image

সেতু ভেঙে পড়ে আছে খালে ডিঙ্গি নৌকায় ঝুঁকির পারাপার

প্রতিনিধি, কুয়াকাটা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি আয়রণ সেতু ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দশ গ্রামের মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন মাঝি বিহীন একটি ডিঙ্গি নৌকায় রশি টেনে পারাপার করছেন পথচারীরা। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল-মাদ্রসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ভেঙ্গে পড়ার দশ মাস অতিবাহিত হলেও ব্রীজের ভাঙ্গা অংশ অপসারণ কিংবা নতুন সেতু নির্মাণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

জানাগেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তাহেরপুর ও আজিমপুর গ্রামের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত লক্ষ্মীর খালের ওপর ২০০১ সালে নির্মাণ করা হয় এই আয়রণ সেতু। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর ২০২৫ সালের ২০ মে সকালে বিকট শব্দে ধ্বসে পড়ে সেতুটি। সেতু ভেঙ্গে পড়ার পর দশ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা এখন একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকা। নৌকার দুই পাশে বাঁধা রশি টেনে নিজেরাই পারাপার করছেন পথচারীরা। এই ডিঙ্গি নৌকায় রাখা হয়েছে ব্রীজঘাট জামে মসজিদের একটি দান বাক্স। পারাপারের সময় কেউ খুশি হয়ে টাকা দিলে তা জমা হচ্ছে মসজিদের তহবিলে। ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে যাতায়াত ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাবে। দশ গ্রামের মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি সচল রাখতে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক হাওলাদার বলেন, “ব্রীজটা ভেঙে যাওয়ার পর খুব কষ্টে আছি। বাচ্চা-কাচ্চারা স্কুলে যেতে ঝুঁকি নিয়ে এই নৌকায় পার হয়।” তাহেরপুর গ্রামের আবু সাঈদ বলেন, “প্রতিদিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এই নৌকায় পার হয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” ব্রীজঘাট জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ রুহুল আমিন বলেন, “মানুষের ভোগান্তি দেখে মসজিদ কমিটি একটি ডিঙ্গি নৌকার ব্যবস্থা করেছেন। এখন পথচারীরা এই নৌকায় পার হয়েচ্ছেন। নৌকায় একটি দানবাক্স রাখা আছে। প্রতি সপ্তাহে ৪০০-৫০০ টাকা দানবাক্সু খলে পাওয়া যায়।”

লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত নতুন সেতু হবে।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ভেঙ্গে পড়ার পর নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই নতুন সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি