image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

অন্ধত্ব ও পক্ষাঘাতে বন্দী, জীবন-মৃত্যুর প্রহর গুনছেন বাগাতিপাড়ার আবুল হোসেন

প্রতিনিধি, বাগাতিপাড়া (নাটোর)

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৫১)। এক সময় তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী ভ্যানচালক। নিজের কাঁধের ঘাম ঝরিয়ে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট একটি সুখের সংসার। অথচ আজ সেই আবুলই শুয়ে আছেন নিঃশব্দ এক মৃত্যুকক্ষের মতো বিছানায় অন্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং বাকরুদ্ধ।

গত সাত মাস ধরে তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী। হাত-পা অবশ, চোখে কিছুই দেখেন না। মুখে কথা আসে না—শুধু মাঝে মাঝে অস্ফুট স্বরে “হুম” কিংবা “আ” বলে উঠেন। যেন বলার চেষ্টা করেন তিনি এখনো বেঁচে আছেন, কিন্তু বাঁচতে পারছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবুলের পরিবার এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গরু, ছাগল, সংসারের আসবাবপত্র সবই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। দিন কাটছে মানুষের দয়ার ওপর। কোনো কোনো দিন ঠিকমতো খাবারও জোটে না। আবুল হোসেন গালিমপুর গ্রামের মৃত সুকচান আলীর ছেলে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম ও দুই শিশু সন্তান আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করেই আবুলের মাথা ঘোরা, বমি, চোখ লাল হওয়া ও চোখের ভেতরে ক্ষতের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। শুরু হয় হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ। নাটোর সদর, সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজেও চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু কোথাও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। শেষ আশায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি চোখ অপারেশন করে তুলে ফেলতে হয়। ভেবেছিল অন্তত জীবনটা বাঁচবে। কিন্তু ভাগ্য যেন আরও নির্মম। চোখ অপারেশনের তিন মাসের মধ্যেই পুরো শরীর প্যারালাইসিস হয়ে পড়ে আবুলের। আজ তিনি বিছানায় বন্দি নিজের শরীর নিজে নড়াতে পারেন না, কথা বলতে পারেন না, চোখে আলো নেই।

আবুলের স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৪৩) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামীর চিকিৎসার জন্য যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমাদের পেটে ভাতই জোটে না। আমি কোথায় যাবো? কীভাবে তাকে চিকিৎসা করাবো? মানুষ যদি একটু সাহায্য করতো, তাহলে হয়তো আমার স্বামীটা বাঁচতো।

তার বড় বোন জমেলা বেগম বলেন, আমার ভাই ২০ বছর ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছে। আজ সে বিছানায় পড়ে আছে। মানুষের একটু সহানুভূতিই পারে এই পরিবারটাকে বাঁচাতে।

স্থানীয় শিক্ষক মাহাবুর রহমান বলেন, একজন কর্মঠ মানুষকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেখা খুব কষ্টের। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।

পাঁকা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন জানান, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করছি। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমেও সাহায্যের চেষ্টা করবো।’

এক সময়ের কর্মঠ ভ্যানচালক আবুল হোসেন আজ অন্ধত্ব ও পক্ষাঘাতে বন্দী। চিকিৎসার অভাবে তার জীবন আজ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের মানবিক মানুষদের সহায়তাই পারে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি