image

মধুপুর গড়ে সরিষার হলুদ দিগন্তে শীত আর কুয়াশার বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা

প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান শীত আর কুয়াশা যেন জেঁকে বসেছে। ছোট দিন হওয়ার কারণে সূযের আলো দেখা মেলা যেন ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠে মাঠে যখন সরিষার ফুলে ফুলে মাঠ ছেঁয়ে গেছে তখন এমন বৈরী আবহাওয়ার ফলে সরিষার সুন্দর মনোমুগ্ধকর ফুল দেখা গেলেও আশানুরূপ ফলন নিয়ে ভাবছে কৃষকরা। কুয়াশার কারণে ফুল হলে ফল তেমনটা ফলনে কিছুটা কম আসতে পারে এমন চিন্তা দেখা দিয়েছে কৃষক পর্যায়ে। তবে সরিষার উৎপাদনে কোন সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। আর ফলন কিছুটা কম আসতে পারে এমনটাই জানিয়েছে সরিষার চাষের সঙ্গে জড়িত কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বলছে, কুয়াশা আর শীতের কারণে ফলন কিছুটা কমে আসতে পারে। ফুল দেখা দিলেও কুয়াশার কারণে ফল আকারে তেমন বড় না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তবে কুয়াশায় কারণে কোথাও সরিষা নষ্ট হয়নি বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া, পিরোজপুর, কুড়াগাছা, শালিকা, গোলাবাড়ি ও ধনবাড়ি উপজেলার মশুদ্দি, কামারপাড়া, চাতুটিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর তারা আমন ধান কাটার পর সরিষার বীজ বপন করে। বেড়ে উঠে গাছ। সরিষার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় মাঠ। গত কয়েকদিনের শীত আর কুয়াশায় তাদের ক্ষতির আশঙ্কা করছে। ফলন কেমন হবে, তা নিভর করবে আবহাওয়ার ওপর।

এবারও মধুপুর ও ধনবাড়ি উপজেলায় বারি-১৪ জাতের সরিষার চাষ হয়েছে বেশি। অন্যান্য জাতের মধ্যে রয়েছে বিনা-১৭, বিনা-১৮, বিনা-২৯। অন্যান্য জাতের থেকে বারি-১৪ ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা এটি চাষে আগ্রহ বেশি। চাষিরা জানিয়েছেন সরিষা আবাদ করতে খরচ কম লাভ হয় বেশি।

মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫শ হেক্টরÑ যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত আরও ১১০ হেক্টর পেরিয়ে মোট ২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। কৃষকদের আশা করছে শীতের এ প্রভার কাটিয়ে আবহাওয়া ও পরিবেশ ঠিক থাকলে সরিষার ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তবে এ বছরের কয়েক দিনের শীত কুয়াশার প্রভাবে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা।

দড়িহাতীল তালুকপাড়া গ্রামের মো. হযরত আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ বছর দুই বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। প্রতিটি সরিষাগাছে প্রচুর পরিমাণ ফুল ধরেছে। মনে হচ্ছে, গত বছরের মতো এবারো ফলন ভালো পাবো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সময়মতো সরিষা ঘরে তুলতে পারলে ভালোই লাভের আশা করা যাচ্ছে।

আ. মালেক (তুলা) সাংবাদিকেদের জানান, গত বছর সরিষার দাম ভালো থাকায় এ বছর আমি প্রায় দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি, ফলন ভাল হয়েছে। আশা করছি ভালো দাম নিয়ে বিক্রি করতে পারব। কুড়ালিয়া ইউনিয়নে বানিয়াাড়ী গ্রামের মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসমে আমি তিন বিঘা জমিতে সরিষা লাগিয়েছি। এই বছর আবহাওয়া কিছুটা বৈরি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে মধুপুর উপজেলার ব্যাপক সরিষার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ বছর ২৬১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষা করা হয়েছে। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। যা গত বছরে তুলনায় এ বছর ১১০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষা এমন একটি ফসল যা থেকে তেল মধু শাকসবজি সার পরিশেষে গাছ লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সরিষা ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। তাই এ ফসল আবাদে তেমন বেশি সার ও কিটনাশকও ব্যবহার করতে হয় না। শীত কুয়াশার কারণে কোথাও কোনো সরিষার জমি নষ্ট হয়নি। তবে ফলন কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি জানান। ধনবাড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, এ বছর সরিষার উপর চলমান শীত আর কুয়াশার ফলে ফলনে কিছু প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি। সরিষার দানায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে এ বছর অন্যান্য বছরের মতো ভালো ফলন আশা করা যেত।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ডিমলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ ঢাকতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের রহস্যজনক বদলি

সম্প্রতি