alt

উপ-সম্পাদকীয়

ডিজিটাল বাংলাদেশ : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

মোস্তাফা জব্বার

: সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

তিন

২০০৩ সালে বেগম জিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে তাকে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নামে নামাঙ্কিত করেন। কিন্তু নামের বদল হলেও সেই মন্ত্রণালয়ের কাজের বদল হয়নি। বরং, ড. আব্দুল মইন খান এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির রেকর্ড করেন। তার সময়কালে তিনি তার মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়নের টাকা তার আপনজনদের প্রদান করেন। তিনি কার্যত একটি স্থবির মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে বিদায় নেন। তার সময়ে হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা থেকে অন্য কাজগুলো করার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ বা নতুন অনুপ্রেরণা দৃশ্যমান হয়নি। তার আমলের একটি মাত্র কাজের কথা স্মরণ করা যায়। কারওয়ান বাজারে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিটি ইনকুবেটর নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছাড়া সেই সরকারের আর কোনো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও আমরা দেখতে পাইনি। ২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলনে যোগ দেন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত সেই সম্মেলনে ভাষণদানকালে তিনি ২০০৬ সালের মাঝেই বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। কিন্তু জেনেভা থেকে ফিরে এসে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি একটি পদক্ষেপও নেননি। এই সময়ে এই বিষয়ে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি বা সরকারের তেমন কোন উদ্যোগও দেখা যায়নি।

আমি ধারণা করি যে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী নিজে অনুধাবন করতে পারেননি যে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ কাকে বলে। তিনি এবং তার সরকার সম্ভবত এটিও জানত না যে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করার জন্য সরকারের কী করণীয় রয়েছে। তখন সরকারের এসআইসিটি নামক একটি প্রকল্পের আওতায় বেশ কটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট গড়ে তোলা হয়। কিন্তু সেই সব ওয়েবসাইট কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। নামকাওয়াস্তে কিছু সাধারণ তথ্য প্রদান করা হয় সেসব ওয়েবসাইটে। এমনকি ঐসব ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রভাষা বাংলাও ব্যবহার করা হয়নি। আজ আমরা যে ডিজিটাল রূপান্তরের কথা বলছি তার কোনটাই সে সময়ে দৃশ্যমান হয়নি। সার্বিকভাবে এটি মন্তব্য করা যায় যে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগ যে থ্রাস্ট নিয়ে আইসিটির জন্য কাজ করেছিল এর আগে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তেমন কিছু ছিল না এবং বেগম জিয়ার সরকার ২০০১-০৬ সময়কালে সেটি অব্যাহত রাখেনি। রাজনীতির পাকে ফেলে আওয়ামী লীগ সরকার এই খাতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল সেগুলো রিভার্স করা হয়। ফলে সেই সময়ে প্রায় সব কাজই স্থবিরতার মাঝে লটকে যায়। এরপর ফখরুদ্দিন সরকার তার শাসনকালের প্রথম বছরে বেগম জিয়ার মতোই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে অবহেলা করতে থাকেন। হতে পারে যে, তাদের জন্য সেই সময়ে অগ্রাধিকার হিসেবে রাজনীতিই ছিল। তবে ২০০৮ সালে ফখরুদ্দিন সরকার অন্যান্য বিষয়ের মতো আইসিটিকেও গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা সংশোধন করার প্রয়াসটি প্রশংসা করার মতো। যদিও সরকার তার মেয়াদ শেষ করার আগে তার নীতিমালাটি প্রণয়ন সম্পন্ন করতে পারেনি, তবুও তাদের উদ্যোগের ফলেই পরবর্তী সরকার ২০০৯ সালের নীতিমালাটি অতি দ্রুত প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি বিশাল কাজ ছিল ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে তখনকার সরকার দেশটিকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক তৈরি করেছিল।

ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপরেখা : ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে বর্তমান সরকারের একটি অঙ্গীকার যার মর্মার্থ খুব স্পষ্ট; ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমরা এক বাক্যে বলি “একুশ শতকের সোনার বাংলা। কেউ কেউ একে বলেন, “সুখী-সমৃদ্ধ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”। আমি বলি, “ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে সেই সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, যা সব প্রকারের বৈষম্যহীন, প্রকৃতপক্ষেই সম্পূর্ণভাবে জনগণের রাষ্ট্র এবং যার মুখ্য চালিকাশক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এটি বাঙালির উন্নত জীবনের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা। এটি বাংলাদেশের সব মানুষের ন্যূনতম মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর প্রকৃষ্ট পন্থা। এটি একাত্তরের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপকল্প। এটি বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত বা দরিদ্র দেশ থেকে সমৃদ্ধ, উন্নত ও ধনী দেশে রূপান্তরের জন্য মাথাপিছু আয় বা জাতীয় আয় বাড়ানোর অঙ্গীকার। এটি বাংলাদেশে ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সোপান। এটি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।” আমি আমার বইতে এমনটি অত্যন্ত স্পষ্ট করেই বলে আসছি।

৬ ডিসেম্বর ২০০৮ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার চূডান্ত করার সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা তাতে যুক্ত হয়। ১১ ডিসেম্বরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সেটি অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে, তাতে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি ঘোষণা করে। খুব সঙ্গতকারণেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য এটি হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি কর্মসূচি। যদিও একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির প্রত্যাশা বা স্বপ্নটির বিষয়ে তেমন কোন দলিল দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি, তথাপি স্বপ্নটি হচ্ছে ২০০৮-এর নির্বাচনী ইশতেহারের রূপকল্প ২০২১-এরই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। ২০০৭ সাল থেকেই ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। তাতে এর রূপরেখা অনেকটাই বর্ণিত হয়েছে। আমি এখানে শুধু কয়েকটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করছি।

ক) জনগণের রাষ্ট্র : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাটি ছিল বাংলাদেশ একটি জনগণের রাষ্ট্র হবে, যাকে সত্যিকারের প্রজাতন্ত্র বলা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিই হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। ধর্ম বর্ণ, গোত্র বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের কোন কর্মকান্ড পরিচালিত হবে না। রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রভাষা এবং বাঙালি জাতির জাতিসত্তা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশসহ সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সংবিধানে বর্ণিত সব সুযোগ-সুবিধা সমভাবে প্রদান করবে এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করবে।

আমরা স্বপ্ন দেখি, এই সময়ের শেষে পুরো দেশে দারিদ্র্য সীমার নিচে কোন মানুষ বসবাস করবে না। রাষ্ট্রের সব নাগরিক অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মানুষের সব মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারবে এবং সমাজে আর্থিক ও অন্য সব ধরনের বৈষম্য বিলীন হয়ে যাবে এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে-দুর্নীতি বলতে কিছু থাকবে না। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী বিষয়াদিসহ সব কিছুতেই জনগণের কর্তৃত্ব ও অংশগ্রহণ থাকবে। এটি ধনিকশ্রেণির একচেটিয়া লুটপাটের ক্ষেত্র হবে না।

ডিজিটাল সরকার : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বাধীন ও সার্বভৌম সংস্থা। এটি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে। আমরা স্বপ্ন দেখি, জাতীয় সংসদই হবে রাষ্ট্রের সব কর্মকান্ডের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিপূর্ণ বিকাশের স্বার্থে সংসদের সব কার্যক্রমসহ সব রাজনৈতিক কর্মকান্ড ডিজিটাল হবে। নির্ধারিত সময়ের নির্বাচনে ডিজিটাল পদ্ধতির পরিপূর্ণ ব্যবহারসহ নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচন কেন্দ্রিক সংস্থায় জনগণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তার মতামত জানাতে পারবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে ও নির্বাচনের বাইরেও জনমতের প্রতিফলন ঘটানো যাবে।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে সেই সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, যা সব প্রকারের বৈষম্যহীন, প্রকৃতপক্ষেই সম্পূর্ণভাবে জনগণের রাষ্ট্র এবং যার মুখ্য চালিকাশক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি।”

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসন সম্পর্কে আমাদের স্বপ্ন হলো-ডিজিটাল বাংলাদেশের সরকার হবে ডিজিটাল। সেটি হবে দক্ষ ও জনগণের সেবক। সরকারের সব তথ্য নাগরিকরা যে কোন সময় যে কোন স্থান থেকে ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে জানতে পারবে। বিচার হোক আর সরকারের কাছে কোন আবেদন করা হোক বা আবেদনের ফলাফল জানা হোক, কোন তথ্য পাওয়া হোক বা দেয়া হোক, কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোন ডিজিটাল যন্ত্রে ডিজিটাল উপায়ে নাগরিকরা সরকারের কাছে পৌঁছতে পারবে। কাউকে সশরীরে সরকারি অফিসে আসতে হবে না। সরকার যাবে জনগণের কাছে। ফাইলে বন্দি থাকবে না কোন তথ্য। সরকারের সব তথ্য থাকবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত করা। স্থানীয় সরকারসহ সরকারের সব স্তরের সব নাগরিক সে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দক্ষতার সঙ্গে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো হবে। সরকারের কাজ করার পদ্ধতিতে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না এবং কোনো স্তরে কোন প্রকারের দুর্নীতি থাকবে না। দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, ভূমিব্যবস্থা, ভূমি নিবন্ধন, যাতায়াত, যোগাযোগ ও পরিবহন, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কলকারখানা, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিচার বিভাগ, প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য ইত্যাদিসহ সব কর্মকান্ড ডিজিটাল হবে। প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দাসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে ও তারা ডিজিটাল প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হবেন।

সর্বজনীন ডিজিটাল সংযুক্তি : পুরো দেশটির প্রতি ইঞ্চি মাটি যে কোন ধরনের তার বা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগে যুক্ত থাকবে। বিশ্বের সব দেশের সব প্রান্তের সঙ্গে বিরাজ করবে সেই সংযুক্তি। এই সংযুক্তিতে যুক্ত থাকা দেশের সব নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য হবে। এই অধিকার থেকে কোন নাগরিককে বঞ্চিত করা যাবে না।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি : ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা প্রদান করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সালে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে নতুন এক উচ্চতায়। গত ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।

এই অগ্রগতির খাতগুলোকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে দেখতে চাই।

[লেখক : ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী]

ঢাকা। ২৬ মার্চ, ২০১৯।

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২।

প্রসঙ্গ : উন্নয়ন

শিক্ষা খাত ও বাজেট

ছবি

বহুমাত্রিক কলমযোদ্ধা

পশ্চিমবঙ্গের দলবদলের রাজনীতি প্রসঙ্গে

ছবি

শিরিন : নিপীড়িত ফিলিস্তিনের স্বর

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় মোকাবিলায় ব্যর্থ বিশ্ব

সয়াবিন তেলের ইতিবৃত্ত

শ্রীলঙ্কার মতোই কি পরিণতি হতে চলেছে বাংলাদেশের

সুশীল সমাজের বিকাশ কেন জরুরি

নতুন ভাইরাস মাঙ্কিপক্স

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে কীভাবে

ছবি

বন্যায় হাওরের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে করণীয়

সমাজের নির্লিপ্ততা এবং ন্যায়ের দাবি

পদ্মা সেতুর টোল

আলু উৎপাদনে যন্ত্রের ব্যবহার

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল : ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’

ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রকাশ মাধ্যম

সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় বিবেচ্য বিষয়

ই-কমার্সের জবাবদিহিতা

ইভিএমে আস্থার সংকট

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা : কাড়ছে প্রাণ, বাড়ছে পঙ্গুত্ব

চাকরিতে প্রবেশের বয়স নিয়ে বিতর্ক

ছবি

পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেন নেই?

দুর্নীতি ও দোষারোপের রাজনীতি

মমতা এবং আরএসএসের সম্পর্ক প্রসঙ্গে

ভূমি অপরাধ আইন এবং আদিবাসী

ঝুঁকিতে অর্থনীতি : করণীয় কী

চুকনগর : বিশ্বের স্বাধীনতা ইতিহাসে অন্যতম গণহত্যা

পিকের মেধা-প্রতিভা

পেশার অর্জন

প্রসঙ্গ : ধর্মীয় অনুভূতি

নির্বাচনই কি একমাত্র লক্ষ্য?

ছবি

হরপ্রাসাদের ‘তৈল’ এবং উন্নয়নের পথরেখা

নদী রক্ষায় চাই কার্যকর ব্যবস্থা

ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রকাশমাধ্যম

সংবাদ ও বাংলাদেশ

tab

উপ-সম্পাদকীয়

ডিজিটাল বাংলাদেশ : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

মোস্তাফা জব্বার

সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

তিন

২০০৩ সালে বেগম জিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে তাকে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নামে নামাঙ্কিত করেন। কিন্তু নামের বদল হলেও সেই মন্ত্রণালয়ের কাজের বদল হয়নি। বরং, ড. আব্দুল মইন খান এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির রেকর্ড করেন। তার সময়কালে তিনি তার মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়নের টাকা তার আপনজনদের প্রদান করেন। তিনি কার্যত একটি স্থবির মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে বিদায় নেন। তার সময়ে হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা থেকে অন্য কাজগুলো করার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ বা নতুন অনুপ্রেরণা দৃশ্যমান হয়নি। তার আমলের একটি মাত্র কাজের কথা স্মরণ করা যায়। কারওয়ান বাজারে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিটি ইনকুবেটর নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছাড়া সেই সরকারের আর কোনো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও আমরা দেখতে পাইনি। ২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলনে যোগ দেন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত সেই সম্মেলনে ভাষণদানকালে তিনি ২০০৬ সালের মাঝেই বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। কিন্তু জেনেভা থেকে ফিরে এসে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি একটি পদক্ষেপও নেননি। এই সময়ে এই বিষয়ে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি বা সরকারের তেমন কোন উদ্যোগও দেখা যায়নি।

আমি ধারণা করি যে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী নিজে অনুধাবন করতে পারেননি যে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ কাকে বলে। তিনি এবং তার সরকার সম্ভবত এটিও জানত না যে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করার জন্য সরকারের কী করণীয় রয়েছে। তখন সরকারের এসআইসিটি নামক একটি প্রকল্পের আওতায় বেশ কটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট গড়ে তোলা হয়। কিন্তু সেই সব ওয়েবসাইট কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। নামকাওয়াস্তে কিছু সাধারণ তথ্য প্রদান করা হয় সেসব ওয়েবসাইটে। এমনকি ঐসব ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রভাষা বাংলাও ব্যবহার করা হয়নি। আজ আমরা যে ডিজিটাল রূপান্তরের কথা বলছি তার কোনটাই সে সময়ে দৃশ্যমান হয়নি। সার্বিকভাবে এটি মন্তব্য করা যায় যে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগ যে থ্রাস্ট নিয়ে আইসিটির জন্য কাজ করেছিল এর আগে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তেমন কিছু ছিল না এবং বেগম জিয়ার সরকার ২০০১-০৬ সময়কালে সেটি অব্যাহত রাখেনি। রাজনীতির পাকে ফেলে আওয়ামী লীগ সরকার এই খাতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল সেগুলো রিভার্স করা হয়। ফলে সেই সময়ে প্রায় সব কাজই স্থবিরতার মাঝে লটকে যায়। এরপর ফখরুদ্দিন সরকার তার শাসনকালের প্রথম বছরে বেগম জিয়ার মতোই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে অবহেলা করতে থাকেন। হতে পারে যে, তাদের জন্য সেই সময়ে অগ্রাধিকার হিসেবে রাজনীতিই ছিল। তবে ২০০৮ সালে ফখরুদ্দিন সরকার অন্যান্য বিষয়ের মতো আইসিটিকেও গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা সংশোধন করার প্রয়াসটি প্রশংসা করার মতো। যদিও সরকার তার মেয়াদ শেষ করার আগে তার নীতিমালাটি প্রণয়ন সম্পন্ন করতে পারেনি, তবুও তাদের উদ্যোগের ফলেই পরবর্তী সরকার ২০০৯ সালের নীতিমালাটি অতি দ্রুত প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি বিশাল কাজ ছিল ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে তখনকার সরকার দেশটিকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক তৈরি করেছিল।

ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপরেখা : ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে বর্তমান সরকারের একটি অঙ্গীকার যার মর্মার্থ খুব স্পষ্ট; ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমরা এক বাক্যে বলি “একুশ শতকের সোনার বাংলা। কেউ কেউ একে বলেন, “সুখী-সমৃদ্ধ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”। আমি বলি, “ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে সেই সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, যা সব প্রকারের বৈষম্যহীন, প্রকৃতপক্ষেই সম্পূর্ণভাবে জনগণের রাষ্ট্র এবং যার মুখ্য চালিকাশক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এটি বাঙালির উন্নত জীবনের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা। এটি বাংলাদেশের সব মানুষের ন্যূনতম মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর প্রকৃষ্ট পন্থা। এটি একাত্তরের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপকল্প। এটি বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত বা দরিদ্র দেশ থেকে সমৃদ্ধ, উন্নত ও ধনী দেশে রূপান্তরের জন্য মাথাপিছু আয় বা জাতীয় আয় বাড়ানোর অঙ্গীকার। এটি বাংলাদেশে ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সোপান। এটি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।” আমি আমার বইতে এমনটি অত্যন্ত স্পষ্ট করেই বলে আসছি।

৬ ডিসেম্বর ২০০৮ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার চূডান্ত করার সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা তাতে যুক্ত হয়। ১১ ডিসেম্বরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সেটি অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে, তাতে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি ঘোষণা করে। খুব সঙ্গতকারণেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য এটি হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি কর্মসূচি। যদিও একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির প্রত্যাশা বা স্বপ্নটির বিষয়ে তেমন কোন দলিল দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি, তথাপি স্বপ্নটি হচ্ছে ২০০৮-এর নির্বাচনী ইশতেহারের রূপকল্প ২০২১-এরই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। ২০০৭ সাল থেকেই ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। তাতে এর রূপরেখা অনেকটাই বর্ণিত হয়েছে। আমি এখানে শুধু কয়েকটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করছি।

ক) জনগণের রাষ্ট্র : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাটি ছিল বাংলাদেশ একটি জনগণের রাষ্ট্র হবে, যাকে সত্যিকারের প্রজাতন্ত্র বলা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিই হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। ধর্ম বর্ণ, গোত্র বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের কোন কর্মকান্ড পরিচালিত হবে না। রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রভাষা এবং বাঙালি জাতির জাতিসত্তা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশসহ সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সংবিধানে বর্ণিত সব সুযোগ-সুবিধা সমভাবে প্রদান করবে এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করবে।

আমরা স্বপ্ন দেখি, এই সময়ের শেষে পুরো দেশে দারিদ্র্য সীমার নিচে কোন মানুষ বসবাস করবে না। রাষ্ট্রের সব নাগরিক অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মানুষের সব মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারবে এবং সমাজে আর্থিক ও অন্য সব ধরনের বৈষম্য বিলীন হয়ে যাবে এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে-দুর্নীতি বলতে কিছু থাকবে না। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী বিষয়াদিসহ সব কিছুতেই জনগণের কর্তৃত্ব ও অংশগ্রহণ থাকবে। এটি ধনিকশ্রেণির একচেটিয়া লুটপাটের ক্ষেত্র হবে না।

ডিজিটাল সরকার : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বাধীন ও সার্বভৌম সংস্থা। এটি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে। আমরা স্বপ্ন দেখি, জাতীয় সংসদই হবে রাষ্ট্রের সব কর্মকান্ডের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিপূর্ণ বিকাশের স্বার্থে সংসদের সব কার্যক্রমসহ সব রাজনৈতিক কর্মকান্ড ডিজিটাল হবে। নির্ধারিত সময়ের নির্বাচনে ডিজিটাল পদ্ধতির পরিপূর্ণ ব্যবহারসহ নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচন কেন্দ্রিক সংস্থায় জনগণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তার মতামত জানাতে পারবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে ও নির্বাচনের বাইরেও জনমতের প্রতিফলন ঘটানো যাবে।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে সেই সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, যা সব প্রকারের বৈষম্যহীন, প্রকৃতপক্ষেই সম্পূর্ণভাবে জনগণের রাষ্ট্র এবং যার মুখ্য চালিকাশক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি।”

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসন সম্পর্কে আমাদের স্বপ্ন হলো-ডিজিটাল বাংলাদেশের সরকার হবে ডিজিটাল। সেটি হবে দক্ষ ও জনগণের সেবক। সরকারের সব তথ্য নাগরিকরা যে কোন সময় যে কোন স্থান থেকে ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে জানতে পারবে। বিচার হোক আর সরকারের কাছে কোন আবেদন করা হোক বা আবেদনের ফলাফল জানা হোক, কোন তথ্য পাওয়া হোক বা দেয়া হোক, কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোন ডিজিটাল যন্ত্রে ডিজিটাল উপায়ে নাগরিকরা সরকারের কাছে পৌঁছতে পারবে। কাউকে সশরীরে সরকারি অফিসে আসতে হবে না। সরকার যাবে জনগণের কাছে। ফাইলে বন্দি থাকবে না কোন তথ্য। সরকারের সব তথ্য থাকবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত করা। স্থানীয় সরকারসহ সরকারের সব স্তরের সব নাগরিক সে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দক্ষতার সঙ্গে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো হবে। সরকারের কাজ করার পদ্ধতিতে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না এবং কোনো স্তরে কোন প্রকারের দুর্নীতি থাকবে না। দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, ভূমিব্যবস্থা, ভূমি নিবন্ধন, যাতায়াত, যোগাযোগ ও পরিবহন, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কলকারখানা, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিচার বিভাগ, প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য ইত্যাদিসহ সব কর্মকান্ড ডিজিটাল হবে। প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দাসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে ও তারা ডিজিটাল প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হবেন।

সর্বজনীন ডিজিটাল সংযুক্তি : পুরো দেশটির প্রতি ইঞ্চি মাটি যে কোন ধরনের তার বা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগে যুক্ত থাকবে। বিশ্বের সব দেশের সব প্রান্তের সঙ্গে বিরাজ করবে সেই সংযুক্তি। এই সংযুক্তিতে যুক্ত থাকা দেশের সব নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য হবে। এই অধিকার থেকে কোন নাগরিককে বঞ্চিত করা যাবে না।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি : ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা প্রদান করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সালে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে নতুন এক উচ্চতায়। গত ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।

এই অগ্রগতির খাতগুলোকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে দেখতে চাই।

[লেখক : ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী]

ঢাকা। ২৬ মার্চ, ২০১৯।

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২।

back to top