ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আসক বলছে, ‘বলপূর্বক গুম’ শুধু একজন ব্যক্তির বা একটি পরিবারের ট্র্যাজেডিই নয়, বরং যে কোনো রাষ্ট্রের মানবাধিকার সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। শনিবার আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুম দিবস উপলক্ষে শুক্রবার,(২৯ আগস্ট ২০২৫) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিনটি গভীর শোক, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে পালন করা হবে।
এতে বলা হয়, আসক বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সংহতি জানাচ্ছে, যারা তাদের অঞ্চলে বা প্রান্তে এ ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আসক মানবাধিকারের পক্ষে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত দেড় যুগ ধরে বলপূর্বক গুমের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেক পরিবার আজও প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়া এসব ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখনও অজানা রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি। গুমের সংস্কৃতি একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা আইনের শাসন ও নাগরিকের জীবনের অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে গুমের ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি উল্লেখ করে আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে, গুমের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি মূল ভূমিকা রেখেছে বলে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে। নাগরিকদের ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারকে দুর্বল করা, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করার মতো প্রবণতা বিগত সময়গুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। এ কারণে শুধুমাত্র বিচারের প্রক্রিয়া নয়, গুমের কারণের গভীর বিশ্লেষণও অপরিহার্য।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গুমসংক্রান্ত কমিশন গঠন করেছে এবং আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুমবিষয়ক সনদে সই করেছে। আসক সরকারের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। আসক আশা করছে, গুমসংক্রান্ত কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার সময় বাংলাদেশে গুমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা-প্রত্যাশা বিবেচনায় নেবে। আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর রয়েছে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বলপূর্বক নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে দায়িত্বপালন করা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আন্তর্জাতিক গুম দিবসকে সামনে রেখে সরকারেরপ্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ, পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, সব গুমের ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবাধিকারের লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু ভুক্তভোগীর নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য অপরিহার্য।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আসক বলছে, ‘বলপূর্বক গুম’ শুধু একজন ব্যক্তির বা একটি পরিবারের ট্র্যাজেডিই নয়, বরং যে কোনো রাষ্ট্রের মানবাধিকার সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। শনিবার আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুম দিবস উপলক্ষে শুক্রবার,(২৯ আগস্ট ২০২৫) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিনটি গভীর শোক, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে পালন করা হবে।
এতে বলা হয়, আসক বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে সংহতি জানাচ্ছে, যারা তাদের অঞ্চলে বা প্রান্তে এ ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আসক মানবাধিকারের পক্ষে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত দেড় যুগ ধরে বলপূর্বক গুমের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেক পরিবার আজও প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়া এসব ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখনও অজানা রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি। গুমের সংস্কৃতি একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা আইনের শাসন ও নাগরিকের জীবনের অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে গুমের ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি উল্লেখ করে আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে, গুমের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি মূল ভূমিকা রেখেছে বলে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে। নাগরিকদের ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারকে দুর্বল করা, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করার মতো প্রবণতা বিগত সময়গুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। এ কারণে শুধুমাত্র বিচারের প্রক্রিয়া নয়, গুমের কারণের গভীর বিশ্লেষণও অপরিহার্য।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গুমসংক্রান্ত কমিশন গঠন করেছে এবং আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুমবিষয়ক সনদে সই করেছে। আসক সরকারের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। আসক আশা করছে, গুমসংক্রান্ত কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার সময় বাংলাদেশে গুমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা-প্রত্যাশা বিবেচনায় নেবে। আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর রয়েছে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বলপূর্বক নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে দায়িত্বপালন করা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আন্তর্জাতিক গুম দিবসকে সামনে রেখে সরকারেরপ্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, গুমের শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ, পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, সব গুমের ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবাধিকারের লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু ভুক্তভোগীর নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য অপরিহার্য।