একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেন খালাস পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে দেওয়া রায় বাতিল করে খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ আকরামের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেয়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ নিয়ে দ্বিতীয় আপিলে কাউকে খালাস দেয়া হলো। এর আগে প্রথম গেল বছরের ২৭ মে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহার ফাঁসির দন্ড থেকে আপিলে খালাস পান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি জামায়াত তাকে দলের এক নম্বর নায়েবে আমির পদে অধিষ্ঠিত করেছে।
দ্বিতীয় দফায় বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে খালাস দেওয়া হলো। তার বিরুদ্ধে মোড়েলগঞ্জ থানার তেলিগাতীতে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে আটকের পর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া যুদ্ধাপরাধের মামলায় ২০১৫ সালের ১১ অগাস্ট খান আকরাম হোসেনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রায়ে বলা হয়েছিল, মামলার আসামি তিনজন। এর মধ্যে বাগেরহাটের রাজাকার নেতা শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি, আকরামের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হয়েছে।
প্রমাণিত হওয়া পাঁচ অভিযোগেই রাজাকার নেতা সিরাজকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ফায়ারিং স্কোয়াডে বা ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। আর প্রমাণিত হওয়া এক অভিযোগে আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন খান আকরাম হোসেন।
এ মামলার আরেক আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
খান আকরামের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনেন প্রসিকিউশন।