ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৪ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের ও তফসিলের দিন তারিখ নির্ধারণ না করা হলেও রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে, অর্থাৎ রমজান মাস শুরুর আগেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।
সংসদীয় আসনের সীমানা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে
সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন চূড়ান্ত করা হবে
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা জাতীয় নির্বাচনের জন্য, এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো কিছু ভাববার সুযোগ নেই: ইসি সচিব
গতকাল বুধবার এই পরিকল্পনা অনুমোদন করে ইসি। এরপর বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এই রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সংলাপ, মতবিনিময়, মিটিং, ব্রিফিং, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ, বাজেট বরাদ্দ, আইটিভিত্তিক প্রস্তুতি, প্রচারণা, সমন্বয় সেল, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা মাথায় রেখে উল্লেখযোগ্য খাত ও বাস্তবায়নসূচি রোডম্যাপে স্থান পেয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। নির্বাচন কমিশনকে এ সংক্রান্ত চিঠিও দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্বাচনী পরিকল্পনা সাজিয়েছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোটের তারিখের প্রায় দুই মাস বা ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরআগে সিইসি বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি মাথা নেড়ে না বোধক উত্তর দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার ইসি সচিবের কাছে তফসিল কবে এবং ভোট কবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল দেব। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। আবার রমজানতো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এভাবে আপনি নির্বাচনের তারিখ বের করতে পারেন।’
গণপরিষদ ও গণভোটের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা জাতীয় নির্বাচনের জন্য, সংসদ নির্বাচনের বাইরে আমাদের অন্য কোন কিছু ভাববার সুযোগ নেই।’
২৪ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা
নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২৪টি অগ্রাধিকারমূলক কাজ চিহ্নিত করেছে, যা মোট ২০৭টি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ।
সংলাপ ও অন্যান্য কার্যক্রম
রোডম্যাপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং নারী নেত্রীদেরসহ আট শ্রেণীর অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এই সংলাপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়ে দেড় মাস ধরে চলবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা
ভোটার তালিকা: সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করা হবে এবং নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ নভেম্বর।
আইন সংস্কার: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)সহ সব নির্বাচনী আইন ও বিধির সংশোধনী প্রস্তাব ও প্রণয়ন ৩১ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন: সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন চূড়ান্ত করা হবে।
সীমানা নির্ধারণ: সংসদীয় আসনের সীমানা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। তফসিল ঘোষণার আগেও পরেও এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও পোস্টাল ভোটিং, পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন, নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, জনবল প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এই কর্মপরিকল্পনাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত এবং সেভাবেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই রোডম্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো।
নির্বাচনের রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই রোডম্যাপে তারা আশাবাদী হয়েছেন এবং এর মাধ্যমে বোঝা যায় কমিশন ফেব্রুয়ারিতেই ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এ ঘোষণাকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। আমরা এতে আশাবাদী হয়েছি। এ রোডম্যাপ থেকে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’ নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘মূল কথা হচ্ছে আমরা খুশি, উই আর হ্যাপি।’ রোডম্যাপের ঘোষণা জনগণের জন্য সুসংবাদ কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘জি’ বলে সম্মতি জানান।
ঢাকার বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রোডম্যাপ আজ এসেছে এটা সুসংবাদ।’ তিনি জানান, একটি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তিনি এই খবর পেয়েছেন। আমীর খসরু বলেন, ‘মানুষ এখন নির্বাচনমুখী এবং সবাই অপেক্ষা করছে দেশে একটা নির্বাচন হোক। এর মাধ্যমে দেশে একটা নির্বাচিত সরকার আসবে, সংসদ প্রতিষ্ঠা হবে, যে সরকার বা সংসদ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে।’ নির্বাচনের পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এর আগের দিন এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এটি অনুমোদন দেয়। রোডম্যাপে দুই ডজন কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের কথা বলা হয়েছে।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৪ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের ও তফসিলের দিন তারিখ নির্ধারণ না করা হলেও রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে, অর্থাৎ রমজান মাস শুরুর আগেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।
সংসদীয় আসনের সীমানা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে
সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন চূড়ান্ত করা হবে
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা জাতীয় নির্বাচনের জন্য, এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো কিছু ভাববার সুযোগ নেই: ইসি সচিব
গতকাল বুধবার এই পরিকল্পনা অনুমোদন করে ইসি। এরপর বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এই রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সংলাপ, মতবিনিময়, মিটিং, ব্রিফিং, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ, বাজেট বরাদ্দ, আইটিভিত্তিক প্রস্তুতি, প্রচারণা, সমন্বয় সেল, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা মাথায় রেখে উল্লেখযোগ্য খাত ও বাস্তবায়নসূচি রোডম্যাপে স্থান পেয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। নির্বাচন কমিশনকে এ সংক্রান্ত চিঠিও দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্বাচনী পরিকল্পনা সাজিয়েছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোটের তারিখের প্রায় দুই মাস বা ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরআগে সিইসি বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি মাথা নেড়ে না বোধক উত্তর দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার ইসি সচিবের কাছে তফসিল কবে এবং ভোট কবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল দেব। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। আবার রমজানতো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এভাবে আপনি নির্বাচনের তারিখ বের করতে পারেন।’
গণপরিষদ ও গণভোটের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা জাতীয় নির্বাচনের জন্য, সংসদ নির্বাচনের বাইরে আমাদের অন্য কোন কিছু ভাববার সুযোগ নেই।’
২৪ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা
নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২৪টি অগ্রাধিকারমূলক কাজ চিহ্নিত করেছে, যা মোট ২০৭টি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ।
সংলাপ ও অন্যান্য কার্যক্রম
রোডম্যাপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং নারী নেত্রীদেরসহ আট শ্রেণীর অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এই সংলাপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়ে দেড় মাস ধরে চলবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা
ভোটার তালিকা: সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করা হবে এবং নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ নভেম্বর।
আইন সংস্কার: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)সহ সব নির্বাচনী আইন ও বিধির সংশোধনী প্রস্তাব ও প্রণয়ন ৩১ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন: সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন চূড়ান্ত করা হবে।
সীমানা নির্ধারণ: সংসদীয় আসনের সীমানা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। তফসিল ঘোষণার আগেও পরেও এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও পোস্টাল ভোটিং, পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন, নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, জনবল প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এই কর্মপরিকল্পনাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত এবং সেভাবেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই রোডম্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো।
নির্বাচনের রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই রোডম্যাপে তারা আশাবাদী হয়েছেন এবং এর মাধ্যমে বোঝা যায় কমিশন ফেব্রুয়ারিতেই ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এ ঘোষণাকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। আমরা এতে আশাবাদী হয়েছি। এ রোডম্যাপ থেকে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’ নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘মূল কথা হচ্ছে আমরা খুশি, উই আর হ্যাপি।’ রোডম্যাপের ঘোষণা জনগণের জন্য সুসংবাদ কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘জি’ বলে সম্মতি জানান।
ঢাকার বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রোডম্যাপ আজ এসেছে এটা সুসংবাদ।’ তিনি জানান, একটি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তিনি এই খবর পেয়েছেন। আমীর খসরু বলেন, ‘মানুষ এখন নির্বাচনমুখী এবং সবাই অপেক্ষা করছে দেশে একটা নির্বাচন হোক। এর মাধ্যমে দেশে একটা নির্বাচিত সরকার আসবে, সংসদ প্রতিষ্ঠা হবে, যে সরকার বা সংসদ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে।’ নির্বাচনের পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এর আগের দিন এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এটি অনুমোদন দেয়। রোডম্যাপে দুই ডজন কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের কথা বলা হয়েছে।