image

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান আসামি নূরা গ্রেপ্তার

প্রতিনিধি, মাধবদী (নরসিংদী)

নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্য আসামি হযরত আলীকেও।

এ নিয়ে মামলায় মোট সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এর আগে মাধবদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একই মামলায় অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা সালিশ বৈঠকের বিচারক মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়াকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি।

গ্রেপ্তারকৃত সাতজন হলেন- প্রধান আসামি পেশায় রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), হযরত আলী (৩৭), নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব (৩০), মহিষাশুড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), হোসেন বাজার এলাকার আবদুল গাফফার (৪০) ও এবাদুল্লাহ (৪০)।

নিহত কিশোরী একটি পোশাক কারখানার কাজ করতো। পরিবারের সঙ্গে দড়িকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। তাকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, কিশোরীর বাবা বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। দিন ১৫ আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের পর বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যান। সেখানে প্রধান অভিযুক্ত ও তাদের সহযোগীরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে রফাদফার চেষ্টা করেন। তবে রফাদফা না হওয়ায় নিহতের পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।

সেই ঘটনার পর গেল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন কিশোরীর বাবা। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে আরও পাঁচজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান।

এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একই এলাকার একটি শর্ষেখেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। রাতে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় মামলা করেন নিহতের মা ফাহিমা বেগম।

এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি নেতাসহ ৫ জনকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক ১ মার্চ (আগামীকাল রোববার) শুনানির দিনে ধার্য করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহতের বাবা আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন ছুরির মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন দুপুরে তার মরদেহ পান। তার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন আশরাফ।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামিসহ মোট ৭ জনকে এখন অবধি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» স্বপ্নছোঁয়ার আগেই নিভে গেল প্রাণ প্রবাসে যাওয়ার এক দিন পরই মৃত্যু

সম্প্রতি