image

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

এলএনজি কেনার জরুরি নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির মূল্য দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর হুরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং কাতারের উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি মার্চ মাসে স্পট মার্কেট থেকে অন্তত চার কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এ মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পেট্রোবাংলা দ্রুত দুই কার্গোর জন্য টেন্ডার আহ্বান করবে। বাকি দুই কার্গোর টেন্ডার আহ্বান করা হবে কিছুদিনের মধ্যে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পুরো মার্চ মাসের চাহিদা মেটাতে প্রায় আট কার্গো এলএনজি প্রয়োজন। এর মধ্যে ওমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় দুই কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং অতিরিক্ত আরও দুই কার্গো দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কাতার থেকে নির্ধারিত সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন ২৬০০ থেকে ২৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ৯০০ থেকে ৯৮০ এমএমসিএফডি আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। বছরে মোট ১১০ থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়।

এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ কার্গো আসে কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়, বাকি অংশ স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হয়। সর্বশেষ ৩ মার্চ দেশে মোট ২৬৬২ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৫২ এমএমসিএফডি এসেছে এলএনজি থেকে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ২ লাখ ১৬ হাজার ১০ টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া ২১ হাজার ৭০৫ টন পেট্রোল, ৩৪ হাজার ১৩৩ টন অকটেন এবং পদ্মা অয়েলের কাছে ২০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জেট ফুয়েল মজুত আছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় মালয়েশিয়া, চীন ও সৌদি আরব থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভারত থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরামকো জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা বিকল্প উৎস থেকে বাংলাদেশকে তেল সরবরাহ করবে।

বেসরকারি আমদানিকারকদের ফেব্রুয়ারিতে খোলা এলসি অনুযায়ী মার্চে ১ লাখ ৯৪ হাজার টন এলপিজি দেশে পৌঁছানোর কথা। তবে হুরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কিছু চালান বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা নিতে বেসরকারি খাতকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় এলএনজি দ্রুত আমদানি এবং আমদানি মূল্য পরিশোধে কোনো জটিলতা না রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হলেও সরকার বলছে, সরবরাহ সচল রাখতে সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের দামে বড় পতন