কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই ট্রেন থেকে ভারতীয় অবৈধ পণ্য খালাসের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চোরাচালান রোধে যেখানে পুলিশের কঠোর হওয়ার কথা, সেখানে খোদ পুলিশের পাহারায় মালামাল সরানোর এমন ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে রেলওয়ে থানায় মাসোহারার ভিত্তিতে চোরাকারবারিরা রেলপথ দিয়ে অবৈধভাবে মালামাল আনতে সহযোগিতা করছে খোদ পুলিশের সদস্যরা। এতে অবৈধভাবে ভারত থেকে রেলপথে পণ্য আনায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এ ছাড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অফিসার (আরএনবি) কিছু সদস্য জড়িত রয়েছে বলে তথ্যে জানা যায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন ট্রেন-বিশেষ করে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ভৈরব স্টেশনে থামলে একটি অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ও আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেন থামিয়ে বস্তাভর্তি ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, চাল, জিরা, আতশবাজি ও মাদকদ্রব্য নামানো হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পণ্য খালাসের সময় রেলওয়ে পুলিশের সদস্যদের সেখানে নিরাপত্তা দিতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও আউটার সিগন্যালে ট্রেন থামিয়ে দ্রুত অটোরিকশায় করে এসব অবৈধ মালামাল গন্তব্যে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোরাকারবারি সদস্যের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। তিনি জানান,মাদক থেকে শুরু করে কসমেটিকস, শাড়ি বা জিরা সবকিছুরই কন্টাক্ট আছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিটি স্টেশনে লোক সেট করা থাকে। সব জায়গাতেই নির্দিষ্ট হারে টাকা (মাসোহারা) দিতে হয়, তাই কেউ বাধা দেয় না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সবাই দেখেও কিছু বলে না। পুলিশ সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও না দেখার ভান করে। সাধারণ কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো তাকেই বিপদে পড়তে হয়।
ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান মোহাম্মদ বলেন, আমার ডিপার্টমেন্টে কেউ জড়িত আছে বলে আমার জানা নেই তবে কেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ বরাবরের মতোই দায় অস্বীকার করে তিনি বলেন, পুলিশ চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। রেলওয়ে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরাধে জড়িত কাউকে পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগের রেলওয়ের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স। পুলিশের কোনো সদস্য যদি এই অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরাধ ও দুর্নীতি: সুগন্ধা সৈকত দখল করে চাঁদাবাজি
অর্থ-বাণিজ্য: পোশাকশ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিল সরকার
অর্থ-বাণিজ্য: বড় পতন শেয়ারবাজারে, ডিএসইর সূচক কমলো প্রায় ২০০ পয়েন্ট