alt

news » national

পুরান ঢাকায় হত্যার পর লাশ ঘিরে প্রকাশ্যে উল্লাস

সব আসামি শনাক্ত: পুলিশ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ। গত বুধবার পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। এরপর নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে কম্পাউন্ডের বাইরের সড়কে এনে শত শত মানুষের সামনে চলে উন্মত্ততা। ঘটনাস্থলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মহিন ও তারেক নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মহিন ঘটনার মূল হোতা। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

শুক্রবার,(১১ জুলাই ২০২৫) বিকেলে ডিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন শিকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মহিন ও তারেক নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

জানা গেছে, ঘটনার সময় অদূরেই চলছিল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তায় ছিলেন আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে এমন সন্ত্রাস আতংকে কেউ এগিয়ে আসেনি। যখন তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়, তখন চিকিৎসক জানান, আগেই মারা গেছেন সোহাগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুধু হত্যা করেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা। সোহাগের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশের ওপর চলতে থাকে নৃশংসতা। রক্তাক্ত নিথর দেহটি রাস্তার মাঝখানে ফেলে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে চলে ভয়াবহ উন্মত্ত উল্লাস। একজন নয়, একাধিক যুবক মৃত ব্যক্তির নাক-মুখে এবং বুকের ওপর আঘাত করে যেতে থাকে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসা লোকদের মধ্যে একজন মোবাইলে কথা বলছিল। ওই সময় দুই হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে থাকা সোহাগের রক্তাক্ত মুখের ওপর কিল-ঘুষি দিতে থাকে আরেকজন। অন্য এক তরুণ দৌড়ে এসে পড়ে থাকা নিথর দেহের বুকের ওপর লাফাচ্ছিল! মানুষ দেখছিল এমন ভয়ংকর দৃশ্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে পুরনো বৈদ্যুতিক কেবল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তার দোকানের নাম সোহানা মেটাল। ওই এলাকায় বিদ্যুতের তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহাগের কাছে। তবে নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু নামে আরও দুইজন। তারা অনেকটা ওই অবৈধ বাণিজ্যের ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল। তা না হলে নিয়মিত চাঁদা দেয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা। এর জেরেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বে ঘটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দিন সোহাগকে তার দোকান থেকে ডেকে আনা হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সোহাগ ও হামলায় নেতৃত্ব দেয়া মহিন, টিটুসহ জড়িত অন্যরা ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে সংগঠনে তাদের কোনো পদ রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের ভাগ্নি মীম আক্তার জানান, তার মামার পরিচিত লোকজনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার মামা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসা করতেন। কিন্তু টিটু, মহিনসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন এই ব্যবসায় ভাগ বসাতে চাচ্ছিল। ওই প্রতিপক্ষের লোকজনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, খুনিরা সোহাগের কাছে ব্যবসার ৫০ শতাংশ অংশীদার দাবি করেছিল। নইলে লাভের ৫০ শতাংশ চাঁদা দেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের অন্য এক স্বজন জানান, গত বুধবার দুপুরে টিটু সোহাগের বাসায় খাওয়া-দাওয়া করে। ভাত খাওয়ার সময় টিটু সোহাগকে বলে সব মিটমাট করে ফেলবে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই যেন ব্যবসা করা যায়, সেজন্য সবার সঙ্গে বসে একবার কথা বললেই হবে। এই কথা বলে টিটু সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করা ৪০ থেকে ৫০ জন সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী ও আনিসুর রহমান হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের এডিসি আমিনুল কবির তরফদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। সব আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।

ছবি

ইসির রোডম্যাপ: রাজনৈতিক দলগুলোর মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ছবি

আন্তর্জাতিক গুম দিবস শনিবার: গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার-ক্ষতিপূরণ দাবি আসকের

বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদের খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি

ছবি

রোহিঙ্গা সংকট বৈশ্বিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ছবি

রাজনীতিকে উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান

ছবি

সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঝুঁকি ও সতর্কবার্তা তুলে ধরলেন নির্বাচন কমিশনাররা

ছবি

উপদেষ্টা হতে সমন্বয়ককে ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক

ছবি

যে কারণে জামিন চাননি লতিফ সিদ্দিকী

ছবি

দুর্বল হয়েছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দর থেকে নামল সংকেত

ছবি

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: নারী ও পোষ্য কোটা বাতিল

ছবি

নির্বাচনের রোডম্যাপ: বিটিভি-বেতারে দলীয় প্রধানের বক্তৃতা, একমঞ্চে ইশতেহার

ছবি

আটকের ১২ ঘন্টা পর মামলা, তারপর কারাগারে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন

ছবি

লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন

ছবি

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি ৫ সেপ্টেম্বরের বদলে ৬ সেপ্টেম্বর

ছবি

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে এলো আরও ৪২০ টন চাল

ছেলের হত্যা বিচার দেখে যেতে চান আবু সাঈদের বাবা

ছবি

হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি ফিরেছে

ছবি

আরাকান আর্মির হেফাজতে ৫১ জেলে: বিজিবি সেক্টর কমান্ডার

ছবি

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম: ফের আপিল শুনবে সর্বোচ্চ আদালত

ছবি

‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে মব আক্রমণে পণ্ড মঞ্চ ৭১ এর সভা

ছবি

চিলাহাটিসহ ৩ স্থলবন্দর বন্ধ, ১টির কার্যক্রম স্থগিত করলো সরকার

ছবি

সীমান্ত হত্যা: বিএসএফ প্রধানের ব্যাখ্যা, দ্বিমত বিজিবি ডিজির

ছবি

ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা: ডিসেম্বরে তফসিল, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট

ছবি

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

ছবি

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ৫৮৫ কোটি টাকা অপচয়, সাবেক মন্ত্রী কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি

প্রথম দুই প্রান্তিকে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

ছবি

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান খসড়ায় অনুমোদন

ছবি

সীমান্তে গুলি চালানো নিয়ে ভিন্নমত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালকের

ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সুযোগ নেই-আইএসপিআর

ছবি

মঞ্চ ৭১ এর অনুষ্ঠানে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে কতিপয়ের হট্টগোল, লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে

ছবি

ভোটের আগে ৯-১০ লাখ জনবলকে প্রশিক্ষণ দেবে নির্বাচন কমিশন

ছবি

যথাযথ ‘নিয়ম মেনেই পুশ ইন’ করা হয়েছে: বিএসএফ প্রধান

ছবি

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন বাবা মকবুল হোসেন

ছবি

জুলাই সনদ: দলগুলোর মতামতের ‘প্রতিফলন ঘটাতে চায়’ ঐকমত্য কমিশন

ছবি

দুর্গাপুরে যেখানে সেখানে স মিল, নেই অধিকাংশেরই অনুমোদন

ছবি

ট্রাইব্যুনাল: আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচার শুরু

tab

news » national

পুরান ঢাকায় হত্যার পর লাশ ঘিরে প্রকাশ্যে উল্লাস

সব আসামি শনাক্ত: পুলিশ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ। গত বুধবার পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। এরপর নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে কম্পাউন্ডের বাইরের সড়কে এনে শত শত মানুষের সামনে চলে উন্মত্ততা। ঘটনাস্থলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মহিন ও তারেক নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মহিন ঘটনার মূল হোতা। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

শুক্রবার,(১১ জুলাই ২০২৫) বিকেলে ডিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন শিকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মহিন ও তারেক নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

জানা গেছে, ঘটনার সময় অদূরেই চলছিল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তায় ছিলেন আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে এমন সন্ত্রাস আতংকে কেউ এগিয়ে আসেনি। যখন তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়, তখন চিকিৎসক জানান, আগেই মারা গেছেন সোহাগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুধু হত্যা করেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা। সোহাগের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশের ওপর চলতে থাকে নৃশংসতা। রক্তাক্ত নিথর দেহটি রাস্তার মাঝখানে ফেলে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে চলে ভয়াবহ উন্মত্ত উল্লাস। একজন নয়, একাধিক যুবক মৃত ব্যক্তির নাক-মুখে এবং বুকের ওপর আঘাত করে যেতে থাকে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসা লোকদের মধ্যে একজন মোবাইলে কথা বলছিল। ওই সময় দুই হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে থাকা সোহাগের রক্তাক্ত মুখের ওপর কিল-ঘুষি দিতে থাকে আরেকজন। অন্য এক তরুণ দৌড়ে এসে পড়ে থাকা নিথর দেহের বুকের ওপর লাফাচ্ছিল! মানুষ দেখছিল এমন ভয়ংকর দৃশ্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে পুরনো বৈদ্যুতিক কেবল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তার দোকানের নাম সোহানা মেটাল। ওই এলাকায় বিদ্যুতের তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহাগের কাছে। তবে নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু নামে আরও দুইজন। তারা অনেকটা ওই অবৈধ বাণিজ্যের ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল। তা না হলে নিয়মিত চাঁদা দেয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা। এর জেরেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বে ঘটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দিন সোহাগকে তার দোকান থেকে ডেকে আনা হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সোহাগ ও হামলায় নেতৃত্ব দেয়া মহিন, টিটুসহ জড়িত অন্যরা ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে সংগঠনে তাদের কোনো পদ রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের ভাগ্নি মীম আক্তার জানান, তার মামার পরিচিত লোকজনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার মামা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসা করতেন। কিন্তু টিটু, মহিনসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন এই ব্যবসায় ভাগ বসাতে চাচ্ছিল। ওই প্রতিপক্ষের লোকজনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, খুনিরা সোহাগের কাছে ব্যবসার ৫০ শতাংশ অংশীদার দাবি করেছিল। নইলে লাভের ৫০ শতাংশ চাঁদা দেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের অন্য এক স্বজন জানান, গত বুধবার দুপুরে টিটু সোহাগের বাসায় খাওয়া-দাওয়া করে। ভাত খাওয়ার সময় টিটু সোহাগকে বলে সব মিটমাট করে ফেলবে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই যেন ব্যবসা করা যায়, সেজন্য সবার সঙ্গে বসে একবার কথা বললেই হবে। এই কথা বলে টিটু সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করা ৪০ থেকে ৫০ জন সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী ও আনিসুর রহমান হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের এডিসি আমিনুল কবির তরফদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। সব আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।

back to top