alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

বায়িং হাউজের নামে প্রক্রিয়াজাত হতো ভয়ংকর মাদক আইস

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১
image

ঢাকার উত্তরা এলাকায় বায়িং হাউজের নামে একটি অফিস ভাড়া নেয় চক্রটি। পরে সেখানে তারা প্রক্রিয়াজাত শুরু করে ভয়ানক মাদক আইস। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাতে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতাসহ ছয় জনকে আটক করেছে র‍্যাব-৩।

শুক্রবার (১৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

আটকরা হলেন- চক্রের মূলহোতা মো. তৌফিক হোসাইন (৩৫), মো. জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭), মো. আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র (৩৫), মো. রাকিব বাসার খান (৩০), মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (২৭), মো. খালেদ ইকবাল (৩৫)।

এসময় তাদের কাছ থেকে আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ১৩টি বিদেশি অস্ত্র, রেপলিকা অস্ত্র ও ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, চক্রটির মূলহোতা ও সমন্বয়কারী তৌফিক। অর্থ যোগানদাতা জুবেইন ও খালেদ। রুদ্র কেমিস্ট হিসেবে ‘মেথ ল্যাব’ পরিচালনা করতেন। আর সবুজ মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহকারী এবং তৌফিকসহ বাকিরা মাদক বিপণনের সঙ্গে জড়িত। রুদ্রর নামে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে এবং জুবেইনের নামে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

আটকদের মধ্যে জুবেইন লন্ডন থেকে বিবিএ, তৌফিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, খালেদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসি পাস করেছেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, শুধু মাদক প্রক্রিয়াজাত করাই নয়, কথিত ওই ল্যাবে নিয়মিত আনাগোনা ছিল মাদকসেবী তরুণ-তরুণীদের। তারা সেখানে মাদক সেবন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। চক্রটি কৌশলে সেসব কার্যকলাপ ভিডিও করে রাখত, যা দিয়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলিং করা হতো।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এ চক্রে ১০-১৫ জন রয়েছেন, যারা মাদক আইস ও ঝাক্কি সেবন-কেনাবেচায় জড়িত। এর বাইরে এই সার্কেলে ৪০-৫০ জন আছে, যারা নিয়মিত এই চক্রের কাছ থেকে মাদক কিনতেন। আইস মাদকটি দামি হওয়ায় সাধারণত বেশিরভাগ ক্রেতাই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদের মেথ ল্যাবটি মূল কেমিস্ট রুদ্র ও তার কয়েকজন সহযোগী পরিচালনা করতেন। তারা আইস ও ইয়াবার পরীক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও কেমিক্যাল আইসের সঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণ বাড়িয়ে বিক্রি করা হতো। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবার রং পরিবর্তন এবং ঝাক্কি তৈরি করতো এই চক্র। ঝাক্কি তৈরিতে তারা তরল পানির সঙ্গে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ওষুধ মেশাত।

তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিয়ত ইয়াবা সেবনে চরম আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে আসক্তির মাত্রা বাড়াতে বিগত কয়েক বছর ধরে তারা আইস গ্রহণ শুরু করে। তারা বিভিন্ন সময়ে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের নেশায় উদ্বুদ্ধ করত। তৌফিককে আমরা চক্রের মূল সমন্বয়ক হিসেবে পেয়েছি। আগে তারা ইয়াবা কারবারে জড়িত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই বছর ধরে নতুন মাদক আইস নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা। সময়ের প্রয়োজনে এখন ঝাক্কি প্রস্তুত করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, চক্রটি টেকনাফ, মিরপুর, গুলশান-বনানীর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আইস সংগ্রহ করে সেগুলো তাদের সার্কেলে সরবরাহ করত। এই গ্রুপের বাইরে আরও কয়েকটি ক্লোজ গ্রুপ রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক জোবেইনের এইম গেমিংয়ের নেশা ছিল। মাদকাসক্তের পর তারা এই অস্ত্র দিয়ে এইম গেমিংয়ের নামে জুয়াও খেলত। এছাড়া যারা মাদক গ্রহণের জন্য আসত তাদের ভয়ভীতি দেখানো হতো।

ছবি

শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি, গ্রেপ্তার ১১

ছবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান সেফুদার

ছবি

মিথ্যাচার, অপপ্রচারের অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

ছবি

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় পাওয়া মদ-ক্যাসিনো নিয়ে যা বললেন তার মেয়ে

ছবি

দেশে ফেরার সময় বাংলাদেশি নারীকে ক্যাম্পে ধর্ষণ, বিএসএফ সদস্য গ্রেফতার

ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করেছে র‌্যাব

ছবি

মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ মামলা: নিয়মিত আদালত চালু হলে পুলিশের প্রতিবেদনের ওপর শুনানি

ছবি

প্রেমিকাকে হত্যার পর মরদেহের ওপর যা লিখে গেলেন প্রেমিক

চাঁদাবাজির মামলায় ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

ছবি

দুর্নীতি মামলায় ওসি প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ছবি

বিমানে নানা কৌশলে ঢাকায় আসছে ইয়াবা

ছবি

সুবর্ণচরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবি

ফতুল্লায় যুবক খুন, ছুরিসহ আটক ১

ছবি

পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা দেয়া সেই মাস্টার আটক

হাসপাতালে করোনা রোগীর ছুরিকাঘাতে দুই নার্স ও ওয়ার্ডবয় আহত

ট্রলার ভাড়া বিবাদে বৃদ্ধকে হত্যা

শৈলকুপায় জমি বিবাদে গৃহবধূ নির্যাতন, বাইক ভাংচুর-টাকা লুট

ছবি

মুনিয়ার ‘আত্নহত্যা’: বসুন্ধরার আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের প্রতিবেদন

ছবি

রূপগঞ্জে আগুন: হাসেম ও তার বাকি দুই ছেলের জামিন

গোমস্তাপুরে অস্ত্রসহ আটক ১

আশুলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলা

ছবি

কক্সবাজারে আশু আলী বাহিনীর প্রধান আশু আলী নিহত

ছবি

হরিদেবপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তার

ভেড়ামারায় শিশুকে ধর্ষণ অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

রূপগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলা নেয়নি পুলিশ

ছবি

ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ছবি

টেকনাফে র‌্যাবের সাথে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

ছবি

গরুর হাটে ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৮ লাখ টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগ

ছবি

বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধুকে গণধর্ষণ ঘটনার প্রধান আসামী রাব্বিসহ ৪জন গ্রেফতার

ছবি

কাশিমপুর কারাগারে জেএমবি সদস্যের ফাঁসি কার্যকর

ছবি

কুষ্টিয়ায় বিষ দিয়ে কৃষকের দুটি গরু হত্যা

গোদাগাড়ীতে জমি বিবাদে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

চেকপোস্ট বসিয়ে ছিনতাই করত ওরা

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা

ছবি

২২ বছর সাজা খেটে বেরিয়েই ফের হত্যাচেষ্টা

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করে মাটিচাপা

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

বায়িং হাউজের নামে প্রক্রিয়াজাত হতো ভয়ংকর মাদক আইস

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট
image

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

ঢাকার উত্তরা এলাকায় বায়িং হাউজের নামে একটি অফিস ভাড়া নেয় চক্রটি। পরে সেখানে তারা প্রক্রিয়াজাত শুরু করে ভয়ানক মাদক আইস। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাতে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতাসহ ছয় জনকে আটক করেছে র‍্যাব-৩।

শুক্রবার (১৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

আটকরা হলেন- চক্রের মূলহোতা মো. তৌফিক হোসাইন (৩৫), মো. জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭), মো. আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র (৩৫), মো. রাকিব বাসার খান (৩০), মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (২৭), মো. খালেদ ইকবাল (৩৫)।

এসময় তাদের কাছ থেকে আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ১৩টি বিদেশি অস্ত্র, রেপলিকা অস্ত্র ও ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, চক্রটির মূলহোতা ও সমন্বয়কারী তৌফিক। অর্থ যোগানদাতা জুবেইন ও খালেদ। রুদ্র কেমিস্ট হিসেবে ‘মেথ ল্যাব’ পরিচালনা করতেন। আর সবুজ মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহকারী এবং তৌফিকসহ বাকিরা মাদক বিপণনের সঙ্গে জড়িত। রুদ্রর নামে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে এবং জুবেইনের নামে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

আটকদের মধ্যে জুবেইন লন্ডন থেকে বিবিএ, তৌফিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, খালেদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসি পাস করেছেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, শুধু মাদক প্রক্রিয়াজাত করাই নয়, কথিত ওই ল্যাবে নিয়মিত আনাগোনা ছিল মাদকসেবী তরুণ-তরুণীদের। তারা সেখানে মাদক সেবন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। চক্রটি কৌশলে সেসব কার্যকলাপ ভিডিও করে রাখত, যা দিয়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলিং করা হতো।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এ চক্রে ১০-১৫ জন রয়েছেন, যারা মাদক আইস ও ঝাক্কি সেবন-কেনাবেচায় জড়িত। এর বাইরে এই সার্কেলে ৪০-৫০ জন আছে, যারা নিয়মিত এই চক্রের কাছ থেকে মাদক কিনতেন। আইস মাদকটি দামি হওয়ায় সাধারণত বেশিরভাগ ক্রেতাই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদের মেথ ল্যাবটি মূল কেমিস্ট রুদ্র ও তার কয়েকজন সহযোগী পরিচালনা করতেন। তারা আইস ও ইয়াবার পরীক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও কেমিক্যাল আইসের সঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণ বাড়িয়ে বিক্রি করা হতো। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবার রং পরিবর্তন এবং ঝাক্কি তৈরি করতো এই চক্র। ঝাক্কি তৈরিতে তারা তরল পানির সঙ্গে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ওষুধ মেশাত।

তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিয়ত ইয়াবা সেবনে চরম আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে আসক্তির মাত্রা বাড়াতে বিগত কয়েক বছর ধরে তারা আইস গ্রহণ শুরু করে। তারা বিভিন্ন সময়ে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের নেশায় উদ্বুদ্ধ করত। তৌফিককে আমরা চক্রের মূল সমন্বয়ক হিসেবে পেয়েছি। আগে তারা ইয়াবা কারবারে জড়িত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই বছর ধরে নতুন মাদক আইস নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা। সময়ের প্রয়োজনে এখন ঝাক্কি প্রস্তুত করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, চক্রটি টেকনাফ, মিরপুর, গুলশান-বনানীর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আইস সংগ্রহ করে সেগুলো তাদের সার্কেলে সরবরাহ করত। এই গ্রুপের বাইরে আরও কয়েকটি ক্লোজ গ্রুপ রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক জোবেইনের এইম গেমিংয়ের নেশা ছিল। মাদকাসক্তের পর তারা এই অস্ত্র দিয়ে এইম গেমিংয়ের নামে জুয়াও খেলত। এছাড়া যারা মাদক গ্রহণের জন্য আসত তাদের ভয়ভীতি দেখানো হতো।

back to top