alt

news » national

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম: ফের আপিল শুনবে সর্বোচ্চ আদালত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ‘রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ নিয়ে এক দশক আগে আপিল বিভাগ একটি রায় দিয়েছিল। ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে যে আবেদন, সম্প্রতি সেটির শুনানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করেছে অর্থাৎ এক দশক আগের ওই রায়ের বিষয়ে পুনরায় আপিলের অনুমতি দিয়েছে।

আগামী ৪ নভেম্বর আপিল শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, সেদিন বিষয়টি আদালতের কার্য তালিকার শীর্ষে থাকবে।

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদা নির্ধারণী তালিকাকে বলা হয় ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’। এটি রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান, বিদেশি অতিথিদের অভ্যর্থনা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ ও তাদের আসনের ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গমনাগমনের সময় ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী অভ্যর্থনা ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বাংলাদেশের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পদমর্যাদা রাষ্ট্রপতির। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আছেন প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায়। তৃতীয় অবস্থান জাতীয় সংসদের স্পিকারের। চতুর্থ অবস্থানে থাকা প্রধান বিচারপতির পদক্রম এক ধাপ উন্নীত করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সমান করার কথা বলা হয় ২০১৫ সালে আপিল বিভাগের দেয়া এক রায়ের পর্যবেক্ষণে।

সংবিধানের ৫৫ (৬) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি সরকারের কার্যাবলী বণ্টন ও পরিচালনার জন্য ‘রুলস অব বিজনেস’ প্রণয়ন করেন। এ বিধিমালা একটি নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের কাজের পদ্ধতি, দায়িত্ব এবং বিভাগীয় কাঠামো নির্ধারণ করে।

রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ১৯৮৬ সালে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে তা সংশোধন করা হয়।

হাইকোর্টে রিট

২০০৩ সালের ডিসেম্বরে এটি সংশোধন করার পর এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিট মামলা করেন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান। রিটে তিনি বলেন, সংশোধিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদ, সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংজ্ঞায়িত পদগুলো প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিচের ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। জেলা জজদের পদমর্যাদা সচিবদের নিচে দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায়

রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আট দফা নির্দেশনাসহ ১৯৮৬ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (সংশোধিত) অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয়। সে অনুসারে নতুন তালিকা তৈরি করতে সরকারকে ৬০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সে আপিল নিষ্পত্তি করে সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বিভাগ ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি রায় দেয়।

আপিল বিভাগের ওই রায়ে বলা হয়, ১. সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, সেহেতু রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতেই সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্বানুসারে রাখতে হবে। ২. জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যরা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ২৪ থেকে ১৬ নম্বরে সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিসিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ জেলা জজ। অন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিবরা রয়েছেন। ৩. অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অবস্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৭ নম্বরে।

রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্র বা অন্য কোনো কার্যক্রমে যেন এর ব্যবহার না হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণ

রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতির পদক্রম এক ধাপ উন্নীত করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সমান এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে যে মুক্তিযোদ্ধারা বীর উত্তম খেতাব পেয়েছেন) পদক্রমে ‘যথাযথভাবে’ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর তৎকালীন অতিরিক্ত আ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়টি মোডিফাই করে আপিল বিভাগের রায় দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, “পূর্ণাঙ্গ রায়ে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে নতুন কয়েকটি বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের ‘যথাযথ সম্মান’ দিতে বলা হয়েছে। আরেকটা বিষয় বলা হয়েছে- যারা সাংবিধানিক পদাধিকারী, তাদেরকে যেন অগ্রাধিকার দেয়া হয় অন্যান্য পদের ওপরে।”

রিভিউ আবেদন

ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ২০১৭ সালে পৃথক আবেদন করেন। রিভিউ আবেদনে রাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পক্ষভুক্ত হন।

পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর গত ২৭ এপ্রিল শুনানি শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই শুনানি শেষ হয় এবং বৃহস্পতিবার ‘লিভ মঞ্জুর’ হয়। এখন আপিলের ওপর আগামী ৪ নভেম্বর শুনানি হতে যাচ্ছে।

রিভিউ আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। স্ট্যাটাস (পদমর্যাদাক্রম) চেয়ে রিভিউয়ের পক্ষভুক্ত হওয়া ৬৯ আইনজীবীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত ফের আপিল শুনবেন।’

ছবি

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে এলো আরও ৪২০ টন চাল

ছেলের হত্যা বিচার দেখে যেতে চান আবু সাঈদের বাবা

ছবি

হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি ফিরেছে

ছবি

আরাকান আর্মির হেফাজতে ৫১ জেলে: বিজিবি সেক্টর কমান্ডার

ছবি

‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে মব আক্রমণে পণ্ড মঞ্চ ৭১ এর সভা

ছবি

চিলাহাটিসহ ৩ স্থলবন্দর বন্ধ, ১টির কার্যক্রম স্থগিত করলো সরকার

ছবি

সীমান্ত হত্যা: বিএসএফ প্রধানের ব্যাখ্যা, দ্বিমত বিজিবি ডিজির

ছবি

ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা: ডিসেম্বরে তফসিল, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট

ছবি

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

ছবি

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ৫৮৫ কোটি টাকা অপচয়, সাবেক মন্ত্রী কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি

প্রথম দুই প্রান্তিকে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব

ছবি

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান খসড়ায় অনুমোদন

ছবি

সীমান্তে গুলি চালানো নিয়ে ভিন্নমত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালকের

ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সুযোগ নেই-আইএসপিআর

ছবি

মঞ্চ ৭১ এর অনুষ্ঠানে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে কতিপয়ের হট্টগোল, লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে

ছবি

ভোটের আগে ৯-১০ লাখ জনবলকে প্রশিক্ষণ দেবে নির্বাচন কমিশন

ছবি

যথাযথ ‘নিয়ম মেনেই পুশ ইন’ করা হয়েছে: বিএসএফ প্রধান

ছবি

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন বাবা মকবুল হোসেন

ছবি

জুলাই সনদ: দলগুলোর মতামতের ‘প্রতিফলন ঘটাতে চায়’ ঐকমত্য কমিশন

ছবি

দুর্গাপুরে যেখানে সেখানে স মিল, নেই অধিকাংশেরই অনুমোদন

ছবি

ট্রাইব্যুনাল: আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচার শুরু

ছবি

নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুমোদন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩০ নভেম্বর

ছবি

চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘিরে ‘উসকানিমূলক’ কার্যক্রম দেখামাত্র ব্যবস্থার নির্দেশ

ছবি

সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ

ছবি

চার মাস পর ডিবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম

ছবি

প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিলে তা কবে কার্যকর হবে

ছবি

প্রকৌশলীদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা যাচাইয়ে সরকারি কমিটি

ছবি

বিএসসি-ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দাবির যৌক্তিকতা যাচাইয়ে সরকারের কমিটি

ছবি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিলের অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

ছবি

ভোটের কর্মপরিকল্পনায় ইসির অনুমোদন, ঘোষণা শিগগিরই

ছবি

ঢাকায় সব বাস শিগগিরই একক ব্যবস্থার অধীন চলবে: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে রিভিউ আবেদনের শুনানি বুধবারও

ছবি

বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ, আমদানির খবর ভিত্তিহীন

ছবি

খাল ও ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ছবি

ঢামেকে ‘পাহারা দিতেন ছাত্রলীগের ছেলেরা, ট্রাইব্যুনালে এক চিকিৎসক

ছবি

ইসির প্রশংসায় গাজীপুরবাসী, বাগেরহাট-নারায়ণগঞ্জে ক্ষোভ

tab

news » national

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম: ফের আপিল শুনবে সর্বোচ্চ আদালত

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ‘রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ নিয়ে এক দশক আগে আপিল বিভাগ একটি রায় দিয়েছিল। ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে যে আবেদন, সম্প্রতি সেটির শুনানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করেছে অর্থাৎ এক দশক আগের ওই রায়ের বিষয়ে পুনরায় আপিলের অনুমতি দিয়েছে।

আগামী ৪ নভেম্বর আপিল শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, সেদিন বিষয়টি আদালতের কার্য তালিকার শীর্ষে থাকবে।

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদা নির্ধারণী তালিকাকে বলা হয় ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’। এটি রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান, বিদেশি অতিথিদের অভ্যর্থনা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ ও তাদের আসনের ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গমনাগমনের সময় ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী অভ্যর্থনা ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বাংলাদেশের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পদমর্যাদা রাষ্ট্রপতির। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আছেন প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায়। তৃতীয় অবস্থান জাতীয় সংসদের স্পিকারের। চতুর্থ অবস্থানে থাকা প্রধান বিচারপতির পদক্রম এক ধাপ উন্নীত করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সমান করার কথা বলা হয় ২০১৫ সালে আপিল বিভাগের দেয়া এক রায়ের পর্যবেক্ষণে।

সংবিধানের ৫৫ (৬) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি সরকারের কার্যাবলী বণ্টন ও পরিচালনার জন্য ‘রুলস অব বিজনেস’ প্রণয়ন করেন। এ বিধিমালা একটি নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের কাজের পদ্ধতি, দায়িত্ব এবং বিভাগীয় কাঠামো নির্ধারণ করে।

রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ১৯৮৬ সালে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে তা সংশোধন করা হয়।

হাইকোর্টে রিট

২০০৩ সালের ডিসেম্বরে এটি সংশোধন করার পর এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিট মামলা করেন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান। রিটে তিনি বলেন, সংশোধিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদ, সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংজ্ঞায়িত পদগুলো প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিচের ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। জেলা জজদের পদমর্যাদা সচিবদের নিচে দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায়

রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আট দফা নির্দেশনাসহ ১৯৮৬ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (সংশোধিত) অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয়। সে অনুসারে নতুন তালিকা তৈরি করতে সরকারকে ৬০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সে আপিল নিষ্পত্তি করে সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বিভাগ ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি রায় দেয়।

আপিল বিভাগের ওই রায়ে বলা হয়, ১. সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, সেহেতু রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতেই সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্বানুসারে রাখতে হবে। ২. জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যরা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ২৪ থেকে ১৬ নম্বরে সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিসিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ জেলা জজ। অন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিবরা রয়েছেন। ৩. অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অবস্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৭ নম্বরে।

রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্র বা অন্য কোনো কার্যক্রমে যেন এর ব্যবহার না হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণ

রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতির পদক্রম এক ধাপ উন্নীত করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সমান এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে যে মুক্তিযোদ্ধারা বীর উত্তম খেতাব পেয়েছেন) পদক্রমে ‘যথাযথভাবে’ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর তৎকালীন অতিরিক্ত আ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়টি মোডিফাই করে আপিল বিভাগের রায় দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, “পূর্ণাঙ্গ রায়ে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে নতুন কয়েকটি বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের ‘যথাযথ সম্মান’ দিতে বলা হয়েছে। আরেকটা বিষয় বলা হয়েছে- যারা সাংবিধানিক পদাধিকারী, তাদেরকে যেন অগ্রাধিকার দেয়া হয় অন্যান্য পদের ওপরে।”

রিভিউ আবেদন

ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ২০১৭ সালে পৃথক আবেদন করেন। রিভিউ আবেদনে রাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পক্ষভুক্ত হন।

পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর গত ২৭ এপ্রিল শুনানি শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই শুনানি শেষ হয় এবং বৃহস্পতিবার ‘লিভ মঞ্জুর’ হয়। এখন আপিলের ওপর আগামী ৪ নভেম্বর শুনানি হতে যাচ্ছে।

রিভিউ আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। স্ট্যাটাস (পদমর্যাদাক্রম) চেয়ে রিভিউয়ের পক্ষভুক্ত হওয়া ৬৯ আইনজীবীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত ফের আপিল শুনবেন।’

back to top