image

শামীম আজাদ-এর কবিতা

চানখাঁরপুল থেকে লিভারপুল

আচ্ছা, বারবার এই সর্ষেরঙা রোদটুকু

যায় কোথায় বলুন দেখি?

পায়রা-পাহাড়ের পেছনে

নাকি আকাশ-আলনায় ঝোলানো

মেঘের ভাঁজে ভাঁজে

চাপা পড়ে যায়?

নাকি থিতু হয়ে বসবার

কোনো স্থানই সে দেখছে না?

তবে কি আমিই তাঁকে

ঘর আর আঙিনার

খ-িত সুবাসের উপর কিছুতেই

বসতে দিচ্ছি না!

তা’হলে ঐ রাজকীয় রোদের

আর কী দোষ?

সে তো লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া

সাইকেলে প্যাডেল মারবেই-

চানখারপুল থেকে লিভারপুল।

ওরে ও ফইটক্যা,

ওরে ফকফকা অইলদা রইদ

জানোস না,

বুঝোস না কি কুনু কুন্তাই?

এই যে এ এবেলাটাই তো শুধু

কুসুমের ক্রান্তিকাল।

দয়া করো

ধৈর্য ধরো

তিষ্টাও ক্ষণকাল।

কত কাল আর আমি কাটাবো

এ ভূতের বিছানায়!

আমারও তো

এ বিলেতের আমাদের জ্ঞাতিগোষ্ঠির

ব্যবহৃত তক্তপোষ আর

চোখের জলে ভেজা সিথানটা

একটু শুকোতে ইচ্ছে করে।

শোনো হে রোদবালক,

তুমি তো আর লর্ডস এ ক্রিকেট খেলছো না

যে প্রকাশ্যে ছক্কা মারতে হবে তোমায়?

একটু লুকিয়ে চুরিয়ে আসো না-

শীতের রাতে

গোপন গোলাপ চা’য়ের মতো,

ব্যাপক বর্ষায়

মাটির চুলোর ধারের উষ্ণতার মতো

মিশেল সন্ধ্যায়

মার্বলআর্চের গথিক গীর্জাচূড়োর

হাল্কা চাঁদের মতো।

তুমি আরেকবার আসিয়া

বাবু যাও মোরে ভাসাইয়া।

ঐ বিন্দু সময়েই অতি দ্রুত

আমি আমার কার্গোর বাক্সগুলোর ডালা

পেরেক ঠুকে ঠিক বন্ধ করে ফেলতে পারবো।

তারপর, যা হবার তাই হবে-

ইত্যকার এ ঘন সমুদ্রেরই পিঠে

সীগ্যালের ঠোঁটে ঠোঁটে

অন্ধকার ঠাহর করে করে

যার দরকার সে ঠিকই

খুঁজে লবে ঠিকানা তোমার।

সম্প্রতি