alt

সাময়িকী

বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা

রিসতিয়াক আহমেদ

: বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিল্পী : কাইয়ুম চৌধুরী

কবি ওবায়েদ আকাশ সম্পাদিত বিকল্প চিন্তার লিটল ম্যাগাজিন “শালুক” ইতোমধ্যে বিকল্প ধারার পাঠক-চিন্তক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আন্দোলিত করেছে বিশুদ্ধ সাহিত্যপাঠকের হৃদয়। এ পর্যন্ত শালুকের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। শালুকের প্রকাশনার বয়স প্রায় দুই যুগ হয়ে এলো। বাইশ বছরে পদার্পণ করেও তারুণ্যের এই পত্রিকাটি দিন দিন ব্যাপক সমৃদ্ধ কলেবরে প্রকাশিত হচ্ছে। দেশ-বিদেশের ব্যাপক পাঠকের প্রাণের লিটল ম্যাগজিনের নাম এখন “শালুক”।

দীর্ঘদিন ধরেই শালুক বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা প্রকাশ করছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মিথ সংখ্যা, সমালোচনা সাহিত্য, ইউলিসিস ও ওয়েস্ট ল্যান্ড, সম্ভাবনার কবিতা, শিল্পসাহিত্যের ইজম, সমসাময়িক বাংলা কবিতা ও বিশ্বকবিতা, শহীদুল জহির সংখ্যা, লোরকা সংখ্যা, মার্কেজ সংখ্যা, অন্য ভাষার সাহিত্য পাঠ, আবুল হাসান সংখ্যা, শহীদ কাদরী সংখ্যা, সিকদার আমিনুল হক সংখ্যা, জীবনানন্দ দাশ নিয়ে দুটি সংখ্যা যথাক্রমে- জীবনানন্দ দাশ: পাঠ পরাপাঠ ও দূরের কাছের জীবনানন্দ দাশ সংখ্যা।

আগামী সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে বাংলা ভাষার অপরিহার্য কবি সদ্য প্রয়াত শঙ্খ ঘোষকে নিয়ে।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শালুক প্রকাশিত হয় আরো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ধারণ করে : বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা” শিরোনামে। ত্রিশ-পঞ্চাশ-ষাটের দশকের পরে, কারো কারো মতে ত্রিশের পরে বাংলা কবিতায় নব্বইয়ের দশক একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দশক। এই দশকের কবিদের ভাষা ও দর্শন, উপস্থাপন এবং স্বকীয়তা নান্দনিক অর্থে ভিন্নতা ও অনন্যতায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশ, ভারত এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়ানো বাংলা ভাষার ৪২ জন কবির নির্বাচিত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সংখ্যাটি। কবি নির্বাচনের বেলায় “শালুক”-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অসংখ্য কবির ভেতর থেকে মাত্র ৪২ জনকে বাছাই করা খুবই কঠিন একটি কাজ। তবু করতে হয়। করতে গিয়ে অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কবিও বাদ পড়ে যান। আবার কম গুরুত্বপূর্ণ কবিও স্থান পেয়ে যান। এমন যাতে না ঘটে সেদিকে খেয়াল রেখেই তালিকাটি করা হয়েছে। তারপরও ভুলত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়।

বাংলাদেশের নব্বইয়ের দশকের যাঁদের লেখা মুদ্রণ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন- সরকার আমিন, মিহির মুসাকী, মুজিব ইরম, শাহ্নাজ মুন্নী, ওবায়েদ আকাশ, কামরুল ইসলাম, বায়তুল্লাহ্ কাদেরী, কুমার চক্রবর্তী, তাপস গায়েন, মজনু শাহ্, জফির সেতু, তুষার গায়েন, নেহাল আহমেদ, মোস্তাক আহমাদ দীন, হেনরী স্বপন, কাজল কাননসহ আরো কয়েকজন কবি।

ভারতের বিভিন্ন বাংলাভাষী অঞ্চলের কবিদের মধ্যে যাঁদের লেখা মুদ্রিত হয়েছে তাঁরা হলেন- পিনাকী ঠাকুর, শৌভিক দে সরকার, পৌলোমী সেনগুপ্ত, বিভাস রায়চৌধুরী, অর্ণব সাহা, অংশুমান কর, আর্যনীল মুখোপাধ্যায়, প্রসূন ভৌমিক, মিতুল দত্ত, যশোধরা রায়চৌধুরী, রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়, শিবাশিস মুখোপাধ্যায়, শুভাশীষ ভাদুড়ী, শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সাম্যব্রত জোয়ারদার, সুবীর মণ্ডল, হিন্দোল ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েকজন কবি।

কবি নির্বাচন সম্পর্কে শালুকের সম্পাদকীয় বক্তব্য থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি ব্যবহার করছি:

“বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের ‘প্রধান’ কবিদের কবিতা- এই বিশেষণটি ব্যবহার করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে গত দুই বছরাধিক কাল সময় ধরে। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা এই তালিকাটি প্রস্তুত করার পেছনে একটি বিষয়কে সবচে’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি- সেটি হলো কবিতার শক্তি। এর বাইরে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, প্রতিক্রিয়াশীলতাকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শালুক-এর পাঠকমাত্র জানেন শালুক বরাবরই এসবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করেছে। ব্যক্তিত্বহীনতা, কবিতা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি, কবিতা নিয়ে রাজনীতি, কবিতা নিয়ে দলবাজি, কবিতা নিয়ে অসহায়ের মতো মিডিয়ার যে কোনো ফরমাস মেনে অনুগ্রহ প্রার্থনা, সুবিধাবাদিতা, আত্মপ্রচার, জনপ্রিয়তার লোভে বিভিন্ন অসৎ কৌশলের আশ্রয় নেয়াকে শালুক কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। এবারও দেয়নি। সত্যিকারের সৎ, নিবেদিত, অভিজ্ঞতাঋদ্ধ, নতুনত্ব সন্ধানী, ব্যতিক্রমী, অনুসন্ধিৎসু, নতুন ভাষা, বদলে দেবার ভাষা, শাশ্বত ভাষায় কবিতা লেখার মেধাবী রূপকারদের কেবল এ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গির নতুনত্ব, চিত্রকল্প নির্মাণে নতুনত্ব, ঐতিহ্যচেতনা, সময়চেতনা, ইতিহাসচেতনা, জনগণচেতনা, আত্মচেতনা, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনা যে সকল কবিকে তাড়িত করেছে, উদ্বেলিত করেছে- বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আগরতলাসহ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষার এমন ৪২ জন নব্বইয়ের প্রকৃত কবি এ সংকলনভুক্ত হয়েছেন। একটি ব্যাপার কোনো কোনো পাঠককে ভাবিত করতে পারে যে, কোনো কোনো গোষ্ঠী দ্বারা কিংবা মিডিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচারিত নব্বইয়ের দশকের কোনো কোনো কবি এ তালিকাভুক্ত হয়নি কেন! যেহেতু এটি কোনো গোষ্ঠী বা মিডিয়ার চাপিয়ে দেয়া তালিকা নয়, এবং যেহেতু কোনো বাণিজ্যিক মিডিয়ার মতো শালুক-এর কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নাই, এবং যেহেতু এই তালিকাটি শুধুই কবিদের কবিতা ও কমিটমেন্টকে বিচার করে করা হয়েছে- তাই অন্য কোনো তথাকথিত গ্রহণযোগ্য তালিকার সঙ্গে শালুক-এর এ তালিকার কোনো মিল থাকবে না- এটিই স্বাভাবিক। আমরা শুধু পাঠককে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো শালুক-এ মুদ্রিত কবিতাগুলো পড়ে তাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়ার জন্য।”

সম্পাদকীয় ভাষ্য যথার্থই যুক্তিপূর্ণ। সম্পাদকীয় ভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে অন্য রচনাগুলো সম্পর্কে।

“বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা নিয়ে তিনটি সমৃদ্ধ মূল প্রবন্ধ লিখেছেন তিনজন বিশিষ্ট কবি ও লেখক। শুধু বাংলাদেশের নব্বইয়ের দশকের ২১ জন প্রধান কবিকে নিয়ে অসামান্য প্রবন্ধ লিখেছেন কবি, নন্দনতাত্ত্বিক ও সাহিত্য সমালোচক মাসুদুজ্জামান। পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের নব্বইয়ের দশকের ২১ জন প্রধান কবিকে নিয়ে লিখেছেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম কবি ও প্রাবন্ধিক কামরুল ইসলাম। এবং সমগ্র বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের ৪২ জন প্রধান কবিকে নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, কবি ও গল্পকার আহাম্মেদ কবীর।

এ সংখ্যায় আরো মুদ্রণ করা হয়েছে দুই বাংলার অগ্রজ ও তরুণ কবিদের গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা। এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছেন কবি-প্রাবন্ধিক ও নৃত্যশিল্পী সুশীল সাহা।...

মুদ্রণ করা হয়েছে এলিজাবেথ গ্যুন্টারের কবিতা ও হিন্দি কবিতার বাংলা অনুবাদ। অসামান্য ব্যঙ্গ সাহিত্যিক ত্রৈলক্যনাথকে নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক মুহম্মদ সবুর। মুদ্রিত হলো কামাল রাহমান ও সাদ কামালীর দুটি গল্প এবং পিয়াস মজিদের একটি কাব্যনাটিকা। আরো মুদ্রণ করা হলো ‘প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায়’ নামে দশ পৃষ্ঠার একটি কবিতার পাণ্ডুলিপি। সাদ কামালীর উপন্যাস ‘লীলাবতি’ ও ওবায়েদ আকাশের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘যা কিছু সবুজ, সঙ্কেতময়’ নিয়ে দুটি পৃথক আলোচনা লিখেছেন গল্পকার অনন্ত মাহফুজ এবং তরুণ কবি চানক্য বাড়ৈ।”

কয়েকজন অগ্রজ কবির লেখা সংখ্যাটিকে বিশেষভাবে উজ্জ্বল করেছে। তাঁরা হলেন কবি আলোক সরকার, সৈয়দ শামসুল হক, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, মণীন্দ্র গুপ্ত, শঙ্খ ঘোষ, উৎপলকুমার বসু, রফিক আজাদ, সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, কালিকৃষ্ণ গুহ, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, আলতাফ হোসেন, মুহম্মদ সবুর, সুব্রত সরকার প্রমুখ।

সাড়ে চারশো পৃষ্ঠার এ সংখ্যাটির মূল্য রাখা হয়েছে মাত্র একশো টাকা। এছাড়া শালুক সম্প্রতি নিয়মিত মাসিক সাহিত্যসন্ধ্যার আয়োজন করে সাহিত্যিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ছবি

একটি পূর্ণাঙ্গ কোষগ্রন্থ

ছবি

সুবেদার রাজ্জাকের বীরত্বগাথা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

লরেন্স ফারলিঙ্ঘেতির কবিতা

ছবি

অলকানন্দা

ছবি

মুখের দিকে না দেখে

ছবি

সোনা-মোড়া কথাশিল্প শহীদুল জহির

সাময়িকী কবিতা

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

তাপস গায়েনের কবিতা

ছবি

চির অন্তরালে বশীর আলহেলাল

ছবি

“জনপ্রিয় লেখকরা ক্ষমতাবান”

ছবি

শব্দহীন শোকের ভেলায় চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ!

ছবি

শোকার্ত পুষ্পাঞ্জলি

ছবি

মনন-মেধা আর বিনোদনের ত্রিবেণী সঙ্গম

ছবি

বিস্ময় না কাটে

ছবি

বিশ্বসাহিত্যে এক অপার বিস্ময়

ছবি

কাজী নজরুল ও কাজী আব্দুল ওদুদ প্রসঙ্গ

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

লকডাউন

সাময়িকী কবিতা

ছবি

রাজবন্দি নজরুল

ছবি

তাঁর তৃতীয় জীবন

ছবি

নজরুল ইসলাম ও উন্মুক্ত পথ

ছবি

শহরের শেষ রোদ

ছবি

একজন মায়াতরুর গল্প

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

ছবি

গুয়েনডলিন ম্যাকইওয়েনের ভাবুকতা

ছবি

এলিজি, শোকার্ত আগস্ট

ছবি

নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন

ছবি

আমরা সবাই শরণার্থী

ছবি

এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ

ছবি

শিকিবু

tab

সাময়িকী

বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা

রিসতিয়াক আহমেদ

শিল্পী : কাইয়ুম চৌধুরী

বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

কবি ওবায়েদ আকাশ সম্পাদিত বিকল্প চিন্তার লিটল ম্যাগাজিন “শালুক” ইতোমধ্যে বিকল্প ধারার পাঠক-চিন্তক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আন্দোলিত করেছে বিশুদ্ধ সাহিত্যপাঠকের হৃদয়। এ পর্যন্ত শালুকের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। শালুকের প্রকাশনার বয়স প্রায় দুই যুগ হয়ে এলো। বাইশ বছরে পদার্পণ করেও তারুণ্যের এই পত্রিকাটি দিন দিন ব্যাপক সমৃদ্ধ কলেবরে প্রকাশিত হচ্ছে। দেশ-বিদেশের ব্যাপক পাঠকের প্রাণের লিটল ম্যাগজিনের নাম এখন “শালুক”।

দীর্ঘদিন ধরেই শালুক বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা প্রকাশ করছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মিথ সংখ্যা, সমালোচনা সাহিত্য, ইউলিসিস ও ওয়েস্ট ল্যান্ড, সম্ভাবনার কবিতা, শিল্পসাহিত্যের ইজম, সমসাময়িক বাংলা কবিতা ও বিশ্বকবিতা, শহীদুল জহির সংখ্যা, লোরকা সংখ্যা, মার্কেজ সংখ্যা, অন্য ভাষার সাহিত্য পাঠ, আবুল হাসান সংখ্যা, শহীদ কাদরী সংখ্যা, সিকদার আমিনুল হক সংখ্যা, জীবনানন্দ দাশ নিয়ে দুটি সংখ্যা যথাক্রমে- জীবনানন্দ দাশ: পাঠ পরাপাঠ ও দূরের কাছের জীবনানন্দ দাশ সংখ্যা।

আগামী সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে বাংলা ভাষার অপরিহার্য কবি সদ্য প্রয়াত শঙ্খ ঘোষকে নিয়ে।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শালুক প্রকাশিত হয় আরো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ধারণ করে : বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা” শিরোনামে। ত্রিশ-পঞ্চাশ-ষাটের দশকের পরে, কারো কারো মতে ত্রিশের পরে বাংলা কবিতায় নব্বইয়ের দশক একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দশক। এই দশকের কবিদের ভাষা ও দর্শন, উপস্থাপন এবং স্বকীয়তা নান্দনিক অর্থে ভিন্নতা ও অনন্যতায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশ, ভারত এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়ানো বাংলা ভাষার ৪২ জন কবির নির্বাচিত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সংখ্যাটি। কবি নির্বাচনের বেলায় “শালুক”-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অসংখ্য কবির ভেতর থেকে মাত্র ৪২ জনকে বাছাই করা খুবই কঠিন একটি কাজ। তবু করতে হয়। করতে গিয়ে অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কবিও বাদ পড়ে যান। আবার কম গুরুত্বপূর্ণ কবিও স্থান পেয়ে যান। এমন যাতে না ঘটে সেদিকে খেয়াল রেখেই তালিকাটি করা হয়েছে। তারপরও ভুলত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়।

বাংলাদেশের নব্বইয়ের দশকের যাঁদের লেখা মুদ্রণ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন- সরকার আমিন, মিহির মুসাকী, মুজিব ইরম, শাহ্নাজ মুন্নী, ওবায়েদ আকাশ, কামরুল ইসলাম, বায়তুল্লাহ্ কাদেরী, কুমার চক্রবর্তী, তাপস গায়েন, মজনু শাহ্, জফির সেতু, তুষার গায়েন, নেহাল আহমেদ, মোস্তাক আহমাদ দীন, হেনরী স্বপন, কাজল কাননসহ আরো কয়েকজন কবি।

ভারতের বিভিন্ন বাংলাভাষী অঞ্চলের কবিদের মধ্যে যাঁদের লেখা মুদ্রিত হয়েছে তাঁরা হলেন- পিনাকী ঠাকুর, শৌভিক দে সরকার, পৌলোমী সেনগুপ্ত, বিভাস রায়চৌধুরী, অর্ণব সাহা, অংশুমান কর, আর্যনীল মুখোপাধ্যায়, প্রসূন ভৌমিক, মিতুল দত্ত, যশোধরা রায়চৌধুরী, রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়, শিবাশিস মুখোপাধ্যায়, শুভাশীষ ভাদুড়ী, শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সাম্যব্রত জোয়ারদার, সুবীর মণ্ডল, হিন্দোল ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েকজন কবি।

কবি নির্বাচন সম্পর্কে শালুকের সম্পাদকীয় বক্তব্য থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি ব্যবহার করছি:

“বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের ‘প্রধান’ কবিদের কবিতা- এই বিশেষণটি ব্যবহার করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে গত দুই বছরাধিক কাল সময় ধরে। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা এই তালিকাটি প্রস্তুত করার পেছনে একটি বিষয়কে সবচে’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি- সেটি হলো কবিতার শক্তি। এর বাইরে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, প্রতিক্রিয়াশীলতাকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শালুক-এর পাঠকমাত্র জানেন শালুক বরাবরই এসবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করেছে। ব্যক্তিত্বহীনতা, কবিতা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি, কবিতা নিয়ে রাজনীতি, কবিতা নিয়ে দলবাজি, কবিতা নিয়ে অসহায়ের মতো মিডিয়ার যে কোনো ফরমাস মেনে অনুগ্রহ প্রার্থনা, সুবিধাবাদিতা, আত্মপ্রচার, জনপ্রিয়তার লোভে বিভিন্ন অসৎ কৌশলের আশ্রয় নেয়াকে শালুক কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। এবারও দেয়নি। সত্যিকারের সৎ, নিবেদিত, অভিজ্ঞতাঋদ্ধ, নতুনত্ব সন্ধানী, ব্যতিক্রমী, অনুসন্ধিৎসু, নতুন ভাষা, বদলে দেবার ভাষা, শাশ্বত ভাষায় কবিতা লেখার মেধাবী রূপকারদের কেবল এ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গির নতুনত্ব, চিত্রকল্প নির্মাণে নতুনত্ব, ঐতিহ্যচেতনা, সময়চেতনা, ইতিহাসচেতনা, জনগণচেতনা, আত্মচেতনা, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনা যে সকল কবিকে তাড়িত করেছে, উদ্বেলিত করেছে- বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আগরতলাসহ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষার এমন ৪২ জন নব্বইয়ের প্রকৃত কবি এ সংকলনভুক্ত হয়েছেন। একটি ব্যাপার কোনো কোনো পাঠককে ভাবিত করতে পারে যে, কোনো কোনো গোষ্ঠী দ্বারা কিংবা মিডিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচারিত নব্বইয়ের দশকের কোনো কোনো কবি এ তালিকাভুক্ত হয়নি কেন! যেহেতু এটি কোনো গোষ্ঠী বা মিডিয়ার চাপিয়ে দেয়া তালিকা নয়, এবং যেহেতু কোনো বাণিজ্যিক মিডিয়ার মতো শালুক-এর কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নাই, এবং যেহেতু এই তালিকাটি শুধুই কবিদের কবিতা ও কমিটমেন্টকে বিচার করে করা হয়েছে- তাই অন্য কোনো তথাকথিত গ্রহণযোগ্য তালিকার সঙ্গে শালুক-এর এ তালিকার কোনো মিল থাকবে না- এটিই স্বাভাবিক। আমরা শুধু পাঠককে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো শালুক-এ মুদ্রিত কবিতাগুলো পড়ে তাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়ার জন্য।”

সম্পাদকীয় ভাষ্য যথার্থই যুক্তিপূর্ণ। সম্পাদকীয় ভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে অন্য রচনাগুলো সম্পর্কে।

“বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবিদের কবিতা নিয়ে তিনটি সমৃদ্ধ মূল প্রবন্ধ লিখেছেন তিনজন বিশিষ্ট কবি ও লেখক। শুধু বাংলাদেশের নব্বইয়ের দশকের ২১ জন প্রধান কবিকে নিয়ে অসামান্য প্রবন্ধ লিখেছেন কবি, নন্দনতাত্ত্বিক ও সাহিত্য সমালোচক মাসুদুজ্জামান। পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের নব্বইয়ের দশকের ২১ জন প্রধান কবিকে নিয়ে লিখেছেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম কবি ও প্রাবন্ধিক কামরুল ইসলাম। এবং সমগ্র বাংলা ভাষার নব্বইয়ের দশকের ৪২ জন প্রধান কবিকে নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, কবি ও গল্পকার আহাম্মেদ কবীর।

এ সংখ্যায় আরো মুদ্রণ করা হয়েছে দুই বাংলার অগ্রজ ও তরুণ কবিদের গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা। এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছেন কবি-প্রাবন্ধিক ও নৃত্যশিল্পী সুশীল সাহা।...

মুদ্রণ করা হয়েছে এলিজাবেথ গ্যুন্টারের কবিতা ও হিন্দি কবিতার বাংলা অনুবাদ। অসামান্য ব্যঙ্গ সাহিত্যিক ত্রৈলক্যনাথকে নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক মুহম্মদ সবুর। মুদ্রিত হলো কামাল রাহমান ও সাদ কামালীর দুটি গল্প এবং পিয়াস মজিদের একটি কাব্যনাটিকা। আরো মুদ্রণ করা হলো ‘প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায়’ নামে দশ পৃষ্ঠার একটি কবিতার পাণ্ডুলিপি। সাদ কামালীর উপন্যাস ‘লীলাবতি’ ও ওবায়েদ আকাশের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘যা কিছু সবুজ, সঙ্কেতময়’ নিয়ে দুটি পৃথক আলোচনা লিখেছেন গল্পকার অনন্ত মাহফুজ এবং তরুণ কবি চানক্য বাড়ৈ।”

কয়েকজন অগ্রজ কবির লেখা সংখ্যাটিকে বিশেষভাবে উজ্জ্বল করেছে। তাঁরা হলেন কবি আলোক সরকার, সৈয়দ শামসুল হক, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, মণীন্দ্র গুপ্ত, শঙ্খ ঘোষ, উৎপলকুমার বসু, রফিক আজাদ, সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, কালিকৃষ্ণ গুহ, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, আলতাফ হোসেন, মুহম্মদ সবুর, সুব্রত সরকার প্রমুখ।

সাড়ে চারশো পৃষ্ঠার এ সংখ্যাটির মূল্য রাখা হয়েছে মাত্র একশো টাকা। এছাড়া শালুক সম্প্রতি নিয়মিত মাসিক সাহিত্যসন্ধ্যার আয়োজন করে সাহিত্যিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

back to top