জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার বিচার জীবদ্দশাতে দেখতে চেয়েছেন তার বাবা মকবুল হোসেন। বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার সাক্ষ্যগ্রহণ করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে আসামিদের আইনজীবীরা জেরা করেন।
পরে কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনি (আবু সাঈদের বাবা) দুইজনের নাম বলেছেন সুজন চন্দ্র আর আমির হোসেন। আর পমেল বড়ুয়া ওনার ছেলেকে মেরেছে, গলা টিপে ধরেছেন। তিনি সবার বিচার চেয়েছেন এবং উনার জীবদ্দশাতেই যেন বিচারটা হয়।’ আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন- মো. আমিনুল গণি, সুজাত মিয়া, মো. শহীদুল ইসলাম, মাহবুব উর রশীদ, ইশরাত জাহান, মো. সালাহ উদ্দিন, শেখ মোস্তাবীর হাসান, মো. আজিজুর রহমান।
আজিজুর রহমানের জেরা চলার মাঝামাঝিতে দুপুর ১টায় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয় ২ ঘণ্টার জন্য। সাক্ষ্য দেয়ার সময় ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে আবু সাঈদের বৃদ্ধ বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আগেরদিনও তিনি গুলিতে আবু সাঈদের পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে কাঁদেন।
জবানবন্দীতে মকবুল হোসেন বলেন, দাফনের জন্য গোসল করানোর সময় তিনি আবু সাঈদকে একবার দেখেছেন। তখন দেখতে পান, আবু সাঈদের মাথার পেছনে গুলির জায়গা থেকে রক্ত ঝরছে। বুকে গুলির চিহ্ন, সারা বুক দিয়ে রক্ত ঝরছে। ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দীতে মকবুল হোসেন বলেন, গত বছরের ১৬ জুলাই তিনি মাঠ থেকে বাসায় এসে দেখেন সবাই কান্না করছে। শোনেন, আবু সাঈদের শরীরে গুলি লেগেছে। একটু পর শোনেন, আবু সাঈদ মারা গেছে। মকবুল হোসেন বলেন, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের স্বামী আবু সাঈদের মরদেহ আনতে যান। তারা মরদেহ নিয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় আসেন। প্রশাসনের লোকজন রাতেই মরদেহ দাফনের জন্য বলে। কিন্তু তারা রাজি হননি। পরদিন সকাল ৯টার দিকে দুই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ছেলের লাশ দাফন করেন।
জবানবন্দীতে মকবুল হোসেন বলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় তার ছেলেকে গুলি করেছেন। এর কয়েক দিন আগে আবু সাঈদের গলা চেপে ধরে থাপ্পড় দিয়েছিলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তার ছেলেকে যারা মেরেছে, তিনি তাদের বিচার চান। এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার গতকাল বুধবার শুরু হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন এ মামলায় আসামি। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মো. মিজানুল ইসলাম, বি এম সুলতান মাহমুদ, শহীদুল ইসলাম সুজাসহ আরও কয়েকজন।
এর চেয়ে লিডিং জবানবন্দী দেখিনি : আইনজীবী আমিনুল গণী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দী যেভাবে নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী টিটো। তিনি বলেছেন, ‘এর চেয়ে লিডিং জবানবন্দী আমি দেখিনি।’
‘লিডিং জবানবন্দী’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, জানতে চাইলে আমিনুল গণী বলেন, ‘বলে বলে যে জবানবন্দীটা দেয়াইছে... প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। এভাবে কোনো জবানবন্দী হয় না অ্যাকচুয়ালি। মানে ওভাবে বললে যে কেউ কোনো অ্যানসার করতে পারে।’ এ মামলার আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল গণী।
তিনি মকবুল হোসেনকে জেরা করে বলেন, আবু সাঈদ হত্যার পর আপনার ছেলে রমজান আলী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেছেন। তখন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, মকবুল হোসেন এ কমপ্লেন (মামলা) করেননি। আইন অনুযায়ী আপনি তাকে এ জেরা করতে পারেন কিনা?
জবাবে আমিনুল গণী বলেন, তার ছেলে মামলা করেছেন, এটা উনি জানেন কিনা, এটা তার প্রশ্ন। সে সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপিল বিভাগের রায়ে বলা আছে, কোনো কন্ট্রাডিকশন নেয়া যাবে না। একপর্যায়ে জেরা ডিক্লাইন (জেরা না করা) করেন আমিনুল গণী।
বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। ওই সময় এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিতে দেখা যায় তাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ।
এ ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পথে নামা ছাত্ররা আরও সোচ্চার হয়ে উঠে। একপর্যায়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক দফা দাবিতে গড়ায়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।
গত ২৪ জুন আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। গত ৩০ জুন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়।
গত ২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। গত ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ ২৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার বিচার জীবদ্দশাতে দেখতে চেয়েছেন তার বাবা মকবুল হোসেন। বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার সাক্ষ্যগ্রহণ করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে আসামিদের আইনজীবীরা জেরা করেন।
পরে কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনি (আবু সাঈদের বাবা) দুইজনের নাম বলেছেন সুজন চন্দ্র আর আমির হোসেন। আর পমেল বড়ুয়া ওনার ছেলেকে মেরেছে, গলা টিপে ধরেছেন। তিনি সবার বিচার চেয়েছেন এবং উনার জীবদ্দশাতেই যেন বিচারটা হয়।’ আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন- মো. আমিনুল গণি, সুজাত মিয়া, মো. শহীদুল ইসলাম, মাহবুব উর রশীদ, ইশরাত জাহান, মো. সালাহ উদ্দিন, শেখ মোস্তাবীর হাসান, মো. আজিজুর রহমান।
আজিজুর রহমানের জেরা চলার মাঝামাঝিতে দুপুর ১টায় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয় ২ ঘণ্টার জন্য। সাক্ষ্য দেয়ার সময় ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে আবু সাঈদের বৃদ্ধ বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আগেরদিনও তিনি গুলিতে আবু সাঈদের পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে কাঁদেন।
জবানবন্দীতে মকবুল হোসেন বলেন, দাফনের জন্য গোসল করানোর সময় তিনি আবু সাঈদকে একবার দেখেছেন। তখন দেখতে পান, আবু সাঈদের মাথার পেছনে গুলির জায়গা থেকে রক্ত ঝরছে। বুকে গুলির চিহ্ন, সারা বুক দিয়ে রক্ত ঝরছে। ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দীতে মকবুল হোসেন বলেন, গত বছরের ১৬ জুলাই তিনি মাঠ থেকে বাসায় এসে দেখেন সবাই কান্না করছে। শোনেন, আবু সাঈদের শরীরে গুলি লেগেছে। একটু পর শোনেন, আবু সাঈদ মারা গেছে। মকবুল হোসেন বলেন, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের স্বামী আবু সাঈদের মরদেহ আনতে যান। তারা মরদেহ নিয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় আসেন। প্রশাসনের লোকজন রাতেই মরদেহ দাফনের জন্য বলে। কিন্তু তারা রাজি হননি। পরদিন সকাল ৯টার দিকে দুই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ছেলের লাশ দাফন করেন।
জবানবন্দীতে মকবুল হোসেন বলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় তার ছেলেকে গুলি করেছেন। এর কয়েক দিন আগে আবু সাঈদের গলা চেপে ধরে থাপ্পড় দিয়েছিলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তার ছেলেকে যারা মেরেছে, তিনি তাদের বিচার চান। এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার গতকাল বুধবার শুরু হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন এ মামলায় আসামি। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মো. মিজানুল ইসলাম, বি এম সুলতান মাহমুদ, শহীদুল ইসলাম সুজাসহ আরও কয়েকজন।
এর চেয়ে লিডিং জবানবন্দী দেখিনি : আইনজীবী আমিনুল গণী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দী যেভাবে নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী টিটো। তিনি বলেছেন, ‘এর চেয়ে লিডিং জবানবন্দী আমি দেখিনি।’
‘লিডিং জবানবন্দী’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, জানতে চাইলে আমিনুল গণী বলেন, ‘বলে বলে যে জবানবন্দীটা দেয়াইছে... প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। এভাবে কোনো জবানবন্দী হয় না অ্যাকচুয়ালি। মানে ওভাবে বললে যে কেউ কোনো অ্যানসার করতে পারে।’ এ মামলার আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল গণী।
তিনি মকবুল হোসেনকে জেরা করে বলেন, আবু সাঈদ হত্যার পর আপনার ছেলে রমজান আলী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেছেন। তখন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, মকবুল হোসেন এ কমপ্লেন (মামলা) করেননি। আইন অনুযায়ী আপনি তাকে এ জেরা করতে পারেন কিনা?
জবাবে আমিনুল গণী বলেন, তার ছেলে মামলা করেছেন, এটা উনি জানেন কিনা, এটা তার প্রশ্ন। সে সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপিল বিভাগের রায়ে বলা আছে, কোনো কন্ট্রাডিকশন নেয়া যাবে না। একপর্যায়ে জেরা ডিক্লাইন (জেরা না করা) করেন আমিনুল গণী।
বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। ওই সময় এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিতে দেখা যায় তাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ।
এ ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পথে নামা ছাত্ররা আরও সোচ্চার হয়ে উঠে। একপর্যায়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক দফা দাবিতে গড়ায়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।
গত ২৪ জুন আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। গত ৩০ জুন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়।
গত ২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। গত ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ ২৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়।