alt

উপ-সম্পাদকীয়

সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন

: মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

সম্প্রতি একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে বেশ আলোচিত। তা হলো দেশে আরো নয়টি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। এই নয়টির মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষভাবে স্থাপন করা হবে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে দেশের প্রশাসন ক্যাডারের আমলার সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য। প্রশাসন ক্যাডারের আমলাদের সন্তানের জন্য বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে অনেকেই সাফাই গেয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন আমলারা বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের আমলা যারা, তারা অনেক পরিশ্রম করে এই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় সুবিধা দেয়া উচিত।

একজন প্রশাসন ক্যাডারের আমলা কতটুকু সুবিধা ভোগ করেন তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন। প্রশাসন ক্যাডারের একজন আমলা, তিনি সার্বক্ষণিক গাড়ি পান, সুসজ্জিত বাড়ি বাবুর্চি, আসবাবপত্র ও তৈজসপত্রসহ) পিয়ন, আর্দালি, বডিগার্ডসহ বহুবিধ সুবিধা। একজন আমলা পুষতে রাষ্ট্রের তহবিল থেকে জনগণের কত টাকা ব্যয় হয় তার একটি হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা দরকার। বর্তমানে বাংলাদেশের আমলারা ছড়ি ঘোরানো ছাড়া প্রোডাক্টিভ কি কাজ করেন? এই প্রশাসনিক আমলাদের অকর্মণ্যতায় ও অদক্ষতার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারাখানাগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যার শেষ ফল এখন এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতি বছর এ আমলাদের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গাড়ি আমদানি, বাসস্থান সংস্কারসহ কার্যালয়ের শোভাবর্ধন করার কাজ হয়ে থাকে। এই বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় থেকে রাষ্ট্র কত টাকা আয় করে তারও একটি হিসাব জনসম্মুখে আসা দরকার। দেশের বড় বড় শহরগুলোর কোচিং সেন্টারের সামনে দেখা যায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গাড়ি। এই গাড়িগুলো আমলাদের সন্তানদের কোচিং ক্লাস করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এখন বলা হচ্ছেÑ আমলাদের সন্তানদের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় করার। তারপর হয়ত এক সময় বলা হবে আমলার সন্তান, যারা পৃথক বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন, তারা কেবল আমলা হতে পারবে। কারণ তারা জন্মগতভাবে পেয়েছে প্রশাসন চালনার দক্ষতা। আর এদের বিশেষ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করিয়ে আনা হয়েছে সুতরাং আমলা নিয়োগ এদের মধ্য থেকেই দিতে হবে।

সত্যি ভাবলে অবাক হতে হয়, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫২ বছর হলো। এই ৫২ বছর পর এসে যা দেখতে হচ্ছে তা ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের চেয়ে অধিক আমলাতান্ত্রিক শাসন। এখানে জনগণের কোন মূল্য নেই। রাষ্ট্রের সবাই সুযোগ-সুবিধা সরকারি কর্মীদের জন্য। সরকারি কর্মীরা ভোগ করার পর উচ্ছিষ্ট কিছু থাকলে তা সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসংখ্য রোগী আসেন ডাক্তার দেখাতে। গত ৮-৫-২৪ তারিখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক্সরে রুমে দেখা যায় এক বিচিত্র দৃশ্য। কয়েশ রোগী এক্সরে করানোর জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৫৬নং রুমের সামনে। কেউ কেউ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, সাধারণ মানুষের এই রোগ যন্ত্রণার কাতরানির কোন মুল্য নেই এখানকার কর্তাব্যক্তিদের কাছে। দেখা গেল লাইনের পাশ কাটিয়ে ওয়াকিটকি হাতে জনৈক ব্যাক্তি একজন বালককে নিয়ে আসলেন এক্সরে রুমে। তারা লাইন ছাড়াই এক্সরে করিয়ে নিয়ে চলে গেলেন। তাকে লাইনেও দাঁড়াতে হয়নি। ওয়াকিটকি হাতে লোকটি কি করেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেনÑ আমি পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

এই এক্সরে ক্যাম্পাসে লেখা আছেÑ ‘এই রুম শুধুমাত্র স্টাফদের জন্য’, যারা হাসপাতালে চাকরি করেন তাদের আত্মীয়স্বজন বিনালাইনে অতি সহজেই এক্সরে করাতে পারছেন এই রুম থেকে। একজন সাধান মানুষ তিন দিন ঘুরে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে এক্সরে করাতে পারেনি। এর প্রতিকার কী? সাধারণ জনগণ কোথায় যাবেন বিষয়টি কখনো জনপ্রতিনিধিরা ভাবেন কি? রেলে টিকিট কাটার বিষয়টিও তদ্রƒপ। রেলস্টেশনের টিকিট বিক্রির মোট ছয়টি কাউন্টার আছে। একটি কাউন্টার রাখা হয় সরকারি কর্মী ও রেলের স্টাফদের পাস দিয়ে টিকিট নেয়ার জন্য। আর বাকি পাঁচটিতে ভিড়ে ঠাসাঠাসি করে জনগণের টিকিট কাটতে হয়।

দুইবার এ দেশের জনগণ উপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়েছেনÑ একবার ৪৭ সালে আরেকবার ৭১ সালে। এই স্বাধীনতার কতটুকু ফলভোগ এ দেশের সাধারণ মানুষ করতে পারছেন। ব্রিটিশ পাকিস্তানি আমলের শাসন ব্যবস্থার কাঠামোগত আদৌ কি পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন করা হবে। প্রকৃতার্থে তা হয়নি, বিদেশি শোষকের পরির্বতে দেশীয় শোষক শাসনযন্ত্রটি দখল করে নব কায়দায় জনগণকে শোষণ করছে।

আমলাদের সন্তানদের জন্য স্কুল-কলেজ, সেনাবাহিনীতে যারা কাজ করেন তাদের জন্য ক্যান্ট পাবলিক স্কুল কলেজ রয়েছে। সরকারি কর্মীদের (সামরিক-বেসামরিক) জন্য বিশেষ বিশেষ হাসপাতাল, রেশনিংসহ আছে নানা সুযোগ-সুবিধা।

অপরদিকে প্রখর খরতাপে টিসিবির লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আমজনতা নির্ধারিত পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি কাদের জন্য। দেশে ৩০ লাখ মানুষ সরকারি চাকরিজীবী আছেন। দেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রতি উপজেলা স্তরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৮ থেকে দশটা সরকারি গাড়ি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত যে ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন তা পাকিস্তান বা ব্রিটিশ আমলে কল্পনাও করতে পারত না। পাকিস্তান বা ব্রিটিশদের আমলের সরকারি কর্মীরা এ ধরনের বিলাবহুল জীবনযাপন করতে পারত না; যা বর্তমানে সরকারি কর্মীরা করতে পারছেন। দেশের প্রতিটি সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সরকারি কর্মীদের জন্য।

দেশের বর্তমানে প্রধান আয়ের উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। অথচ পাসপোর্ট করতে গেলে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় নানা ধরনের হয়রানি, অপরদিকে সরকারি কর্মীদের বিশেষ ব্যবস্থায় পাসপোর্ট দেয়া হয়। সরকারি কর্মীরা এই পাসপোর্ট নিয়ে যান বিদেশে ফুর্তি করতে; অপরদিকে সাধারণ মানুষ নানা দুর্ভোগ পোহায়ে পাসপোর্ট করে সেই পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমান শ্রম বিক্রি করতে। আর এদের শ্রমের বিনিময়ে আসে দেশে রেমিটেন্স আর এই রেমিটেন্স আসে বলেই সরকারি কর্মীরা বৈধ-অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে বিদেশে ফুর্তি করতে যেতে পারেন। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। অপরদিকে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল হতে হয় সরকারি সেবা পেতে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেন জনপ্রতিনিধিরা। এই সংসদে জনগণের এ দুরবস্থা নিয়ে কোন কথাই হয় না।

রাষ্ট্রটা চলে জনগণের টাকায়; তাই সর্বক্ষেত্রে জনগণের সুযোগ আগে দেয়ার ব্যবস্থা করা দরকার সরকারের।

[লেখক : উন্নয়নকর্মী]

দূর হোক মনের পশুত্ব

মনের পশুত্বের প্রতীকী ত্যাগের আরেক নাম কোরবানি

ঈদে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস

এমআইটি : প্রযুক্তির সৃষ্টি রহস্যের খোঁজ

কবিগুরুর বাণী ‘প্রমাণিত মিথ্যা’

কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধ হবে কিভাবে

কানিহাটি সিরিজ এবং পঞ্চব্রীহি নিয়ে আরও কিছু কথা

কলকাতায় হিজাব বিতর্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক

হাতের শক্তি ও মহিমা

বাজেট বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ

ছবি

কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে

সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটেরাদের বিচার কি হবে

বাজেট ভাবনায় শঙ্কিত যারা

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বৈষম্যে

জ্ঞানই শক্তি

পরিবেশ নিয়ে কিছু কথা

অগ্নিমূল্যের বাজার : সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে কি?

বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নৈরাজ্য

যৌতুক মামলার অপব্যবহার

শহীদের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক ছয় দফা

রসে ভরা বাংলাদেশ

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই

দুর্নীতির উৎসমুখ

কানিহাটি সিরিজের বোরো ধান নিয়ে কিছু কথা

নজিরবিহীন বেনজীর

টেকসই উন্নয়ন করতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য রেখে আহমদ

কী বার্তা দিল ভারতের সংসদ নির্বাচন

গরমে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা

ক্লাইমেট জাস্টিস ফর বাংলাদেশ : শুধু ঋণ বা অনুদান নয়, প্রয়োজন ক্ষতিপূরণ

এখন ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ কী

দুর্নীতি নিয়ে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া দরকার

গোল্ডেন রাইস কেন বারবার থমকে দাঁড়ায়

প্রাকৃতিক রসগোল্লা

বেড়েই চলেছে জীবনযাত্রার ব্যয়

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

tab

উপ-সম্পাদকীয়

সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন

মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

সম্প্রতি একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে বেশ আলোচিত। তা হলো দেশে আরো নয়টি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। এই নয়টির মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষভাবে স্থাপন করা হবে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে দেশের প্রশাসন ক্যাডারের আমলার সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য। প্রশাসন ক্যাডারের আমলাদের সন্তানের জন্য বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে অনেকেই সাফাই গেয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন আমলারা বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের আমলা যারা, তারা অনেক পরিশ্রম করে এই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় সুবিধা দেয়া উচিত।

একজন প্রশাসন ক্যাডারের আমলা কতটুকু সুবিধা ভোগ করেন তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন। প্রশাসন ক্যাডারের একজন আমলা, তিনি সার্বক্ষণিক গাড়ি পান, সুসজ্জিত বাড়ি বাবুর্চি, আসবাবপত্র ও তৈজসপত্রসহ) পিয়ন, আর্দালি, বডিগার্ডসহ বহুবিধ সুবিধা। একজন আমলা পুষতে রাষ্ট্রের তহবিল থেকে জনগণের কত টাকা ব্যয় হয় তার একটি হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা দরকার। বর্তমানে বাংলাদেশের আমলারা ছড়ি ঘোরানো ছাড়া প্রোডাক্টিভ কি কাজ করেন? এই প্রশাসনিক আমলাদের অকর্মণ্যতায় ও অদক্ষতার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারাখানাগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যার শেষ ফল এখন এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতি বছর এ আমলাদের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গাড়ি আমদানি, বাসস্থান সংস্কারসহ কার্যালয়ের শোভাবর্ধন করার কাজ হয়ে থাকে। এই বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় থেকে রাষ্ট্র কত টাকা আয় করে তারও একটি হিসাব জনসম্মুখে আসা দরকার। দেশের বড় বড় শহরগুলোর কোচিং সেন্টারের সামনে দেখা যায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গাড়ি। এই গাড়িগুলো আমলাদের সন্তানদের কোচিং ক্লাস করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এখন বলা হচ্ছেÑ আমলাদের সন্তানদের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় করার। তারপর হয়ত এক সময় বলা হবে আমলার সন্তান, যারা পৃথক বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন, তারা কেবল আমলা হতে পারবে। কারণ তারা জন্মগতভাবে পেয়েছে প্রশাসন চালনার দক্ষতা। আর এদের বিশেষ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করিয়ে আনা হয়েছে সুতরাং আমলা নিয়োগ এদের মধ্য থেকেই দিতে হবে।

সত্যি ভাবলে অবাক হতে হয়, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫২ বছর হলো। এই ৫২ বছর পর এসে যা দেখতে হচ্ছে তা ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের চেয়ে অধিক আমলাতান্ত্রিক শাসন। এখানে জনগণের কোন মূল্য নেই। রাষ্ট্রের সবাই সুযোগ-সুবিধা সরকারি কর্মীদের জন্য। সরকারি কর্মীরা ভোগ করার পর উচ্ছিষ্ট কিছু থাকলে তা সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসংখ্য রোগী আসেন ডাক্তার দেখাতে। গত ৮-৫-২৪ তারিখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক্সরে রুমে দেখা যায় এক বিচিত্র দৃশ্য। কয়েশ রোগী এক্সরে করানোর জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৫৬নং রুমের সামনে। কেউ কেউ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, সাধারণ মানুষের এই রোগ যন্ত্রণার কাতরানির কোন মুল্য নেই এখানকার কর্তাব্যক্তিদের কাছে। দেখা গেল লাইনের পাশ কাটিয়ে ওয়াকিটকি হাতে জনৈক ব্যাক্তি একজন বালককে নিয়ে আসলেন এক্সরে রুমে। তারা লাইন ছাড়াই এক্সরে করিয়ে নিয়ে চলে গেলেন। তাকে লাইনেও দাঁড়াতে হয়নি। ওয়াকিটকি হাতে লোকটি কি করেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেনÑ আমি পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

এই এক্সরে ক্যাম্পাসে লেখা আছেÑ ‘এই রুম শুধুমাত্র স্টাফদের জন্য’, যারা হাসপাতালে চাকরি করেন তাদের আত্মীয়স্বজন বিনালাইনে অতি সহজেই এক্সরে করাতে পারছেন এই রুম থেকে। একজন সাধান মানুষ তিন দিন ঘুরে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে এক্সরে করাতে পারেনি। এর প্রতিকার কী? সাধারণ জনগণ কোথায় যাবেন বিষয়টি কখনো জনপ্রতিনিধিরা ভাবেন কি? রেলে টিকিট কাটার বিষয়টিও তদ্রƒপ। রেলস্টেশনের টিকিট বিক্রির মোট ছয়টি কাউন্টার আছে। একটি কাউন্টার রাখা হয় সরকারি কর্মী ও রেলের স্টাফদের পাস দিয়ে টিকিট নেয়ার জন্য। আর বাকি পাঁচটিতে ভিড়ে ঠাসাঠাসি করে জনগণের টিকিট কাটতে হয়।

দুইবার এ দেশের জনগণ উপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়েছেনÑ একবার ৪৭ সালে আরেকবার ৭১ সালে। এই স্বাধীনতার কতটুকু ফলভোগ এ দেশের সাধারণ মানুষ করতে পারছেন। ব্রিটিশ পাকিস্তানি আমলের শাসন ব্যবস্থার কাঠামোগত আদৌ কি পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন করা হবে। প্রকৃতার্থে তা হয়নি, বিদেশি শোষকের পরির্বতে দেশীয় শোষক শাসনযন্ত্রটি দখল করে নব কায়দায় জনগণকে শোষণ করছে।

আমলাদের সন্তানদের জন্য স্কুল-কলেজ, সেনাবাহিনীতে যারা কাজ করেন তাদের জন্য ক্যান্ট পাবলিক স্কুল কলেজ রয়েছে। সরকারি কর্মীদের (সামরিক-বেসামরিক) জন্য বিশেষ বিশেষ হাসপাতাল, রেশনিংসহ আছে নানা সুযোগ-সুবিধা।

অপরদিকে প্রখর খরতাপে টিসিবির লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আমজনতা নির্ধারিত পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি কাদের জন্য। দেশে ৩০ লাখ মানুষ সরকারি চাকরিজীবী আছেন। দেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রতি উপজেলা স্তরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৮ থেকে দশটা সরকারি গাড়ি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত যে ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন তা পাকিস্তান বা ব্রিটিশ আমলে কল্পনাও করতে পারত না। পাকিস্তান বা ব্রিটিশদের আমলের সরকারি কর্মীরা এ ধরনের বিলাবহুল জীবনযাপন করতে পারত না; যা বর্তমানে সরকারি কর্মীরা করতে পারছেন। দেশের প্রতিটি সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সরকারি কর্মীদের জন্য।

দেশের বর্তমানে প্রধান আয়ের উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। অথচ পাসপোর্ট করতে গেলে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় নানা ধরনের হয়রানি, অপরদিকে সরকারি কর্মীদের বিশেষ ব্যবস্থায় পাসপোর্ট দেয়া হয়। সরকারি কর্মীরা এই পাসপোর্ট নিয়ে যান বিদেশে ফুর্তি করতে; অপরদিকে সাধারণ মানুষ নানা দুর্ভোগ পোহায়ে পাসপোর্ট করে সেই পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমান শ্রম বিক্রি করতে। আর এদের শ্রমের বিনিময়ে আসে দেশে রেমিটেন্স আর এই রেমিটেন্স আসে বলেই সরকারি কর্মীরা বৈধ-অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে বিদেশে ফুর্তি করতে যেতে পারেন। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। অপরদিকে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল হতে হয় সরকারি সেবা পেতে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেন জনপ্রতিনিধিরা। এই সংসদে জনগণের এ দুরবস্থা নিয়ে কোন কথাই হয় না।

রাষ্ট্রটা চলে জনগণের টাকায়; তাই সর্বক্ষেত্রে জনগণের সুযোগ আগে দেয়ার ব্যবস্থা করা দরকার সরকারের।

[লেখক : উন্নয়নকর্মী]

back to top