৩০ বছর ধরে খাবার পানি সংকট
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ কোলঘেঁষা ভোলা নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ গুলিশাখালী গ্রামের ২ শতাধিক পরিবারের মানুষ সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। একটি পুকুর খননের অভাবে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি সরকারিভাবে একটি খাবার পানি পুকুর খনন ও পিএসএফ নির্মাণের।
সরজমিনে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ভোলা নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ গুলিশাখালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। এ গ্রামটি কোলঘেঁষা সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ গুলিশাখালী টহল ফাঁড়ি স্টেশন। দীর্ঘ ৩০ বছর আগে ভরাট হয়ে যাওয়া ভোলা নদী পুনঃখননের পরবর্তী এ নদীর তীরেই দক্ষিণ গুলিশাখালী গ্রামের মানুষের বসবাস শুরু হয়। ৭নং ওয়ার্ডজুড়েই গোটা গ্রাম, প্রায় ৫-৬ হাজার মানুষের এখানে বসবাস। গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন ২শ পরিবারের দেড় হাজার মানুষের বসবাসের মধ্যে নেই কোনো খাবার পানির পুকুর। আড়াই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ভ্যানে অদূরবর্তী তালুকদার বাড়ি পুকুর থেকে পানি আনতে হয় এ গ্রামের সবার। এভাবে দীর্ঘ ৩০ বছর কেটে গেলেও আজ পর্যন্ত খাবার পানির পুকুর খনন হয়নি। সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন গ্রামবাসী।
ভোলা নদীর জোয়ারে পানি সরাসরি নদী থেকে তুলে ফুটিয়ে পান করছেন অনেকে। তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও যেতে ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে। বর্ষ মৌসুমে হাঁটুসম কাদা-পানি ভেঙে দুর্ভোগের শেষ থাকে না এ পরিবারগুলোর। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালী এ পরিবারগুলোর জীবন সংগ্রামে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণেরও আতঙ্কে থাকতে হয়। বাঘ লোকালয়ে ঢুকে তাদের বাড়িঘর থেকে গরু-মহিষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে অনেক সময়। গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙে বাঘের গর্জনে। অতিরিক্ত লবণাক্ততায় একাধিক ফসল উৎপাদন ব্যাহতসহ নানা প্রতিকূলতায় এ গ্রামের মানুষের দৈনন্দদিন বসবাসের সংকটপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ গুলিশাখালী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ভিলেজ টাইগার রেন্সপন্স টিমের (বিটিআরটি) সদস্য আব্দুর বারেক হাওলাদার, কৃষক কবির সরদার, জেলে মামুন হাওলাদার, মৌয়ালি সাইফুল হাওলাদার, কৃষক মো. আজিজুর রহমান হাওলাদার, মাহাবুব তালুকদার, মেহেদী তালুকদার, শাহানাজ বেগম, আয়শা বেগমসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি বহন করে আনতে হয়। ভ্যানে আনতে গেলে ২০ লিটার পানিতে দিতে হয় ৫০ টাকা। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সরকারিভাবে ট্যাংকি বিতরণ করলেও এ গ্রামটিতে হাতেগোনা দুয়েকজনে পেয়েছেন। সরকারি উদ্যেগে একটি পুকুর খনন ও পিএসএফ নির্মাণ করে দিলে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় খাবার পানির সংকট দূর হবে।
এ সম্পর্কে উপজেলা জন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদ কর্তৃক এ উপজেলায় বিগত ৫ বছরে খাবার পানি উপযোগী ৫০টি খাস পুকুর পুনঃখনন করা হয়েছে। এ ছাড়া আইডিবি প্রকল্প, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ২০১২ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ৩ হাজার লিটারের ১৮ হাজার পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হয়েছে। পুকুর পুনঃখননের প্রকল্প আপাতত বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রকল্প চালু হলে জরুরি সংকটপূর্ণ স্থানে তালিকা নিরুপণ করা হবে।
অর্থ-বাণিজ্য: ট্রাম্পের আদেশে নেয়া পাল্টা শুল্ক ফেরত দিতে হবে