দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পে ‘দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে ৫৮৫ কোটি টাকা অপচয় ও ক্ষতির অভিযোগে সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
বৃহস্পতিবার সংস্থার উপপরিচালক সিরাজুল হক বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১ এ মামলাটি দায়ের করেন, জানিয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন তথ্য দিয়েছেন।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন- সেতু বিভাগের সাবেক সচিব ও নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমদ এবং সাবেক পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আলীম উদ্দিন আহমেদ।
মামলার অভিযোগ
মামলায় বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘নেগোসিয়েশন কমিটি’-এর সুপারিশ উপেক্ষা করে প্রকল্পে তিনটি অপ্রয়োজনীয় কাজ যুক্ত করেন। এর ফলে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় ও ক্ষতি হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর ২০১৩ সালের অগাস্টে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) ও অরূপ হংকং জেভি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে টানেলের মাধ্যমে মাত্র ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার এটি মাত্র ১৩.৫৯ শতাংশ।
এ সময়ে টানেল থেকে ৬৭ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হলেও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এতে প্রতি মাসে সরকারের গড়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা লোকসান ও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত অভিযোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন
মামলায় বলা হয়, সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছাকৃতভাবে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রকল্প পাস করান, ফলে জনগণ ও সরকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
সমীক্ষার প্রতিবেদনের বরাতে এজাহারে উল্লেখ, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অন্তত ১০টি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যাবে বলে বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই সুফল অর্জিত হয়নি। সিসিসিসি ৬৭৯.১৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল, নেগোসিয়েশন কমিটি ৬৪৬ মিলিয়ন ডলারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল, তবে পরে সুপারিশ উপেক্ষা করে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ ২০০৬) লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাদের দিয়ে প্রকল্পে তিনটি অতিরিক্ত কাজ—পরিষেবা এলাকা নির্মাণ, পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার এবং একটি ট্যাগ বোট—যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, অথচ বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে এসব কাজের কোনো সুপারিশ ছিল না।
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পে ‘দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে ৫৮৫ কোটি টাকা অপচয় ও ক্ষতির অভিযোগে সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
বৃহস্পতিবার সংস্থার উপপরিচালক সিরাজুল হক বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১ এ মামলাটি দায়ের করেন, জানিয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন তথ্য দিয়েছেন।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন- সেতু বিভাগের সাবেক সচিব ও নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমদ এবং সাবেক পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আলীম উদ্দিন আহমেদ।
মামলার অভিযোগ
মামলায় বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘নেগোসিয়েশন কমিটি’-এর সুপারিশ উপেক্ষা করে প্রকল্পে তিনটি অপ্রয়োজনীয় কাজ যুক্ত করেন। এর ফলে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় ও ক্ষতি হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর ২০১৩ সালের অগাস্টে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) ও অরূপ হংকং জেভি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে টানেলের মাধ্যমে মাত্র ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার এটি মাত্র ১৩.৫৯ শতাংশ।
এ সময়ে টানেল থেকে ৬৭ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হলেও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এতে প্রতি মাসে সরকারের গড়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা লোকসান ও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত অভিযোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন
মামলায় বলা হয়, সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছাকৃতভাবে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রকল্প পাস করান, ফলে জনগণ ও সরকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
সমীক্ষার প্রতিবেদনের বরাতে এজাহারে উল্লেখ, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অন্তত ১০টি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যাবে বলে বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই সুফল অর্জিত হয়নি। সিসিসিসি ৬৭৯.১৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল, নেগোসিয়েশন কমিটি ৬৪৬ মিলিয়ন ডলারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল, তবে পরে সুপারিশ উপেক্ষা করে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ ২০০৬) লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাদের দিয়ে প্রকল্পে তিনটি অতিরিক্ত কাজ—পরিষেবা এলাকা নির্মাণ, পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার এবং একটি ট্যাগ বোট—যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, অথচ বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে এসব কাজের কোনো সুপারিশ ছিল না।