বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে মঞ্চ ৭১ এর অনুষ্ঠানে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে একদল লোক হামলা করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ওপর -সংবাদ
লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে, পুলিশে সোপর্দ।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে (কার্জন) অবরুদ্ধ করে একদল ব্যক্তি। নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেয়া কিছু লোক এক জামায়াত নেতার উপস্থিতিতে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে অবরুদ্ধ করে রাখার পর তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর নেতা শামীম হোসাইনও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেগুনবাগিচা ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সেখানে দেখা যায়।
এ সময় লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে আসা এ মব তাকে আওয়ামী লীগ ও নাস্তিক বলে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল স্লোগান দিতে থাকেন। লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি শিক্ষক কার্জনসহ বেশ কয়েকজনকে মারধার ও হেনস্থার মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫ ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজক ছিল ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। তবে তিনি সেখানে ছিলেন না। সকাল ১০টায় গোলটেবিল আলোচনা শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টায় আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
আলোচনা সভায় প্রথমে বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছে।’
শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই মিছিল নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির একটি মব ডিআরইউ মিলনায়তনে ঢোকেন। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ে যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে তারা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিড়ে আলোচনায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বেলা সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তারা লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ১৫ জনকে পুলিশের কাছে তুলে দেন। বেলা সোয়া ১২টার পর পুলিশ সদস্যরা লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৫ জনকে নিয়ে যান। পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আসাদুজ্জামান তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানস্থলে কেশব রঞ্জন সরকার নামের একজনকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। আর রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মারধরের শিকার হয়েছেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম। উত্তেজনার সময় আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অবস্থান করছিলেন। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তোপখানা রোডের বৈশাখী হোটেলের সামনে পথরোধ করে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখানে প্রোগ্রামে এসেছি। দল মতের হিসেবে নয়, এখানে সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছে; তাই এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছেন। কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। ২০/২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করে। আমাদের ঘিরে ফেলে।’
জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজনকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে; মূলত উনাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এখন সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।’
গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আল আমিন রাসেল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে বলেন, ‘এখানে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এমন কিছু আমরা মেনে নেবো না।’
‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে আসা পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর নেতা শামীম হোসাইন বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি করে চব্বিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, একাত্তর আমাদের ভিত্তি এবং চব্বিশ আমাদের মুক্তি। এখানে যারা জড়ো হয়েছেন, তারা সবাই চব্বিশের খুনের সঙ্গে জড়িত। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও আছে। আমরা আইন হাতে তুলে না নিয়ে তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছি।’
‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, মঞ্চ ৭১-এর সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন ।
ডিএমপি মিডিয়া উইংসের তথ্য মতে লতিফ সিদ্দিকীসহ ৯ জন তাদের হেফাজতে আছে। তাদের নামে কোনো মামলা হবে কিনা তা আগামী ২৪ ঘণ্টার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত মঞ্চ ৭১-এর ঘোষণায় বলেন, আজ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আগস্ট অভ্যুত্থানের পর কথিত নানা ঘোষণাপত্র এবং বয়ানের মধ্যে জাতির সামনে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্ম অর্জনকে হেয় করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ইতিহাস বিকৃতির মধ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান প্রচেষ্টায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ।
ঘোষণায় তারা, ড. ইউনূস এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে ৫টি পরামর্শ তুলে ধরেন। অন্য চার দফা সুপারিশে মঞ্চ ৭১ বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা থাকবে না তা নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিপক্ষে অসম্মানজনক কিছু থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলে তথাকথিত নতুন সংবিধান প্রণয়ন করার অপপ্রয়াস বাঙালি জাতি কোনোদিন মেনে নেবে না, কোনো রাজনৈতিক দলের অপরাধ ও ব্যর্থতার দায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা যাবে না এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা, ইতিহাস মুছে ফেলা, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার সঙ্গে সংযুক্ত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার এবং বিচার করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে গত ৫ আগস্ট নতুন প্লাটফর্মে আত্মপ্রকাশ ঘটে। মুক্তিযোদ্ধা, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এ প্লাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা বীর প্রতীক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে মঞ্চ ৭১ এর অনুষ্ঠানে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে একদল লোক হামলা করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ওপর -সংবাদ
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে, পুলিশে সোপর্দ।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে (কার্জন) অবরুদ্ধ করে একদল ব্যক্তি। নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেয়া কিছু লোক এক জামায়াত নেতার উপস্থিতিতে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে অবরুদ্ধ করে রাখার পর তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর নেতা শামীম হোসাইনও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেগুনবাগিচা ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সেখানে দেখা যায়।
এ সময় লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে আসা এ মব তাকে আওয়ামী লীগ ও নাস্তিক বলে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল স্লোগান দিতে থাকেন। লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি শিক্ষক কার্জনসহ বেশ কয়েকজনকে মারধার ও হেনস্থার মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫ ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজক ছিল ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। তবে তিনি সেখানে ছিলেন না। সকাল ১০টায় গোলটেবিল আলোচনা শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টায় আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
আলোচনা সভায় প্রথমে বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছে।’
শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই মিছিল নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির একটি মব ডিআরইউ মিলনায়তনে ঢোকেন। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ে যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে তারা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিড়ে আলোচনায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বেলা সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তারা লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ১৫ জনকে পুলিশের কাছে তুলে দেন। বেলা সোয়া ১২টার পর পুলিশ সদস্যরা লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৫ জনকে নিয়ে যান। পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আসাদুজ্জামান তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানস্থলে কেশব রঞ্জন সরকার নামের একজনকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। আর রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মারধরের শিকার হয়েছেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম। উত্তেজনার সময় আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অবস্থান করছিলেন। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তোপখানা রোডের বৈশাখী হোটেলের সামনে পথরোধ করে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখানে প্রোগ্রামে এসেছি। দল মতের হিসেবে নয়, এখানে সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছে; তাই এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছেন। কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। ২০/২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করে। আমাদের ঘিরে ফেলে।’
জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজনকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে; মূলত উনাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এখন সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।’
গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আল আমিন রাসেল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে বলেন, ‘এখানে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এমন কিছু আমরা মেনে নেবো না।’
‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে আসা পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর নেতা শামীম হোসাইন বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি করে চব্বিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, একাত্তর আমাদের ভিত্তি এবং চব্বিশ আমাদের মুক্তি। এখানে যারা জড়ো হয়েছেন, তারা সবাই চব্বিশের খুনের সঙ্গে জড়িত। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও আছে। আমরা আইন হাতে তুলে না নিয়ে তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছি।’
‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, মঞ্চ ৭১-এর সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন ।
ডিএমপি মিডিয়া উইংসের তথ্য মতে লতিফ সিদ্দিকীসহ ৯ জন তাদের হেফাজতে আছে। তাদের নামে কোনো মামলা হবে কিনা তা আগামী ২৪ ঘণ্টার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত মঞ্চ ৭১-এর ঘোষণায় বলেন, আজ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আগস্ট অভ্যুত্থানের পর কথিত নানা ঘোষণাপত্র এবং বয়ানের মধ্যে জাতির সামনে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্ম অর্জনকে হেয় করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ইতিহাস বিকৃতির মধ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান প্রচেষ্টায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ।
ঘোষণায় তারা, ড. ইউনূস এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে ৫টি পরামর্শ তুলে ধরেন। অন্য চার দফা সুপারিশে মঞ্চ ৭১ বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা থাকবে না তা নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিপক্ষে অসম্মানজনক কিছু থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলে তথাকথিত নতুন সংবিধান প্রণয়ন করার অপপ্রয়াস বাঙালি জাতি কোনোদিন মেনে নেবে না, কোনো রাজনৈতিক দলের অপরাধ ও ব্যর্থতার দায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা যাবে না এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা, ইতিহাস মুছে ফেলা, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার সঙ্গে সংযুক্ত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার এবং বিচার করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে গত ৫ আগস্ট নতুন প্লাটফর্মে আত্মপ্রকাশ ঘটে। মুক্তিযোদ্ধা, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এ প্লাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা বীর প্রতীক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।