alt

সংস্কৃতি

সমরেশ মজুমদার : শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্বর্গছেঁড়ার অনিমেষ ও কিছু কথাবার্তা

কিন্নর রায়

: রোববার, ১৪ মে ২০২৩

সমরেশ মজুমদার / জন্ম : ১০ মার্চ ১৯৪২; মৃত্যু : ৮ মে ২০২৩

হ্যাঁ, তিনি তো কমার্শিয়াল লেখকই ছিলেন, তা যতই কি না তাঁকে অনিমেষ আর মাধবীলতা, সাতের দশক বা সত্তর দশকের দুই অগ্নিকণাকে নিয়ে আদিখ্যেতা হোক সোশ্যাল মিডিয়ায়, নকশালবাড়ি ধারার ঐতিহাসিক আন্দোলনের এমন ভুল ব্যাখ্যা বলব না, ভুল ইন্টারপ্রিটেশন তো খুব কমই হয়েছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘শ্যাওলা’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ায়ের ‘কেন্দ্রবিন্দু’ দেবেশ রায়ের ‘স্বামী-স্ত্রী’ বাদ দিয়ে। আসলে নকশালবাড়ি ধারার ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহ-১৯৬৭ সালের ২৪-২৫মে, তারপর ১৯৬৯ সালে সিপিআই (এমএল)-এর গড়ন-গঠন, ১৯৬৭’র ২২ এপ্রিল লেলিন দিবসে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেলিনবাদী) তৈরি হলো, আর তার অফিসিয়াল ঘোষণা হলো মে দিনে- মে দিবসে ১৯৬৯ সালের পয়লা মে, কলকাতার মনুমেন্ট ময়দানে, মনুমেন্ট তখনও শহিদ মিনার নাম পায়নি। তো সে যাই হোক, ৮ মে প্রয়াত হয়েছেন সমরেশ মজুমদার। বিকেল ফুরিয়ে আসার সন্ধ্যার দিকে কলকাতার বাইপাসের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে, বয়স হয়েছিল ৮১। তাঁর ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালপুরুষ’, ‘কালবেলা’- এই তিনটি দীর্ঘ আখ্যানই সাগরময় ঘোষ সম্পাদিত ‘দেশ’ পত্রিকায় বের হয়। ‘দেশ’ তখন সাপ্তাহিক। সমরেশ মজুমদার লিটল ম্যাগাজিনের লেখক ছিলেন না। তিনি দাবিও করেননি তিনি লিটল ম্যাগাজিনের। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ বাড়ির সব কটি কাগজে লিখেছেন, বার বার লিখেছেন। ধারাবাহিক লিখেছেন, সারদ সংখ্যায় লিখেছেন। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’, ‘দেশ’, ‘আনন্দমেলা’। ছোটদের জন্য বা কিশোরদের জন্য তাঁর লেখার মূল চরিত্র অর্জুন, সেই সঙ্গে আছেন অমল সোম। এই যে এত এত ‘চরিত্র’ তৈরি হয়েছিল আনন্দবাজার পত্রিকা গ্রুপ-এর ‘আন্দমেলা’-র পাতায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু-সন্তু, সমরেশ বসুর গোগল, বিমল করের কিকিরা, সমরেশ মজুমদারের অর্জুন, তার মধ্যে আমি সবার আগে এগিয়ে রাখব বিমল করের ম্যাজিশিয়ান কাম রহস্যভেদী কিকিরাকে। আমি এই তালিকার বাইরে প্রদোষ মিত্র- ফেলুদা, তোপসে ও জটায়ু, প্রফেসর তিলোকেশ্বর শঙ্কুকে বাদ রাখলাম। কারণ প্রফেসর শঙ্কু, ফেলুদা তোপসে তপেশ রঞ্জন-জটায়ু- একটু একটু করে গড়ে উঠেছেন। ফেলুদা ও তোপসে আনন্দমেলার বাইরে। প্রফেসর শঙ্কুও তাই। সত্যজিৎ রায়ের ‘তারিণী খুড়ো’ আনন্দমেলার পাতাতেই। প্রেমেন্দ্র মিত্রর ‘ভূত শিকারী’ মেজ কর্তা আর বুদ্ধদেব গুহর ঋজুদা আন্দমেলার বাইরে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নীল মানুষ, বিশ্বমামারাও তাই। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাধু কালাচাঁদও তাই। তো সে যাই হোক সমরেশ মজুমদার কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘অর্জুন’ লিখেছেন, সঙ্গে অমল সোম। উত্তরাধিকার ‘দেশ’ পত্রিকায় বেরুতে শুরু করে। আঙরা ভাষা, নদী, স্বর্গছেঁড়া চা বাগান, অনিমেষ- অনি, তার ঠাকুর্দা, স্কুলে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অনির নদীর জলে স্নান সারা গা মাজতে আসা মদেশীয় নারীদের প্রায় নগ্ন দেখা, উত্তরবঙ্গ, চা বাগানের জীবন, পাঁচ ও ছয়ের দশক, বিশেষ করে ছয়ের দশক- সবই গড়গড় করে পড়ে নেওয়া যায়। তাঁর কালপুরুষ, কালবেলা, সাতের দশক, আটের দশক, আটের দশক আবার মৌষলকাল, যাতে ২০১১-এর পাশাপাশি সময়, সব মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে সময়টাকে কমার্শিয়াল রাইটার- বাণিজ্যিক ধারার লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে ধরার চেষ্টা। মনে আছে কালবেলা-তে একটি সংলাপ ছিল- ‘ফাক দ্যা টাইম’। একজন সম্পন্ন মানুষ কথাটি বলেছেন। ‘ফাক দ্যা টাইম’- ‘ফাক দ্যা টাইম’। সমরেশ মজুমদারের একটি গল্প পড়েছিলাম সাতের দশকের মাঝামাঝি ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র রবিবাসরীয়তে। গল্পের নাম ‘ঈশ্বরের ভূমিকায়’। ‘ঈশ্বরের ভূমিকায়’তে রাস্তায় পথ দুর্ঘটনা-রোড অ্যাকসিডেন্ট, একজন গাড়ি চালক আহত, মুমুর্ষূর মুখে জলের বদলে মদ ঢেলে দেওয়া, মদ ঢালছে সেই ড্রাইভারটি, ছবিটা ভালো এঁকেছিলেন। কিন্তু এখন পাঠ করলে- পুনর্পাঠ করলে সেই গল্পের কিছু খুঁত তো বেরবেই বেরবে। তাই আর পুনরায় পাঠের ইচ্ছে নেই। সমরেশ মজুমদার ছয়ের দশক-ষাট দশকের লেখক। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ও। ছয়ের দশকেই শৈবাল মিত্র, সমীর রক্ষিত, তপোবিজয় ঘোষ, মনি মুখোপাধ্যায়, অমল আচার্য, জীবন সরকার, চণ্ডী মণ্ডল, বলরাম বসাক, রমানাথ রায়, শেখর বসু, সুনীল জানা, কল্লোল মজুমদার, কল্যাণ সেন, সুনীল দাশ, শঙ্কর দাশগুপ্ত, সুব্রত সেনগুপ্ত, শেখর বসু। এর মধ্যে বলরাম বসাক, রমানাথ রায়, শেখর বসু, সুনীল জানা, কল্যাণ সেন, সুব্রত সেনগুপ্ত,- এঁরা সবাই গল্পহীন গল্প আন্দোলন- ‘এই দশক’ পত্রিকার লেখক। সমরেশ মজুমদার কথাকার শৈবাল মিত্রর ভায়রাভাই। অর্থাৎ তাঁরা দুজন দুই বোনকে বিবাহ করেন। শৈবাল মিত্র নকশালবাড়ির ধারার আন্দোলনের সঙ্গে গোড়ার দিক থেকে যুক্ত ছিলেন। তাঁর অগ্রবাহিনী- যা ‘তারিণী পাহাড়ে বসন্ত’ নামে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘অমৃত’-তে ধারাবাহিক বেরিয়েছিল। এছাড়াও শৈবাল মিত্রর বহু কাহিনীতেই নকশালবাড়ির ধারার আন্দোলন এসে গেছে, প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে। সমরেশ মজুমদার কখনও প্রত্যক্ষভাবে নকশালবাড়ির আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে এটাও ঠিক এই আন্দোলনের সঙ্গে- আভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকলেই তিনি নকলশালবাড়ির ধারার আন্দোলন নিয়ে লেখার অধিকারী- এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। কিন্তু সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণের পর মাধবীলতা ও অনিমেষকে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ার পোস্টে পোস্টে যে আধিখ্যেতা শুরু হয়েছে, এখনও চলছে, এমনকি অফিসিয়াল বামপন্থীরা সেই শোকধ্বনি, স্তোত্রগানের বাইরে নন, সেই সব পোস্ট পড়তে পড়তে মনে হয় পশ্চিমবাংলার বাংলা গল্প , উপন্যাসের পাঠক রাজনৈতিক গল্প উপন্যাসের স্বাদ ভুলেই গেল? গোপাল হালদার, স্বর্ণ কমল ভট্টাচার্য, ননী ভৌমিক, সোমনাথ লাহিড়ী, গৌরী ঘটক, সুলেখা সান্ন্যাল, সাবিত্রী রায়, অসীম রায়, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবেশ রায়, সমরেশ বসু, মহাশ্বেতা দেবী- এঁদের লেখা রাজনৈতিক গল্প, উপন্যাস কী এখন পশ্চিবাংলার বাঙালি পাঠকের স্মৃতিতে ভাসে না? ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’-সমরেশ মজুমদার বিরচিত এই যে ট্রিলজি, তার প্রথমটি ‘উত্তরাধিকার’ ছাপে কলকাতার অতি বিখ্যাত প্রকাশক মিত্র ও ঘোষ। যতদূর জানি ‘মিত্র ও ঘোষ’-এর অন্যতম কর্ণধার- স্থপতি ও কথাকার গজেন্দ্র কুমার মিত্রর বন্ধু ছিলেন সমরেশ মজুমদারের পিতৃদেব। ‘উত্তরাধিকার’ আনন্দ পাবলিশার্স থেকে না বেরলেও ‘কালপুরুষ’, ‘কালবেলা’সহ তাঁর অনেক অনেক বই বেরয় আনন্দ পাবলিসার্শ থেকে। ‘গর্ভধারিণী’ নামে আর একটি বড় মাপের ধারাবাহিক তিনি লিখেছিলেন ‘দেশ’ পত্রিকায়। এই গ্রন্থের প্রকাশক মিত্র ও ঘোষ।

দৌড় তাঁর প্রথম বড় কাগজে ছাপা উপন্যাস। ‘দেশ’ পত্রিকার বিনোদন সংখ্যায় লেখাটি ছাপা হয়েছিল- যতদূর মনে পড়ে। তখন ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ বাড়ি থেকে বার্ষিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র সাহিত্য সংখ্যা ‘দেশ’, বিনোদন সংখ্যা ‘দেশ’ প্রকাশিত হতো। বিনোদন সংখ্যা ‘দেশ’- ‘দেশ’ তখন সাপ্তাহিক বেরত বড় দিনের আশপাশের সময়ে। ডিসেম্বর মাসে। ‘দৌড়’ কলকাতার রেসের মাঠের ঘোড়া, বুকি, রেস খেলতে আসা মানুষজনের জীবনের নানা ওঠা-পড়া-টানাপোড়েন নিয়ে লেখা। আমরা অনেকেই জানি অথবা জানি না, কবি ও গদ্যকার, গীতিকার, সিনেমা পরিচালক প্রেমেন্দ্র মিত্র নিয়মিত কলকাতা রেসের মাঠে যেতেন। ঘোড়দৌড় তখন হয় প্রতি শনিবার কলকাতা রেসকোর্সে আর টালিগঞ্জের রেসকোর্সে। টাািলগঞ্জের রেস বহু বছর হল বন্ধ হয়ে গেছে। শোনা যায় বুকিদের নিজেদের মধ্যে জোচ্চুরি টালিগঞ্জ রেস বন্ধের অন্যতম কারণ। শনিবার রেসের বই, ‘ট্রিপল টোটে’, ‘উইনে’ ইত্যাদি-প্রভৃতি হিসেব, ঘোড়ার পেডিগ্রি, তা নিয়ে অঙ্ক, বুকি- সে এক অন্য জগৎ। লক্ষ লক্ষ টাকা ওড়ে ঘোড়ার পায়ে। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি খবরের কাগজে ঘোড়ার পেডিগ্রি ইত্যাদি, রেসের খবর, সম্ভাব্য জয়ী ঘোড়ার নাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-চর্চা হয়। কিন্তু প্রেমেনদা- প্রেমেন্দ্র মিত্র এত এতবার রেসের মাঠে গিয়েও রেস নিয়ে- ঘোড় দৌড় নিয়ে কোনো আখ্যান নির্মাণ করলেন না বা করতে পারলেন না। কেবল তাঁর গোয়েন্দা চরিত্র পরাশর বর্মাকে নিয়ে একটি আখ্যানে ‘ঘোড়া চিনলেন পরাশর বর্মা ঘুড়িও ওড়ালেন’, তাতে কিছু ঘোড়া ইত্যাদির কথা, ব্যাস। কিন্তু সমরেশ মজুমদার ‘দৌড়’ লিখলেন। বই হয়ে বেরল। তা নিয়ে সিনেমা করলেন শঙ্কর ভট্টাচার্য। সে সিনেমা অবশ্য খুব চলেনি। এই লেখা লিখতে লিখতে মনে পড়ছে সত্যজিৎ রায় তাঁর সিনেমা ‘সীমাবদ্ধ’তে কলকতার রেসের মাঠ দেখিয়েছেন। সুন্দরী শ্যালিকা শর্মিলা ঠাকুরকে নিয়ে এই সিনেমার নায়ক বরুণ চন্দ কলকাতা রেসের মাঠে গেছেন। দৃশ্যটা মনে আছে। ‘সীমাবদ্ধ’-এর পাশাপাশি গৌতম ঘোষের ‘কালবেলা’-র একটি শট মনে পড়ল। যেখানে থানা লকআপ ও জেলে অত্যাচারিত প্রায়-পঙ্গু অনিমেশ আর মাধবীলতার যৌথ জীবনের গেরস্তালিতে বাঁশের বেড়ার দেওয়ালে চে অর্নেস্তো গেভারা ছবিতে। এ যে কত বড় ঐতিহাসিক ভ্রান্তি তা বলার নয়। ছয় দশক, সাত দশক, আট দশকে- চে অর্নেস্তো গেভারা তো সিপিআই, সিপিআই (এম), সিপিআই (এম-এল)-এর কাছে সম্পূর্ণ ব্রাত্য। এমসিসি মাওবাদী কমিউনিস্ট কেন্দ্র, এসইউসি, তারাও চেকে ‘সন্ত্রাসবাদী’, ‘অ্যাডভেঞ্চারিস্ট’, ‘হঠকারি’ মনে করে। একমাত্র আরএসপি চে-কে রাজনৈতিকভাবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি দিয়েছে। চে অর্নেস্ত গেভারার ‘হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতি’র ভয়ঙ্কর সমালোচক ভারতের অন্য সব কমিউনিস্ট পার্টি। তো সে যাই হোক, ‘কালবেলা’ তো সিরিয়ালও হয়েছে, খুব হিট ছিল- নকশাল-বিপ্লব-নকশাল আন্দোলন। সমরেশ মজুমদার বাংলা টিভি সিরিয়াল-জগতের প্রথম উত্থানের সময় অনেক কাজ করেছেন দূরদর্শনের জন্য। যতদূর জানি তিনি চাকরি করতেন আয়কর বিভাগে, সেই চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছিলেন টিভি’র কাজে, সিরিয়াল নির্মাণের ব্যাপারে। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ও এর কিছুদিন পর নিজেদের টিভি চ্যানেল তৈরি করে, সিরিয়াল বানায়। ‘স্টার আনন্দ’ বা ‘এবিপি আনন্দ’-র অনেক অনেক বছর আগে তৈরি হয়েছিল সেই চ্যানেল। পরে অবশ্য নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বৌদ্ধ যুগ, সম্রাট অশোক, তিষ্যা নামের রাজ-গণিকা নিয়ে উপন্যাস নির্মাণ করেছেন সমরেশ মজুমদার। বৌদ্ধ যুগ থেকে যৌনতাই প্রাধান্য পেয়েছে সেখানে। ‘জলছবির সিংহ’ নামে একটি ধারাবাহিক তিনি লিখেছেন ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র রবিবাসরীয় পাতায়। ভেড়ি অঞ্চল, মজিদ মাস্টার নামে এক ‘বাম’-বহুবলী- আরও স্পষ্ট কলে বললে সিপিআই (এম) আশ্রিত মজিদ মাস্টার, যার নামে যথেষ্ট কুখ্যাতি ছিল, তিনি এই আখ্যানে আছেন। কিন্তু সমস্ত বর্ণনাটাই তো একমাত্রিক। ফলে রাজনৈতিক উপন্যাস হয়ে ওঠার পেছনে যা যা গুণ থাকা দরকার ছিল, তা ছল ছবির সিংহতে ছিল না। তখন পশ্চিম বাংলায় বামফ্রন্টের- সিপিআই (এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের শাসন। সেই সময়টা তিনি আঁকতে চেয়েছেন, পারেননি। ভেড়ি-মাছের বড় বড় ভেড়ি, জলাশয়, জলকর, বন্দুক, বোমা, বন্দুকবাজ বাহিনী- যাদের মাস্কেট বাহিনীও বলা হয়ে থাকে। মুর্শিদাবাদসহ অন্য উত্তরের-উত্তরবঙ্গ লাগোয়া অঞ্চলে। দক্ষিণবঙ্গে-দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মাছ চাষ, ভেড়ি, ‘সাদা মাছ’, মাছের পোনা ডিম-পোনা, মীন কোনটাই হয় আসেনি, নয় তিনি আনতে পারেনিন। পাঁচ দশকের পশ্চিম বাংলার বাংলা ভাষার গদ্যকার লেখক বলতে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, বরেন গঙ্গোপাধ্যায়, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, মতি নন্দী, প্রফুল্ল রায়, কবিতা সিংহ, বুদ্ধদেব গুহ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। প্রলয় সেন, রতন ভট্টাচার্য প্রমুখও পাঁচ দশকেরই। ছয়ের দশকের বাংলা গদ্য লেখক সমরেশ মজুমদার, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি বিক্রিদার লেখক। যাঁদের বই বিক্রি হয় যথেষ্ট। ছয়ের দশকের বাকিদের বিক্রি প্রায় শূন্য। অনেকেই বিস্মৃতির অতলে। দুঃখ লাগে সমরেশ বসুর গ্রন্থ এখন আর সেভাবে বিক্রি হয় না। ‘বিবর’, ‘প্রজাপতি’, ‘পাতক’ও না। ‘দেখি নাই ফিরে’ অনেকটা দাম, তবু কিছু বিক্রি হয় রামকিঙ্কর- শিল্পী-ভাস্কর, রামকিঙ্কর বেইজকে নিয়ে লেখা এই জীবন-উপন্যাস। যার ছবি এঁকেছিলেন বিকাশ ভট্টচ্চার্য। ‘কইতে কথা বাধে’ সমরেশ মজুমদার যাঁদের সঙ্গে- মানে যেসব লেখকের সঙ্গে খনিকটা হলেও মিশেছেন, তাঁদের কথা আছে এই বইটিতে। সমরেশ মজুমদার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্কিম পুরস্কার পান ‘কলকাতায় নবকুমার’ নামে গ্রন্থের জন্যে। সম্ভবত সেটা ২০১০। বামফ্রন্টের রাজত্বকালের শেষ বঙ্কিম পুরস্কার। কলকাতার বেশ্যা পল্লী- রেডলাইট এলাকা এই আখ্যানের মধ্যে জড়িয়ে আছে। তাঁর সঙ্গে ‘পত্রপাঠ’ নামে একটি হাফ কমার্শিয়াল পত্রিকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। পত্রপাঠ-এ প্রায় নিয়মিত তিনি লিখতেন, এমনকি কখনও কখনও ক্রোধসঞ্জাত বিদ্বেষমূলক লেখাও। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ বাড়ির ছাতার বাইরে ‘বর্তমান’ শারদ সংখ্যায় তাঁকে আমরা গল্প লিখতে দেখেছি। সম্ভবত ‘আজকাল’-এও। যদিও তাঁর মূল লেখালেখির সবটাই প্রায় আনন্দবাজার কেন্দ্রিক। তাতে অসুবিধার কিছু নেই। কেউ এভাবেই তাঁর সাহিত্য চলন জারি রাখতে পারেন।

তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বামপন্থীদের ডাকা-বামফ্রন্টের দু-একটা প্রতিবাদী মিছিলে হাঁটতে দেখেছি। ঐ দু-একবারই, ব্যাস। কলকাতার অফিসিয়াল বামপন্থীরা তাতেই আহ্লদে ষোলখানা। থাক সেসব প্রসঙ্গ।

কলকাতা অনেক কিছু দেখেছে, দেখেছে এই বঙ্গভূমি। যুক্তবঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, বরিশাল, রাজশাহী, ফরিদপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, চন্দননগর, মুর্শিদাবাদ, যশোর, খুলনা, পাবনা, বর্ধমান, মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা অনেক অনেক ঘটনার সাক্ষী। সেই সব ঘটনা বড় লেখকদের- বড় মাপের আখ্যানকারদের কলমে বার বার উঠে আসে। সমরেশ মজুমদারের লেখায় সেভাবে কি উঠে এল এই যুক্তবঙ্গের, যখন তা অখ- ছিল, পরে খ-িত হওয়ার পরবর্তী সময়ে এল কি সেই জীবন-সমাজ ও রাজনৈতিক তরঙ্গাভিঘাত? এল কি? এল? এল? বাংলাদেশ-এর পাঠকদের মধ্যে খুব পপুলার ছিলেন তিনি, এমন শুনেছি। তাঁর বইয়ের বাংলাদেশ এডিশন অনেক হয়েছে। আবার তাঁর লেখার- গ্রন্থের পাইরেটেড এডিশন হয়েছে বাংলাদেশে- এমন অভিযোগও তিনি বার বার করেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা আমি যাচাই করি নি। এই অভিযোগের কতটা সত্য আর কতটাইবা মিথ্যা, সে সম্বন্ধেও আমার ধারণা নেই। একজন কমার্শিয়াল লেখক- বাণিজ্যিক লেখক, পুরেপুরি বাণিজ্যিক লেখকই, সেটা যে খুব দোষের তাও হয়ত নয়, কিন্তু মহাকাল, কঠিন মহাকাল, তার পায়ে পেরেক গেঁথে দিতে গেলে অনেক অনেক, অনেক কিছু ছাড়তে হয়। সেই যাত্রাপথ বড় দুর্গম, বড্ড অনিশ্চিত, বড়ই কণ্টকময়, বিপদসঙ্কুল। একজন প্রকৃত, সৎ অক্ষরকর্মীকে- লেখক থেকে কথাকার- কথাসাহিত্যিক হয়ে উঠতে গেলে সেই অতি দুর্গম পথ পায়ে পায়ে বিপদ নিয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে পেরতে হয়।

ছবি

‘রোড টু বালুরঘাট’, মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের চিত্র প্রদর্শন

ছবি

পাবলিশহার এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের মিতিয়া ওসমান

ছবি

চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে বর্ষ বরন সম্পন্ন

ছবি

জামালপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

ছবি

বনাঢ্য নানান আয়োজনে বিভাগীয় নগরী রংপুরে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ

ছবি

আজ চৈত্র সংক্রান্তি

ছবি

বর্ষবরণে সময়ের বিধি-নিষেধ মানবে না সাংস্কৃতিক জোট

ছবি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার গুণীজন সংবর্ধনা

ছবি

স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রায় সকল প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে : ড. কামাল চৌধুরী

ছবি

এলাকাবাসীর সঙ্গে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের নতুন কমিটি, ড. সনজীদা খাতুন সভাপতি, ড. আতিউর রহমান নির্বাহী সভাপতি,লিলি ইসলাম সাধারণ সম্পাদক

ছবি

এবার বইমেলায় ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি

ছবি

আজ শেষ হচ্ছে মহান একুশের বইমেলা, বিক্রি বেড়েছে শেষ মুহুর্তে

ছবি

আগামী বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার জায়গা বরাদ্দ নাওদিতে পারে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

ছবি

বইমেলা, মেয়াদ বাড়ায় খুশি সবাই

ছবি

বইমেলায় ফ্রান্স প্রবাসী কাজী এনায়েত উল্লাহর দুই বই

ছবি

নারী লেখকদের বই কম, বিক্রিও কম

ছবি

বইমেলায় বিদায়ের সুর

ছবি

শিশুদের আনন্দ উচ্ছ্বাসে জমজমাট বইমেলার শিশু প্রহর

ছবি

বইমেলায় শিশুদের চোখে মুখে ছিল আনন্দ উচ্ছ্বাস

ছবি

বই মেলায় খুদে লেখকদের গল্প সংকলন ‘কিশোর রূপাবলি’

ছবি

`বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত উন্নত শিরের বাঙালি জাতি চাই’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ছবি

বইমেলায় সরোজ মেহেদীর ‘চেনা নগরে অচিন সময়ে’

ছবি

বইমেলায় মাহবুবুর রহমান তুহিনের ‘চেকবই’

বইমেলায় প্রকাশিত হলো সাংবাদিক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বলের ‘যাপিত জীবনের গল্প’

ছবি

সমাজসেবায় একুশে পদকঃ এখনও ফেরি করে দই বিক্রি করেন জিয়াউল হক

ছবি

বইমেলায় পন্নী নিয়োগীর নতুন গ্রল্পগ্রন্থ আতশবাজি

ছবি

ভাষার শক্তি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সুদৃঢ় করে: উপাচার্য ড. মশিউর রহমান

ছবি

রুবেলের গ্রন্থ শিশির ঝরা কবিতা

ঢাবিতে পাঁচ দিনব্যাপী ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ উৎসব শুরু

ছবি

সোনারগাঁয়ে লোকজ উৎসবে খেলাঘরের নাচ-গান পরিবেশন

ছবি

বাংলা একাডেমি পুরস্কার ফেরত দিলেন জাকির তালুকদার

ছবি

রংতুলির মাধ্যমে নিরাপদ সড়কের দাবি শিশুদের

ছবি

জাতীয় প্রেস ক্লাবে পিঠা উৎসব ও লোকগানের আসর

ফরিদপুরে ২ ফেব্রূয়ারি থেকে ঐতিহ্যবাহী জসীম পল্লী মেলা

ছবি

লেনিন উপন্যাসের প্রকাশনা উৎসব

tab

সংস্কৃতি

সমরেশ মজুমদার : শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্বর্গছেঁড়ার অনিমেষ ও কিছু কথাবার্তা

কিন্নর রায়

সমরেশ মজুমদার / জন্ম : ১০ মার্চ ১৯৪২; মৃত্যু : ৮ মে ২০২৩

রোববার, ১৪ মে ২০২৩

হ্যাঁ, তিনি তো কমার্শিয়াল লেখকই ছিলেন, তা যতই কি না তাঁকে অনিমেষ আর মাধবীলতা, সাতের দশক বা সত্তর দশকের দুই অগ্নিকণাকে নিয়ে আদিখ্যেতা হোক সোশ্যাল মিডিয়ায়, নকশালবাড়ি ধারার ঐতিহাসিক আন্দোলনের এমন ভুল ব্যাখ্যা বলব না, ভুল ইন্টারপ্রিটেশন তো খুব কমই হয়েছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘শ্যাওলা’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ায়ের ‘কেন্দ্রবিন্দু’ দেবেশ রায়ের ‘স্বামী-স্ত্রী’ বাদ দিয়ে। আসলে নকশালবাড়ি ধারার ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহ-১৯৬৭ সালের ২৪-২৫মে, তারপর ১৯৬৯ সালে সিপিআই (এমএল)-এর গড়ন-গঠন, ১৯৬৭’র ২২ এপ্রিল লেলিন দিবসে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেলিনবাদী) তৈরি হলো, আর তার অফিসিয়াল ঘোষণা হলো মে দিনে- মে দিবসে ১৯৬৯ সালের পয়লা মে, কলকাতার মনুমেন্ট ময়দানে, মনুমেন্ট তখনও শহিদ মিনার নাম পায়নি। তো সে যাই হোক, ৮ মে প্রয়াত হয়েছেন সমরেশ মজুমদার। বিকেল ফুরিয়ে আসার সন্ধ্যার দিকে কলকাতার বাইপাসের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে, বয়স হয়েছিল ৮১। তাঁর ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালপুরুষ’, ‘কালবেলা’- এই তিনটি দীর্ঘ আখ্যানই সাগরময় ঘোষ সম্পাদিত ‘দেশ’ পত্রিকায় বের হয়। ‘দেশ’ তখন সাপ্তাহিক। সমরেশ মজুমদার লিটল ম্যাগাজিনের লেখক ছিলেন না। তিনি দাবিও করেননি তিনি লিটল ম্যাগাজিনের। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ বাড়ির সব কটি কাগজে লিখেছেন, বার বার লিখেছেন। ধারাবাহিক লিখেছেন, সারদ সংখ্যায় লিখেছেন। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’, ‘দেশ’, ‘আনন্দমেলা’। ছোটদের জন্য বা কিশোরদের জন্য তাঁর লেখার মূল চরিত্র অর্জুন, সেই সঙ্গে আছেন অমল সোম। এই যে এত এত ‘চরিত্র’ তৈরি হয়েছিল আনন্দবাজার পত্রিকা গ্রুপ-এর ‘আন্দমেলা’-র পাতায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু-সন্তু, সমরেশ বসুর গোগল, বিমল করের কিকিরা, সমরেশ মজুমদারের অর্জুন, তার মধ্যে আমি সবার আগে এগিয়ে রাখব বিমল করের ম্যাজিশিয়ান কাম রহস্যভেদী কিকিরাকে। আমি এই তালিকার বাইরে প্রদোষ মিত্র- ফেলুদা, তোপসে ও জটায়ু, প্রফেসর তিলোকেশ্বর শঙ্কুকে বাদ রাখলাম। কারণ প্রফেসর শঙ্কু, ফেলুদা তোপসে তপেশ রঞ্জন-জটায়ু- একটু একটু করে গড়ে উঠেছেন। ফেলুদা ও তোপসে আনন্দমেলার বাইরে। প্রফেসর শঙ্কুও তাই। সত্যজিৎ রায়ের ‘তারিণী খুড়ো’ আনন্দমেলার পাতাতেই। প্রেমেন্দ্র মিত্রর ‘ভূত শিকারী’ মেজ কর্তা আর বুদ্ধদেব গুহর ঋজুদা আন্দমেলার বাইরে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নীল মানুষ, বিশ্বমামারাও তাই। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাধু কালাচাঁদও তাই। তো সে যাই হোক সমরেশ মজুমদার কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘অর্জুন’ লিখেছেন, সঙ্গে অমল সোম। উত্তরাধিকার ‘দেশ’ পত্রিকায় বেরুতে শুরু করে। আঙরা ভাষা, নদী, স্বর্গছেঁড়া চা বাগান, অনিমেষ- অনি, তার ঠাকুর্দা, স্কুলে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অনির নদীর জলে স্নান সারা গা মাজতে আসা মদেশীয় নারীদের প্রায় নগ্ন দেখা, উত্তরবঙ্গ, চা বাগানের জীবন, পাঁচ ও ছয়ের দশক, বিশেষ করে ছয়ের দশক- সবই গড়গড় করে পড়ে নেওয়া যায়। তাঁর কালপুরুষ, কালবেলা, সাতের দশক, আটের দশক, আটের দশক আবার মৌষলকাল, যাতে ২০১১-এর পাশাপাশি সময়, সব মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে সময়টাকে কমার্শিয়াল রাইটার- বাণিজ্যিক ধারার লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে ধরার চেষ্টা। মনে আছে কালবেলা-তে একটি সংলাপ ছিল- ‘ফাক দ্যা টাইম’। একজন সম্পন্ন মানুষ কথাটি বলেছেন। ‘ফাক দ্যা টাইম’- ‘ফাক দ্যা টাইম’। সমরেশ মজুমদারের একটি গল্প পড়েছিলাম সাতের দশকের মাঝামাঝি ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র রবিবাসরীয়তে। গল্পের নাম ‘ঈশ্বরের ভূমিকায়’। ‘ঈশ্বরের ভূমিকায়’তে রাস্তায় পথ দুর্ঘটনা-রোড অ্যাকসিডেন্ট, একজন গাড়ি চালক আহত, মুমুর্ষূর মুখে জলের বদলে মদ ঢেলে দেওয়া, মদ ঢালছে সেই ড্রাইভারটি, ছবিটা ভালো এঁকেছিলেন। কিন্তু এখন পাঠ করলে- পুনর্পাঠ করলে সেই গল্পের কিছু খুঁত তো বেরবেই বেরবে। তাই আর পুনরায় পাঠের ইচ্ছে নেই। সমরেশ মজুমদার ছয়ের দশক-ষাট দশকের লেখক। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ও। ছয়ের দশকেই শৈবাল মিত্র, সমীর রক্ষিত, তপোবিজয় ঘোষ, মনি মুখোপাধ্যায়, অমল আচার্য, জীবন সরকার, চণ্ডী মণ্ডল, বলরাম বসাক, রমানাথ রায়, শেখর বসু, সুনীল জানা, কল্লোল মজুমদার, কল্যাণ সেন, সুনীল দাশ, শঙ্কর দাশগুপ্ত, সুব্রত সেনগুপ্ত, শেখর বসু। এর মধ্যে বলরাম বসাক, রমানাথ রায়, শেখর বসু, সুনীল জানা, কল্যাণ সেন, সুব্রত সেনগুপ্ত,- এঁরা সবাই গল্পহীন গল্প আন্দোলন- ‘এই দশক’ পত্রিকার লেখক। সমরেশ মজুমদার কথাকার শৈবাল মিত্রর ভায়রাভাই। অর্থাৎ তাঁরা দুজন দুই বোনকে বিবাহ করেন। শৈবাল মিত্র নকশালবাড়ির ধারার আন্দোলনের সঙ্গে গোড়ার দিক থেকে যুক্ত ছিলেন। তাঁর অগ্রবাহিনী- যা ‘তারিণী পাহাড়ে বসন্ত’ নামে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘অমৃত’-তে ধারাবাহিক বেরিয়েছিল। এছাড়াও শৈবাল মিত্রর বহু কাহিনীতেই নকশালবাড়ির ধারার আন্দোলন এসে গেছে, প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে। সমরেশ মজুমদার কখনও প্রত্যক্ষভাবে নকশালবাড়ির আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে এটাও ঠিক এই আন্দোলনের সঙ্গে- আভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকলেই তিনি নকলশালবাড়ির ধারার আন্দোলন নিয়ে লেখার অধিকারী- এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। কিন্তু সমরেশ মজুমদারের প্রয়াণের পর মাধবীলতা ও অনিমেষকে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ার পোস্টে পোস্টে যে আধিখ্যেতা শুরু হয়েছে, এখনও চলছে, এমনকি অফিসিয়াল বামপন্থীরা সেই শোকধ্বনি, স্তোত্রগানের বাইরে নন, সেই সব পোস্ট পড়তে পড়তে মনে হয় পশ্চিমবাংলার বাংলা গল্প , উপন্যাসের পাঠক রাজনৈতিক গল্প উপন্যাসের স্বাদ ভুলেই গেল? গোপাল হালদার, স্বর্ণ কমল ভট্টাচার্য, ননী ভৌমিক, সোমনাথ লাহিড়ী, গৌরী ঘটক, সুলেখা সান্ন্যাল, সাবিত্রী রায়, অসীম রায়, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবেশ রায়, সমরেশ বসু, মহাশ্বেতা দেবী- এঁদের লেখা রাজনৈতিক গল্প, উপন্যাস কী এখন পশ্চিবাংলার বাঙালি পাঠকের স্মৃতিতে ভাসে না? ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’-সমরেশ মজুমদার বিরচিত এই যে ট্রিলজি, তার প্রথমটি ‘উত্তরাধিকার’ ছাপে কলকাতার অতি বিখ্যাত প্রকাশক মিত্র ও ঘোষ। যতদূর জানি ‘মিত্র ও ঘোষ’-এর অন্যতম কর্ণধার- স্থপতি ও কথাকার গজেন্দ্র কুমার মিত্রর বন্ধু ছিলেন সমরেশ মজুমদারের পিতৃদেব। ‘উত্তরাধিকার’ আনন্দ পাবলিশার্স থেকে না বেরলেও ‘কালপুরুষ’, ‘কালবেলা’সহ তাঁর অনেক অনেক বই বেরয় আনন্দ পাবলিসার্শ থেকে। ‘গর্ভধারিণী’ নামে আর একটি বড় মাপের ধারাবাহিক তিনি লিখেছিলেন ‘দেশ’ পত্রিকায়। এই গ্রন্থের প্রকাশক মিত্র ও ঘোষ।

দৌড় তাঁর প্রথম বড় কাগজে ছাপা উপন্যাস। ‘দেশ’ পত্রিকার বিনোদন সংখ্যায় লেখাটি ছাপা হয়েছিল- যতদূর মনে পড়ে। তখন ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ বাড়ি থেকে বার্ষিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র সাহিত্য সংখ্যা ‘দেশ’, বিনোদন সংখ্যা ‘দেশ’ প্রকাশিত হতো। বিনোদন সংখ্যা ‘দেশ’- ‘দেশ’ তখন সাপ্তাহিক বেরত বড় দিনের আশপাশের সময়ে। ডিসেম্বর মাসে। ‘দৌড়’ কলকাতার রেসের মাঠের ঘোড়া, বুকি, রেস খেলতে আসা মানুষজনের জীবনের নানা ওঠা-পড়া-টানাপোড়েন নিয়ে লেখা। আমরা অনেকেই জানি অথবা জানি না, কবি ও গদ্যকার, গীতিকার, সিনেমা পরিচালক প্রেমেন্দ্র মিত্র নিয়মিত কলকাতা রেসের মাঠে যেতেন। ঘোড়দৌড় তখন হয় প্রতি শনিবার কলকাতা রেসকোর্সে আর টালিগঞ্জের রেসকোর্সে। টাািলগঞ্জের রেস বহু বছর হল বন্ধ হয়ে গেছে। শোনা যায় বুকিদের নিজেদের মধ্যে জোচ্চুরি টালিগঞ্জ রেস বন্ধের অন্যতম কারণ। শনিবার রেসের বই, ‘ট্রিপল টোটে’, ‘উইনে’ ইত্যাদি-প্রভৃতি হিসেব, ঘোড়ার পেডিগ্রি, তা নিয়ে অঙ্ক, বুকি- সে এক অন্য জগৎ। লক্ষ লক্ষ টাকা ওড়ে ঘোড়ার পায়ে। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি খবরের কাগজে ঘোড়ার পেডিগ্রি ইত্যাদি, রেসের খবর, সম্ভাব্য জয়ী ঘোড়ার নাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-চর্চা হয়। কিন্তু প্রেমেনদা- প্রেমেন্দ্র মিত্র এত এতবার রেসের মাঠে গিয়েও রেস নিয়ে- ঘোড় দৌড় নিয়ে কোনো আখ্যান নির্মাণ করলেন না বা করতে পারলেন না। কেবল তাঁর গোয়েন্দা চরিত্র পরাশর বর্মাকে নিয়ে একটি আখ্যানে ‘ঘোড়া চিনলেন পরাশর বর্মা ঘুড়িও ওড়ালেন’, তাতে কিছু ঘোড়া ইত্যাদির কথা, ব্যাস। কিন্তু সমরেশ মজুমদার ‘দৌড়’ লিখলেন। বই হয়ে বেরল। তা নিয়ে সিনেমা করলেন শঙ্কর ভট্টাচার্য। সে সিনেমা অবশ্য খুব চলেনি। এই লেখা লিখতে লিখতে মনে পড়ছে সত্যজিৎ রায় তাঁর সিনেমা ‘সীমাবদ্ধ’তে কলকতার রেসের মাঠ দেখিয়েছেন। সুন্দরী শ্যালিকা শর্মিলা ঠাকুরকে নিয়ে এই সিনেমার নায়ক বরুণ চন্দ কলকাতা রেসের মাঠে গেছেন। দৃশ্যটা মনে আছে। ‘সীমাবদ্ধ’-এর পাশাপাশি গৌতম ঘোষের ‘কালবেলা’-র একটি শট মনে পড়ল। যেখানে থানা লকআপ ও জেলে অত্যাচারিত প্রায়-পঙ্গু অনিমেশ আর মাধবীলতার যৌথ জীবনের গেরস্তালিতে বাঁশের বেড়ার দেওয়ালে চে অর্নেস্তো গেভারা ছবিতে। এ যে কত বড় ঐতিহাসিক ভ্রান্তি তা বলার নয়। ছয় দশক, সাত দশক, আট দশকে- চে অর্নেস্তো গেভারা তো সিপিআই, সিপিআই (এম), সিপিআই (এম-এল)-এর কাছে সম্পূর্ণ ব্রাত্য। এমসিসি মাওবাদী কমিউনিস্ট কেন্দ্র, এসইউসি, তারাও চেকে ‘সন্ত্রাসবাদী’, ‘অ্যাডভেঞ্চারিস্ট’, ‘হঠকারি’ মনে করে। একমাত্র আরএসপি চে-কে রাজনৈতিকভাবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি দিয়েছে। চে অর্নেস্ত গেভারার ‘হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতি’র ভয়ঙ্কর সমালোচক ভারতের অন্য সব কমিউনিস্ট পার্টি। তো সে যাই হোক, ‘কালবেলা’ তো সিরিয়ালও হয়েছে, খুব হিট ছিল- নকশাল-বিপ্লব-নকশাল আন্দোলন। সমরেশ মজুমদার বাংলা টিভি সিরিয়াল-জগতের প্রথম উত্থানের সময় অনেক কাজ করেছেন দূরদর্শনের জন্য। যতদূর জানি তিনি চাকরি করতেন আয়কর বিভাগে, সেই চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছিলেন টিভি’র কাজে, সিরিয়াল নির্মাণের ব্যাপারে। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ও এর কিছুদিন পর নিজেদের টিভি চ্যানেল তৈরি করে, সিরিয়াল বানায়। ‘স্টার আনন্দ’ বা ‘এবিপি আনন্দ’-র অনেক অনেক বছর আগে তৈরি হয়েছিল সেই চ্যানেল। পরে অবশ্য নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বৌদ্ধ যুগ, সম্রাট অশোক, তিষ্যা নামের রাজ-গণিকা নিয়ে উপন্যাস নির্মাণ করেছেন সমরেশ মজুমদার। বৌদ্ধ যুগ থেকে যৌনতাই প্রাধান্য পেয়েছে সেখানে। ‘জলছবির সিংহ’ নামে একটি ধারাবাহিক তিনি লিখেছেন ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র রবিবাসরীয় পাতায়। ভেড়ি অঞ্চল, মজিদ মাস্টার নামে এক ‘বাম’-বহুবলী- আরও স্পষ্ট কলে বললে সিপিআই (এম) আশ্রিত মজিদ মাস্টার, যার নামে যথেষ্ট কুখ্যাতি ছিল, তিনি এই আখ্যানে আছেন। কিন্তু সমস্ত বর্ণনাটাই তো একমাত্রিক। ফলে রাজনৈতিক উপন্যাস হয়ে ওঠার পেছনে যা যা গুণ থাকা দরকার ছিল, তা ছল ছবির সিংহতে ছিল না। তখন পশ্চিম বাংলায় বামফ্রন্টের- সিপিআই (এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের শাসন। সেই সময়টা তিনি আঁকতে চেয়েছেন, পারেননি। ভেড়ি-মাছের বড় বড় ভেড়ি, জলাশয়, জলকর, বন্দুক, বোমা, বন্দুকবাজ বাহিনী- যাদের মাস্কেট বাহিনীও বলা হয়ে থাকে। মুর্শিদাবাদসহ অন্য উত্তরের-উত্তরবঙ্গ লাগোয়া অঞ্চলে। দক্ষিণবঙ্গে-দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মাছ চাষ, ভেড়ি, ‘সাদা মাছ’, মাছের পোনা ডিম-পোনা, মীন কোনটাই হয় আসেনি, নয় তিনি আনতে পারেনিন। পাঁচ দশকের পশ্চিম বাংলার বাংলা ভাষার গদ্যকার লেখক বলতে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, বরেন গঙ্গোপাধ্যায়, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, মতি নন্দী, প্রফুল্ল রায়, কবিতা সিংহ, বুদ্ধদেব গুহ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। প্রলয় সেন, রতন ভট্টাচার্য প্রমুখও পাঁচ দশকেরই। ছয়ের দশকের বাংলা গদ্য লেখক সমরেশ মজুমদার, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি বিক্রিদার লেখক। যাঁদের বই বিক্রি হয় যথেষ্ট। ছয়ের দশকের বাকিদের বিক্রি প্রায় শূন্য। অনেকেই বিস্মৃতির অতলে। দুঃখ লাগে সমরেশ বসুর গ্রন্থ এখন আর সেভাবে বিক্রি হয় না। ‘বিবর’, ‘প্রজাপতি’, ‘পাতক’ও না। ‘দেখি নাই ফিরে’ অনেকটা দাম, তবু কিছু বিক্রি হয় রামকিঙ্কর- শিল্পী-ভাস্কর, রামকিঙ্কর বেইজকে নিয়ে লেখা এই জীবন-উপন্যাস। যার ছবি এঁকেছিলেন বিকাশ ভট্টচ্চার্য। ‘কইতে কথা বাধে’ সমরেশ মজুমদার যাঁদের সঙ্গে- মানে যেসব লেখকের সঙ্গে খনিকটা হলেও মিশেছেন, তাঁদের কথা আছে এই বইটিতে। সমরেশ মজুমদার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্কিম পুরস্কার পান ‘কলকাতায় নবকুমার’ নামে গ্রন্থের জন্যে। সম্ভবত সেটা ২০১০। বামফ্রন্টের রাজত্বকালের শেষ বঙ্কিম পুরস্কার। কলকাতার বেশ্যা পল্লী- রেডলাইট এলাকা এই আখ্যানের মধ্যে জড়িয়ে আছে। তাঁর সঙ্গে ‘পত্রপাঠ’ নামে একটি হাফ কমার্শিয়াল পত্রিকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। পত্রপাঠ-এ প্রায় নিয়মিত তিনি লিখতেন, এমনকি কখনও কখনও ক্রোধসঞ্জাত বিদ্বেষমূলক লেখাও। ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ বাড়ির ছাতার বাইরে ‘বর্তমান’ শারদ সংখ্যায় তাঁকে আমরা গল্প লিখতে দেখেছি। সম্ভবত ‘আজকাল’-এও। যদিও তাঁর মূল লেখালেখির সবটাই প্রায় আনন্দবাজার কেন্দ্রিক। তাতে অসুবিধার কিছু নেই। কেউ এভাবেই তাঁর সাহিত্য চলন জারি রাখতে পারেন।

তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বামপন্থীদের ডাকা-বামফ্রন্টের দু-একটা প্রতিবাদী মিছিলে হাঁটতে দেখেছি। ঐ দু-একবারই, ব্যাস। কলকাতার অফিসিয়াল বামপন্থীরা তাতেই আহ্লদে ষোলখানা। থাক সেসব প্রসঙ্গ।

কলকাতা অনেক কিছু দেখেছে, দেখেছে এই বঙ্গভূমি। যুক্তবঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, বরিশাল, রাজশাহী, ফরিদপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, চন্দননগর, মুর্শিদাবাদ, যশোর, খুলনা, পাবনা, বর্ধমান, মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা অনেক অনেক ঘটনার সাক্ষী। সেই সব ঘটনা বড় লেখকদের- বড় মাপের আখ্যানকারদের কলমে বার বার উঠে আসে। সমরেশ মজুমদারের লেখায় সেভাবে কি উঠে এল এই যুক্তবঙ্গের, যখন তা অখ- ছিল, পরে খ-িত হওয়ার পরবর্তী সময়ে এল কি সেই জীবন-সমাজ ও রাজনৈতিক তরঙ্গাভিঘাত? এল কি? এল? এল? বাংলাদেশ-এর পাঠকদের মধ্যে খুব পপুলার ছিলেন তিনি, এমন শুনেছি। তাঁর বইয়ের বাংলাদেশ এডিশন অনেক হয়েছে। আবার তাঁর লেখার- গ্রন্থের পাইরেটেড এডিশন হয়েছে বাংলাদেশে- এমন অভিযোগও তিনি বার বার করেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা আমি যাচাই করি নি। এই অভিযোগের কতটা সত্য আর কতটাইবা মিথ্যা, সে সম্বন্ধেও আমার ধারণা নেই। একজন কমার্শিয়াল লেখক- বাণিজ্যিক লেখক, পুরেপুরি বাণিজ্যিক লেখকই, সেটা যে খুব দোষের তাও হয়ত নয়, কিন্তু মহাকাল, কঠিন মহাকাল, তার পায়ে পেরেক গেঁথে দিতে গেলে অনেক অনেক, অনেক কিছু ছাড়তে হয়। সেই যাত্রাপথ বড় দুর্গম, বড্ড অনিশ্চিত, বড়ই কণ্টকময়, বিপদসঙ্কুল। একজন প্রকৃত, সৎ অক্ষরকর্মীকে- লেখক থেকে কথাকার- কথাসাহিত্যিক হয়ে উঠতে গেলে সেই অতি দুর্গম পথ পায়ে পায়ে বিপদ নিয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে পেরতে হয়।

back to top