image

রমজানের শুরুতেই বাড়লো বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

আসন্ন রমজান মাসের আগে বেড়ে গেছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। কিছুদিন আগেও এসব পণ্য যে দামে পাওয়া যাচ্ছিল মঙ্গলবার, (১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) তা সেই দামে পাওয়া যায়নি। আর গত রমজানের তুলনায় অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের অস্বস্তি বাড়ছে। এরই মধ্যে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানির বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বছরের ব্যবধানে দুই কেজির আটার দাম বেড়ে ১০০ থেকে হয়েছে ১২০ টাকা

মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা থেকে প্রায় ১৫০ টাকা

পেঁয়াজের দাম প্রায় ৪৫ থেকে হয়েছে ৬০ টাকা

তবে ছোলা, আলুসহ কয়েকটি পণ্যে দাম কিছুটা কমেছে

রমজান মাসে বেশি চাহিদা থাকে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, এঙ্কর ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও খেজুরের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু রমজান মাসে সয়াবিন তেলের চাহিদা ৩ লাখ টন। এ ছাড়া চিনির চাহিদা ৩ লাখ টন, ছোলা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টন, মসুর ডাল ২ লাখ ৫ হাজার টন, পেঁয়াজ ৫ লাখ টন এবং খেজুরের চাহিদা ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি পণ্যেরই ২৫ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মজুত রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় ছোলার দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে ৯০ টাকা হলেও মসুর ডাল ও এঙ্কর ডালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছর রোজার একদিন আগে (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) ছোট দানার প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকা যা মঙ্গলবার ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর মোটা দানার মসুর ডালের দাম বছরের ব্যবধানে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে। গত বছর এঙ্কর ডাল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি দরে যা এ বছর ১১০ থেকে ১২০ টাকা হচ্ছে।

এক বছরের ব্যবধানে রোজার ঠিক আগ মুহূর্তে আটা, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত বছর রমজানের আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়, এ বছর যা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম বছরের ব্যবধানে বেড়ে প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা থেকে ১৯৫ টাকা হয়েছে। আর গত বছর রোজার একদিন আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম এবার রোজা শুরুর আগেই ৬০ টাকা হয়েছে। তবে প্রতি কেজি আলু এ বছর গতবারের দামে অর্থাৎ ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বছরের ব্যবধানে চিনি, রসুন, ডিম, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে। গত বছর রোজার একদিন আগে ১২০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া চিনি এ বছর ১০০ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি রসুন ১৫০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকায় ও ডিমের ডজন ১৪০ থেকে কমে ১২০ টাকায় নেমেছে।

প্রতি বছর রোজার আগে বেগুন, লেবু ও কাঁচামরিচের দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের বেগুনের দামও। গোল বেগুন (কালো) বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। গত বছর রমজান শুরুর একদিন আগে যা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। আর গত বছর কালো লম্বা বেগুন ও সাদা গোল বেগুন ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এবার তা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লেবুর হালি এবারও রোজ শুরুর আগে হঠাৎ কয়েকদিনের ব্যবধানে ২০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে। বর্তমানে বাজারে এক হালি বড় সাইজের লেবু ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরও রোজার একদিন আগে ৮০-১০০ টাকায় লেবুর হালি বিক্রি হয়েছিল। গত বছর রোজার শুরুতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এক বছর আগে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখনো ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য গত দুই সপ্তাহ আগেও ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি সোনালীর দাম বেড়েছে বছরের ব্যবধানে ২০ টাকা পর্যন্ত। গত বছর ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালী মুরগি এবার রোজা শুরুর আগেই ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যেত। তবে খাসির মাংস প্রতি কেজি গত বছরের দামে অর্থাৎ ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রোজায় খেজুরের দাম কমাতে গত বছরের মতো এবারও শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহেও ঘাটতি নেই। তা সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দাম এবার বেশি দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুর জাহিদী প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত বছর রোজা শুরুর একদিন আগে যা ২৩০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি জাহিদী খেজুরের দাম বছরের ব্যবধানে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে বস্তা খেজুর যা প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি দাবাস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা, বড়ই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও কিছুটা বেড়েছে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি