alt

উপ-সম্পাদকীয়

টেলিকমের বিশ্ব সেরা মেলায়

মোস্তাফা জব্বার

: সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
image

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস হচ্ছে বিশ্বের টেলিকম খাতের সেরা মেলা

সারা বিশ্বের টেলিকম খাতের সেরা মেলাটির নাম মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস। ২০১৮ সালে প্রথম সেই মেলায় গিয়েছিলাম। ২০১৯ সালে যাবার পর করোনা আসে এরপর ২০২২ সালে আবার হয় মেলাটি। স্পেনের বার্লোলোনার সেই মেলা আমাকে টেলিকম বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তি দেখানোর পাশাপাশি সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্বের টেলিটক নেতাদের সঙ্গে। এবারও ফেব্রুয়ারি-মার্চে মেলা হবে। তবে যেতে পারব বলে মনে হয় না। স্মৃতিকাতরতা থেকে তাই ২০২২ সালের ঘটনাগুলো স্মরণ করছি।

স্পেনের রাজধানী বার্সেলোনা এরই মাঝে পরিচিত জায়গায় পরিণত হয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আমি ওখানে অনুষ্ঠিত মোবাইল কংগ্রেসে যোগ দেই।

২৭ ফেব্রুয়ারি হতে ৩ মার্চ ২০২২ তারিখ পর্যন্ত স্পেনের বার্সেলোনায় বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীবর্গের উপস্থিতিতে জিএসএমএ মিনিস্টারিয়াল প্রোগ্রাম ও মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বার্সেলোনা-২০২২ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে বিশ্বের ২০০টি দেশের প্রায় ৬১,০০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, টেলিকম রেগুলেটর, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বের আইকনিক ব্র্যান্ডসমূহ অংশগ্রহণ করে। উক্ত সম্মেলনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আমি অংশগ্রহণ করি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে আমার নেতৃত্বে এ বিভাগের সাবেক সচিব মো. খলিলুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদারসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে আমি টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিস্ময়কর সফলতাসহ আমাদের অবস্থান তুলে ধরি। উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণের সূচিভিত্তিক প্রতিবেদন :

(১) ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে The United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) GeSI (TBD)-এর উদ্যোগে গ্রিন আইসিটি, লাইটিং দ্য ফিউচার শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালায় গ্রিন আইসিটির ভবিষ্যৎ, ডিজিটাল গ্রিন আইসিটি নিয়ে ইউরোপীয় কৌশলগত পরিকল্পনা, চুক্তি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা; জলবায়ু এবং এনার্জি ইফিসিয়েন্সির ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আইসিটি ফ্যাসিলিটিজ; বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শূণ্য কার্বন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা; গ্রিন আইসিটির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন; গ্রিন কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কস নিয়ে কর্মকৌশল, এটি বাস্তবায়নে বাধা বা চ্যালেঞ্জ এবং কেস স্টাডিজ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় এ বিষয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান, কৌশল ও মতামত তুলে ধরি।

(২) ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ পর্যায়ক্রমে জিএসএমএ, আইকান, আইটিইউ-যুক্তরাষ্ট্র, সেক্রেটারি জেনারেল আইটিইউ, সেক্রেটারি জেনারেল এপিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জিএসএমএর সঙ্গে আলোচনায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ধার্যকৃত কর, টেলিযোগাযোগ খাতের লাইসেন্স কাঠামো, ইকোসিস্টেম, ব্রডব্যান্ড পলিসি, কোয়ালিটি অব সার্ভিস ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরি। আইকানের সঙ্গে বাংলা (ডট বাংলা) ডোমেইন এবং বাংলা টপ লেভেল ডোমেইনস (TLDs)-এর সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা, ইন্টারনেটের সার্বজনীন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলা (ডট বাংলা) ডোমেইন, ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামে বাংলা লিপি ইউনিফাইড করা এবং নেক্সট রাউন্ড জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইনস (GTLDs) দ্রুত শুরু করার বিষয়ে আলোচনা করি। এছাড়াও সাইবার সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট ডিএনএস অ্যাবিউজ, ফিশিং অ্যাটাক, রিসার্চ ইত্যাদি বিষয়ে আইকানকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহবান জানাই। আইটিইউ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ডসহ টেলিযোগাযোগ খাতে সহযোগিতার খাতগুলো নিয়ে আলোচনা করি।

অন্যদিকে আইটিইউ সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ৫জি কার্যক্রমসহ মানসম্মত ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময়েও বাংলাদেশ চিকিৎসা, শিক্ষা, নাগরিক সেবাসহ সবাই সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রাখার বিষয়টি তুলে ধরি। ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। আমি এপিটি সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করি। রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিআরসির সঙ্গে এপিটির কার্যকর যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরি।

(৩) ১ মার্চ ২০২২ তারিখে টেলিনর, বাহরাইনের পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী Meta Platforms, Inc. (facebook), ZTE, আজিয়াটা গ্রুপ এবং Alliance for Affordable Internet (A4AI)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেলিনরের সঙ্গে বৈঠকে গ্রামীনফোন লিমিটেডের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ, কোয়ালিটি অব সার্ভিস, মার্কেট শেয়ার, ৪জি সাইট এবং ফাইবারাইজেশন বৃদ্ধি এবং ৫জি প্রযুক্তির বিজনেস কেইস ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করি। বাহরাইনের পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ভবিষ্যতে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে অভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধাদি বিবেচনায় বাহরাইনকে এদেশে বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ জানাই।

ফেইসবুকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি ফেইসবুক গ্রাহক, ভ্যাট প্রদান, ফেইসবুককে বিটিআরসি হতে নিবন্ধন এবং বিটিআরসির ওটিটি গাইডলাইন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করি। এছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনায় নিয়ে এ দেশের জন্য ফেইসবুক কর্তৃক ‘ফ্যাক্ট চেক লিস্ট’ প্রণয়ন ও তদারকির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরি। সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে আফ্রিকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের অনুকরণে বাংলাদেশেও এ ধরণের প্রকল্প গ্রহণের জন্য ফেইসবুককে অনুরোধ জানাই। ZTE এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় টেলিযোগাযোগ শিল্পে কারিগরি অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত কর্মকাণ্ড বিষয়দি তুলে ধরি। এছাড়াও বিটিসিএলের MOTN Phase-1, টেলিটকসহ সবাই মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং সফটওয়্যার সরবরাহ, ৫জি কার্যক্রমে সহযোগিতা, বিটিসিএল ও টেলিটকের প্রকল্প আলোচনায় তুলে ধরি। পণ্য ও সেবার মান বজায় রেখে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ করি। আজিয়াটা গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যমান বিধিমালার আওতায় টাওয়ার শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর টাওয়ার সংখ্যা, মার্কেট শেয়ার, অর্জিত রেভিনিউ ও দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এসএমপি নির্ধারণ প্রক্রিয়া, ৫জি তরঙ্গ নিলাম, ৫জির জন্য বরাদ্দকৃত ব্যান্ড, পরিমাণ, তরঙ্গের মূল্য ও মূল্য পরিশোধ, বরাদ্দকৃত স্পেকট্রাম সাইটসমূহে দ্রুত সংযোজন, ৪জি সাইট বৃদ্ধি করা, সাইট পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার কানেক্টিভিটি, ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। Alliance for Affordable Internet (A4AI)-এর সঙ্গে আলোচনায় ইন্টারনেটের সংযোগ স্থাপনের খরচ কমানো এবং সাশ্রয়ীমূল্যে সার্বজনীন ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমি জানিয়েছি বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এক দেশ এক রেট চালু করার ফলে ২০০৮ সালের ২৭ হাজার টাকার ১ এমবিপিএসের মূল্য ৬০ টাকায় নামানো হয়েছে জেনে তারা বাংলাদেশের প্রশংসা করে।

(৪) ২ মার্চ ২০২২ তারিখে হুয়াওয়ে এবং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। হুয়াওয়ের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের রিজিওনাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় হুয়াওয়ের উচ্চ-প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়ন, ৪জি ও ৫জি সেবাসহ হুয়াওয়ের কর্মপরিকল্পনা, হুয়াওয়ে ডিজিটাল লাইফ, ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি, গ্রিনভার্স, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন শিল্প, কয়লা খনি ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ৫ জির বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। হুয়াওয়ে আইসিটি ট্যালেন্ট ইকোলজি সৃষ্টির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত আইসিটি একাডেমির মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করছে। হুয়াওয়েকে চীনের ডিজিটাল কৌশলের ভিত্তিতে ‘ডিজিটাল ফার্স্ট’ কৌশল প্রণয়নের জন্য আহবান জানাই। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং ৫জি সেবা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে এরিকসন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত খাতে কাজ করছে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশের মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কিছুটা হলেও এরিকসন সরবরাহ করে থাকে। ৫জি সেবা বিস্তারে এরিকসন কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত রয়েছে। এরিকসনকে আরও বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ জানাই।

(৫) ৩ মার্চ ২০২২ তারিখে নোকিয়া এবং নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সলিউশন্স ফর কমিউনিকেশন্স সার্ভিসেস এলট এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নোকিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সভায় বাংলাদেশের ভোক্তা পর্যায়সহ টেলিযোগাযোগ শিল্পের কারিগরি অবকাঠামো প্রযুক্তি খাতে নোকিয়ার কর্মকাণ্ড বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়। নোকিয়া ৫জি নিয়ে কাজ করারও আগ্রহ প্রকাশ করে। টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দ অনুযায়ী প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকায় নোকিয়াকে বাংলাদেশে মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ অন্যান্য খাতে অধিকতর বিনিয়োগের আহবান জানাই। এছাড়াও ‘ফিউচার রেডি নেটওয়ার্ক’ সম্পর্কিত নোকিয়ার বুথ পরিদর্শন করি। এলট এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট সিটিডিআরের বিষয়ে আলোচনা করি। Allot জানায় তাদের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিম সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করছে এবং নিত্য-নতুন ফিচার যুক্ত করছে।

সার্বিকভাবে ‘জিএসএমএ মিনিস্টারিয়াল অ্যান্ড মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বার্সেলোনা-২০২২’ এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কতটা এগিয়েছে তার দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রদর্শনী থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়াও নতুন নতুন উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ পণ্যগুলোও দেখার সুযোগ হয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তির বিষয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৪জি/এলটিই, ৫জি, আইওটি, তরঙ্গ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডাটা, ই-সিম, ডিজিটাল সিটি, ডিজিটাল অর্থনীতি ইত্যাদি ইস্যুতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে; যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও তার আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান; সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক, ডিজিটাল প্রযুক্তির অনেক ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট ও কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী]

যোগাযোগ অধ্যয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ

এমপি আনারকে নিয়ে যত আইনি জটিলতা

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আইনের শাসন

দূর হোক মনের পশুত্ব

মনের পশুত্বের প্রতীকী ত্যাগের আরেক নাম কোরবানি

ঈদে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস

এমআইটি : প্রযুক্তির সৃষ্টি রহস্যের খোঁজ

কবিগুরুর বাণী ‘প্রমাণিত মিথ্যা’

কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধ হবে কিভাবে

কানিহাটি সিরিজ এবং পঞ্চব্রীহি নিয়ে আরও কিছু কথা

কলকাতায় হিজাব বিতর্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক

হাতের শক্তি ও মহিমা

বাজেট বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ

ছবি

কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে

সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটেরাদের বিচার কি হবে

বাজেট ভাবনায় শঙ্কিত যারা

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বৈষম্যে

জ্ঞানই শক্তি

পরিবেশ নিয়ে কিছু কথা

অগ্নিমূল্যের বাজার : সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে কি?

বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নৈরাজ্য

যৌতুক মামলার অপব্যবহার

শহীদের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক ছয় দফা

রসে ভরা বাংলাদেশ

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই

দুর্নীতির উৎসমুখ

কানিহাটি সিরিজের বোরো ধান নিয়ে কিছু কথা

নজিরবিহীন বেনজীর

টেকসই উন্নয়ন করতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য রেখে আহমদ

কী বার্তা দিল ভারতের সংসদ নির্বাচন

গরমে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা

ক্লাইমেট জাস্টিস ফর বাংলাদেশ : শুধু ঋণ বা অনুদান নয়, প্রয়োজন ক্ষতিপূরণ

এখন ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ কী

দুর্নীতি নিয়ে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া দরকার

গোল্ডেন রাইস কেন বারবার থমকে দাঁড়ায়

tab

উপ-সম্পাদকীয়

টেলিকমের বিশ্ব সেরা মেলায়

মোস্তাফা জব্বার

image

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস হচ্ছে বিশ্বের টেলিকম খাতের সেরা মেলা

সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

সারা বিশ্বের টেলিকম খাতের সেরা মেলাটির নাম মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস। ২০১৮ সালে প্রথম সেই মেলায় গিয়েছিলাম। ২০১৯ সালে যাবার পর করোনা আসে এরপর ২০২২ সালে আবার হয় মেলাটি। স্পেনের বার্লোলোনার সেই মেলা আমাকে টেলিকম বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তি দেখানোর পাশাপাশি সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্বের টেলিটক নেতাদের সঙ্গে। এবারও ফেব্রুয়ারি-মার্চে মেলা হবে। তবে যেতে পারব বলে মনে হয় না। স্মৃতিকাতরতা থেকে তাই ২০২২ সালের ঘটনাগুলো স্মরণ করছি।

স্পেনের রাজধানী বার্সেলোনা এরই মাঝে পরিচিত জায়গায় পরিণত হয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আমি ওখানে অনুষ্ঠিত মোবাইল কংগ্রেসে যোগ দেই।

২৭ ফেব্রুয়ারি হতে ৩ মার্চ ২০২২ তারিখ পর্যন্ত স্পেনের বার্সেলোনায় বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীবর্গের উপস্থিতিতে জিএসএমএ মিনিস্টারিয়াল প্রোগ্রাম ও মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বার্সেলোনা-২০২২ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে বিশ্বের ২০০টি দেশের প্রায় ৬১,০০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, টেলিকম রেগুলেটর, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বের আইকনিক ব্র্যান্ডসমূহ অংশগ্রহণ করে। উক্ত সম্মেলনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আমি অংশগ্রহণ করি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে আমার নেতৃত্বে এ বিভাগের সাবেক সচিব মো. খলিলুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদারসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে আমি টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিস্ময়কর সফলতাসহ আমাদের অবস্থান তুলে ধরি। উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণের সূচিভিত্তিক প্রতিবেদন :

(১) ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে The United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) GeSI (TBD)-এর উদ্যোগে গ্রিন আইসিটি, লাইটিং দ্য ফিউচার শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালায় গ্রিন আইসিটির ভবিষ্যৎ, ডিজিটাল গ্রিন আইসিটি নিয়ে ইউরোপীয় কৌশলগত পরিকল্পনা, চুক্তি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা; জলবায়ু এবং এনার্জি ইফিসিয়েন্সির ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আইসিটি ফ্যাসিলিটিজ; বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শূণ্য কার্বন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা; গ্রিন আইসিটির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন; গ্রিন কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কস নিয়ে কর্মকৌশল, এটি বাস্তবায়নে বাধা বা চ্যালেঞ্জ এবং কেস স্টাডিজ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় এ বিষয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান, কৌশল ও মতামত তুলে ধরি।

(২) ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ পর্যায়ক্রমে জিএসএমএ, আইকান, আইটিইউ-যুক্তরাষ্ট্র, সেক্রেটারি জেনারেল আইটিইউ, সেক্রেটারি জেনারেল এপিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জিএসএমএর সঙ্গে আলোচনায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ধার্যকৃত কর, টেলিযোগাযোগ খাতের লাইসেন্স কাঠামো, ইকোসিস্টেম, ব্রডব্যান্ড পলিসি, কোয়ালিটি অব সার্ভিস ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরি। আইকানের সঙ্গে বাংলা (ডট বাংলা) ডোমেইন এবং বাংলা টপ লেভেল ডোমেইনস (TLDs)-এর সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা, ইন্টারনেটের সার্বজনীন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলা (ডট বাংলা) ডোমেইন, ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামে বাংলা লিপি ইউনিফাইড করা এবং নেক্সট রাউন্ড জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইনস (GTLDs) দ্রুত শুরু করার বিষয়ে আলোচনা করি। এছাড়াও সাইবার সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট ডিএনএস অ্যাবিউজ, ফিশিং অ্যাটাক, রিসার্চ ইত্যাদি বিষয়ে আইকানকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহবান জানাই। আইটিইউ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ডসহ টেলিযোগাযোগ খাতে সহযোগিতার খাতগুলো নিয়ে আলোচনা করি।

অন্যদিকে আইটিইউ সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ৫জি কার্যক্রমসহ মানসম্মত ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময়েও বাংলাদেশ চিকিৎসা, শিক্ষা, নাগরিক সেবাসহ সবাই সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রাখার বিষয়টি তুলে ধরি। ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। আমি এপিটি সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করি। রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিআরসির সঙ্গে এপিটির কার্যকর যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরি।

(৩) ১ মার্চ ২০২২ তারিখে টেলিনর, বাহরাইনের পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী Meta Platforms, Inc. (facebook), ZTE, আজিয়াটা গ্রুপ এবং Alliance for Affordable Internet (A4AI)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেলিনরের সঙ্গে বৈঠকে গ্রামীনফোন লিমিটেডের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ, কোয়ালিটি অব সার্ভিস, মার্কেট শেয়ার, ৪জি সাইট এবং ফাইবারাইজেশন বৃদ্ধি এবং ৫জি প্রযুক্তির বিজনেস কেইস ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করি। বাহরাইনের পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ভবিষ্যতে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে অভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধাদি বিবেচনায় বাহরাইনকে এদেশে বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ জানাই।

ফেইসবুকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি ফেইসবুক গ্রাহক, ভ্যাট প্রদান, ফেইসবুককে বিটিআরসি হতে নিবন্ধন এবং বিটিআরসির ওটিটি গাইডলাইন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করি। এছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনায় নিয়ে এ দেশের জন্য ফেইসবুক কর্তৃক ‘ফ্যাক্ট চেক লিস্ট’ প্রণয়ন ও তদারকির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরি। সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে আফ্রিকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের অনুকরণে বাংলাদেশেও এ ধরণের প্রকল্প গ্রহণের জন্য ফেইসবুককে অনুরোধ জানাই। ZTE এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় টেলিযোগাযোগ শিল্পে কারিগরি অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত কর্মকাণ্ড বিষয়দি তুলে ধরি। এছাড়াও বিটিসিএলের MOTN Phase-1, টেলিটকসহ সবাই মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং সফটওয়্যার সরবরাহ, ৫জি কার্যক্রমে সহযোগিতা, বিটিসিএল ও টেলিটকের প্রকল্প আলোচনায় তুলে ধরি। পণ্য ও সেবার মান বজায় রেখে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ করি। আজিয়াটা গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যমান বিধিমালার আওতায় টাওয়ার শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর টাওয়ার সংখ্যা, মার্কেট শেয়ার, অর্জিত রেভিনিউ ও দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এসএমপি নির্ধারণ প্রক্রিয়া, ৫জি তরঙ্গ নিলাম, ৫জির জন্য বরাদ্দকৃত ব্যান্ড, পরিমাণ, তরঙ্গের মূল্য ও মূল্য পরিশোধ, বরাদ্দকৃত স্পেকট্রাম সাইটসমূহে দ্রুত সংযোজন, ৪জি সাইট বৃদ্ধি করা, সাইট পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার কানেক্টিভিটি, ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। Alliance for Affordable Internet (A4AI)-এর সঙ্গে আলোচনায় ইন্টারনেটের সংযোগ স্থাপনের খরচ কমানো এবং সাশ্রয়ীমূল্যে সার্বজনীন ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমি জানিয়েছি বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এক দেশ এক রেট চালু করার ফলে ২০০৮ সালের ২৭ হাজার টাকার ১ এমবিপিএসের মূল্য ৬০ টাকায় নামানো হয়েছে জেনে তারা বাংলাদেশের প্রশংসা করে।

(৪) ২ মার্চ ২০২২ তারিখে হুয়াওয়ে এবং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। হুয়াওয়ের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের রিজিওনাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় হুয়াওয়ের উচ্চ-প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়ন, ৪জি ও ৫জি সেবাসহ হুয়াওয়ের কর্মপরিকল্পনা, হুয়াওয়ে ডিজিটাল লাইফ, ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি, গ্রিনভার্স, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন শিল্প, কয়লা খনি ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ৫ জির বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। হুয়াওয়ে আইসিটি ট্যালেন্ট ইকোলজি সৃষ্টির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত আইসিটি একাডেমির মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করছে। হুয়াওয়েকে চীনের ডিজিটাল কৌশলের ভিত্তিতে ‘ডিজিটাল ফার্স্ট’ কৌশল প্রণয়নের জন্য আহবান জানাই। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং ৫জি সেবা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে এরিকসন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত খাতে কাজ করছে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশের মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কিছুটা হলেও এরিকসন সরবরাহ করে থাকে। ৫জি সেবা বিস্তারে এরিকসন কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত রয়েছে। এরিকসনকে আরও বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ জানাই।

(৫) ৩ মার্চ ২০২২ তারিখে নোকিয়া এবং নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সলিউশন্স ফর কমিউনিকেশন্স সার্ভিসেস এলট এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নোকিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সভায় বাংলাদেশের ভোক্তা পর্যায়সহ টেলিযোগাযোগ শিল্পের কারিগরি অবকাঠামো প্রযুক্তি খাতে নোকিয়ার কর্মকাণ্ড বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়। নোকিয়া ৫জি নিয়ে কাজ করারও আগ্রহ প্রকাশ করে। টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দ অনুযায়ী প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকায় নোকিয়াকে বাংলাদেশে মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ অন্যান্য খাতে অধিকতর বিনিয়োগের আহবান জানাই। এছাড়াও ‘ফিউচার রেডি নেটওয়ার্ক’ সম্পর্কিত নোকিয়ার বুথ পরিদর্শন করি। এলট এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট সিটিডিআরের বিষয়ে আলোচনা করি। Allot জানায় তাদের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিম সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করছে এবং নিত্য-নতুন ফিচার যুক্ত করছে।

সার্বিকভাবে ‘জিএসএমএ মিনিস্টারিয়াল অ্যান্ড মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বার্সেলোনা-২০২২’ এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কতটা এগিয়েছে তার দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রদর্শনী থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়াও নতুন নতুন উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ পণ্যগুলোও দেখার সুযোগ হয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তির বিষয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৪জি/এলটিই, ৫জি, আইওটি, তরঙ্গ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডাটা, ই-সিম, ডিজিটাল সিটি, ডিজিটাল অর্থনীতি ইত্যাদি ইস্যুতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে; যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও তার আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান; সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক, ডিজিটাল প্রযুক্তির অনেক ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট ও কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী]

back to top