গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে সবুজ গাছ আর পরে সোনালি আলুর স্তূপ দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামেও আলু বিক্রি করতে না পেরে চরম লোকসানে পড়েছেন হাজারো চাষি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আলুর দাম তলানিতে নেমে গেছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকায়। অথচ কৃষকদের হিসাবে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৪ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও তুলতে পারছেন না তারা।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে সেই আলু বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি লোকসান দাঁড়াচ্ছে ২৩ থেকে ২৮ হাজার টাকায়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক আলুচাষি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিঘায় যদি ২৫-২৮ হাজার টাকা লোকসান হয়, তাহলে কৃষক আর কতদিন টিকে থাকবে? এভাবে চললে কৃষককে পথে বসতে হবে।”
লোকসানের ওপর বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ‘ঢলন’ পদ্ধতি। কৃষকদের অভিযোগ, পাইকারি ব্যবসায়ীরা ৬০ কেজির প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত প্রায় ৫ কেজি আলু বেশি নিচ্ছেন। এই অতিরিক্ত ওজনের জন্য কৃষকদের কোনো অর্থ দেওয়া হয় না।
কৃষকদের মতে, এভাবে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০০ কেজি আলু বিনা দামে দিতে হচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্যে যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকার সমান।
কৃষকদের দাবি, দেশে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে এবং দাম পড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু সংগ্রহ করে অথবা বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়, তাহলে বাজারে কিছুটা স্থিতি ফিরতে পারে।
একাধিক চাষি বলেন, সরকারি পর্যায়ে আলু কেনা শুরু হলে বাজারদর বাড়বে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহেদী হাসান বলেন, কৃষি বিভাগ মূলত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করে। বাজারদর ও বিপণনের বিষয়টি দেখেন কৃষি বিপণন বিভাগ।
অন্যদিকে একজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, জমি থেকে আলু তোলা, বস্তাজাত করা এবং কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত প্রতি কেজিতে খরচ প্রায় ২২ টাকা পর্যন্ত দাঁড়ায়। বাজারে দাম কম থাকায় তারাও ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সংগ্রহ এবং রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি না হয়, তাহলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষকই আলু চাষ থেকে সরে দাঁড়াবেন। এতে ভবিষ্যতে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক: এবার আজারবাইজানে ইরানি ড্রোনের আঘাত