alt

উপ-সম্পাদকীয়

বাজেটে শিক্ষার প্রাপ্তি কী?

মাছুম বিল্লাহ

: বুধবার, ০৭ জুন ২০২৩

এই অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা খাতে টাকার অংকে মোট বরাদ্দ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য আসন্ন অর্থবছরে মোট ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা গত অর্থবছরে ছিলো ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। জিনিসপত্রের চড়ামূল্য, সাধারন বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির কারণে এক বছর থেকে আরেক বছর স্বাভাবিকভাবেই খরচ বেড়ে যায়, এটি নতুন বা উল্লেখ করার মতো কোন সংবাদ নয়।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৩১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৪২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, এটি চলতি অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এই বাজেটকে ‘শিক্ষা ধ্বংসের বাজেট’ বলেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা। তারা বলছেন, জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত জনগনকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত। জিডিপির অনুপাতে বাজেটে কম বরাদ্দ শিক্ষার প্রতিটি স্তরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। জনগুরুত্বপূর্ন খাতগুলোতে যেমন বাজেট কমেছে তেমনি শিক্ষা খাতেও কমেছে। ইউনেস্কোর মতে কোন দেশের জিডিপির ৬শতাংম শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা দরকার। সেখানে এ বছর শিক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ১দশমিক ৭৬শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত বাজেটে এটি ছিল ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে এটি ছিল ২ দশমিক ০৮ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা শিক্ষা খাতে বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে তা ছিল ১২ দশমিক ০১ শতাংশ বা ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ২০২৩-২৪ সালের উন্নয়ন বাজেট মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১১ শতাংশ যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ৪৭শতাংশ কম। সবই নিম্নমুখী।শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার এবং মানবিক অধিকার। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার শিক্ষা সংকোচনের পথে হাঁটছে, অপরদিকে শিক্ষার অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো শনাক্ত করা হয়েছে সেগুলো হলো-সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ, লেনদেনের ভারসাম্য পরিস্থিতি উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, রিজার্ভ বাড়ানো, অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে- বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায় কম সুদে ঋত সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায় কম সুদে ঋণ প্রদান, সামাজিক মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করা। বৈদেশিক খাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। শিক্ষার সমস্যার জন্য কোন চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় নেই বাজেটে। অথচ আমরা অর্থনীতি নিয়ে, কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বলি, বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আসার কথা বলি- এর সবগুলোই কিন্তু শিক্ষাবিষয়ক কথা। শিক্ষার গোড়ার বিষয়গুলো চিন্তা করলে, কারিগরি শিক্ষাকে প্রকৃতঅর্থে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় অর্থনীতি তার সুফল পেত কিন্তু এ সব কোন বিয়ষ কিন্তু বাজেটে আসেনি।

বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্নভাবে অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এখানেও জনগণ আশা করতে পারে যে, এটি রাষ্ট্রের হাতে থাকতে হবে। সেটি তারা দেখতে পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় শিক্ষার কি হবে? অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব যেভাবে জনগনের জীবনকে নাকাল করে ফেলেছে সেখানে শিক্ষা নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? তবে অদ্ভুত দুই-একটি বিষয় যেটি বাজেট সংক্রান্ত তবে শুধুমাত্র ২০২৩-২৪ সালের বাজেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, দীর্ঘদিনের বাজেটের সঙ্গে সংযুক্ত। যেমন- প্রতি জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করা। এই ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ বিশাল জনসংখ্যার জন্য উচ্চশিক্ষার পুুরো দায়িত্ব রাষ্ট্রকে কেন নিতে হবে? প্রথমত, সবাই নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র সেখানে একটি বিশাল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরোপুরি রাষ্ট্র পরিচালিত। এটি একটি চমৎকার বিষয় কিন্তু মানের দিক থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে। এটি নিয়ে রাষ্ট্রকে প্রচুর কাজ করতে হবে।

তারপর আসে মাধ্যমিক শিক্ষা। সেটি আছে হ-য-ব-র-ল অবস্থায়। মাধ্যমিক শিক্ষানিয়ন্ত্রিতই হচ্ছে বেসরকারি পর্যায়ে। বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। এটি না সরকারি, না বেসরকারি। সেনাশাসিত সরকার একটি দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়েছিল বেসরকারি শিক্ষকদের রাষ্ট্র থেকে প্রনোদনার বিষয়ে। সেটি দেখা যাচ্ছে একটি দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র থেকে তাদের অনুদান দেয়া হোতো তিন মাস পর পর যেটি প্রতিমাসে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো এবং এই বিষয়টিই মোটামুটি একটি স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে ‘এমপিও’ নামে পরিচিতি পেয়ে গেল। এটি মাধ্যমকি শিক্ষা পরিচালনার বিষয়ে প্রকৃত সমাধান নয়, এটি ছিল দ্রুত ও আপাতত কোন সিদ্ধান্ত । অথচ এ নিয়ে শিক্ষক নেতারাও তেমন কিছু বলছেন না। মাধ্যমিক শিক্ষাটা পরিচালিতই হচ্ছে এই এমপিও নামক রাষ্ট্রীয় সহায়তার মাধ্যমে যেটি কোন স্থায়ী পদ্ধতি হতে পারেনা। তারপরেও হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষকগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন তাদের বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হবে, তাদের অর্থনৈতিক টানাপড়েন অনেকটাই কমবে- তারা শিক্ষাদানে অধিকতর মনোনিবেশ করতে পারবেন।

কিন্তু প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ অথবা এমপিওভুক্তির কোন আশা দেখা যাচ্ছে না। মাধ্যমিকের বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থাটি এ ধরনের একটি অস্থায়ী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, মান তলানিতে অথচ রাষ্ট্রীয় টাকায় আমরা এত এত বিশ^বিদ্যালয় বানাচ্ছি। বেসরকারি ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় শিক্ষার মানের অর্ধগতি রোধ করার কথা চিন্তা না করে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় বানানোর পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করা কেমন সিদ্ধান্ত তা আমাদের বুঝে আসেনা। এখানে মানসম্মত শীক্ষার্থী আসবে কোথা থেকে? তারা পাস করে সবাই বিসিএস পরীক্ষার জন্য লাইন দিবে অথচ দেশের মানুষ চিকিৎসা করাতে যাবে দেশের বাইরে, দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করানোর জন্য ভারত, শ্রীংলকা আর উন্নত দেশ থেকে প্রযুক্তি আমাদানি করতে হবে। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো সব লাঠিয়ালদের দখলে, এখানে নেই কোন আবিষ্কার, নেই প্রকৃত গবেষণা। শিক্ষার্থী যারা পড়াশুনা করছে তারা প্রশাসনিক ক্যাডার হওয়ার জন্য মরিয়া, আর যারা পড়াশুনা করছে না তারা রাজনৈতিক ক্যাডার হওয়ার প্রতিযোগিতায় ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করছে প্রতিদিন। আর যাদের একটু সাধ্য আছে তারা বিদেশে চলে যাচ্ছে, সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে প্রচুর ডলার। ডলার দেশে আনার প্রকৃত পরিকল্পনা এই শিক্ষার মাধ্যমে নেই। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে যদি লাঠিয়াল বাহিনী মুক্ত করে প্রকৃত পড়াশুনার জায়গা বানানোে যেত তাহলে আমরা প্রচুর বিদেশী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারতাম যা আমাদের অর্থনীতিকে সবল করতো।

শিক্ষার সমস্যার জন্য কোন চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় নেই বাজেটে

বাজেটে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এটি আরও বাড়িয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ লাখে উন্নীত করা হবে। ১০৯টি হাইটেক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১লাখ তরুন-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। হাইটেক ২০৪১ সালের মধ্যে ২লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বর্তমানে ১৭৬ দেশে এক কোটি ৪৯ লাখ কর্মী কাজ করেন। নতুন বাজার অনুসন্ধান করা হচ্ছে। নতুন বাজার খোঁজা মানে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে আর সেজন্য দরকার শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট ইকোনমি প্রয়োজন। কিন্তু স্মার্ট নাগরিক তৈরির পূর্বশর্তই হচ্ছে শিক্ষা অথচ জনগোষ্ঠীর একটা অংশকে শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে সুকৌশলে।যারা সংসারের অন্যদিকের খরচ কমিয়েও ভাবতেন যে তাদের সন্তানরা লেখাপড়া করুক সেটি আরও কঠিনতর হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে শিক্ষা উপকরণের দামও যেভারে বেড়েছে সেটিও ভীষণ বিপদে ফলেছে জনগণকে। যে বঞ্চনার জন্য আমরা স্বাধীন হয়েছি শিক্ষাক্ষেত্রে সেই বৈষম্যের রেখা যেন ইচ্ছে করেই স্ফীত করা হচ্ছে। যত ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা তা পাবেন মুষ্টিমেয় কিছু সরকারি শিক্ষকগণ, আর বেসরকারি শিক্ষকদের কিছুই বাড়ছে না যদিও রাষ্ট্রের শিক্ষার বিশাল অংশের দায়িত্ব তারাই পালন করছেন। শিক্ষার এ বৈষম্য আর কতকাল থাকবে? কোন বাজেটই কি এর প্রকৃত সমাধান দেবে না?

[লেখক : প্রেসিডেন্ট, ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ]

ছবি

ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম

বৈসাবি : ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব

‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন

উদার-উদ্দাম বৈশাখ চাই

ঈদ নিয়ে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি, বিস্তৃত হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ

প্রসঙ্গ: বিদেশি ঋণ

ছাত্ররাজনীতি কি খারাপ?

জাকাত : বিশ্বের প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস : শুরুর কথা

ছবি

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত

প্রবাসীর ঈদ-ভাবনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

ধানের ফলন বাড়াতে ক্লাইমেট স্মার্ট গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তি

কমিশন কিংবা ভিজিটে জমি রেজিস্ট্রির আইনি বিধান ও প্রাসঙ্গিকতা

ছবি

ঈদের অর্থনীতি

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের রাজনীতিতে ‘পোস্ট পার্টিশন সিনড্রম’

শিক্ষকের বঞ্চনা, শিক্ষকের বেদনা

নিরাপদ সড়ক কেন চাই

রম্যগদ্য : ‘প্রহরীর সাতশ কোটি টাকা...’

ছবি

অবন্তিকাদের আত্মহনন

শিক্ষাবিষয়ক ভাবনা

অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান নয়

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে

আত্মহত্যা রোধে নৈতিক শিক্ষা

আউশ ধান : পরিবেশ ও কৃষকবান্ধব ফসল

ছবি

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আতুড়ঘর

চেক ডিজঅনার মামলার অধিক্ষেত্র ও প্রাসঙ্গিকতা

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের কৃষি

ছবি

‘হৃৎ কলমের’ পাখি এবং আমাদের জেগে ওঠা

ছবি

ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ

প্রসঙ্গ : নিত্যপণ্যের দাম

ছবি

টঙ্ক আন্দোলনের কুমুদিনী হাজং

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে চাই বিকেন্দ্রীকরণ

দূষণমুক্ত পানির বিকল্প নাই

রম্যগদ্য : ‘দুনিয়ার বাঙালি এক হও”

tab

উপ-সম্পাদকীয়

বাজেটে শিক্ষার প্রাপ্তি কী?

মাছুম বিল্লাহ

বুধবার, ০৭ জুন ২০২৩

এই অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা খাতে টাকার অংকে মোট বরাদ্দ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য আসন্ন অর্থবছরে মোট ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা গত অর্থবছরে ছিলো ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। জিনিসপত্রের চড়ামূল্য, সাধারন বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির কারণে এক বছর থেকে আরেক বছর স্বাভাবিকভাবেই খরচ বেড়ে যায়, এটি নতুন বা উল্লেখ করার মতো কোন সংবাদ নয়।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৩১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৪২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, এটি চলতি অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এই বাজেটকে ‘শিক্ষা ধ্বংসের বাজেট’ বলেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা। তারা বলছেন, জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত জনগনকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত। জিডিপির অনুপাতে বাজেটে কম বরাদ্দ শিক্ষার প্রতিটি স্তরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। জনগুরুত্বপূর্ন খাতগুলোতে যেমন বাজেট কমেছে তেমনি শিক্ষা খাতেও কমেছে। ইউনেস্কোর মতে কোন দেশের জিডিপির ৬শতাংম শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা দরকার। সেখানে এ বছর শিক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ১দশমিক ৭৬শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত বাজেটে এটি ছিল ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে এটি ছিল ২ দশমিক ০৮ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা শিক্ষা খাতে বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে তা ছিল ১২ দশমিক ০১ শতাংশ বা ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ২০২৩-২৪ সালের উন্নয়ন বাজেট মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১১ শতাংশ যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ৪৭শতাংশ কম। সবই নিম্নমুখী।শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার এবং মানবিক অধিকার। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার শিক্ষা সংকোচনের পথে হাঁটছে, অপরদিকে শিক্ষার অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো শনাক্ত করা হয়েছে সেগুলো হলো-সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ, লেনদেনের ভারসাম্য পরিস্থিতি উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, রিজার্ভ বাড়ানো, অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে- বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায় কম সুদে ঋত সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায় কম সুদে ঋণ প্রদান, সামাজিক মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করা। বৈদেশিক খাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। শিক্ষার সমস্যার জন্য কোন চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় নেই বাজেটে। অথচ আমরা অর্থনীতি নিয়ে, কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বলি, বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আসার কথা বলি- এর সবগুলোই কিন্তু শিক্ষাবিষয়ক কথা। শিক্ষার গোড়ার বিষয়গুলো চিন্তা করলে, কারিগরি শিক্ষাকে প্রকৃতঅর্থে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় অর্থনীতি তার সুফল পেত কিন্তু এ সব কোন বিয়ষ কিন্তু বাজেটে আসেনি।

বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্নভাবে অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এখানেও জনগণ আশা করতে পারে যে, এটি রাষ্ট্রের হাতে থাকতে হবে। সেটি তারা দেখতে পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় শিক্ষার কি হবে? অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব যেভাবে জনগনের জীবনকে নাকাল করে ফেলেছে সেখানে শিক্ষা নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? তবে অদ্ভুত দুই-একটি বিষয় যেটি বাজেট সংক্রান্ত তবে শুধুমাত্র ২০২৩-২৪ সালের বাজেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, দীর্ঘদিনের বাজেটের সঙ্গে সংযুক্ত। যেমন- প্রতি জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করা। এই ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ বিশাল জনসংখ্যার জন্য উচ্চশিক্ষার পুুরো দায়িত্ব রাষ্ট্রকে কেন নিতে হবে? প্রথমত, সবাই নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র সেখানে একটি বিশাল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরোপুরি রাষ্ট্র পরিচালিত। এটি একটি চমৎকার বিষয় কিন্তু মানের দিক থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে। এটি নিয়ে রাষ্ট্রকে প্রচুর কাজ করতে হবে।

তারপর আসে মাধ্যমিক শিক্ষা। সেটি আছে হ-য-ব-র-ল অবস্থায়। মাধ্যমিক শিক্ষানিয়ন্ত্রিতই হচ্ছে বেসরকারি পর্যায়ে। বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। এটি না সরকারি, না বেসরকারি। সেনাশাসিত সরকার একটি দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়েছিল বেসরকারি শিক্ষকদের রাষ্ট্র থেকে প্রনোদনার বিষয়ে। সেটি দেখা যাচ্ছে একটি দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র থেকে তাদের অনুদান দেয়া হোতো তিন মাস পর পর যেটি প্রতিমাসে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো এবং এই বিষয়টিই মোটামুটি একটি স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে ‘এমপিও’ নামে পরিচিতি পেয়ে গেল। এটি মাধ্যমকি শিক্ষা পরিচালনার বিষয়ে প্রকৃত সমাধান নয়, এটি ছিল দ্রুত ও আপাতত কোন সিদ্ধান্ত । অথচ এ নিয়ে শিক্ষক নেতারাও তেমন কিছু বলছেন না। মাধ্যমিক শিক্ষাটা পরিচালিতই হচ্ছে এই এমপিও নামক রাষ্ট্রীয় সহায়তার মাধ্যমে যেটি কোন স্থায়ী পদ্ধতি হতে পারেনা। তারপরেও হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষকগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন তাদের বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হবে, তাদের অর্থনৈতিক টানাপড়েন অনেকটাই কমবে- তারা শিক্ষাদানে অধিকতর মনোনিবেশ করতে পারবেন।

কিন্তু প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ অথবা এমপিওভুক্তির কোন আশা দেখা যাচ্ছে না। মাধ্যমিকের বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থাটি এ ধরনের একটি অস্থায়ী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, মান তলানিতে অথচ রাষ্ট্রীয় টাকায় আমরা এত এত বিশ^বিদ্যালয় বানাচ্ছি। বেসরকারি ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় শিক্ষার মানের অর্ধগতি রোধ করার কথা চিন্তা না করে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় বানানোর পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করা কেমন সিদ্ধান্ত তা আমাদের বুঝে আসেনা। এখানে মানসম্মত শীক্ষার্থী আসবে কোথা থেকে? তারা পাস করে সবাই বিসিএস পরীক্ষার জন্য লাইন দিবে অথচ দেশের মানুষ চিকিৎসা করাতে যাবে দেশের বাইরে, দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করানোর জন্য ভারত, শ্রীংলকা আর উন্নত দেশ থেকে প্রযুক্তি আমাদানি করতে হবে। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো সব লাঠিয়ালদের দখলে, এখানে নেই কোন আবিষ্কার, নেই প্রকৃত গবেষণা। শিক্ষার্থী যারা পড়াশুনা করছে তারা প্রশাসনিক ক্যাডার হওয়ার জন্য মরিয়া, আর যারা পড়াশুনা করছে না তারা রাজনৈতিক ক্যাডার হওয়ার প্রতিযোগিতায় ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করছে প্রতিদিন। আর যাদের একটু সাধ্য আছে তারা বিদেশে চলে যাচ্ছে, সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে প্রচুর ডলার। ডলার দেশে আনার প্রকৃত পরিকল্পনা এই শিক্ষার মাধ্যমে নেই। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে যদি লাঠিয়াল বাহিনী মুক্ত করে প্রকৃত পড়াশুনার জায়গা বানানোে যেত তাহলে আমরা প্রচুর বিদেশী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারতাম যা আমাদের অর্থনীতিকে সবল করতো।

শিক্ষার সমস্যার জন্য কোন চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় নেই বাজেটে

বাজেটে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এটি আরও বাড়িয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ লাখে উন্নীত করা হবে। ১০৯টি হাইটেক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১লাখ তরুন-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। হাইটেক ২০৪১ সালের মধ্যে ২লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বর্তমানে ১৭৬ দেশে এক কোটি ৪৯ লাখ কর্মী কাজ করেন। নতুন বাজার অনুসন্ধান করা হচ্ছে। নতুন বাজার খোঁজা মানে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে আর সেজন্য দরকার শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট ইকোনমি প্রয়োজন। কিন্তু স্মার্ট নাগরিক তৈরির পূর্বশর্তই হচ্ছে শিক্ষা অথচ জনগোষ্ঠীর একটা অংশকে শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে সুকৌশলে।যারা সংসারের অন্যদিকের খরচ কমিয়েও ভাবতেন যে তাদের সন্তানরা লেখাপড়া করুক সেটি আরও কঠিনতর হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে শিক্ষা উপকরণের দামও যেভারে বেড়েছে সেটিও ভীষণ বিপদে ফলেছে জনগণকে। যে বঞ্চনার জন্য আমরা স্বাধীন হয়েছি শিক্ষাক্ষেত্রে সেই বৈষম্যের রেখা যেন ইচ্ছে করেই স্ফীত করা হচ্ছে। যত ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা তা পাবেন মুষ্টিমেয় কিছু সরকারি শিক্ষকগণ, আর বেসরকারি শিক্ষকদের কিছুই বাড়ছে না যদিও রাষ্ট্রের শিক্ষার বিশাল অংশের দায়িত্ব তারাই পালন করছেন। শিক্ষার এ বৈষম্য আর কতকাল থাকবে? কোন বাজেটই কি এর প্রকৃত সমাধান দেবে না?

[লেখক : প্রেসিডেন্ট, ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ]

back to top