গোবিন্দগঞ্জে সক্রিয় কষ্টিপাথরের মূর্তি পাচার চক্র

প্রতিনিধি, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

উত্তরের জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কষ্টিপাথরের মূর্তি পাচার সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গেল বছরের ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার কাটাবাড়ী গ্রামের বাগদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সদস্যরা কোটি টাকা দামের ৩৭ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছিল। সে সময় পাচার সিন্ডিকেটে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।

সেই ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত গভীর রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রশিদ নগর এলাকার টুলট গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩১ কেজি ওজনের দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজার দাম ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো। এসময় পাচারে জড়িত একজনকে আটক করেছে বিজিবি।

এদিকে, উদ্ধার করা মূর্তি দুটি কষ্টিপাথরের কি না তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠাবে বিজিবি। পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) কর্মকর্তারা বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচার রোধে বিজিবি কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

বিজিবি সূত্রমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ২০ বিজিবির জেসিও সুবেদার মো. গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল গোবিন্দগঞ্জের টুলট গ্রামে পিকআপ নিয়ে অভিযান চালায়। এসময় গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলামকে (৪০) তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে কষ্টিপাথরের দুটি মূর্তি উদ্ধার হয়।

বিজিবির প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, উদ্ধার করা বড় মূর্তির ওজন ২৮ কেজি ৫০০ গ্রাম। যার আনুমানিক দাম ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ছোট মূর্তিটির দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। দুটি মিলে ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের মূর্তি দুটির বাজার দাম ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো।

এর আগে গেল বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর, সিটিসি র‌্যাব-১৩ এর নায়েক সুবেদার আব্দুর রউফের নেতৃত্বে বিশেষ টিম দিনাজপুর- গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগদা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়।এসময় কোটি টাকা দামের ৩৭ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মূর্তি পাচারের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কাটাবাড়ী গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান(৩৫), আব্দুল কুদ্দুস শেখের ছেলে লিটন মিয়া(৩০) ও নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বড়াই গ্রামের অনিল চন্দ্র সরকারের ছেলে শিবু সরকারকে (৩০) গ্রেপ্তার করে।

মূর্তি উদ্ধারকারী র‌্যাব সদস্যরা জানান, উদ্ধার করা বস্তুটি দিনাজপুর কাহারোল প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে আলস কষ্টিপাথরের মূর্তি বলে নিশ্চিত হয়েছেন তারা।

সেদিন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তিদের রিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

কাটাবাড়ীতে কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধারের দুদিন আগে ১ সেপ্টেম্বর একই এলাকা থেকে কষ্টিপাথরের প্রায় ৫ কেজি ওজনের আরেকটি মূর্তি এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই গোবিন্দগঞ্জে মূর্তিপাচার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।সিন্ডিকেটের অনেকেই মাঝে মাঝে আটক হলেও পাচার বন্ধ হয়নি।

https://sangbad.net.bd/images/2026/February/27Feb26/news/%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%20%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF.jpg

স্থানীয় ব্যক্তি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রাচীন বাংলার প্রথম রাজধানী ‘পুন্ড্রনগর’ বা মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা ঘিরে শক্তিশালী মূর্তিপাচার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার মূল্যবান পাথরের মূর্তি পাচার হতো আগে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও সক্রিয় রয়েছে চক্রটি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» স্বপ্নছোঁয়ার আগেই নিভে গেল প্রাণ প্রবাসে যাওয়ার এক দিন পরই মৃত্যু

সম্প্রতি