image

ব্যাংক খাতে সংস্কারের নতুন রোডম্যাপ

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে কঠোর অবস্থানে নতুন গভর্নর

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এক শক্তিশালী ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

সোমবার (০২ মার্চ) বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রমকে "ফাস্ট ট্র্যাক" বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে "স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স" এর কনসালটেন্টের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসে তিনি পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন।

​নতুন গভর্নরের এই সংস্কার পরিকল্পনায় কেবল অর্থ উদ্ধারই নয়, বরং ব্যাংক খাতের ভিত্তি মজবুত করার প্রতিশ্রুতিও ফুটে উঠেছে।

রোববার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণসহ ব্যাংক খাতে চলমান যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা কোনোভাবেই থেমে থাকবে না।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গভর্নর দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, আর্থিক খাতের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটে গেছে।

​ব্যাংক খাতের এই পরিবর্তনের হাওয়ায় যুক্ত হয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এর নেতাদের সঙ্গে গভর্নরের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ। সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নেতৃত্বে ১৯টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে গভর্নর পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো পুনরায় চালু করতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ করে সিএমএসএমই (CMSME) খাতে অর্থায়ন বাড়িয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা ফিরিয়ে আনাই হবে এখনকার প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়া নতুন ব্যাংক শাখা খোলার ক্ষেত্রে ভাড়ার মানদণ্ড নির্ধারণের মতো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি