alt

সংস্কৃতি

মাটির তৈজস গড়ে ৬৫ বছর পার করলেন ভালুকার মৃৎ শিল্পী শোভারানী পাল

আতাউর রহমান তরফদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ) : বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২

আবাহমান বাংলার এক সময়ের নিত্য ব্যবহার্য মাটির তৈজসপত্র নির্মানকারী মৃৎ শিল্পী পাল সম্প্রদায়ের জীবনে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। বিজ্ঞানের আধুনিকায়ন ও উন্নত প্রযুক্তির তৈরী লোহা, এনামেল ও প্লাষ্টিকের দীর্ঘস্থায়ী বাসনপত্র ও সামগ্রীর কাছে মাটির তৈরী ঠুনকো জিনিষের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। তার পরও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মাটির তৈরী হাড়ি পাতিলের প্রয়োজন একেবারে ফুরিয়ে যায়নি বলে এখনও পাল সম্প্রদায়ের অনেকে সাত পুরুষের আদি পেশা জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ধরে রেখেছেন। উপজেলার মল্লিকবাড়ী বাজার সংলগ্ন অনেক পুরোনো পালপাড়া। যেখানে দিনভর চলতো মাটিগুলে বাসনপত্র তৈরীর কাজ। মাটি নরম করা, চাকা ঘুড়িয়ে এক খন্ড মাটিতে সুনিপুণ হাত বুলিয়ে তৈরী হতো নানা আকৃতির হাঁড়ি পাতিল। সারাদিন রোদে শুকিয়ে পুইনঘরে কাঠখড় দিয়ে পুড়ে তৈরী হতো টনটনে হাঁড়িপাতিল ও নানা রকম বাসন কোসন। হাটে বাজারে গ্রামে গঞ্জে সেসব বিক্রি করে তাদের ঘরে আসতো সংসার খরচের নগদ অর্থ। ১৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সরজমিন মল্লিকবাড়ী পালপাড়ায় গেলে দেখা মিলে হরমোহন পালের স্ত্রী শুভারানী পাল (৮০) সিঁথির সিঁদুর আর হাতের শাঁখায় জানান দেয় তিনি স্বামী সোহাগে পরম পতি ভাগ্যে ভাগ্যবতী। ছেলে কার্তিক পাল ও পুত্রবধু লক্ষীরাণী পালের সাথে পাতিল পুড়ার পুইন সাজানোর কাজ করছেন তিনি।

মুচকি হেসে জানালেন দেশ স্বাধীনের বছর পনের আগে ১৩ কি ১৪ বছর বয়সে শাঁখা সিঁদুর পরে স্বামী শশুরের ভিটায় এসে কাঠের চাকায় নরম মাটি তুলে হাতের কারুকাজে শুরু হয় সংসার জীবনের পথ চলা। তিনি জানান এক সময় গৃহস্থ বাড়ীতে মাটির ডহিতে ভাত তরকারি রান্না করা, মাটির পেয়ালায় (হানকিতে) ভাত খাওয়া, মাটির কলসে পানি রাখা সহ বিভিন্ন কাজে মাটির তৈরী বাসনপত্র ব্যবহার হতো। তখন এত কাজ ছিল যে নাওয়া খাওয়ার সময় পর্যন্ত পেতেন না। মাটির তৈজস পত্র তৈরী করে প্রায় ৬৫ বছরের সংসার জীবনে ৪ ছেলে ২ মেয়ের জননী শুভারাণী পাল এখনও দিব্যি ধরে আছেন সংসারের হাল। নব্বইয়োর্ধ স্বামী হরমোহন দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্য জনিত কারনে শয্যাশায়ী। বড় ছেলে কার্তিক পাল (৫৮) ও পুত্রবধু লক্ষীরাণী পাল (৫০) পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছেন। দ্বিতীয় ছেলে মন্টুপাল মিষ্টি দোকানী, অপর দুই ছেলে সন্তোষ ও পরিতোষ পাল স্বর্ণকারের কাজ করেন। কার্তিক পাল জানান সারা বছর আগের মত কাজ না থাকায় অনেকেই পেশা বদল করে জীবিকার তারনায় অন্যান্য পেশায় চলে গেছে। বর্তমানে এক খাদি মাটি কিনতে হয় ৬০ টাকায়, এক মণ লাকড়ি ৩০০ টাকা। খরচের তুলনায় আগের মত লাভ পাওয়া যায়না। শীতকাল আসলে পিঠার খোলা, রসের হাঁড়ির মোটামোটি চাহিদা বাড়ে। আর দৈয়ের পেয়ালার কাজ টুকটাক সারা বছর চলে। এক সময় খেলনা পুতুল,হাতি, ঘোড়া, ভাতের পেয়ালা, ভাতের ডহি, পানির হাঁিড় কলস, পিঠার খোলা, খৈ ভাজার পাতিল, গরুর চাড়ি, ধান চাল রাহনের বড় ঝালা, মুটকি, আলো জ্বালানোর মাটির প্রদীপ কতকি তৈরী করতেন তারা। পাইকার ফইরারা বাড়ী থেকে পাতিল নিয়ে যেতেন নৌকা ভরে। এখন আর অত কাজ নাই, মিষ্টির দোকানে দৈএর পেয়ালা আর রসের হাঁড়ি, পিঠার খোলা পাইলা ছারা আর কিছুই চলেনা, পেটের দায়ে সাত পুরুষের কাজ করে কোন রকমে বেঁচে রয়েছেন তারা। তাদের তৈরী প্রতিটি রসের হাড়ি(কলসী) ৫০ টাকা, খৈ ভাজার ডহি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দৈয়ের পাতিল ৮ টাকা ও পিঠার খোলা ১০ টাকা করে বিক্রি হয় ফরিয়াদের কাছে। মাটি প্রস্তুত থাকলে সারাদিনে ১০০ দৈয়ের পাতিল তৈরী করতে পারেন। তিনি জানান চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ আসলে তাদের তৈরী খেলনা সামগ্রী, মাটির বিভিন্ন সাইজের পাতিলের ব্যাপক কাটতি হতো। মাটির পাতিলে করে গ্রামের মেলা থেকে মুড়ি ও গরম গরম জিলিপি কিনে দলবেঁধে বাড়ী ফিরা ছিলো নব বর্ষের উৎসবের চির চেনা বৈশিষ্ট। এখন আর সেই রকম আয়োজন হয়না। মাটির পাতিলের কদর আগের মত না থাকায় তাদের আয় রোজগার একেবারেই কমে গেছে। পরাণ পাল জানান তাদের তৈরী জিনিষ পত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় আয় রোজগার না থাকায় তিনি এখন দিন মজুরী করে জীবিকা চালাচ্ছেন। এক সময় তাদের তৈরী মাটির আসভাব পত্র বিক্রি করে সারা বছরের সংসার খরচ চালিয়ে দু’পয়সা উপড়ি থেকেছে। অর্থকড়ি নেই যে পেশা বদলিয়ে অন্য ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করবেন। সরকারী সাহায্য সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত। এখনও অনেকে গৃহস্তের কাছ থেকে চড়া দামে এঁটেল মাটি কিনে কিছু কিছু হাঁড়ি পাতিল তৈরী করেন। পাতিল পুড়ার পুঁইন জ্বালানোর লাকড়ির দাম অনেক বেড়ে গেছে। সেই তুলনায় বাজারে মাটির হাঁড়ি পাতিলের দাম পাওয়া যায়না। এই এলাকায় পাল সম্প্রদায়ের ৩০/৪০ টি পরিবারের মধ্যে ১০/১২ টি পরিবার এখনও বাপ দাদার পেশায় নিয়োজিত থেকে ভিটেবাড়ি আকড়ে ধরে পরে আছে। এদের মধ্যে অনেকেই জীবিকার তারনায় কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে পেশা বদল করেছে। আবাহমান বাংলার গৃহস্থ পরিবারের নিত্য কর্মের সহায়ক চিরচেনা প্রাচীনতম ঐতিয্যভরা মৃৎশিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

ছবি

কলকাতায় বাংলদেশের বইমেলা উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি

দুদেশের সৌহার্দের নতুন দিগন্ত সূচনার আশা

ছবি

বগুড়ায় কবি সম্মেলনে পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে লেখক চক্রের সম্মাননা

ছবি

কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী

ছবি

নওগাঁয় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সন্মাননা প্রদান

ছবি

নির্বাচন কেন্দ্রীক অস্থিতিশীলতাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

ছবি

২ বছর ধরে বন্ধ : নষ্ট হচ্ছে মাধবপুর উপজেলা লাইব্রেরী আসবাবপত্র ও মূল্যবান বই

সংস্কৃতির সম্পর্ক সীমান্তের কাঁটাতার, সাত সমুদ্রও চ্ছিন্ন করতে পারেনা

ফরিদপুরে স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তি চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন

ছবি

আবৃত্তিপ্রেমীর দ্বিতীয় আবৃত্তি উৎসব শুক্রবার

কলকাতায় শুরু হলো চর্তুথ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব

ছবি

নানা আয়োজনে উদীচীর ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

অষ্টম জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী আর্ট গ্যালারি উদ্বোধন

ছবি

দুই বাংলার মিলন উৎসব শুরু

ছবি

সুলতান উৎসবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিশুদের মিলনমেলা

অবশেষে শুরু কবীর সুমনের গানের আসর

ছবি

রাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘চিহ্নমেলা মুক্তবাঙলা’

ছবি

শান্তির বার্তা নিয়ে রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন শুরু

ছবি

আজ সুমনের গান, ভেন্যু নিয়ে নাটকীয়তা

আগামীকাল শুক্রবার থেকে ঢাকায় শুরু হবে ৩দিনব্যাপী জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন

ছবি

‘ব্যক্তি জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবার আর লুকিয়ে নয়, সবাইকে জানিয়েই করবো’

ছবি

মণিপুরী ভাষায় নজরুলের ৩০টি কবিতা অনুবাদ করলেন যমুনা লরেইঞ্জাম

ছবি

রাজশাহীতে দুই কবি-লেখক পাচ্ছেন ‘কবিকুঞ্জ পদক’ পদক

আত্মদানের নব্বইতম বার্ষির্কীতে বীরকন্যা প্রীতিলতা চলচ্চিত্রের ফার্স্টলুক টিজার প্রকাশ

ছবি

গান-কবিতা-নৃত্যে ঢাবির বকুলতলায় শরৎ উৎসব

ছবি

দুইদফা তারিখ ঘোষণার পরেও কলকাতায় বাংলাদেশ বইমেলা স্থগিত

ছবি

সভ্যতার অনুপম নিদর্শন আত্রাইয়ের তিন গুম্বুজ মসজিদ ও মঠ

ছবি

প্রতিকূল পরিবেশে সফল হয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা, অনুকূল পরিবেশে ব্যর্থ হচ্ছেন

ছবি

ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় এডিনবার্গ আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি সম্মেলন

ছবি

খুদে শিল্পীদের রঙতুলি: ১৩০ ফুট ক্যানভাসে ফুটে উঠলো বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও পরিবেশ-প্রকৃতি

ছবি

‘গল্প বলার স্বাধীনতা’ চেয়ে শিল্পী-নির্মাতাদের মতবিনিময় সভা

ছবি

ঢাবির মঞ্চে হ্যামলেট-ম্যাকবেথ-ওথেলো অনুসৃত নতুন নাটক করুণা ও ভীতির গল্প

ছবি

ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মৈত্রীর লক্ষ্যে কবিতা উৎসব মুর্শিদাবাদে

ছবি

লক্ষ্যাপাড়ের বয়ানে ‘দাগ আর্ট স্টেশন’

ছবি

লক্ষ্যাপাড়ের গল্প জানাতে দাগের সপ্তাহব্যাপী চিত্রকর্ম প্রদর্শনী

tab

সংস্কৃতি

মাটির তৈজস গড়ে ৬৫ বছর পার করলেন ভালুকার মৃৎ শিল্পী শোভারানী পাল

আতাউর রহমান তরফদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২

আবাহমান বাংলার এক সময়ের নিত্য ব্যবহার্য মাটির তৈজসপত্র নির্মানকারী মৃৎ শিল্পী পাল সম্প্রদায়ের জীবনে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। বিজ্ঞানের আধুনিকায়ন ও উন্নত প্রযুক্তির তৈরী লোহা, এনামেল ও প্লাষ্টিকের দীর্ঘস্থায়ী বাসনপত্র ও সামগ্রীর কাছে মাটির তৈরী ঠুনকো জিনিষের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। তার পরও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মাটির তৈরী হাড়ি পাতিলের প্রয়োজন একেবারে ফুরিয়ে যায়নি বলে এখনও পাল সম্প্রদায়ের অনেকে সাত পুরুষের আদি পেশা জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ধরে রেখেছেন। উপজেলার মল্লিকবাড়ী বাজার সংলগ্ন অনেক পুরোনো পালপাড়া। যেখানে দিনভর চলতো মাটিগুলে বাসনপত্র তৈরীর কাজ। মাটি নরম করা, চাকা ঘুড়িয়ে এক খন্ড মাটিতে সুনিপুণ হাত বুলিয়ে তৈরী হতো নানা আকৃতির হাঁড়ি পাতিল। সারাদিন রোদে শুকিয়ে পুইনঘরে কাঠখড় দিয়ে পুড়ে তৈরী হতো টনটনে হাঁড়িপাতিল ও নানা রকম বাসন কোসন। হাটে বাজারে গ্রামে গঞ্জে সেসব বিক্রি করে তাদের ঘরে আসতো সংসার খরচের নগদ অর্থ। ১৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সরজমিন মল্লিকবাড়ী পালপাড়ায় গেলে দেখা মিলে হরমোহন পালের স্ত্রী শুভারানী পাল (৮০) সিঁথির সিঁদুর আর হাতের শাঁখায় জানান দেয় তিনি স্বামী সোহাগে পরম পতি ভাগ্যে ভাগ্যবতী। ছেলে কার্তিক পাল ও পুত্রবধু লক্ষীরাণী পালের সাথে পাতিল পুড়ার পুইন সাজানোর কাজ করছেন তিনি।

মুচকি হেসে জানালেন দেশ স্বাধীনের বছর পনের আগে ১৩ কি ১৪ বছর বয়সে শাঁখা সিঁদুর পরে স্বামী শশুরের ভিটায় এসে কাঠের চাকায় নরম মাটি তুলে হাতের কারুকাজে শুরু হয় সংসার জীবনের পথ চলা। তিনি জানান এক সময় গৃহস্থ বাড়ীতে মাটির ডহিতে ভাত তরকারি রান্না করা, মাটির পেয়ালায় (হানকিতে) ভাত খাওয়া, মাটির কলসে পানি রাখা সহ বিভিন্ন কাজে মাটির তৈরী বাসনপত্র ব্যবহার হতো। তখন এত কাজ ছিল যে নাওয়া খাওয়ার সময় পর্যন্ত পেতেন না। মাটির তৈজস পত্র তৈরী করে প্রায় ৬৫ বছরের সংসার জীবনে ৪ ছেলে ২ মেয়ের জননী শুভারাণী পাল এখনও দিব্যি ধরে আছেন সংসারের হাল। নব্বইয়োর্ধ স্বামী হরমোহন দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্য জনিত কারনে শয্যাশায়ী। বড় ছেলে কার্তিক পাল (৫৮) ও পুত্রবধু লক্ষীরাণী পাল (৫০) পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছেন। দ্বিতীয় ছেলে মন্টুপাল মিষ্টি দোকানী, অপর দুই ছেলে সন্তোষ ও পরিতোষ পাল স্বর্ণকারের কাজ করেন। কার্তিক পাল জানান সারা বছর আগের মত কাজ না থাকায় অনেকেই পেশা বদল করে জীবিকার তারনায় অন্যান্য পেশায় চলে গেছে। বর্তমানে এক খাদি মাটি কিনতে হয় ৬০ টাকায়, এক মণ লাকড়ি ৩০০ টাকা। খরচের তুলনায় আগের মত লাভ পাওয়া যায়না। শীতকাল আসলে পিঠার খোলা, রসের হাঁড়ির মোটামোটি চাহিদা বাড়ে। আর দৈয়ের পেয়ালার কাজ টুকটাক সারা বছর চলে। এক সময় খেলনা পুতুল,হাতি, ঘোড়া, ভাতের পেয়ালা, ভাতের ডহি, পানির হাঁিড় কলস, পিঠার খোলা, খৈ ভাজার পাতিল, গরুর চাড়ি, ধান চাল রাহনের বড় ঝালা, মুটকি, আলো জ্বালানোর মাটির প্রদীপ কতকি তৈরী করতেন তারা। পাইকার ফইরারা বাড়ী থেকে পাতিল নিয়ে যেতেন নৌকা ভরে। এখন আর অত কাজ নাই, মিষ্টির দোকানে দৈএর পেয়ালা আর রসের হাঁড়ি, পিঠার খোলা পাইলা ছারা আর কিছুই চলেনা, পেটের দায়ে সাত পুরুষের কাজ করে কোন রকমে বেঁচে রয়েছেন তারা। তাদের তৈরী প্রতিটি রসের হাড়ি(কলসী) ৫০ টাকা, খৈ ভাজার ডহি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দৈয়ের পাতিল ৮ টাকা ও পিঠার খোলা ১০ টাকা করে বিক্রি হয় ফরিয়াদের কাছে। মাটি প্রস্তুত থাকলে সারাদিনে ১০০ দৈয়ের পাতিল তৈরী করতে পারেন। তিনি জানান চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ আসলে তাদের তৈরী খেলনা সামগ্রী, মাটির বিভিন্ন সাইজের পাতিলের ব্যাপক কাটতি হতো। মাটির পাতিলে করে গ্রামের মেলা থেকে মুড়ি ও গরম গরম জিলিপি কিনে দলবেঁধে বাড়ী ফিরা ছিলো নব বর্ষের উৎসবের চির চেনা বৈশিষ্ট। এখন আর সেই রকম আয়োজন হয়না। মাটির পাতিলের কদর আগের মত না থাকায় তাদের আয় রোজগার একেবারেই কমে গেছে। পরাণ পাল জানান তাদের তৈরী জিনিষ পত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় আয় রোজগার না থাকায় তিনি এখন দিন মজুরী করে জীবিকা চালাচ্ছেন। এক সময় তাদের তৈরী মাটির আসভাব পত্র বিক্রি করে সারা বছরের সংসার খরচ চালিয়ে দু’পয়সা উপড়ি থেকেছে। অর্থকড়ি নেই যে পেশা বদলিয়ে অন্য ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করবেন। সরকারী সাহায্য সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত। এখনও অনেকে গৃহস্তের কাছ থেকে চড়া দামে এঁটেল মাটি কিনে কিছু কিছু হাঁড়ি পাতিল তৈরী করেন। পাতিল পুড়ার পুঁইন জ্বালানোর লাকড়ির দাম অনেক বেড়ে গেছে। সেই তুলনায় বাজারে মাটির হাঁড়ি পাতিলের দাম পাওয়া যায়না। এই এলাকায় পাল সম্প্রদায়ের ৩০/৪০ টি পরিবারের মধ্যে ১০/১২ টি পরিবার এখনও বাপ দাদার পেশায় নিয়োজিত থেকে ভিটেবাড়ি আকড়ে ধরে পরে আছে। এদের মধ্যে অনেকেই জীবিকার তারনায় কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে পেশা বদল করেছে। আবাহমান বাংলার গৃহস্থ পরিবারের নিত্য কর্মের সহায়ক চিরচেনা প্রাচীনতম ঐতিয্যভরা মৃৎশিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

back to top