ২৮ নভেম্বর

কমিটি ঘোষণার দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কা পদপ্রত্যাশীদের

খালেদ মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছরের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও গত পাঁচ বছরে হলগুলোতে আর কমিটিই গঠন করা হয়নি। কিন্তু ২০১৮ সালের আগস্টে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব আসে। বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য মাঝপথেই শোভন-রাব্বানীকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক তাদের পদেই থাকেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হল কমিটি করার কথা বললেও তার বাস্তবায়ন আর দেখা যায়নি। উল্টো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। তবে দায়িত্বে আছে পুরনো কমিটিই।

এবার ২৮ নভেম্বর থেকে হল সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ থেকে জানানো হলেও কমিটি ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সংবাদকে বলেছেন, সম্মেলন ‘নির্ধারিত সময়েই’ অনুষ্ঠিত হবে। ‘সব ধরনের বিকল্প রেখেই আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এক্ষেত্রে একদিনে কেন্দ্রীয়ভাবে বা আলাদাভাবে সম্মেলনের আয়োজন দুটোর প্রস্তুতিই আমাদের হয়েছে। সম্মেলনের সঙ্গে সঙ্গেই যেন আমরা কমিটি গঠন করতে পারি, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

এদিকে হল সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পরপরই সরব হয়ে উঠেছে হলগুলোর নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে ঘিরে প্রতিদিনই স্লোগান-স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতিদিন সকাল হলেই নেতাকর্মী-পদপ্রত্যাশীরা হাজির হচ্ছেন মধুর ক্যান্টিনে। স্লোগান স্লোগানে নিজেদের অবস্থার কথা জানান দিচ্ছেন তারা। আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।

পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন যেহেতু সম্মেলনের তারিখ ঘোষিত হয়েছে, নির্দিষ্ট তারিখেই সম্মেলন হোক। সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক।

দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের অনেকেরই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অর্থাৎ মাস্টার্স শেষ হয়ে গেছে। এরকমই একজন পদপ্রত্যাশী বললেন, ‘আমাদের সঙ্গের সহপাঠীরা বিভিন্ন চাকরি পেয়ে, বিয়ে করে পরিবারের হাল ধরেছেন। অথচ এত বছর রাজনীতি করে এখনও পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক পরিচয়টাই পেলাম না। এটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। যেহেতু এখন সম্মেলন হবে, অনেক সুবিধাবাদী নতুন মুখ মাথাছাড়া দিয়ে উঠবে। সেক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই পূর্বক এতদিন যারা মাঠে ছিল তথা পরিশ্রমী ও ত্যাগীদের যেন পদে আনা হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক পদপ্রত্যাশী সংবাদকে বলেন, ‘ইতোপূর্বে সব হলকে নিয়ে একসঙ্গে সম্মেলন হয়েছে। কিন্তু এবার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ধাপে ধাপে হবে। এ কারণে আমরা আশাঙ্কা করছি কমিটি ঘোষণা বিলম্ব হবে।’

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের যারা রাজনীতি করেন তারা কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী। সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হলে চার নেতার সর্বমোট ৭২টি গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি হলে সভাপতি-সম্পাদক হবেন দুই জন। পদ পাবেন ৩৬ জন। আবার এক নেতার একাধিক প্রার্থীও রয়েছেন। যার কারণে কমিটি গঠনের আগে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়।

ছাত্রলীগের হল সম্মেলন নিয়ে সংবাদে আজ প্রথম পর্বে ছয়টি হলের পদপ্রত্যাশী কারা তা তুলে ধরা হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সভাপতি-সম্পাদক এই দুই পদে প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান শান্ত, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সিফাত খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মোহাম্মদ ইসরাফিল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, তথ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক উপ-সম্পাদক জুলফিকার হাসান পিয়াস এবং হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুসান্না আল গালিব, শাখা ছাত্রলীগের সদস্য নুর আল আমিন।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে শীর্ষ দুই পদে যারা যেতে চান তারা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল সুবাইল, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম অনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মামুন ও আমির হোসেন মুরাদ।

কবি জসীমউদ্দিন হলে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালিউল সুমন, সহ-সভপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সাহিত্য সম্পাদক এসএম রাকিব সিরাজী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলী সাংস্কৃতিক সম্পাদক খালিদ আল হাসান বাদল।

বিজয় একাত্তর হলে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমান সজীব, হারুনর রশীদ, প্রচার সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান লিখন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব আহমেদ, সহ-সভাপতি রবিউল হাসান রানা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউনুস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান।

মাস্টার দা সূর্যসেন হলে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মারিয়াম জামান খান সোহান, সহ-সম্পাদক সিয়াম রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম শপু, হাবিবুর রহমান সুমন, অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ইমরান সাগর।

হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শহিদুল হক শিশির, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুুল্লাহ আল মামুন জীবন, তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ তানজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিল আব্বাস, দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান ও গণশিক্ষা সম্পাদক সম্রাট হোসেন লিটন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আদর্শিকভাবে জাগরণ তৈরি করা, কী কী রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামীতে আমাদের কর্মসূচি পরিচালিত হবে, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও বাস্তবায়নে কী কী রূপরেখা আমরা দিতে পারি- এগুলো আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবো। দক্ষ এবং যোগ্যতাসম্পন্ন নেতৃত্ব যেন উঠে আসে সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

ছবি

আগামী একশো বছরে ঢাবির করণীয় ঠিক করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

মৃত্যুবার্ষিকীতে হাকিম চত্বরে হাকিম ভাইকে স্মরণ করেনি কেউ

ছবি

শিক্ষিত সনদধারী বেকার তৈরি করতে চাই না: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি

শতবর্ষের আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি

শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান

ছবি

ঢাবি’র শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন আগামীকাল

ছবি

ঢাবিতে হল ক্যান্টিনের দেয়াল ধস, আহত ২

ছবি

ঢাবি ক্যাম্পাস জুড়ে হল প্রাধ্যক্ষ নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি

ছবি

ডিপিএস এসটিএস ঢাকার প্রথম টেডএক্স অনুপ্রাণিত করলো শিক্ষার্থীদের

ছবি

ঢাবি ছাত্রলীগের হল কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান

ছবি

শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

ছবি

রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবি

টেলিভিশনের বাজারের ৬৫% দেশি ব্র্যান্ডের দখলে

ছবি

হাফ ভাড়ার আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মশাল মিছিল

ছবি

হাফপাসের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম আট ছাত্রসংগঠনের

ছবি

চমেকের ৩১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ক্লাস শুরু ২৭ নভেম্বর

ছবি

পরিবেশ মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

ছবি

প্রধানমন্ত্রী যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন, খালেদা জিয়া কি তা পারতেন: তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

ছবি

পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে ঢাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের প্রতিবাদ

ছবি

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে মানববন্ধন

ছবি

‘মুজিববর্ষ আন্তঃকলেজ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২১’র আয়োজন

২০ মাস পর খুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি

২৮ নভেম্বর ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন

ছবি

ঢাবি ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপিকে প্রক্টরের চিঠি

ছবি

ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

ছবি

ঢাবির ‘প্রযুক্তি ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত

ছবি

ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগঃ ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল গঠন

ছবি

আবাসিক হোটেলে ঢাবি ছাত্রের লাশ, পাশেই চিরকুট

ছবি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি’র প্রতিনিধি দল, চলছে তদন্ত

ছবি

ঢাবির দুই শিক্ষকের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি, তদন্তে অনীহা প্রশাসনের

ছবি

নভেম্বর ১ তারিখের মধ্যে হল খোলার দাবী বুয়েট শিক্ষার্থীদের

ছবি

শুক্রবার ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা

ছবি

আগামীকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

ছবি

অকেজো ঢাবির সাইবার সেন্টার

ছবি

ঢাবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল মুখোমুখি

ছবি

ঢাবির হলে প্রশাসনের দেওয়া রুম দখলে নিল ছাত্রলীগ নেতা

tab

ক্যাম্পাস

দীর্ঘ ৫ বছর পর ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন শুরু ২৮ নভেম্বর

কমিটি ঘোষণার দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কা পদপ্রত্যাশীদের

খালেদ মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছরের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও গত পাঁচ বছরে হলগুলোতে আর কমিটিই গঠন করা হয়নি। কিন্তু ২০১৮ সালের আগস্টে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব আসে। বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য মাঝপথেই শোভন-রাব্বানীকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক তাদের পদেই থাকেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হল কমিটি করার কথা বললেও তার বাস্তবায়ন আর দেখা যায়নি। উল্টো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। তবে দায়িত্বে আছে পুরনো কমিটিই।

এবার ২৮ নভেম্বর থেকে হল সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ থেকে জানানো হলেও কমিটি ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সংবাদকে বলেছেন, সম্মেলন ‘নির্ধারিত সময়েই’ অনুষ্ঠিত হবে। ‘সব ধরনের বিকল্প রেখেই আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এক্ষেত্রে একদিনে কেন্দ্রীয়ভাবে বা আলাদাভাবে সম্মেলনের আয়োজন দুটোর প্রস্তুতিই আমাদের হয়েছে। সম্মেলনের সঙ্গে সঙ্গেই যেন আমরা কমিটি গঠন করতে পারি, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

এদিকে হল সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পরপরই সরব হয়ে উঠেছে হলগুলোর নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে ঘিরে প্রতিদিনই স্লোগান-স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতিদিন সকাল হলেই নেতাকর্মী-পদপ্রত্যাশীরা হাজির হচ্ছেন মধুর ক্যান্টিনে। স্লোগান স্লোগানে নিজেদের অবস্থার কথা জানান দিচ্ছেন তারা। আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।

পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন যেহেতু সম্মেলনের তারিখ ঘোষিত হয়েছে, নির্দিষ্ট তারিখেই সম্মেলন হোক। সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক।

দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের অনেকেরই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অর্থাৎ মাস্টার্স শেষ হয়ে গেছে। এরকমই একজন পদপ্রত্যাশী বললেন, ‘আমাদের সঙ্গের সহপাঠীরা বিভিন্ন চাকরি পেয়ে, বিয়ে করে পরিবারের হাল ধরেছেন। অথচ এত বছর রাজনীতি করে এখনও পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক পরিচয়টাই পেলাম না। এটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। যেহেতু এখন সম্মেলন হবে, অনেক সুবিধাবাদী নতুন মুখ মাথাছাড়া দিয়ে উঠবে। সেক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই পূর্বক এতদিন যারা মাঠে ছিল তথা পরিশ্রমী ও ত্যাগীদের যেন পদে আনা হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক পদপ্রত্যাশী সংবাদকে বলেন, ‘ইতোপূর্বে সব হলকে নিয়ে একসঙ্গে সম্মেলন হয়েছে। কিন্তু এবার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ধাপে ধাপে হবে। এ কারণে আমরা আশাঙ্কা করছি কমিটি ঘোষণা বিলম্ব হবে।’

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের যারা রাজনীতি করেন তারা কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী। সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হলে চার নেতার সর্বমোট ৭২টি গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি হলে সভাপতি-সম্পাদক হবেন দুই জন। পদ পাবেন ৩৬ জন। আবার এক নেতার একাধিক প্রার্থীও রয়েছেন। যার কারণে কমিটি গঠনের আগে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়।

ছাত্রলীগের হল সম্মেলন নিয়ে সংবাদে আজ প্রথম পর্বে ছয়টি হলের পদপ্রত্যাশী কারা তা তুলে ধরা হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সভাপতি-সম্পাদক এই দুই পদে প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান শান্ত, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সিফাত খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মোহাম্মদ ইসরাফিল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, তথ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক উপ-সম্পাদক জুলফিকার হাসান পিয়াস এবং হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুসান্না আল গালিব, শাখা ছাত্রলীগের সদস্য নুর আল আমিন।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে শীর্ষ দুই পদে যারা যেতে চান তারা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল সুবাইল, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম অনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মামুন ও আমির হোসেন মুরাদ।

কবি জসীমউদ্দিন হলে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালিউল সুমন, সহ-সভপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সাহিত্য সম্পাদক এসএম রাকিব সিরাজী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলী সাংস্কৃতিক সম্পাদক খালিদ আল হাসান বাদল।

বিজয় একাত্তর হলে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজীবুর রহমান সজীব, হারুনর রশীদ, প্রচার সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান লিখন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব আহমেদ, সহ-সভাপতি রবিউল হাসান রানা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউনুস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান।

মাস্টার দা সূর্যসেন হলে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মারিয়াম জামান খান সোহান, সহ-সম্পাদক সিয়াম রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম শপু, হাবিবুর রহমান সুমন, অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ইমরান সাগর।

হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শহিদুল হক শিশির, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুুল্লাহ আল মামুন জীবন, তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ তানজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিল আব্বাস, দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান ও গণশিক্ষা সম্পাদক সম্রাট হোসেন লিটন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আদর্শিকভাবে জাগরণ তৈরি করা, কী কী রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামীতে আমাদের কর্মসূচি পরিচালিত হবে, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও বাস্তবায়নে কী কী রূপরেখা আমরা দিতে পারি- এগুলো আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবো। দক্ষ এবং যোগ্যতাসম্পন্ন নেতৃত্ব যেন উঠে আসে সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

back to top